সহকারী শিক্ষক
২১ জুলাই, ২০২৬ ০৫:২১ অপরাহ্ণ
অদৃশ্য মহা বিশ্বঃযা দেখি তার চেয়েও যা লুকিয়ে আছে।
মহাবিশ্বের বেশিরভাগটা কালো কালো কেন? ওখানে কী আছে?
ওখানে আছে ডার্ক ম্যাটার।দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কিন্তু মহাবিশ্বের ২৭ ভাগই এটা।
মহাবিশ্বে আমরা যা দেখি—তারা, গ্যালাক্সি, গ্রহ, মানুষ—সব মিলিয়ে মাত্র ৫ ভাগ। বাকি ৯৫ ভাগ অদৃশ্য।
আমরা মাত্র ৫ ভাগ জানি!
হ্যাঁ, ২৭ ভাগ ডার্ক ম্যাটার, ৬৮ ভাগ ডার্ক এনার্জি। মহাবিশ্বের বেশিরভাগই অজানা।
ডার্ক ম্যাটার প্রথম ধারণা দেন সুইস বিজ্ঞানী ফ্রিটস জুইকি। ১৯৩৩ সালে তিনি দেখলেন গ্যালাক্সি অস্বাভাবিক দ্রুত ঘুরছে। গ্যালাক্সির বাইরের তারাগুলো ভেতরের তারার মতোই দ্রুত ঘোরে। কিন্তু এটা হওয়ার কথা নয়। অদৃশ্য কিছু এদের টানছে।
ডার্ক ম্যাটার দেখা যায় না কেন?
কারণ এটা আলো শোষণ করে না, আলো প্রতিফলিত করে না, আলো নির্গত করে না। তাই কোনো টেলিস্কোপে ধরা পড়ে না।
তাহলে ডার্ক ম্যাটার আছে জানলাম কীভাবে?
মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে। এটা আলোকেও বাঁকিয়ে দেয়। এই বাঁকানো দেখেই বিজ্ঞানীরা বোঝেন। এই ঘটনাকে বলে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। দূরের গ্যালাক্সির আলো ডার্ক ম্যাটারের কাছে এলে বাঁকে। এটাই ডার্ক ম্যাটারের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
ডার্ক ম্যাটার কী দিয়ে তৈরি?
এটাই সবচেয়ে বড় রহস্য। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন। তবে WIMP নামের কণার কথা সবচেয়ে বেশি বলা হয়। WIMP মানে Weakly Interacting Massive Particle। এটা সাধারণ পদার্থের সাথে খুব কমই মিথস্ক্রিয়া করে, তাই ধরা পড়ে না।
২০২৫ সালে বিজ্ঞানীরা WIMP খুঁজতে XenonnT ও PandaX-4T যন্ত্র ব্যবহার করছেন। এগুলো মাটির হাজার মিটার নিচে বসানো। এখনো WIMP ধরা পড়েনি।
ডার্ক ম্যাটার না থাকলে কী হতো?
গ্যালাক্সি তৈরিই হতো না। ডার্ক ম্যাটারের মাধ্যাকর্ষণে গ্যাস জমে তারা তৈরি হয়। আমরাও থাকতাম না।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দেখেছে মহাবিশ্বের শুরুতেও বিশাল গ্যালাক্সি ছিল। ডার্ক ম্যাটারের মাধ্যাকর্ষণে এত দ্রুত গ্যালাক্সি তৈরি হয়েছিল।
২০২৫ সালে সবচেয়ে বড় খবর, নাসার ফারমি টেলিস্কোপ গামা রশ্মির সংকেত পেয়েছে। এটা হয়তো ডার্ক ম্যাটারের প্রথম সরাসরি প্রমাণ।
তাহলে কি ডার্ক ম্যাটার ধরা পড়েছে?
এখনো নিশ্চিত নয়, বিজ্ঞানীরা আরো পরীক্ষা করছেন। কিন্তু এটা অনেক বড় আবিষ্কার হতে পারে।
২০২৪ সালে অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, হয়তো ডার্ক ম্যাটার নেই, মাধ্যাকর্ষণের নতুন থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ বিজ্ঞানী মনে করেন ডার্ক ম্যাটার আছে। কারণ গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং, গ্যালাক্সির ঘূর্ণন—এগুলোর ব্যাখ্যা ডার্ক ম্যাটার ছাড়া কঠিন।
ডার্ক ম্যাটার কি পৃথিবীতেও আছে?
হ্যাঁ, এই মুহূর্তে কোটি কোটি ডার্ক ম্যাটার কণা তোমার শরীর দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো অনুভূতি নেই।
২০২৫ সালের ICRC সম্মেলনে ৮০টি গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে ডার্ক ম্যাটার নিয়ে। বিজ্ঞানীরা axion নামের নতুন কণাও খুঁজছেন।
২০২৫ সালে বিজ্ঞানীরা প্রস্তাব করেছেন ডার্ক ডোয়ার্ফ তারার কথা। এই তারা জ্বলবে না নিউক্লিয়ার ফিউশনে, বরং ডার্ক ম্যাটার দিয়ে জ্বলবে।
ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তারা জ্বলবে?
এটা এখনো থিওরি, কিন্তু যদি সত্য হয়, এই তারা চিরকাল জ্বলতে পারবে। ডার্ক ম্যাটার রহস্য সমাধান হলে মহাবিশ্বের জন্মের রহস্য বোঝা যাবে, নতুন শক্তির উৎস পাওয়া যেতে পারে, পদার্থবিজ্ঞানের নতুন যুগ শুরু হবে।
মহাবিশ্বের ২৭ ভাগ জিনিস আমরা এখনো চিনি না! মানুষ তাহলে কতটুকু জানে?
খুব কম, কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে জানছে। ডার্ক ম্যাটার অদৃশ্য, কিন্তু এটাই মহাবিশ্বকে ধরে রেখেছে।
১৩
১৫ মন্তব্য