Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৫ অপরাহ্ণ

অনন্তের অভিযাত্রী -মোঃ মুজিবুর রহমান


অনন্তের অভিযাত্রী

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

এই পৃথিবী কারও চিরস্থায়ী নিবাস নয়।
আমরা সবাই পথিক,
অস্থায়ী এক আশ্রয়ের বাসিন্দা।
যে ঘরকে আপন ভেবে
অহংকারে বুক ভরে তুলি,
একদিন সেই ঘরই
নিঃশব্দে ছেড়ে যেতে হয়।
তাই দম্ভ নয়—
প্রয়োজন বিনয়;
লোভ নয়—
প্রয়োজন ন্যায়;
অহংকার নয়—
প্রয়োজন উত্তম চরিত্র।

এই দুনিয়া ভাড়া বাড়ি,
স্থায়ী নয় কোনোদিন;
সময় ফুরোলেই ফিরতে হবে
চিরমালিকের অধীন।

ইটের প্রাসাদ, স্বর্ণের গম্বুজ,
অট্টালিকার সারি—
একটি ডাকেই ফেলে যেতে হয়
সবচেয়ে প্রিয় বাড়ি।

আজ যে বলে, "সবই আমার",
কাল সে থাকে না আর;
সময়ের স্রোত মুছে দেয় শেষে
গর্বের সব অহংকার।

কে ছিল রাজা?
কে ছিল প্রজা?
সবাই ইতিহাস আজ;
ক্ষমতার মুকুট খুলে
সময়ই করেছে লাজ।

যে হাতে ছিল রাজদণ্ড,
সে হাত আজ নিশ্চল;
যে মুখে ছিল বিজয়ের গান,
আজ নীরব সমতল।

কোথায় গেল সেই গর্বিত কণ্ঠ,
দম্ভে ছিল যে ভরা?
মাটির বুকে মিশে গেছে সব,
নিভেছে জীবনের ধারা।

পৃথিবী যেন পথের সরাই,
কয়েক দিনের বাস;
সন্ধ্যা হলে যাত্রী যেমন
ফিরে যায় নিজ নিবাস।

জীবন যেন সকালের শিশির,
সূর্য উঠলেই ক্ষয়;
অহংকারের প্রাসাদ তাই
এক নিমেষেই লয়।

ফুলের হাসি বেশিক্ষণ নয়,
ঝরে পড়ে অবশেষে;
মানুষও তেমনি ফিরে যায়
নিজ কর্মের পরিবেশে।

কিসের এত দম্ভ তবে?
কিসের এত গর্ব?
এক নিমেষেই থেমে যেতে পারে
জীবনের সব পর্ব।

যে চোখ দেখে রঙিন ভুবন,
একদিন হবে স্তব্ধ;
যে কণ্ঠ গায় বিজয়ের গান,
হয়ে যাবে নীরব।

যে পদচারণায় কাঁপে ধরণি,
সেও হবে নিশ্চুপ;
সময়ের কাছে নত হয় শেষে
প্রতিটি জীবরূপ।

কুরআন শেখায়—
পার্থিব জীবন
ক্ষণিক এক পরীক্ষা;
চিরস্থায়ী সফলতা মেলে
সৎকর্মেরই দীক্ষা।

এই পৃথিবী খেলাঘর নয়,
এ এক আমানতভূমি;
সত্য, ন্যায় আর কল্যাণ দিয়ে
গড়ো জীবনের ভূমি।

যে হৃদয়ে থাকে বিনয়,
সেই হৃদয় মহীয়ান;
অহংকারে মানুষ ছোট,
বিনয়ে হয় মহান।

বৃক্ষ যত ফলবান হয়,
নত হয়ে যায় ডাল;
জ্ঞানী মানুষ ততই নম্র,
বাড়ে যতই জ্ঞান।

নদী নামে নিচের পানে,
তবু সে দেয় প্রাণ;
নম্রতারই বুকে লুকায়
মহত্ত্বের সম্মান।

মেঘ নত হয়ে বর্ষণ করে
শস্যভরা ক্ষেতে;
বিনয়ই তাই সৌন্দর্যের
অমল আলোকরেখে।

মানুষ যদি মানুষ হতো
মানবতার তরে,
বিদ্বেষ, হিংসা, অহংকার
হারিয়ে যেত ঘরে।

হাসি হতো সবার সম্পদ,
ভালোবাসা ভাষা;
শান্তির পথে এগিয়ে যেত
প্রতিটি মানুষের আশা।

ক্ষমা হতো শক্তির চিহ্ন,
করুণা হতো মান;
পৃথিবী জুড়ে ফুটে উঠত
মানবতার গান।

ধন যাবে না,
যশ যাবে না,
যাবে না কোনো পদ;
রয়ে যাবে কর্মের ফল,
সত্য আর সদ্‌আচরণ সদা।

