Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ণ

ঘরে ঘরে প্রশান্তির আলো - মোঃ মুজিবুর রহমান


ঘরে ঘরে প্রশান্তির আলো

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় থেকে দূর করো সকল অভিমান,
মুছে দাও দুঃখের কালো ছায়া,
জাগিয়ে দাও ভালোবাসা, ক্ষমা আর ঈমান।
প্রতিটি ঘর হোক শান্তির নীড়,
প্রতিটি পরিবার হোক রহমতের বাগান।
তোমার অশেষ অনুগ্রহে
মানবসমাজ ভরে উঠুক সুখ, স্বস্তি ও কল্যাণে।
আমিন।

ঘরে ঘরে প্রশান্তির আলো

হে পরম দয়াময় আল্লাহ, করো হৃদয় নির্মল,

মুছে দাও সব অভিমান, করো সংসার উজ্জ্বল।

স্বামী-স্ত্রীর অন্তর ভরো ভালোবাসার দানে,

রহমতের ফুল ফুটুক প্রতিটি ঘরের প্রাণে।

ক্ষমা হোক তাদের ভাষা, ধৈর্য হোক অলংকার,

ঈমান হোক জীবনপথের চির-উজ্জ্বল অধিকার।

যেখানে দুটি হৃদয় মেলে তোমারই সন্তোষে,

সেখানে সুখের সুর বাজে শান্তির মধুর পরশে।

শ্রদ্ধা হোক দাম্পত্যজীবন-গড়ার দৃঢ় ভিত্তি,

বিশ্বাস হোক প্রতিদিনের অটল মহাশক্তি।

কটু বাক্য দূরে যাক, ফুটুক মধুর বাণী,

ভালোবাসার সুবাসে ভরে উঠুক ধরণী।

একটি হাসি মুছে দিক শত অভিমানের ক্ষত,

একটি ক্ষমা ফিরিয়ে আনুক হারিয়ে যাওয়া রত্ন।

যে ঘরে কুরআনের বাণী প্রতিদিন ধ্বনিত হয়,

সেই ঘরে রহমতের ধারা অবিরাম নেমে রয়।

সালাত, দোয়া, সৎকর্মে হোক প্রতিটি দিন ভরা,

বরকতের আলোয় তখন জীবন হোক সোনাঝরা।

সন্তান শিখুক সততা, শিখুক স্নেহ-সম্মান,

মানবতার আলো ছড়াক প্রতিটি প্রাণে প্রাণ।

এসো সবাই হাত ধরাধরি, ভুলে যাই অভিমান,

ক্ষমা, মমতা, ভালোবাসায় গড়ি সুখের স্থান।

ঘরে ঘরে জ্বলে উঠুক ঈমানেরই আলো,

দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ুক শান্তির শুভ আলো।

হে পরম করুণাময়, করো এ দোয়া কবুল,

ইহকাল-পরকালে দাও কল্যাণ অশেষ, অতুল।

জান্নাতের সেই চিরমিলন দিও সবার তরে,

প্রশান্তির আলো ফুটুক পৃথিবীর ঘরে ঘরে।

যেখানে দুটি হৃদয়
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে
একটি বন্ধনে আবদ্ধ হয়,
সেখানে কেবল সংসার গড়ে না—
গড়ে ওঠে একটি জান্নাতের স্বপ্ন,
একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ,
একটি জাতির ভিত্তি।

স্বামী যদি হয় সহমর্মিতার ছায়া,
স্ত্রী যদি হয় মমতার নদী,
তবে সংসারের প্রতিটি প্রভাত
আলোয় ভরে ওঠে;
সন্ধ্যার প্রতিটি প্রদীপ
জ্বলে ওঠে প্রশান্তির দীপ্তিতে।

ভালোবাসা কেবল উচ্চারণ নয়,
ভালোবাসা একটি দায়িত্ব;
ভালোবাসা মানে
ক্লান্ত হাতে হাত রাখা,
অশ্রুসিক্ত চোখে আশার আলো জ্বালানো,
দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে বলা—
"
আমি আছি।"

শ্রদ্ধা হলো দাম্পত্যের অলংকার,
বিশ্বাস তার দৃঢ় ভিত্তি,
ক্ষমা তার সুবাস,
ধৈর্য তার মহিমা,
আর দোয়া তার চিরস্থায়ী শক্তি।

