Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ জুলাই, ২০২৬ ০৬:০৯ অপরাহ্ণ

উভয় জগতের সফলতা - মোঃ মুজিবুর রহমান

উভয় জগতের সফলতা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হে আল্লাহ!
দাও এমন জীবন,
যেখানে সত্যের পথে থাকি অবিচল;
দাও এমন হৃদয়,
যেখানে ঈমানের আলো থাকে অমল।

ধন-সম্পদ, যশ-খ্যাতি,
ক্ষমতার উঁচু আসন,
সবই ক্ষণিক
যদি না থাকে তোমার সন্তুষ্টির অর্জন।

প্রাসাদ গড়ি, সেতু গড়ি,
জয় করি দিগন্ত বিস্তার;
কিন্তু আমল যদি শূন্য থাকে,
কী হবে সে অহংকার?

একদিন থেমে যাবে
সময়ের সব চলাচল,
বন্ধ হবে জীবনের অধ্যায়,
নিভে যাবে দেহের প্রদীপের আলো।
তখন সঙ্গে যাবে না
অগণিত সম্পদ কিংবা সম্মান;
সঙ্গে যাবে কেবল
সৎকর্ম আর ঈমান।

তাই হে মানুষ,
আজই জাগো বিবেকের ডাকে,
যে সুযোগ আছে হাতে,
তা যেন হারিয়ে না যায় ফাঁকে।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত
হোক জীবনের শোভা,
কুরআনের আলোয় গড়ে উঠুক
চরিত্রের প্রতিটি রূপকথা।

সত্য কথা বলো,
ন্যায়ের পথে চলো,
অন্যায়ের কাছে কখনো
মাথা নত কোরো না।

অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও,
এতিমের চোখের জল মুছে
ভালোবাসার হাত বাড়াও।

ক্ষমা করতে শেখো,
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে,
মানুষকে আপন ভেবে
এসো ভালোবাসার কূলে।

অহংকার নয়,
বিনয় হোক পরিচয়;
লোভ নয়,
সন্তুষ্টিই হোক হৃদয়ের বিজয়।

পিতা-মাতার সেবা করো,
শিক্ষকের সম্মান রাখো,
আত্মীয়তার বন্ধন গড়ো,
সততার প্রদীপ জ্বালাও।

অন্যের দোষ খুঁজে নয়,
নিজেকে আগে শোধরাও;
প্রতিদিন একটু করে
কল্যাণের পথে এগিয়ে যাও।

সকালের সূর্য উঠুক
নতুন আমলের অঙ্গীকারে,
রাতের নীরবতা কাটুক
ক্ষমা প্রার্থনার অশ্রুধারে।

মনে রেখো
দুনিয়া একটি পরীক্ষা,
আখিরাত তার ফলাফল;
এখানে যে বীজ বোনা হয়,
সেখানেই ফুটে তার সফলতা।

আজ যে হাসি,
আগামীকাল কান্না হতে পারে;
আজ যে দুঃখ,
ধৈর্যে তা জান্নাতের সোপান গড়ে।

তাই বিপদে ধৈর্য ধরো,
সুখে কৃতজ্ঞ থাকো,
প্রতিটি শ্বাসে
রবের স্মরণ রাখো।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে
সত্যের পথে অটল রাখুন।
গুনাহ থেকে ফিরিয়ে এনে
তাওবার সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিন।

আমাদের রিজিকে বরকত দিন,
আমলকে কবুল করুন,
ইলমকে উপকারী করুন,
চরিত্রকে সুন্দর করুন।

আমাদের সন্তানদের
সৎ আদর্শবান করুন,
পরিবারে দান করুন
শান্তি, ভালোবাসা তাকওয়া।

দেশকে করুন নিরাপদ,
সমাজকে করুন কল্যাণময়,
মানুষে মানুষে গড়ে উঠুক
ভ্রাতৃত্বের অটুট পরিচয়।

হে পরম দয়াময়!
দুনিয়ার জীবনে দিন
হালাল রিজিক, সুস্বাস্থ্য,
সৎর্মের শক্তি
এবং আপনার সন্তুষ্টি।

আর আখিরাতে দিন
ক্ষমা, রহমত,
সহজ হিসাব,
অশেষ অনুগ্রহ
এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী শান্তি।

আমাদের এমন জীবন দিন,
যেখানে প্রতিটি কাজ
আপনার সন্তুষ্টির জন্য হয়;
এমন মৃত্যু দিন,
যেখানে ঈমানের আলো
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অটুট রয়।

