Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ

জালিমকে বুঝ দাও -মোঃ মুজিবুর রহমান


জালিমকে বুঝ দাও

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হে আল্লাহ! তুমি দয়াময়, তুমি ন্যায়ের অধিপতি,
তোমারই হাতে আকাশ-বাতাস, সময়ের গতি।
তুমি জানো বুকের ভেতর চাপা দীর্ঘশ্বাস,
নিঃশব্দ চোখের জলে কত অগণিত ইতিহাস।

তুমি জানো কার অন্তরে কতটা ক্ষতচিহ্ন,
কার হাসির আড়ালে লুকায় কত অশ্রুবিন্দু।
কে রাতভর জেগে থাকে নিঃসঙ্গ অন্ধকারে,
কে বালিশ ভেজায় নীরব কান্নার ধারায়।

হে রব!
জালিমকে বুঝিয়ে দাও,
মজলুমের কষ্টটা কেমন।
হক বঞ্চিত মানুষের
নিঃশব্দ ব্যথা কত গভীর,
ভাঙা বিশ্বাসের শব্দ
কত দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

যে অন্যের প্রাপ্য কেড়ে নেয়,
সে কি জানে—
একটি দীর্ঘশ্বাস
আকাশের দরজায় কড়া নাড়ে?
একটি চোখের জল
আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়?

সে কি জানে,
অনিদ্রা কাকে বলে?
রাত যখন শেষ হয় না,
ঘড়ির কাঁটা যেন থেমে থাকে,
চোখে ঘুম আসে না,
মনে কেবল প্রশ্নের মিছিল।

কেন এমন হলো?
কেন বিশ্বাস ভাঙল?
কেন আপন মানুষ
অপরিচিতের চেয়েও দূরে গেল?

হে আল্লাহ!
তুমি তো জানো সব।

যার হাতে ছিল আমানত,
সে যদি আমানত ফিরিয়ে না দেয়,
যার মুখে ছিল মধুর ভাষা,
সে যদি হৃদয়ে লুকিয়ে রাখে প্রতারণা,
তবে মানুষের অন্তর
কতটা ভেঙে যায়—
তা কেবল তুমিই জানো।

কখনো হঠাৎ দেখা হয়ে যায়,
সেই মানুষটির সঙ্গে—
যে দিয়েছিল অশ্রুর উপহার।
মুহূর্তেই বুকের ভেতর
পুরোনো ক্ষত জেগে ওঠে,
ভাষা হারিয়ে যায়,
চোখ নীরব হয়ে থাকে।

হে রব!
সেই সাক্ষাৎও
তোমারই লিখে দেওয়া তাকদির।
তাই তার ভেতরেও
লুকিয়ে আছে তোমার হিকমত।

হয়তো তুমি শেখাও—
ধৈর্যের নতুন পাঠ।
হয়তো মনে করাও—
বিচারের মালিক তুমি একাই।
হয়তো সতর্ক করো—
অন্যায় কখনো স্থায়ী নয়।

পবিত্র কুরআনের বাণী
হৃদয়ে জাগায় আশার আলো—
তুমি কখনোই
জালিমের কর্ম সম্পর্কে
গাফিল নও।

সময়ের পাতায়
সব হিসাব লেখা থাকে।
কোনো অশ্রু হারায় না,
কোনো দীর্ঘশ্বাস মুছে যায় না,
কোনো হক চিরদিন
অদৃশ্য হয়ে থাকে না।

হে আল্লাহ!
আমার অন্তরে
প্রতিশোধের আগুন নয়,
ন্যায়ের আলো জ্বালিয়ে দাও।
অভিশাপের ভাষা নয়,
দোয়ার ভাষা শিখিয়ে দাও।

জালিমকে হেদায়াত দাও,
যদি সে হেদায়াত গ্রহণ করে।
তার অন্তর নরম করে দাও,
তার বিবেক জাগিয়ে দাও।
সে যেন বুঝতে শেখে—
অন্যের কান্নার মূল্য কত।

