সিনিয়র শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০১:২৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব
বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো দক্ষ জনশক্তি। বাংলাদেশ এখন একটি জনবহুল দেশ, কিন্তু আমাদের বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে যদি সঠিকভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়, তবে তা জনসম্পদে পরিণত হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব কেন অপরিসীম, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
আমাদের দেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষা শেষে অনেকেরই চাকরি পেতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে দক্ষ করে গড়ে তোলে, যা তাকে চাকরির বাজারে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতরা সরাসরি শিল্পকারখানা, আইটি সেক্টর বা প্রকৌশল ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পায়, যা বেকারত্বের হার কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
২. বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস হলো প্রবাসী আয়। তবে আমাদের অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিক অদক্ষ হওয়ার কারণে বিদেশে গিয়ে কম মজুরিতে কষ্টসাধ্য কাজ করেন। যদি আমরা দক্ষ কারিগরি জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারি, তবে তাদের গড় আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও শক্তিশালী হবে।
৩. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স এবং অটোমেশনের জয়জয়কার। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম করে তুলছে, যাতে তারা বিশ্ববাজারের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।
৪. আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ
কারিগরি শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি মানুষকে চাকরির পেছনে না ছুটে বরং নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস যোগায়। একজন ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, গ্রাফিক ডিজাইনার বা মেকানিক সহজেই ছোট পরিসরে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারে। এটি পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ প্রশস্ত করে।
৫. দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
একটি দেশের শিল্পায়নের জন্য টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বিকল্প নেই। অবকাঠামো উন্নয়ন, গার্মেন্টস শিল্প, কৃষি প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ কারিগরি জনবল দেশের সামগ্রিক উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কারিগরি শিক্ষা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে একটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করছে।
কারিগরি শিক্ষা কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং এটি একটি জীবনমুখী দক্ষতা। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং কারিগরি শিক্ষার প্রতি তরুণদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই বাংলাদেশকে একটি 'স্মার্ট বাংলাদেশে' রূপান্তর করতে পারি।
তাই, সময় এসেছে প্রচলিত ধারার শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার।
১৪
২৪ মন্তব্য