কারণ
পরকালীন জীবনে অকৃতকার্য হলে
সব অর্জনই বৃথা হয়ে যায়;
আর যে আপনার সন্তুষ্টি লাভ করে,
সেই- প্রকৃত সফলতার শিখরে পৌঁছায়।

আসুন, আমরা সবাই
সত্য, ন্যায়, তাকওয়া মানবকল্যাণের পথে চলি।
সৎকর্মে সমৃদ্ধ করি প্রতিটি দিন,
ইবাদতে আলোকিত করি প্রতিটি রাত,
আর বিনম্র হৃদয়ে প্রার্থনা করি

হে আল্লাহ!
আমাদের দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণ দান করুন,
গুনাহ ক্ষমা করুন,
ঈমানের ওপর অটল রাখুন,
এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।
আমিন।

***

উভয় জগতের সফলতা

 “পরকালীন জীবনে অকৃতকার্য হলে
দুনিয়ার সব অর্জনই বৃথা।

এই বাণী জাগাক প্রাণে চিরন্তন আহ্বান,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণে হোক সত্যেরই জয়গান।
হে পরম দয়াময়, করুণার অফুরান ধারা,
তোমারই সন্তুষ্টি হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ সাড়া।

দাও এমন জীবন, হে রব,
যেখানে মিথ্যার কাছে মাথা নত না হয়;
দাও এমন হৃদয়,
যেখানে ঈমানের আলো অনন্ত দীপ্তি ছড়ায়।

ধন-সম্পদ, যশের মুকুট,
ক্ষমতার অলংকার;
সবই তো সময়ের স্রোতে ভেসে যাওয়া
ক্ষণস্থায়ী এক অহংকার।

স্বর্ণখচিত প্রাসাদ যদি
আকাশ ছুঁয়েও দাঁড়ায়,
আমলহীন সেই জীবনের
শেষে কী- বা অবশিষ্ট থাকে?

মানুষ গড়ে নগর, সেতু,
জয় করে দিগন্তপথ;
তবু যদি হৃদয় থাকে শূন্য,
অন্ধকারে হারায় রথ।

একদিন সময় থামবে,
নিস্তব্ধ হবে সব আয়োজন;
শেষ নিশ্বাসে খুলে যাবে
চিরন্তন বিচারের দ্বারপথ তখন।

সঙ্গে যাবে না সোনা-রূপা,
যশের রঙিন ইতিহাস;
সঙ্গে যাবে ঈমানভরা হৃদয়,
আর নেক আমলের সুবাস।

তাই হে মানুষ, জেগে ওঠো,
ঘুমিয়ে থেকো না আর;
আজকের এই মূল্যবান ক্ষণ
ফিরে আসবে না আবার।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হোক
জীবনের অনন্ত শোভা;
কুরআনের আলোয় ফুটে উঠুক
চরিত্রের নির্মল প্রভা।

সুন্নাহ হোক চলার পথ,
তাকওয়া হোক অন্তরবাস;
আল্লাহভীতি হৃদয়জুড়ে
দিক জান্নাতের সুবাস।

সত্য বলো নির্ভীক কণ্ঠে,
ন্যায়ের পথে চলো;
অন্যায়ের অন্ধকারে
কখনো মাথা নত কোরো না।

অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
দুঃখীর অশ্রু মুছে দাও;
এতিম শিশুর মুখে হাসি
মমতার হাতে ফুটিয়ে দাও।

ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন দাও,
তৃষ্ণার্তকে দাও জল;
মানুষের সেবায় খুঁজে নাও
ইবাদতেরই ফল।

ক্ষমা করো অপরাধীকে,
বিদ্বেষ রাখো না মনে;
ভালোবাসার সেতু গড়ে
মানুষ জিতো আপন গুণে।

অহংকারের মুকুট খুলে
বিনয়ের ফুল পরো;
লোভের আগুন নিভিয়ে দিয়ে
সন্তুষ্টির গান ধরো।

পিতা-মাতার সেবায় রেখো
জীবনের শ্রেষ্ঠ মান;
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধায় গড়ো
জ্ঞানসমৃদ্ধ সম্মান।

আত্মীয়তার বন্ধন গড়ো,
প্রতিবেশীর খোঁজ রাখো;
সততার দীপ জ্বালিয়ে
মানবতার পথে থাকো।

অন্যের দোষ গণনা নয়,
নিজেকে আগে বদলাও;
প্রতিদিন একটু একটু করে
নিজ হৃদয়কে শুদ্ধ করাও।