কঠোর বাক্য
হৃদয়ের দরজা বন্ধ করে দেয়;
মধুর বাক্য
বন্ধ হৃদয়ও খুলে দেয়।

একটি কোমল হাসি
অনেক ঝড় থামিয়ে দিতে পারে,
একটি আন্তরিক ক্ষমা
বহু বছরের অভিমান গলিয়ে দিতে পারে।

যে ঘরে
একজন আরেকজনকে ছোট করে না,
বরং সম্মান দেয়,
সেখানে সন্তান শেখে
মানবিকতা, ভদ্রতা,
সততা ও সৌজন্যের পাঠ।

যে স্বামী
স্ত্রীর পরিশ্রমকে মূল্য দেয়,
তার ক্লান্তি অনুভব করে,
তার মর্যাদা রক্ষা করে—
সে সত্যিই মহৎ।

যে স্ত্রী
স্বামীর সংগ্রামকে উপলব্ধি করে,
তার কষ্টে সাহস জোগায়,
তার সফলতায় কৃতজ্ঞ হয়—
সে সংসারের বরকতের দ্বার খুলে দেয়।

সংসার মানেই
সব দিন সমান নয়।
কখনও রৌদ্র,
কখনও মেঘ,
কখনও অশ্রু,
কখনও হাসি।

কিন্তু যে পরিবার
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে,
পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে,
তারা ঝড় পেরিয়ে
আবারও রঙিন আকাশ খুঁজে পায়।

ভুল হবে—
কারণ মানুষ নিষ্পাপ নয়।
তাই প্রতিশোধ নয়,
ক্ষমা হোক প্রথম সিদ্ধান্ত।

রাগ নয়,
সংযম হোক প্রথম উত্তর।

অহংকার নয়,
বিনয় হোক প্রথম পরিচয়।

অভিযোগ নয়,
আলোচনা হোক সমস্যার সমাধান।

যে ঘরে
কুরআনের তিলাওয়াত ধ্বনিত হয়,
দোয়ার হাত ওঠে,
সত্য কথা বলা হয়,
হালাল উপার্জনে বরকত খোঁজা হয়,
সেখানে রহমতের ফেরেশতারা
আশীর্বাদের সুবাতাস বয়ে আনেন।

সন্তানরা শেখে—
ভালোবাসা মানে সম্মান,
ক্ষমা মানে শক্তি,
ধৈর্য মানে বিজয়,
আর পরিবার মানে নিরাপদ আশ্রয়।

হে স্বামী!
তোমার শক্তি
কঠোরতায় নয়,
করুণায়।

হে স্ত্রী!
তোমার সৌন্দর্য
অলংকারে নয়,
উত্তম চরিত্রে।

হে দাম্পত্যজীবনের পথিক!
তোমরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নও;
তোমরা একই নৌকার সহযাত্রী।
একজন ডুবলে
অন্যজনও নিরাপদ থাকে না;
একজন এগোলে
দুজনই গন্তব্যের দিকে পৌঁছে।

এসো,
অভিমানকে বিদায় দিই,
ক্ষমাকে বরণ করি।

ঘৃণাকে দূরে সরাই,
ভালোবাসাকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসাই।

কঠোর ভাষা ত্যাগ করি,
স্নিগ্ধ বাক্যে মন জয় করি।

পরস্পরের ভুল নয়,
গুণ দেখার অভ্যাস গড়ে তুলি।

একসঙ্গে দোয়া করি,
একসঙ্গে স্বপ্ন দেখি,
একসঙ্গে সংগ্রাম করি,
একসঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলি।

তখনই
প্রতিটি ঘর হবে প্রশান্তির ঠিকানা,
প্রতিটি পরিবার হবে কল্যাণের বিদ্যালয়,
প্রতিটি সন্তান হবে নৈতিকতার আলোকবর্তিকা,
প্রতিটি সমাজ হবে সৌহার্দ্যের উদ্যান।

হে পরম করুণাময়!