সে যেন উপলব্ধি করে—
হক ফিরিয়ে দেওয়া
শুধু আইন নয়,
এটি ঈমানের দাবি।

সে যেন বুঝতে পারে—
অন্যের সম্পদ নয়,
অন্যের দোয়া-ই
মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

হে দয়াময়!
মজলুমকে শক্তি দাও।
অশ্রুকে দাও সবরের সৌন্দর্য,
দুঃখকে দাও ঈমানের আলো,
অপেক্ষাকে দাও
তাওয়াক্কুলের ডানা।

যেন সে ভেঙে না পড়ে,
যেন সে অন্যায়ের পথ না বেছে নেয়,
যেন সে জানে—
তুমি কখনো
তোমার বান্দাকে একা ছাড়ো না।

কত নবী
পরীক্ষার পথ পাড়ি দিয়েছেন,
কত সৎ মানুষ
অন্যায়ের শিকার হয়েছেন,
তবু শেষ পর্যন্ত
সত্যই হয়েছে বিজয়ী।

আজও সেই সত্য
অপরিবর্তিত রয়েছে।
মিথ্যার আয়ু ক্ষণিক,
অন্যায়ের প্রাসাদ ভঙ্গুর,
অহংকারের মুকুট
একদিন ধুলায় মিশে যায়।

মানুষ ভুলে যায়,
আল্লাহ ভোলেন না।
মানুষ লুকায়,
আল্লাহ সব দেখেন।
মানুষ অস্বীকার করে,
আল্লাহর নিকট
সব সাক্ষ্য সংরক্ষিত থাকে।

হে রব!
আমাদের সমাজকে
আমানতের মর্যাদা শেখাও।
সত্যবাদিতার শক্তি দাও,
ন্যায়ের পথে অটল রাখো,
বিশ্বাসকে করো পবিত্র,
সম্পর্ককে করো নিরাপদ।

কেউ যেন
কারও চোখের জল না হয়,
কারও দীর্ঘশ্বাসের কারণ না হয়,
কারও অনিদ্রার উৎস না হয়,
কারও দুঃখের ইতিহাস না লেখে।

শিশুরা শিখুক—
সততা শ্রেষ্ঠ অলংকার।
তরুণরা শিখুক—
হক আদায় করাই মর্যাদা।
প্রবীণরা শিখুক—
ক্ষমতা নয়,
ন্যায়ই মানুষের পরিচয়।

হে আল্লাহ!
যে কাঁদে,
তাকে তুমি সান্ত্বনা দাও।
যে হারিয়েছে,
তাকে উত্তম প্রতিদান দাও।
যে অপেক্ষা করছে,
তাকে সুন্দর পরিণতি দাও।

আমাদের হৃদয়কে
বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করো।
জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে রক্ষা করো।
হাতকে জুলুম থেকে রক্ষা করো।
চোখকে লোভ থেকে রক্ষা করো।

আমরা যেন
অন্যের হক নষ্ট না করি।
অন্যের বিশ্বাস ভঙ্গ না করি।
অন্যের সম্মান নষ্ট না করি।
অন্যের কষ্টের কারণ না হই।

যেদিন তোমার দরবারে
সব মানুষ একত্র হবে,
সেদিন যেন
কাউকে বলতে না হয়—
"
হে আল্লাহ!
আমার হক ফিরিয়ে দিন।"

বরং সেদিন
সবাই যেন হাসিমুখে বলে—
"
হে আমাদের রব!
আপনি ন্যায়বিচার করেছেন,
আপনার বিচারই সর্বোত্তম।"

এই প্রার্থনাই আজ
আমাদের হৃদয়ের ভাষা—
হে পরম দয়ালু!
জালিমকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনুন,
মজলুমকে ধৈর্য ও সম্মানের শক্তি দিন,
হককে তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিন,
আমাদের সকলকে
সত্য, ন্যায়, আমানত ও তাকওয়ার পথে
অটল রাখুন।

আমিন।

***

জালিমকে বুঝ দাও আল্লাহ!