সকালের সূর্য উঠুক
নতুন আমলের শপথে;
রাতের নির্জন অশ্রু ঝরুক
তাওবার নীরব প্রার্থনায়।

দুনিয়া ক্ষণিক পরীক্ষাগার,
আখিরাত তার ফল;
এখানে যেমন বীজ বোনা হয়,
সেখানে তেমনি ফসল।

আজকের সুখ কাল মুছে যায়,
আজকের দুঃখও ক্ষণ;
সবর যার জীবনের সাথি,
তারই উজ্জ্বল গন্তব্য জান্নাতভূমি তখন।

বিপদ এলে ধৈর্য ধরো,
সুখে থেকো কৃতজ্ঞতায়;
প্রতিটি শ্বাসে রবকে স্মরণ
রাখো হৃদয়ের গভীরতায়।

গুনাহ যদি ডাকে তোমায়,
ফিরে এসো তাওবার ঘরে;
করুণার দরজা খোলা থাকে
রাত-দিন প্রতিক্ষণে।

হে দয়াময় আল্লাহ!
অন্তরগুলো শুদ্ধ করো;
মিথ্যা, হিংসা, কপটতা থেকে
আমাদের মুক্ত করো।

আমাদের রিজিকে দাও বরকত,
আমলগুলো কবুল করো;
উপকারী ইলম দান করে
জীবন আলোকিত করো।

চরিত্র দাও নবীর আদর্শে,
বাক্যে দাও সত্যের দীপ্তি;
চোখে দাও পবিত্র দৃষ্টি,
হৃদয়ে দাও রহমতের সিক্তি।

আমাদের সন্তানদের করো
সৎ, বিনয়ী, আদর্শবান;
কুরআনের আলোয় গড়ে উঠুক
তাদের প্রতিটি প্রাণ।

পরিবারে দাও শান্তির ছায়া,
ভালোবাসার বন্ধন;
তাকওয়ার সুবাসে ভরে উঠুক
প্রতিটি ঘর-আঙিনা তখন।

দেশকে করো নিরাপদ,
সমাজ হোক কল্যাণময়;
মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব গড়ে
মুছে যাক বিভেদের ভয়।

শাসনে থাক ন্যায় সততা,
বাণীতে থাক সত্যের জয়;
মানবতার পতাকা উড়ুক
শান্তি-সৌহার্দ্যের পরিচয়।

হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!
দাও হালাল রিজিকের প্রাচুর্য,
দাও সুস্বাস্থ্য, নির্মল জীবন,
ইবাদতের অফুরন্ত শক্তি।

দাও এমন হৃদয়,
যেখানে কুরআনের সুর বাজে;
দাও এমন বিবেক,
যা অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে।

আখিরাতে দাও ক্ষমা,
রহমতের অবারিত দ্বার;
সহজ হিসাব, উজ্জ্বল মুখ,
নবীর শাফাআতের উপহার।

মিযানের পাল্লা ভারী করো
নেক আমলের আলোয়;
সিরাত সেতু পার করো
নিজ করুণার ছায়ায়।

জান্নাতুল ফিরদাউস করো
আমাদের চির আবাস;
যেখানে থাকবে না কোনো ভয়,
থাকবে না বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস।

এমন জীবন দাও,
যেখানে প্রতিটি কর্ম
তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশে নিবেদিত হয়;
এমন মৃত্যু দাও,
যেখানে শেষ নিঃশ্বাসেও
ঈমানের প্রদীপ জ্বলে রয়।

কারণ
পরকালে যে ব্যর্থ হয়,
তার দুনিয়ার সব জয় পরাজয় হয়ে যায়;
আর যে লাভ করে তোমার সন্তুষ্টি,
সেই তো প্রকৃত সফলতার শিখরে পৌঁছায়।

এসো তবে সবাই মিলে
সত্যের পতাকা হাতে তুলি;
ন্যায়, তাকওয়া, মানবসেবা
জীবনের প্রতিটি পথে গড়ি।

ইবাদতে হোক আলোকিত দিন,
সৎকর্মে হোক জীবন ভরা;
করুণার বাণী ছড়িয়ে পড়ুক
প্রতিটি হৃদয়জোড়া।

শেষে তুলি দু'হাত ভরে
বিনম্র আকুল মিনতি
হে আরশের মহান অধিপতি,
তোমারই রহমত অশেষ অমৃতি।

দুনিয়াতে দাও কল্যাণ,
আখিরাতে দাও মুক্তির দান;
ক্ষমা করো সব গুনাহ আমাদের,
রাখো ঈমান অটুট প্রাণ।