স্বামী-স্ত্রীর অন্তরে
ঢেলে দাও অটুট বিশ্বাস,
নির্মল ভালোবাসা,
অপরিসীম ধৈর্য,
অগাধ কৃতজ্ঞতা,
অক্ষয় রহমত।

তাদের দুঃখকে পরিণত করো আশায়,
অশ্রুকে রূপ দাও হাসিতে,
সংকটকে বদলে দাও সহজতায়,
অশান্তিকে রূপ দাও প্রশান্তিতে।

ঘরে ঘরে জ্বলে উঠুক
ঈমানের আলো,
সদাচারের প্রদীপ,
ভালোবাসার সুবাস,
শ্রদ্ধার সৌন্দর্য,
রহমতের নির্মল বাতাস।

মানুষে মানুষে বাড়ুক মমতা,
পরিবারে পরিবারে ফুটুক ঐক্যের ফুল,
দেশে দেশে প্রতিষ্ঠিত হোক
শান্তি, ন্যায়, সৌভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণ।

হে আল্লাহ!
প্রত্যেক দাম্পত্যজীবনকে
তোমার রহমতের ছায়ায় আবৃত রাখো।
তাদের হৃদয়কে করো পরস্পরের জন্য প্রশান্তির আশ্রয়,
তাদের ঘরকে করো বরকতের উদ্যান,
তাদের জীবনকে করো নেক আমলে সমৃদ্ধ,
আর আখিরাতে দান করো
চিরস্থায়ী জান্নাতের মিলন।

হে রব্বুল আলামীন!
আমাদের এই আন্তরিক প্রত্যাশা কবুল করো।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

***

প্রশান্তির নীড়

হে পরম করুণাময়, পরম দয়ালু আল্লাহ!
তুমি হৃদয়ের গোপন ভাষা জানো,
অশ্রুর নীরব আবেদন বোঝো,
অভিমানের অন্তরালেও শুনতে পাও
ভালোবাসার ক্ষীণতম আহ্বান।

আজ আমরা হাত তুলেছি
তোমার অসীম রহমতের দরবারে—
স্বামী-স্ত্রীর সকল দুঃখ ঘুচিয়ে দাও,
সকল বিভেদ মুছে দাও,
অভিমানকে পরিণত করো ক্ষমায়,
অস্থিরতাকে রূপ দাও প্রশান্তিতে,
সংসারকে ভরে দাও
মাওয়াদ্দাহ ও রাহমাহর অমিয় বর্ষণে।

হে রব!
যে ঘরে কান্না,
সেখানে হাসি দাও;
যে ঘরে অশান্তি,
সেখানে সাকীনাহ নাযিল করো;
যে হৃদয়ে কষ্ট,
সেখানে ঈমানের আলো জ্বেলে দাও।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

আল্লাহ যখন
দুটি হৃদয়কে এক সূত্রে বাঁধেন,
তখন কেবল দুটি মানুষের মিলন ঘটে না;
জন্ম নেয়
একটি পরিবারের ইতিহাস,
একটি সভ্যতার ভিত্তি,
একটি জাতির ভবিষ্যৎ।

স্বামী-স্ত্রী—
দুইটি নাম,
কিন্তু একটিই জীবন;
দুইটি হৃদয়,
কিন্তু একটিই স্পন্দন;
দুইটি স্বপ্ন,
কিন্তু একটিই গন্তব্য।

পবিত্র কুরআনের বাণী
তাদের মর্যাদা ঘোষণা করে—
তারা একে অপরের পোশাক;
লজ্জার আচ্ছাদন,
সম্মানের আবরণ,
নিরাপত্তার ছায়া,
স্নেহের আশ্রয়।

আবার তিনি বলেন—
তাদের মাঝে স্থাপন করেছেন
ভালোবাসা ও দয়া,
যাতে তারা
পরস্পরের কাছে
প্রশান্তি খুঁজে পায়।

এই তো দাম্পত্য—
ক্ষমতার নয়,
করুণার;
অধিকারের নয়,
দায়িত্বের;
অহংকারের নয়,
আন্তরিকতার।

যেখানে স্বামী
স্ত্রীর চোখের ভাষা পড়ে,
আর স্ত্রী
স্বামীর নীরব ক্লান্তি বুঝে,
সেখানে শব্দেরও প্রয়োজন হয় না;
ভালোবাসাই হয়ে ওঠে
সবচেয়ে মধুর ভাষা।

একটি কোমল বাক্য
শত কঠোর বাক্যের ক্ষত সারিয়ে দিতে পারে।
একটি আন্তরিক ক্ষমা
বহু বছরের অভিমান গলিয়ে দিতে পারে।
একটি স্নেহময় স্পর্শ
অগণিত অশ্রুকে
হাসিতে রূপান্তরিত করতে পারে।

হে স্বামী!
স্ত্রী তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়,
তিনি তোমার বিশ্বস্ত সহচরী,
তোমার সন্তানের জননী,
তোমার ঘরের শান্তির প্রদীপ।