হে আল্লাহ! হে দয়াময়! হে বিশ্বজগতের রব!
তোমারই নামে শুরু করি হৃদয়ের নিবেদন।
তুমি আকাশের নক্ষত্র গোনো,
সমুদ্রের ঢেউ জানো,
শুকনো পাতার পতনের শব্দও
তোমার জ্ঞানের বাইরে নয়।

তুমি জানো,
কে হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে কান্না,
কে দিনের আলোয় দৃঢ় থাকে,
আর রাতের নিঃশব্দে
অশ্রুতে ভিজিয়ে ফেলে বালিশ।

হে রব!
তুমি জানো সেই অনিদ্রার রাত,
যেখানে ঘুম আসে না,
চোখ দুটি খোলা থাকে,
আর স্মৃতিরা নীরব ঝড় তোলে।

রাত গভীর হয়,
চাঁদ পশ্চিমে ঢলে পড়ে,
তারারা নিভে যেতে থাকে,
তবু ক্লান্ত চোখে
ঘুমের কোনো বারতা আসে না।

একটি প্রশ্ন
বারবার ফিরে আসে—
কেন এই বিচ্ছেদ?
কেন এই বিশ্বাসভঙ্গ?
কেন সেই মানুষের সঙ্গে
আমার দেখা হয়েছিল?

তুমি জানো উত্তর,
আমি জানি না।
তোমার ফয়সালা হিকমতে ভরা,
আমার দৃষ্টি সীমিত,
তোমার জ্ঞান অসীম।

হে আল্লাহ!
জালিমকে বুঝিয়ে দাও—
মজলুমের হৃদয় ভাঙলে
কেমন শব্দ ওঠে!
সে শব্দ কানে শোনা যায় না,
কিন্তু আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

হক বঞ্চিত মানুষের
নীরব দীর্ঘশ্বাস
বাতাসে মিলিয়ে যায় না;
তোমার দরবারে
প্রতিটি আর্তি সংরক্ষিত থাকে।

যে অন্যের অধিকার নষ্ট করে,
সে যদি এক রাতও
অস্থিরতার আগুনে জাগে,
তবু কি বুঝতে পারবে
বছরের পর বছর
অপেক্ষার ভার কত কঠিন?

হে দয়াময়!
আমি প্রতিশোধ চাই না,
অন্যায়ের পুনরাবৃত্তিও চাই না।
আমি চাই—
সত্যের জয় হোক,
হক তার প্রাপকের কাছে ফিরুক,
মানুষের অন্তর
তোমার ভয়ে জেগে উঠুক।

তুমি তো ঘোষণা করেছ—
জালিমের কাজ থেকে
তুমি কখনো গাফিল নও।
সময়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা
তোমারই সামনে উন্মুক্ত;
অদেখা কোনো হিসাব
কোথাও হারিয়ে যায় না।

হে রব!
যদি সেই সাক্ষাৎ
আমার জন্য পরীক্ষা হয়,
তবে আমাকে সবর দাও।
যদি তা শিক্ষা হয়,
তবে আমাকে প্রজ্ঞা দাও।
যদি তা সতর্কবার্তা হয়,
তবে আমাকে সংশোধনের শক্তি দাও।

আর যদি সেই সাক্ষাৎ
জালিমের জন্য সতর্কতার দুয়ার হয়,
তবে তার হৃদয় নরম করে দাও।
সে যেন বুঝতে শেখে—
অন্যের অশ্রু
কখনো তুচ্ছ নয়।

মানুষ সম্পদ হারালে
আবার উপার্জন করতে পারে,
ঘর হারালে
আবার গড়ে তুলতে পারে;
কিন্তু ভাঙা বিশ্বাস
জোড়া লাগাতে
অনেক সময় লেগে যায়।