শেষ বিচারে দিও সফলতা,
রহমতের ছায়া দিও নিরন্তর;
জান্নাতুল ফিরদাউসে মিলাও স্থান
এই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রহর।

কারণ

দুনিয়ার সব প্রাপ্তি ক্ষণিক,
আখিরাত চিরন্তন ঠিকানা;
আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট,
সেই- সত্যিকার বিজয়ী, সেই- মহিমান্বিত মানা।

আমিন।

***

উভয় জগতের সফলতা

 “পরকালীন জীবনে অকৃতকার্য হলে
দুনিয়ার সব অর্জনই বৃথা।

এই সত্য জাগাক প্রাণে অনন্ত আলোর গান,
এই বাণী হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিমান।
রাজ্য, ধন, ঐশ্বর্য, যশসবই ক্ষণিক ছায়া,
রবের সন্তুষ্টি ছাড়া কোথাও নেই মায়া।

হে পরম করুণাময়, হে বিশ্বজগতের রব!
তোমারই দয়ার সাগরে রাখো আমাদের সব।
দাও এমন জীবন, সত্যের পথে অটল থাকি,
প্রলোভনের ঝড় এলেও ঈমান যেন না ফাঁকি।

দাও এমন হৃদয়, নির্মল, পবিত্র, উজ্জ্বল,
যেখানে তাকওয়ার দীপ জ্বলে অবিরল।
দাও এমন দৃষ্টি, পাপ থেকে থাকে দূর,
যেখানে কুরআনের আলোয় আলোকিত অন্তঃপুর।

ধন যদি পাহাড়সম, ক্ষমতা যদি অগাধ,
যদি না থাকে আমলসবই বৃথা সাধ।
প্রাসাদ যদি মেঘ ছুঁয়ে আকাশমুখী হয়,
আল্লাহভীতি ছাড়া তবু তার কোনো মূল্য নয়।

মানুষ গড়ে অট্টালিকা, রচনা করে সেতু,
বিজয়ের পতাকা ওড়ে সমুদ্র পেরিয়ে কত।
কিন্তু মৃত্যুর দ্বারে এসে থেমে যায় সব রথ,
রয়ে যায় কেবল কর্মেরই অমোঘ সত্যপথ।

একদিন থেমে যাবে সময়ের সব গতি,
নিস্তব্ধ হবে পৃথিবীর সকল কোলাহল-স্মৃতি।
বন্ধ হবে জীবনের অমূল্য অধ্যায়,
মাটির দেহ নিদ্রিত হবে অনন্ত নীরবতায়।

সঙ্গে যাবে না সোনা, যাবে না ধনের ভাণ্ডার,
যাবে না সম্মানের মুকুট, ক্ষমতার অহংকার।
সঙ্গে যাবে কেবল নেক আমলের আলো,
ঈমানভরা অন্তর আর সত্যের দীপ্ত ভালো।

তাই হে মানুষ! আজই জাগো বিবেকের আহ্বানে,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ সাজাও রবের টানে।
আজকের সুযোগ কাল আর ফিরে নাও আসতে পারে,
সময়ের নদী বহে যায় অজানা গন্তব্যপারে।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হোক জীবনের অলংকার,
সিজদায় খুঁজে নাও হৃদয়ের প্রকৃত অধিকার।
কুরআনের প্রতিটি আয়াত হোক পথের প্রদীপ,
অন্ধকার জীবনে জ্বালুক আলোর অনুপম দীপ।

সুন্নাহ হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ দিশারী,
তাকওয়া হোক হৃদয়ের অমূল্য অলংকারই।
সত্যের পথে দৃঢ় থেকো, অন্যায় করো বর্জন,
ন্যায়ের পতাকা হাতে গড়ো কল্যাণের জীবন।

ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, তৃষ্ণার্তকে দাও জল,
এতিমের মুখে হাসি ফোটাও অবিরল।
দুঃখীর চোখের জল মুছে ভালোবাসা বিলাও,
মানুষের সেবার মাঝে রবের সন্তুষ্টি পাও।

ক্ষমা করো শত্রুকেও, বিদ্বেষ রাখো না প্রাণে,
ভালোবাসার ফুল ফুটুক মানবতার টানে।
অহংকার নয়বিনয় হোক জীবনের পরিচয়,
লোভ নয়সন্তুষ্টিতেই খুঁজে নাও হৃদয়ের জয়।

