সিনিয়র শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০৬ অপরাহ্ণ
নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক গঠনের গুরুত্ব
বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যুগ। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের অসংখ্য সুযোগ পেলেও বাস্তব জীবনের অনেক মৌলিক গুণাবলির ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী কায়িক পরিশ্রমে অনাগ্রহী, পরিবারের ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করতে অনীহা প্রকাশ করে এবং নিজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে না। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্কও কমে যাচ্ছে। ফলে তারা অনেক প্রয়োজনীয় গাছপালা, ফুল, ফল কিংবা দেশীয় প্রাণী সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখে না। পাশাপাশি অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করা, নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চাতেও ঘাটতি দেখা যায়।
একটি আদর্শ জাতি গঠনের জন্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানবিক, নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ এবং রাষ্ট্র—এই চারটি স্তম্ভের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, ঘরের কাজে সহযোগিতা করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বড়দেরকে সম্মান করা, ছোটদেরকে স্নেহ করা, সময়ের মূল্য বোঝা এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার শিক্ষা প্রথমে পরিবার থেকেই শুরু হয়। বিদ্যালয় সেই শিক্ষাকে আরও সুসংহত করে।
শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতা বিকাশে নিয়মিত সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বৃক্ষরোপণ, দুর্যোগকালে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাদের দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুশাসন পালন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহিষ্ণুতা ও পরোপকারের শিক্ষা মানুষের চরিত্রকে আলোকিত করে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
সুস্থ দেহ ছাড়া সুস্থ মন গড়ে ওঠে না। তাই শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত খেলাধুলা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দেশপ্রেমিক, মানবিক, যুক্তিবাদী চিন্তা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গণমুখী সিদ্ধান্ত, শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, ধর্মীয় শিক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক তৈরি করা সম্ভব।
১৪
২৪ মন্তব্য