এই জন্যই, হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে
আমানতের রক্ষক বানাও।
আমাদের জিহ্বাকে
সত্যের ভাষা দাও।
আমাদের হাতকে
জুলুম থেকে ফিরিয়ে রাখো।

যেন আমরা
কারও অনিদ্রার কারণ না হই,
কারও চোখের জলের উৎস না হই,
কারও দীর্ঘশ্বাসের বোঝা না বাড়াই,
কারও হক নষ্ট না করি।

হে আল্লাহ!
আমার হৃদয়ে
সবরের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখো।
তাওয়াক্কুলের নদী বইয়ে দাও।
অন্ধকার রাতের শেষে
যেমন ভোর আসে,
তেমনি তোমার রহমতের আলোয়
সব দুঃখ একদিন প্রশান্তিতে রূপ নিক।

তোমারই ন্যায়বিচারের আশায়
আমি মাথা নত করি।
তোমারই রহমতের আশায়
আমি হাত তুলে দোয়া করি।
তোমারই ফয়সালার ওপর ভরসা রেখে বলি—

হে আল্লাহ!
জালিমকে হেদায়াত দাও,
মজলুমকে সবর দাও,
আর আমাদের সবাইকে
সত্য, ন্যায় ও তাকওয়ার পথে
অটল রাখো।

আমিন।

***

জালিমকে বুঝ দাও

নীরব রাতের শেষে
যেমন ভোরের প্রথম আলো
অন্ধকারের বুক চিরে
আশার বার্তা নিয়ে আসে,
তেমনি সত্যও একদিন
মিথ্যার প্রাচীর ভেঙে
মানুষের অন্তরে আলো জ্বালে।

হে পরম দয়ালু!
তোমার ন্যায়ের পাল্লা
কখনো একচুলও হেলে পড়ে না।
মানুষ ভুল করতে পারে,
সাক্ষী লুকিয়ে যেতে পারে,
কিন্তু তোমার জ্ঞানের আকাশে
কোনো সত্য আড়াল থাকে না।

তুমি জানো—
কার হাতে ছিল আমানত,
কার হাতে ছিল বিশ্বাস,
কার হাতে ছিল
একটি অসহায় হৃদয়ের নির্ভরতা।

যে সেই বিশ্বাস ভেঙেছে,
সে হয়তো পৃথিবীর চোখে
নিজেকে সফল ভাবে;
কিন্তু অন্তরের আদালতে
বিবেকের নীরব ডাক
একদিন তাকে ঘিরেই ধরবে।

হে আল্লাহ!
জালিমকে বুঝিয়ে দাও—
হক কেড়ে নেওয়া
কেবল সম্পদের ক্ষতি নয়;
এটি মানুষের হৃদয়ে
একটি দীর্ঘ ক্ষতের জন্ম দেয়।

একটি প্রতারণা
শুধু একটি ঘটনা নয়,
তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে
পরিবারে,
সম্পর্কে,
সন্তানের ভবিষ্যতে,
মানুষের বিশ্বাসে।

তবু, হে রব!
আমরা হতাশ নই।
কারণ তুমি ঘোষণা করেছ—
তুমি জালিমদের কর্ম
অবহেলা করো না।
সময়ের নির্ধারিত দিনে
প্রত্যেকে তার কর্মের
পূর্ণ প্রতিফল পাবে।

এই বিশ্বাসই
মজলুমের শক্তি।
এই বিশ্বাসই
অনিদ্রার রাতের সান্ত্বনা।
এই বিশ্বাসই
অশ্রুকে দোয়ায় পরিণত করে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সতর্ক করেছেন—
মজলুমের দোয়া থেকে
সাবধান থাকতে।
কারণ সেই আর্তি
রবের দরবারে
প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই পৌঁছে যায়।