তাঁর সম্মান রক্ষা করো,
তাঁর অনুভূতিকে মর্যাদা দাও,
তাঁর ক্লান্তির পাশে দাঁড়াও,
তাঁর হাসিকে তোমার সম্পদ মনে করো।

হে স্ত্রী!
স্বামী তোমার শাসক নন,
তিনি তোমার জীবনসঙ্গী,
তোমার নির্ভরতার কাঁধ,
তোমার সন্তানের অভিভাবক।

তাঁর সংগ্রামে সাহস দাও,
তাঁর ব্যর্থতায় সান্ত্বনা দাও,
তাঁর সাফল্যে কৃতজ্ঞতার হাসি উপহার দাও।

সংসার মানেই
সব দিন বসন্ত নয়।
কখনো ঝড় আসে,
কখনো মেঘ নামে,
কখনো পথ কঠিন হয়।

কিন্তু যে পরিবার
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে,
পরস্পরের হাত ছাড়ে না,
তাদের জীবনে
আবারও সূর্য ওঠে,
আবারও ফুল ফোটে,
আবারও গান জাগে।

ভালোবাসা মানে
শুধু উপহার নয়,
একটু সময় দেওয়া;
শুধু প্রশংসা নয়,
একটু মনোযোগ;
শুধু হাসি নয়,
কান্নার সময় কাঁধ বাড়িয়ে দেওয়া।

যে ঘরে
কুরআনের তিলাওয়াত ধ্বনিত হয়,
সালাত প্রতিষ্ঠিত হয়,
দোয়ার হাত ওঠে,
সত্য কথা বলা হয়,
হালাল উপার্জনের বরকত থাকে,
সেই ঘরেই
রহমতের বাতাস বয়ে যায়।

সন্তানরা সেখানে শেখে—
বিনয়,
সততা,
শ্রদ্ধা,
ক্ষমা,
ধৈর্য,
কৃতজ্ঞতা
এবং মানবিকতার অমূল্য পাঠ।

এসো,
আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করি—

কটু বাক্য নয়,
মধুর ভাষা বলব।

অভিমান নয়,
ক্ষমাকে বেছে নেব।

রাগ নয়,
ধৈর্যকে ধারণ করব।

অহংকার নয়,
বিনয়ে মাথা নত করব।

দোষ খোঁজার আগে
নিজেকে সংশোধন করব।

একসঙ্গে দোয়া করব,
একসঙ্গে সংগ্রাম করব,
একসঙ্গে হাসব,
একসঙ্গে কাঁদব,
একসঙ্গে জান্নাতের পথ খুঁজব।

তখন
প্রতিটি ঘর হবে
প্রশান্তির নীড়,
প্রতিটি পরিবার হবে
রহমতের উদ্যান,
প্রতিটি সন্তান হবে
নৈতিকতার আলোকবর্তিকা,
প্রতিটি সমাজ হবে
সম্প্রীতির সুবিশাল বৃক্ষ।

হে আল্লাহ!

স্বামী-স্ত্রীর অন্তরে
অটুট ঈমান দাও,
অবিচল বিশ্বাস দাও,
বিশুদ্ধ ভালোবাসা দাও,
অশেষ ধৈর্য দাও,
অগাধ কৃতজ্ঞতা দাও,
অপরিসীম রহমত দাও।

তাদের দুঃখকে
আশায় রূপান্তরিত করো,
অশ্রুকে
হাসিতে পরিণত করো,
অশান্তিকে
প্রশান্তির সুবাতাসে ভরিয়ে দাও।

ঘরে ঘরে ফুটুক
ভালোবাসার ফুল,
জ্বলুক
ঈমানের দীপ,
ছড়িয়ে পড়ুক
শ্রদ্ধা, সৌজন্য,
ন্যায়, দয়া ও সহমর্মিতার সুবাস।

পৃথিবীর প্রতিটি পরিবার
হোক শান্তির বিদ্যালয়,
প্রতিটি দাম্পত্য
হোক রহমতের উদাহরণ,
প্রতিটি হৃদয়
হোক তোমার স্মরণে সজীব।

হে রব্বুল আলামীন!

আমাদের পরিবারগুলোকে
তোমার রহমতের ছায়ায় রক্ষা করো।
দাম্পত্যজীবনে দাও
সাকীনাহ, মাওয়াদ্দাহ ও রাহমাহ।
ইহকালে দাও কল্যাণ,
পরকালে দাও
জান্নাতুল ফিরদাউসের চিরস্থায়ী মিলন।

মন্তব্য করুন