Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ

কল্যাণের প্রার্থনা - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                                                     কল্যাণের প্রার্থনা

(সূরা আল-বাকারা: ২০১ অবলম্বনে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হে দয়াময়, হে পরম করুণাময়,
তোমারই নামে দিনের শুরু,
তোমারই নামে রাতের অবসান;
তোমারই দয়ায় সূর্যের আলো,
তোমারই রহমতে শীতল বর্ষণ।

তোমারই কাছে খুলে দিই হৃদয়,
তোমারই কাছে অশ্রুর ভাষা;
মানুষ যতই শক্তির কথা বলে,
শেষ আশ্রয় তো তোমারই আশা।

হে রব,
আমাদের হাতে দাও সৎকর্মের আলো,
অন্তরে দাও ঈমানের দীপ্তি;
সত্যের পথে দৃঢ়তা দাও,
ন্যায়ের পথে অবিচল শক্তি।

দাও এমন জ্ঞান,
যে জ্ঞান মানুষকে অহংকারী নয়,
বরং বিনয়ী করে;
দাও এমন হৃদয়,
যেখানে করুণা নদীর মতো বয়ে চলে।

দাও এমন চোখ,
যা অন্যের ত্রুটি নয়,
নিজের ভুল আগে দেখে।
দাও এমন জিহ্বা,
যা সত্য বলে,
কিন্তু কখনো কাউকে অপমান করে না।

দাও এমন হাত,
যা দান করতে ভালোবাসে;
দাও এমন পা,
যা মসজিদের পথ চেনে,
অসহায়ের ঘরও চেনে।

হে প্রতিপালক,
দুনিয়ার কল্যাণ মানে
শুধু ধনভাণ্ডার ভরে ওঠা নয়;
বরং হালাল উপার্জনের শান্তি,
সন্তুষ্ট হৃদয়ের হাসি,
অল্পে তৃপ্ত থাকার মহিমা।

দাও এমন রিজিক,
যেখানে হারামের ছায়া নেই;
দাও এমন ব্যবসা,
যেখানে প্রতারণার স্থান নেই;
দাও এমন কর্ম,
যেখানে মানুষের হক নষ্ট হয় না।

দাও পবিত্র পরিবার,
যেখানে সালামের ধ্বনি শোনা যায়;
যেখানে মায়ের চোখে মমতা,
বাবার মুখে দোয়া,
সন্তানের হৃদয়ে আদব,
ভাইয়ের বুকে ভালোবাসা,
বোনের কথায় স্নেহের সুবাস।

দাও এমন সংসার,
যেখানে কুরআনের তিলাওয়াত
সকালের বাতাসের মতো মধুর;
যেখানে আজান শুনে
ব্যস্ততা থেমে যায়,
সিজদা হয়ে ওঠে জীবনের অলংকার।

দাও এমন বন্ধু,
যারা পাপের দিকে টানে না;
সৎকর্মে উৎসাহ দেয়,
আল্লাহর কথা স্মরণ করায়,
ভুল হলে ভালোবেসে সংশোধন করে।

দাও এমন শিক্ষক,
যিনি জ্ঞানের সঙ্গে চরিত্র গড়েন;
দাও এমন ছাত্র,
যে বিদ্যার সঙ্গে বিনয় শেখে।

হে পালনকর্তা,
আমাদের দেশকে দাও শান্তি,
মানুষকে দাও ন্যায়বিচার,
সমাজকে দাও সততার সৌন্দর্য।

যেখানে দুর্নীতি লজ্জিত হবে,
অন্যায় মাথা নত করবে,
সত্য আবার সম্মানের আসনে বসবে।

দাও এমন নেতা,
যিনি ক্ষমতাকে আমানত ভাবেন;
দাও এমন বিচারক,
যিনি সত্যকে বিক্রি করেন না।

