প্রভাষক
২১ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ
মানুষের দাঁত নতুন করে প্রাকৃতিকভাবে গজাবে
দাঁত গজাতে পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসার শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন গবেষকেরা।
দন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে অনেকেই ভয় পান
দাঁত পড়ে যাওয়ার পর বর্তমানে যেসব চিকিৎসা রয়েছে, সেগুলো সাময়িক এবং শতভাগ কার্যকর নয়। কিন্তু কেমন হতো, যদি কৃত্রিম ব্যবস্থার বদলে আমাদের দাঁত প্রাকৃতিকভাবেই আবার গজাত? বিভিন্ন জরিপ বলছে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশেরই দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে একধরনের ভয় কাজ করে। দাঁতে ফিলিং করা বা ড্রিল করার প্রতি তাঁদের আতঙ্ক ও অনীহার কারণে অনেকেই নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার বা যত্ন নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বায়োকেমিস্ট হ্যানেল রুওহোলা-বেকারের কাছে প্রায় প্রতিদিনই এমন সব মানুষের ই–মেইল আসে, যাঁরা দাঁতের সাধারণ চিকিৎসা বা ব্যথার চেয়েও জটিল কোনো ডেন্টাল এক্সপেরিমেন্টের মধ্য দিয়ে যেতেও রাজি। তাঁদের একটাই আকুতি—রুওহোলা-বেকার যেন তাঁদের দাঁত আবার গজাতে সাহায্য করেন।
রুওহোলা-বেকার বিশ্বজুড়ে এমন একদল বিজ্ঞানীর অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা প্রথাগত ডেন্টাল চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে রিজেনারেটিভ মেডিসিন বা পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসার শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। দাঁত হারানো এবং দাঁতের ব্যথায় ভোগা লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি এক নতুন আশার আলো।
বিজ্ঞানীদের এই স্বপ্ন যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে কোনো একদিন দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অর্থ হবে—সিনথেটিক উপাদান দিয়ে দাঁত মেরামত করা কিংবা তা টেনে উপড়ে ফেলার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা আস্ত একটি দাঁত প্রাকৃতিকভাবেই আবার গজিয়ে তোলা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর রুওহোলা-বেকার বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখন একটি বিষয় আমার কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল—মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় নতুন কিছুর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
দাঁত পড়ে যাওয়ার সঙ্গে মানুষের বেশি অসুস্থ হওয়া এবং দ্রুত মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। এটি মানুষের খাওয়া, চিবানো এবং হাসির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যা সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষতি করতে পারে—আর এই ক্ষতিকর চক্র শৈশব থেকেই শুরু হতে পারে।
রুওহোলা-বেকার এবং তাঁর দল কাজ করছেন একধরনের ‘লিভিং ফিলিং’ বা জীবন্ত ফিলিং নিয়ে। আক্কেল দাঁত নিয়ে গবেষণা করে এই বিজ্ঞানী দেখতে পান, এনামেল তৈরিকারক বিশেষ কোষ মানুষের দাঁত পুরোপুরি ওঠার পর মারা যায়। ফলে দাঁত একবার মাড়ি ভেদ করে বাইরে চলে এলে এই কোষগুলোকে আর উদ্দীপিত করা যায় না।
এর পরিবর্তে, গবেষক দলটি কিছু স্টেম সেলকে রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে অ্যামেলোব্লাস্টে রূপান্তরিত করেন। ল্যাবরেটরির পাত্রে এই উপাদানগুলো একত্রিত করার পর একটি ‘টুথ অর্গানয়েড’ তৈরি হয়, যা নিজে থেকেই এনামেল প্রোটিন নিঃসৃত করতে সক্ষম।
রুওহোলা-বেকার এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে এই এনামেল প্রোটিনগুলো ফিলিং তৈরিতে বা ফেটে যাওয়া দাঁতের ওপর প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ল্যাবরেটরিতে আস্ত একটি দাঁত তৈরি করা।
১৩
১৫ মন্তব্য