পিতা-মাতার সেবাতে লুকিয়ে জান্নাত,
শিক্ষকের সম্মানে বাড়ে জ্ঞানের বরকত।
আত্মীয়তার বন্ধনে রাখো ভালোবাসার সেতু,
সততার আলোয় ভরাও জীবনের প্রতিটি রথ।

অন্যের দোষ দেখার আগে নিজেকে করো শুদ্ধ,
আত্মসমালোচনার পথেই চরিত্র হয় বুদ্ধ।
প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করো অন্তরভরে,
একদিন সেই আমল ফুটবে জান্নাতের দুয়ারে।

সকালের সূর্য উঠুক নতুন অঙ্গীকার নিয়ে,
রাতের তাহাজ্জুদ কাটুক অশ্রুসজল প্রার্থনায়।
তাওবার সুবাস ভরুক অন্তরের প্রতিটি কোণ,
রহমতের বৃষ্টি ঝরুক আকাশ ভরা ক্ষণ।

মনে রেখোএই পৃথিবী ক্ষণিকের পরীক্ষাগার,
আখিরাত তার চিরন্তন ফলাফলের দ্বার।
এখানে যেমন বীজ বোনো কর্মের প্রতিক্ষণ,
সেখানে তেমনি ফুটে ওঠে চিরস্থায়ী জীবন।

আজকের হাসি কাল হতে পারে অশ্রুর ঢেউ,
আজকের কষ্ট জান্নাতের পথে রাখে নীল নৌ।
সবর যার জীবনের সাথি, সে কখনো হারে না,
আল্লাহর ওয়াদার আলো তাকে নিরাশ করে না।

হে দয়াময় আল্লাহ! অন্তর করো পবিত্র,
গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনো তাওবার পথে চিত্র।
রিজিকে দাও বরকত, আমল করো কবুল,
ইলম দাও উপকারী, জীবন হোক সফল।

আমাদের সন্তানদের করো সৎ, জ্ঞানী, বিনয়ী,
কুরআনের আদর্শে হোক তারা আলোকময়ী।
পরিবারে দাও শান্তি, ভালোবাসা, তাকওয়ার ছায়া,
সুখে-দুঃখে তোমারই স্মরণ হোক হৃদয়ের মায়া।

দেশকে করো নিরাপদ, সমাজ হোক কল্যাণময়,
মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন হোক অক্ষয়।
ঘৃণার দেয়াল ভেঙে উঠুক সম্প্রীতির গান,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক বাংলাদেশ মহান।

হে বিশ্বজগতের পালনকর্তা!
দাও হালাল রিজিক, সুস্বাস্থ্য, কল্যাণময় জীবন;
দাও ইবাদতের শক্তি, সত্যের সাহস,
আর তোমার সন্তুষ্টির অনন্ত সাধন।

আখিরাতে দাও রহমত, সহজ হিসাব,
মিযানে ভারী হোক নেক আমলের জবাব।
সিরাতের সেতু পার করো তোমারই দয়ায়,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও চির শান্তির ছায়ায়।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত রাখো ঈমান অটুট,
তোমার জিকিরে কাটুক প্রতিটি মুহূর্ত।
মৃত্যু হোক শাহাদাতের সুবাসময় ক্ষণ,
কবর হোক জান্নাতের একটি সুশীতল উদ্যান।

কারণ
পরকালে যে ব্যর্থ, সে সত্যিই পরাজিত;
দুনিয়ার সব বিজয় তখন হয়ে যায় লুপ্ত।
আর যে লাভ করে রবের অশেষ সন্তুষ্টি,
সেই- তো পেয়েছে প্রকৃত মুক্তি।

এসো সবাই হাতে হাত রেখে
সত্য, ন্যায়, তাকওয়ার পথে চলি;
মানবসেবায় জীবন গড়ি,
ইবাদতে প্রতিটি রাত জ্বালি।

শেষে তুলি দু'হাত ভরে অশ্রুসিক্ত মিনতি

হে আল্লাহ!
আমাদের দুনিয়ায় দাও কল্যাণ,
আখিরাতে দাও অনন্ত মুক্তির সম্মান।
ক্ষমা করো সকল গুনাহ, রাখো ঈমান অটল,
তোমার রহমতে হোক জীবনের সম্বল।

জান্নাতুল ফিরদাউসে দিও চির আবাস,
রাসূল (সা:)-এর সান্নিধ্যে হোক আমাদের বাস।
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি,
তোমার দিদারই হোক অনন্তকালের চূড়ান্ত সফলতা।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

মন্তব্য করুন