মানুষ চেনে মানুষকে
চরিত্রের পরিচয়ে;
সৎকর্মই অমর থাকে
শত বছরের পরে।

অট্টালিকা ভেঙে পড়ে,
ম্লান হয় সম্মান;
সততার দীপ জ্বলে থাকে
যুগ থেকে যুগান্তর।

তাই গড়ো জীবন আলো দিয়ে,
সত্য হোক অবলম্বন;
বিনয়, ন্যায় আর ভালোবাসা
হোক চিরজীবন।

কাউকে দিও না কষ্ট,
কাউকে কোরো না হেয়;
একদিন সবাই ফিরবে শেষে
চিরবিচারের ন্যায়ালয়ে।

মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
দাঁড়াও প্রাণ ভরে;
এই তো জীবনের শ্রেষ্ঠ পরিচয়,
এই তো সত্য ঘরে।

যখন আসবে শেষের ডাক,
থামবে জীবনের গান;
তখন শুধু সৎকর্ম হবে
চিরসাথি অবিরাম।

রবে না দম্ভ,
রবে না গর্ব,
রবে না পরিচয়;
রবে শুধু কর্মের পাতা,
সত্য-মিথ্যার জয়।

যে জীবন ছিল আলোকময়,
সেই জীবন অম্লান;
মানুষ তাকে স্মরণ করে
শ্রদ্ধায় অবিরাম।

পৃথিবী ভাড়া বাড়ির মতো—
এখানে আমরা অতিথি,
মালিক নই।

তাই অহংকার নয়, বিনয় হোক আমাদের অলংকার;
লোভ নয়, ন্যায় হোক আমাদের পথ;
বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসা হোক আমাদের পরিচয়।

যে মানুষ এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে
চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতিক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করে,
সে-ই প্রকৃত প্রজ্ঞাবান।

কারণ—

ঘর নয় চিরদিনের, পথিক শুধু মানুষ;
সময় এলেই ফিরতে হবে, এটাই জীবনের নিষ্কর্ষ।
তাই দম্ভ নয়, বিনয় বেছে নাও;
ক্ষণিক পৃথিবীতে সৎকর্মের আলোই চিরকাল জ্বলে থাকুক।

***

নশ্বরতার নীড়

এই পৃথিবী কারও চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়।
এ এক ক্ষণিকের আশ্রয়,
একটি ভাড়া বাড়ি—
যেখানে আমরা অতিথি,
মালিক নই।

তবু মানুষ
মুঠোভর্তি ধুলোকণাকে
চিরন্তন সম্পদ ভেবে বসে,
অহংকারে আকাশ ছুঁতে চায়,
ক্ষমতার মুকুট পরে
নিজেকেই অমর ভাবতে শেখে।

কিন্তু সময়ের একটি আহ্বান,
মৃত্যুর একটি নিঃশব্দ স্পর্শ,
আর সমস্ত গর্ব,
সমস্ত পরিচয়,
সমস্ত অর্জন
এক মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়।

এই দুনিয়া ভাড়া বাড়ি,
কয়েক দিনের বাস;
সময় এলেই ফিরতে হবে,
শেষ হবে সর্বনাশ।

প্রাসাদ যদি আকাশ ছোঁয়,
স্বর্ণে মোড়া দ্বার;
মালিক যখন ডাক পাঠাবেন,
রহিবে না অধিকার।

শূন্য হাতে এসেছিলে,
শূন্য হাতেই যাবে;
জীবনের সব গর্ব একদিন
মাটির বুকে রবে।

কে ছিল রাজা?
কে ছিল সম্রাট?
কে ছিল মহাবীর?
সময়ের কাছে সবাই শেষে
পরাজিত অধীর।

রাজমুকুটের দীপ্তি মুছে
ধুলায় মেশে ক্ষণে;
ক্ষমতার সব অহংকার
হারায় মৃত্যুগহ্বরে।

যে সিংহাসন কাঁপত আগে
তারই গর্বভরে,
আজ সেখানে নীরব বাতাস
দীর্ঘশ্বাসই ঝরে।

পৃথিবী যেন পথিকশালা,
সাময়িক অবকাশ;
সন্ধ্যা নামলেই যাত্রী ফেরে
নিজ নিজ নিবাস।

শিশির যেমন ভোরের বুকে
রৌদ্রে মিলায় গিয়ে,
জীবনও তেমনি ফুরিয়ে যায়
সময়ের স্রোত বেয়ে।