হে আল্লাহ!
আমাদের জিহ্বায়
অভিশাপ নয়,
সত্যের ভাষা দাও।
আমাদের অন্তরে
বিদ্বেষ নয়,
তোমার ভয়ের আলো দাও।

যদি জালিমের অন্তরে
এখনও কল্যাণের কোনো দ্বার খোলা থাকে,
তবে তাকে হেদায়াত দাও।
সে যেন নিজের ভুল দেখে,
অন্যের হক ফিরিয়ে দেয়,
ক্ষমা প্রার্থনা করতে শেখে,
আর নতুন জীবন শুরু করে।

কত মানুষ
অহংকারে ডুবে ছিল,
পরে তাওবার অশ্রুতে
অন্তর ধুয়ে নিয়েছে।
তোমার রহমত
অনুতপ্ত বান্দার জন্য
সবসময় উন্মুক্ত।

হে রব!
যদি আমার কষ্ট
আমার গুনাহের কাফফারা হয়,
তবে আমাকে সবর দাও।
যদি এটি পরীক্ষার অধ্যায় হয়,
তবে আমাকে উত্তীর্ণ করো।
আর যদি এটি
অন্যের জন্য শিক্ষা হয়,
তবে সেই শিক্ষাকে
হেদায়াতের আলো বানাও।

যেদিন মানুষ
সম্পদের গর্ব ভুলে যাবে,
ক্ষমতার অহংকার হারাবে,
সেদিন কেবল থাকবে
সৎকর্মের আলো
আর ন্যায়ের সাক্ষ্য।

সেদিন কেউ বলবে না—
"
আমার ধন আমাকে রক্ষা করুক।"
বরং সবাই খুঁজবে
একটি সত্য কথা,
একটি সৎ আমানত,
একটি ফিরিয়ে দেওয়া হক,
একটি ক্ষমাপ্রার্থনার অশ্রু।

হে আল্লাহ!
আমাদের এমন মানুষ বানাও,
যার হাতে মানুষ নিরাপদ থাকে,
যার কথায় মানুষ আশ্বস্ত হয়,
যার উপস্থিতিতে
ভয় নয়,
বিশ্বাস জন্মায়।

শিশুরা শিখুক—
অন্যের জিনিসে লোভ নয়।
তরুণরা শিখুক—
সাফল্যের চেয়ে
সততা বড়।
সমাজ শিখুক—
অন্যের হক রক্ষা করাই
সভ্যতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

তুমি আমাদের এমন হৃদয় দাও,
যেখানে আমানত থাকবে,
সত্য থাকবে,
করুণা থাকবে,
আর থাকবে
আখিরাতের জবাবদিহির ভয়।

হে ন্যায়পরায়ণ রব!
যদি কোনো হৃদয়
অন্যের কান্নার কারণ হয়ে থাকে,
তবে সেই হৃদয়ে
বিবেকের আলো জ্বালিয়ে দাও।

যদি কোনো হাত
অন্যের হক আটকে রাখে,
তবে সেই হাতকে
ন্যায়ের পথে ফিরিয়ে আনো।

যদি কোনো চোখ
অন্যায়কে তুচ্ছ মনে করে,
তবে সেই চোখে
হকের মর্যাদা দেখাও।

আর আমাদের সকলকে
এমন জীবন দাও,
যাতে কিয়ামতের দিন
কোনো মজলুম
আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তোলে।

হে আল্লাহ!
তোমার ন্যায়ই আমাদের আশ্রয়,
তোমার রহমতই আমাদের ভরসা,
তোমার হেদায়াতই আমাদের আলো।

জালিমকে সত্য উপলব্ধির তাওফিক দাও,
মজলুমকে অবিচল সবর দাও,
আর আমাদের সবাইকে
সত্য, আমানত, ইনসাফ ও তাকওয়ার পথে
অটল রাখো।

আমিন, ইয়া রব্বুল আলামীন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