হে রব,
দুনিয়ার সৌন্দর্য
তোমাকে ভুলে যাওয়ার কারণ না হোক;
বরং প্রতিটি ফুল,
প্রতিটি নদী,
প্রতিটি ভোর,
প্রতিটি শিশিরবিন্দু
তোমার মহিমা স্মরণ করিয়ে দিক।

যখন সুখ দাও,
আমাদের শোকরগুজার বানাও।
যখন দুঃখ দাও,
আমাদের ধৈর্যশীল বানাও।
যখন পরীক্ষা নাও,
আমাদের ঈমান আরও দৃঢ় করো।

হে আল্লাহ,
আমাদের অন্তরকে
হিংসা থেকে পবিত্র করো;
অহংকার থেকে মুক্ত করো;
লোভ থেকে রক্ষা করো;
রিয়া থেকে নিরাপদ রাখো।

যে দোয়া তোমার প্রিয়,
তা আমাদের মুখে জারি রাখো;
যে আমল তোমার নিকট গ্রহণযোগ্য,
তা করার তাওফিক দাও।

হে দয়াময়,
আখিরাতের কল্যাণও দাও।

কবরকে করো জান্নাতের বাগান,
অন্ধকারকে নূরের আলোয় ভরিয়ে দাও।

হাশরের মাঠে
আমাদের হিসাব সহজ করো।
আমলনামা ডান হাতে দিও,
মিজানের পাল্লা ভারী করো,
সিরাতের সেতু নিরাপদে পার করো।

তোমার আরশের ছায়ায় স্থান দিও,
যেদিন আর কোনো ছায়া থাকবে না।
তৃষ্ণার দিনে
হাওজে কাওসারের পানি পান করিও।
প্রিয় নবী ﷺ-এর শাফাআত নসিব করো।

আমাদের মুখ উজ্জ্বল করো,
লজ্জিত করো না।
আমাদের ডেকো,
"
এসো, শান্তির জান্নাতে প্রবেশ করো।"

হে রব,
জান্নাতের বাগানে
চিরস্থায়ী সুখ দিও;
যেখানে নেই মৃত্যু,
নেই দুঃখ,
নেই বিচ্ছেদ,
নেই অশ্রু।

আর হে দয়াময়,
জাহান্নামের আগুন থেকে
আমাদের রক্ষা করো।

যে আগুন পাহাড় গলিয়ে দেয়,
যে আগুন হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়,
যে আগুনের শাস্তি সীমাহীন—
সেই ভয়াবহ পরিণতি থেকে
তোমার রহমতে নিরাপদ রাখো।

আমাদের গুনাহ তুমি জানো,
আমাদের দুর্বলতাও তুমি জানো।
আমরা ভুল করি,
তবু তোমার দয়া থেকে নিরাশ নই।

ক্ষমা করো,
ঢেকে দাও,
সংশোধনের তাওফিক দাও,
তাওবার দরজা খুলে দাও।

আমাদের শেষ নিঃশ্বাসকে
ঈমানের সুবাসে ভরিয়ে দাও।
শেষ কথাকে
"
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" দিয়ে অলংকৃত করো।

হে রব,
দুনিয়ায় কল্যাণ দাও—
যাতে তোমার সন্তুষ্টি অর্জন করি।

আখিরাতে কল্যাণ দাও—
যাতে চিরস্থায়ী সফলতা লাভ করি।

আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো—
যাতে তোমার রহমতের ছায়ায়
চিরকাল নিরাপদ থাকি।

এই তো মুমিনের প্রার্থনা,
এই তো জীবনের পূর্ণতা,
এই তো বিশ্বাসের দীপ্ত আহ্বান—

"হে আমাদের রব!
আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন,
আখিরাতেও কল্যাণ দিন,
এবং আমাদেরকে
জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে
রক্ষা করুন।"

আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

***

কল্যাণের প্রার্থনা

যে দোয়ায় মিশে আছে জীবনের সব চাওয়া,
ইহকাল-পরকালের পূর্ণতার গান;
যে দোয়ায় ঝরে পড়ে ঈমানের নির্মল আলো,
যে দোয়ায় জেগে ওঠে বান্দার প্রাণ।

নবীর পবিত্র ওষ্ঠে যার ছিল অবিরাম ধ্বনি,
তাওয়াফের পথে যার সুমধুর উচ্চারণ;
প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে আজও বাজে
সেই দোয়ার অনন্ত আহ্বান।

দুনিয়ার সুখ চাই,
তবে ভোগের উন্মাদনা নয়;
চাই হালাল জীবনের প্রশান্তি,
যেখানে রবের সন্তুষ্টিই
সবচেয়ে বড় পরিচয়।

আখিরাতের সুখ চাই,
যেখানে নেই বিচ্ছেদ,
নেই অশ্রু,
নেই মৃত্যু,
শুধু অনন্ত রহমতের আলো।

আর চাই নিরাপত্তা
সেই ভয়াবহ আগুন থেকে,
যার উত্তাপ কল্পনারও অতীত,
যেখানে পৌঁছাতে চায় না
কোনো ঈমানদার হৃদয়।

হে আমার রব!
তুমি তো জানো
আমার চাওয়ার আগে
আমার প্রয়োজন।

আমি যা দেখি না,
তুমিই তা দেখো;
আমি যা বুঝি না,
তুমিই তা জানো।

তাই আমার ইচ্ছাকে নয়,
তোমার হিকমতকেই
আমার জীবনের দিশা করো।

দাও এমন ঈমান,
যা ঝড়ে নত হয় না;
দাও এমন ইয়াকীন,
যা সন্দেহের অন্ধকারে
কখনো পথ হারায় না।

দাও এমন অন্তর,
যেখানে কুরআনের আয়াত
বসন্তের ফুলের মতো ফুটে ওঠে;
যেখানে জিকিরের সুবাস
নীরব রাতকেও
ইবাদতের বাগানে রূপ দেয়।

দাও এমন জ্ঞান,
যা মানুষকে আলোকিত করে;
দাও এমন প্রজ্ঞা,
যা অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করে;
দাও এমন বিবেক,
যা সত্যের কাছে
অহংকার বিসর্জন দেয়।

হে দয়াময়!
দাও হালাল রিজিক,
যেখানে প্রতারণার ছায়া নেই;
দাও এমন উপার্জন,
যেখানে কারও হক নষ্ট হয় না।

আমাদের হাতে দাও
দান করার আনন্দ,
গ্রহণের লজ্জা নয়;
ভাগাভাগির মহিমা,
স্বার্থপরতার অন্ধকার নয়।

দাও এমন পরিবার,
যেখানে সন্তান
মায়ের কোলেই কুরআনের সুর শোনে;
যেখানে বাবা
সততার প্রথম শিক্ষক;
যেখানে দাম্পত্য
রহমত ও ভালোবাসার আশ্রয়।

দাও এমন সমাজ,
যেখানে সত্য সম্মানিত,
মিথ্যা লজ্জিত;
যেখানে আমানত
জীবনের অলংকার,
আর ন্যায়বিচার
রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর।

দাও এমন বন্ধু,
যারা জান্নাতের পথের সাথী;
যারা পাপের আহ্বান নয়,
তাওবার ডাক শোনায়;
যারা প্রশংসা নয়,
প্রয়োজনে সংশোধন করে।

হে রব!
দাও এমন জীবন,
যেখানে প্রতিটি সকাল
শুকরিয়ার সূচনা,
প্রতিটি সন্ধ্যা
তাওবার অশ্রুতে স্নিগ্ধ।

সুখ এলে
শোকরের সিজদা দিই,
দুঃখ এলে
সবরের প্রদীপ জ্বালাই।

কারণ আমরা জানি—
দুনিয়ার প্রতিটি পরীক্ষা
চিরস্থায়ী নয়;
তোমার রহমতই
শেষ সত্য,
শেষ আশ্রয়,
শেষ সফলতা।