ফুলের হাসি বেশিক্ষণ নয়,
ঝরে পড়ে শেষে;
মানুষও তেমনি হারিয়ে যায়
নিয়তিরই দেশে।

কিসের তবে দম্ভ তোমার?
কিসের অহংকার?
একটি নিশ্বাস থেমে গেলেই
নেই কোনো অধিকার।

যে চোখ দেখে পৃথিবীজোড়া,
হয়ে যাবে ক্ষীণ;
যে মুখ গায় জয়ের গান,
হবে নীরব দিন।

যে বাহু ছিল শক্তির প্রতীক,
হবে নিশ্চল একদিন;
সময়েরই বিচারে শেষে
নত হবে প্রতিদিন।

ধন-সম্পদ, যশ আর মান,
সবই ক্ষণিক ছায়া;
মৃত্যুর পরে সঙ্গে যাবে
সৎকর্মেরই মায়া।

সোনার ভাণ্ডার পড়ে থাকবে,
থাকবে রাজপ্রাসাদ;
চলে যাবে শুধু কর্মের খাতা,
বিচারেরই সাধ।

যে হৃদয় সৎ, যে প্রাণ পবিত্র,
যার চরিত্র দীপ্তিমান—
তারই জীবন আলো ছড়ায়
যুগ হতে যুগান্তর।

ফলবান বৃক্ষ নত হয়,
এটাই প্রকৃত রীতি;
বিনয়ের মাঝেই মহত্ত্ব লুকায়,
এ সত্য চিরনিত্য।

নদী নামে নিম্নপথে,
তবু সে দেয় প্রাণ;
মেঘ নত হয়ে বর্ষণ করে,
ভরে শস্যভূমি মহান।

যে মানুষ নম্র,
সে-ই মহান;
যে মানুষ দয়ালু,
সে-ই সম্মান।

কাউকে তুচ্ছ কোরো না,
কাউকে দিও না ব্যথা;
মানুষের হৃদয় ভাঙা
সবচেয়ে কঠিন ক্ষত।

মধুর ভাষা ফুলের সুবাস,
কঠোর বাক্য শূল;
একটি হাসি জীবন গড়ে,
একটি তিরস্কার ভুল।

ক্ষমা যার শক্তি,
করুণা যার প্রাণ,
সে-ই মানুষ,
সে-ই সত্যিকারের মহান।

আজ যে বলে—
"
সবই আমার",
কাল সে থাকে না আর;
সময়ের ঢেউ মুছে দেয় শেষে
অহংকারের ভার।

নামের ফলক মুছে যায়,
মুছে যায় পরিচয়;
সততার আলো নিভে না কখনো,
সেটিই সত্যময়।

মানুষ বাঁচে চরিত্রে,
বাঁচে সুকর্মগাঁথায়;
সৎকর্মের সুবাস ছড়ায়
প্রজন্ম হতে প্রজন্মে।

এই পৃথিবী পরীক্ষাক্ষেত্র,
চিরস্থায়ী নয়;
আজকের কর্ম
আগামীরই
সফলতার পরিচয়।

যে ভালোবাসে,
যে ক্ষমা করে,
যে ন্যায়ের পথে চলে—
তার জীবনই আলোকিত হয়
মানবতার তলে।

বিদ্বেষ নয়,
প্রেমের ভাষা;
হিংসা নয়,
শান্তির আশা।

শেষের ডাক আসবে যখন,
থেমে যাবে গান;
নিস্তব্ধ হবে কর্মচঞ্চল
সমস্ত প্রাণ।

রবে না গর্ব,
রবে না মান,
রবে না পরিচয়;
রবে শুধু কর্মের পাতা,
সত্য-মিথ্যার জয়।

সেদিন যার হৃদয় পবিত্র,
যার আমল শুভ্র আলো,
তারই মুখে ফুটবে হাসি,
মিলবে চিরকালের ভালো।

পৃথিবী ভাড়া বাড়ি—
এখানে আমরা অতিথি,
চিরবাসিন্দা নই।

অহংকারের প্রাসাদ
সময়ের ঝড়ে ভেঙে যায়;
ধন-সম্পদের পাহাড়
মৃত্যুর সীমা অতিক্রম করে না;
ক্ষমতার আসন
চিরস্থায়ী হয় না।

