সহকারী শিক্ষক
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
জলদা পাড়ার সাত মাহুতকে 'গজ গৌরব' পুরস্কার কেন্দ্রের
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারে অসামান্য অবদানের জন্যে এই প্রথম রাজ্যের সাত জন এই মাহুতকে 'গজ গৌরব' পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক। ওই সাত জন ন মাহুতই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গে বন্যপ্রাণ এর সংরক্ষণের কাজ করে আসছেন। তাঁদের আগামী ১৩ অগস্ট বিশ্ব হস্তি দিবসে এর বিশাখাপত্তনমে ওই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কার প্রাপক মাহুতেরা হলেন বিকাশ খড়িয়া, রাজীব ওরাওঁ, আজিবুল হক, অজিত গাবুর, মমতাজ আলম, আমসুর খড়িয়া ও দিলীপ মুন্ডা।বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ -এর ৫ অক্টোবরে অতি ভারী বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠে শিলতোর্সা নদী। ওই নদীর প্লাবনে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে কোচবিহারের পাতলাখাওয়া ও পুন্ডিবাড়ির দিকে ভেসে যায় মোট ১৩টি একশৃঙ্গ গন্ডার। কিছু গন্ডার রসমতির জঙ্গলে ঠাঁই নিলেও বাকিরা পুন্ডিবাড়ির লোকালয়ে আশ্রয় নেয়। জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে দূরত্ব ১০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। ওই গন্ডারদের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয় 'অপারেশন রাইনো'। টানা ৫৫ দিন ধরে চলে ওই গন্ডার উদ্ধার অভিযান। জলদাপাড়া থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলরাম, সুন্দরমণি, অম্বা, কর্ণ ও জয়ের মতো ১৯টি দক্ষ কুনকি হাতিকে। কুনকিদের সাহায্য নিয়ে মাহুতরা ভেসে আসা গন্ডারগুলিকে জলদাপাড়ায় ফেরাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের মাঠে খোলা হয় অস্থায়ী পিলখানা। গন্ডারগুলি অচেনা পরিবেশে এসে এতটাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল যে, দিনের আলো ফুটলেই ঝোপঝাড়ের মধ্যে আশ্রয় নিত। আবার কখনও নেমে পড়ত লোকালয়ের পুকুরে। কুনকি হাতির পিঠে সওয়ার হয়ে বনকর্মীরা একের পর এক গন্ডারকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে জলদাপাড়ায় ফেরাতে সমর্থ হন। যা এক সময়ে কেনিয়া পারেনি, তা করে দেখিয়ে বিশ্বের দরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে জলদাপাড়া বনবিভাগ।
১৪
২৪ মন্তব্য