হে পরম করুণাময়!
যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে,
যেদিন পাহাড় ধূলিকণায় ভেঙে যাবে,
যেদিন মানুষ নিজের কর্ম নিয়ে
তোমার সামনে দাঁড়াবে—

সেদিন আমাদের প্রতি
তোমার রহমতের দৃষ্টি দিও।

আমলনামা
ডান হাতে দিও;
মিজানের পাল্লা
সৎকর্মে ভারী করো;
সিরাতের সেতু
বিদ্যুতের গতিতে পার করিয়ে দিও।

হাওজে কাওসারের শীতল পানি
আমাদের নসিব করো;
প্রিয় নবী ﷺ-এর শাফাআতের
মহান সৌভাগ্য দান করো।

জান্নাতের বাগানে
আমাদের জন্য খুলে দিও
চিরশান্তির দ্বার;
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত
তোমার সন্তুষ্টির আলোয়
চিরসবুজ হয়ে থাকবে।

হে আমাদের রব!
দুনিয়ার কল্যাণ দাও—
যাতে তোমার আনুগত্যে জীবন কাটে।

আখিরাতের কল্যাণ দাও—
যাতে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করি।

আর আমাদের রক্ষা করো
জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে।

আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে
তোমার স্মরণ থাকুক,
প্রতিটি পদক্ষেপে
তোমার সন্তুষ্টি থাকুক,
প্রতিটি দোয়ায়
এই প্রার্থনাই উচ্চারিত হোক—

"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ,
ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ,
ওয়া কিনা আযাবান্নার।"

আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

***

কল্যাণের প্রার্থনা

কল্যাণ মানে কেবল ধনভাণ্ডার নয়,
স্বর্ণে ভরা অট্টালিকার অহংকার নয়;
কল্যাণ মানে—রবের সন্তুষ্টি,
হৃদয়ে ঈমানের নির্মল জ্যোতি,
সৎপথে অটল থেকে
সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

হে আমাদের রব!
আমাদের এমন জীবন দাও,
যেখানে সম্পদ হবে আমানত,
ক্ষমতা হবে দায়িত্ব,
জ্ঞান হবে আলো,
আর চরিত্র হবে মানুষের পরিচয়।

দাও এমন মন,
যেখানে হিংসা বাসা বাঁধে না;
দাও এমন প্রাণ,
যেখানে ক্ষমা ফুলের মতো ফোটে;
দাও এমন দৃষ্টি,
যা মানুষের মর্যাদা দেখে,
ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় না।

আমাদের ঘরগুলো
কুরআনের তিলাওয়াতে মুখর হোক;
ফজরের আলোয় জেগে উঠুক
সিজদায় নত কপাল;
মাগরিবের পর
সন্তানের কণ্ঠে ধ্বনিত হোক
আল্লাহর বাণী।

হে রব!
আমাদের সন্তানদের
শুধু বিদ্বান নয়,
সৎ ও বিশ্বস্ত বানাও;
শুধু সফল নয়,
তাকওয়াবান বানাও;
শুধু সম্মানিত নয়,
তোমার প্রিয় বানাও।

দাও এমন শিক্ষক,
যিনি জ্ঞান দিয়ে হৃদয় জাগান;
দাও এমন ছাত্র,
যিনি বিদ্যার সঙ্গে আদব শেখেন;
দাও এমন সমাজ,
যেখানে সত্যের মূল্য
কখনো কমে না।

আমাদের রিজিক
প্রশস্ত করো,
কিন্তু রিজিক যেন
আমাদের অন্তরকে কঠিন না করে;
বরং যত দাও,
ততই যেন বাড়ে
শুকরিয়া, বিনয় ও দানশীলতা।