কিন্তু একটি সৎকর্ম,
একটি সত্য বাক্য,
একটি বিনয়ী আচরণ,
একটি করুণাময় হৃদয়—
মানুষের স্মৃতিতে,
ইতিহাসের পাতায়,
এবং মহান রবের দরবারে
চিরদিন অম্লান হয়ে থাকে।

তাই এসো—
দম্ভ নয়, বিনয়কে বরণ করি;
অহংকার নয়, নম্রতাকে অলংকার করি;
লোভ নয়, ন্যায়কে জীবন করি;
বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসাকে মানবতার ভাষা করি।

কারণ—

এই পৃথিবী ভাড়া বাড়ি, মালিক অন্যজন;
সময় এলেই ফিরতে হবে, এটাই জীবনের বিধান।
তাই সৎকর্মে সাজাও প্রাণ, অহংকার সব ত্যাগ;
ক্ষণিক জীবন পেরিয়ে তবেই জাগে অনন্তের অনুরাগ।

***

অতিথির এই পৃথিবী

 

যিনি জীবন দান করেন,
তিনিই মৃত্যু নির্ধারণ করেন;
যিনি সৃষ্টি করেন,
তিনিই প্রত্যাবর্তনের পথও নির্ধারণ করেন।
তাঁরই হাতে সকল ক্ষমতা,
তাঁরই বিধানে সময়ের আবর্তন,
তাঁরই আদেশে সূর্য উদিত হয়,
তাঁরই ইচ্ছায় অস্ত যায় জীবনের প্রদীপ।

তাঁরই প্রতি অশেষ প্রশংসা,
তাঁরই প্রতি পরম কৃতজ্ঞতা।

এই পৃথিবী—
চিরস্থায়ী নিবাস নয়;
এ কেবল অল্প কালের এক আশ্রয়,
একটি ভাড়া বাড়ি,
যেখানে মানুষ অতিথি মাত্র,
মালিক কখনো নয়।

এখানে কেউ চিরকাল থাকে না;
কেউ তার ধন-সম্পদ,
ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা খ্যাতিকে
মৃত্যুর সীমানার ওপারে বহন করতে পারে না।

সময়ের স্রোত
রাজা ও প্রজাকে
একই পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
মাটির বুক
একদিন সমান করে দেয়
সিংহাসন আর কুটিরের ব্যবধান।

তবু মানুষ
ক্ষণস্থায়ীকে স্থায়ী ভেবে
অহংকারে বিভোর হয়,
সম্পদের মোহে অন্ধ হয়,
ক্ষমতার নেশায় মানবতা বিস্মৃত হয়।

সে ভুলে যায়—
যে ঘরকে নিজের বলে সাজায়,
সেটি তার নয়;
যে জমিকে চিরকালের সম্পদ মনে করে,
সেটিও তার নয়;
যে দেহ নিয়ে অহংকার করে,
একদিন সেই দেহই
মাটির নিঃশব্দ অন্ধকারে ফিরে যাবে।

মৃত্যু কোনো দূরবর্তী কাহিনি নয়;
সে জীবনের নিত্যসঙ্গী।
প্রতিটি নিঃশ্বাস
শেষ নিঃশ্বাসের দিকে
একটি করে পদক্ষেপ।

তাই প্রজ্ঞার পথ
অহংকারে নয়—
বিনয়ে।

মর্যাদার পথ
ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়—
সৎচরিত্রে।

সফলতার পথ
সম্পদের প্রাচুর্যে নয়—
ন্যায়, সততা ও সৎকর্মে।

এই কাব্য সেই চিরন্তন সত্যেরই কাব্যিক ভাষ্য—
যে সত্য মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়,

দুনিয়া ভাড়া বাড়ি,
আখিরাতই স্থায়ী নিবাস।

অতএব এসো,
আমরা দম্ভের প্রাসাদ নয়,
বিনয়ের মিনার নির্মাণ করি;
লোভের অগ্নি নয়,
সততার প্রদীপ জ্বালাই;
অহংকারের মুকুট নয়,
মানবতার অলংকার ধারণ করি।

কারণ—

সময় এলেই মালিক ডাকবেন;
তখন প্রাসাদ নয়,
সঙ্গে যাবে কেবল কর্মের পুঁজি।

মন্তব্য করুন