হে দয়াময়!
দুঃখ এলে
সবরের শক্তি দাও;
সুখ এলে
শোকরের ভাষা দাও;
ভুল হলে
তাওবার অশ্রু দাও;
সাফল্য এলে
অহংকার থেকে রক্ষা করো।

তোমার রাসূল ﷺ
যে দোয়া বারবার করতেন,
সে দোয়া যেন
আমাদেরও জীবনের সঙ্গী হয়—
প্রতিটি সালাতে,
প্রতিটি তাওয়াফে,
প্রতিটি ভোরে,
প্রতিটি নিশীথে।

হে আমাদের প্রতিপালক!
ইহকালের কল্যাণ দাও—
যাতে ঈমান অটুট থাকে,
হালাল রিজিক নসিব হয়,
সৎকর্মের তাওফিক লাভ করি,
মানুষের হক আদায় করতে পারি।

পরকালের কল্যাণ দাও—
যাতে কবর হয় প্রশান্ত,
হাশর হয় সহজ,
আমলনামা হয় উজ্জ্বল,
মিজান হয় ভারী,
সিরাত হয় নিরাপদ,
জান্নাত হয় চিরবাস।

আর আমাদের রক্ষা করো
সেই আগুন থেকে,
যার ভয়েই
নবী-রাসূলগণ
উম্মতের জন্য দোয়া করেছেন।

হে দয়াময়,
তোমার ক্ষমা
আমাদের পাপের চেয়ে বড়;
তোমার রহমত
আমাদের দুর্বলতার চেয়ে বিস্তৃত।

তাই আমরা
অহংকার নয়,
আশ্রয় চাই;
সম্পদ নয়,
বরকত চাই;
দীর্ঘ জীবন নয়,
কল্যাণময় জীবন চাই;
শুধু পৃথিবী নয়,
চাই অনন্ত আখিরাতের সফলতা।

এই হোক
আমাদের প্রতিটি প্রার্থনা,
প্রতিটি অশ্রুবিন্দু,
প্রতিটি সিজদা,
প্রতিটি নিঃশ্বাসের সুর—

"হে আমাদের রব!
আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন,
আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন,
এবং আমাদেরকে
জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে
রক্ষা করুন।"

আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

***

কল্যাণের প্রার্থনা

হে আমাদের রব!
কল্যাণের অর্থ
শুধু প্রাপ্তির হিসাব নয়—
কল্যাণ মানে
তোমার সন্তুষ্টির পথে
প্রতিটি পদক্ষেপ।

দাও এমন হৃদয়,
যেখানে ঈমান
অটল পর্বতের মতো;
দাও এমন বিশ্বাস,
যা ঝড়ের মধ্যেও
তোমার ওপর ভরসা হারায় না।

দাও এমন বিবেক,
যা অন্যায় দেখে
নীরব থাকে না;
দাও এমন সাহস,
যা সত্যের পক্ষে
নির্ভয়ে উচ্চারিত হয়।

আমাদের মুখে দাও
সত্যের ভাষা,
আমাদের কাজে দাও
সততার পরিচয়;
আমাদের চরিত্র হোক
বিশ্বাসের আয়না।

হে দয়াময়!
ইলম দাও—
যে ইলম মানুষকে
অহংকারী করে না;
বরং বিনয়ী করে,
মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করে,
তোমার মহিমার সামনে
নত হতে শেখায়।

দাও এমন কলম,
যা ন্যায়ের কথা লেখে;
দাও এমন কণ্ঠ,
যা মিথ্যার প্রশংসা করে না;
দাও এমন দৃষ্টি,
যা সৌন্দর্যের সঙ্গে
সত্যকেও চিনতে শেখে।

আমাদের রিজিকে
বরকত দাও;
অল্পকে অনেক করে দাও;
হালালকে প্রিয় করে দাও;
হারাম থেকে
আমাদের অন্তর ফিরিয়ে নাও।

দাও এমন ব্যবসা,
যেখানে প্রতারণা নেই;
দাও এমন কর্ম,
যেখানে মানুষের অধিকার
অক্ষুণ্ণ থাকে;
দাও এমন সম্পদ,
যা দানে প্রস্ফুটিত হয়,
লোভে নয়।

হে প্রতিপালক!
আমাদের ঘরগুলোকে
রহমতের ঠিকানা বানাও;
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায়
সাকিনা নাজিল করো;
সন্তানদের হৃদয়ে
আদব, ইলম ও তাকওয়া দাও।

মায়ের দোয়া
হোক সংসারের আলো;
বাবার সততা
হোক সন্তানের উত্তরাধিকার;
পরিবারের প্রতিটি সদস্য
হোক একে অন্যের
রহমতের ছায়া।

হে আল্লাহ!
আমাদের সমাজে
আমানতের মর্যাদা ফিরিয়ে দাও;
সত্যবাদিতা ফিরিয়ে দাও;
ন্যায়বিচারের দীপ
আবার জ্বালিয়ে দাও।

যেন শক্তিমান
দুর্বলকে রক্ষা করে,
ধনী দরিদ্রকে ভুলে না যায়,
বিদ্বান জ্ঞানকে
অহংকারের সিঁড়ি না বানায়।

হে আমাদের রব!
সবর দাও—
যখন পরীক্ষা আসে;
শোকর দাও—
যখন নেয়ামত আসে;
তাওবা দাও—
যখন আমরা ভুল করি;
ইখলাস দাও—
যাতে প্রতিটি আমল
শুধু তোমার জন্য হয়।

আমাদের সালাতে
খুশু দাও;
দোয়ায় অশ্রু দাও;
জিকিরে প্রশান্তি দাও;
কুরআনের আলোয়
হৃদয় উন্মুক্ত করে দাও।

দিনের কর্মে
সততা দাও,
রাতের নির্জনতায়
তাহাজ্জুদের কান্না দাও,
মানুষের মাঝে
উত্তম আচরণ দাও,
নিঃসঙ্গতায়
তোমার স্মরণ দাও।

হে পরম দয়ালু!
যেদিন দুনিয়ার সব দরজা
বন্ধ হয়ে যাবে,
তোমার রহমতের দরজা
আমাদের জন্য উন্মুক্ত রেখো।

যেদিন কেউ
কারও উপকারে আসবে না,
সেদিন তোমার করুণা
আমাদের আশ্রয় হোক।

যেদিন কর্মের পাল্লা
ওজন করা হবে,
আমাদের নেক আমল
তোমার অনুগ্রহে
ভারী করে দিও।

যেদিন সিরাতের পথে
মানুষ কাঁপতে থাকবে,
সেদিন আমাদের পদক্ষেপ
ঈমানের আলোয়
দৃঢ় করে দিও।

হে আমাদের রব!
দুনিয়াতে দাও
ঈমানের সৌন্দর্য,
হালাল জীবনের প্রশান্তি,
সৎকর্মের তাওফিক,
উত্তম চরিত্রের মর্যাদা।

আখিরাতে দাও
ক্ষমা, রহমত,
জান্নাতের সুসংবাদ,
প্রিয় নবী ﷺ-এর শাফাআত,
আর তোমার সন্তুষ্টির
অমলিন নেয়ামত।

আর আমাদের রক্ষা করো
জাহান্নামের আগুন থেকে—
যে আগুনের পরিবর্তে
আমরা চাই
তোমার রহমতের ছায়া।

এই হোক
আমাদের প্রভাতের দোয়া,
সন্ধ্যার প্রার্থনা,
সিজদার অশ্রু,
জীবনের প্রত্যয়—

"হে আমাদের রব!
আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন,
আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন,
এবং আমাদেরকে
আগুনের শাস্তি থেকে
রক্ষা করুন।"

আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।Top of FormBottom of Form

মন্তব্য করুন