সহকারী শিক্ষক
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
খোলা আকাশের নিচে বাবার জুতার দোকান,সেখানেই ছেলের স্বপ্নের পাঠশালা
কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা রকিবুলের শৈশব কেটেছে গাছপালা আর ফুলবাগানের মধ্যে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই নিজের বাড়ির আঙিনায় গোলাপসহ নানা ফুলের বাগান করেছিলেন। আশপাশের মানুষ তাঁর বাগান দেখতে আসতেন। ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন। ঢাকা কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।
রকিবুল বলেন, ‘ঢাকায় এসে দেখি, শহরের মানুষ চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ। সবুজ বলে তেমন কিছু নেই। সবুজের এই অভাব আমাকে নাড়া দেয়। তখনই মনে হয়, মানুষের ঘরে যদি প্রকৃতির স্পর্শ ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে শহরও কিছুটা প্রাণ ফিরে পাবে।’
রকিবুলের উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। ছাত্রাবস্থায় ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ উপলক্ষে ১৪ হাজার টাকার গোলাপ কিনে শাহবাগে বিক্রি শুরু করেন। এক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি জমে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি নেমে সব ফুল নষ্ট হয়ে যায়। তখন বেশ লোকসান হয় তাঁর। তিনি সেখানেই থামেননি।
প্রিয়জিত মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা। সে মানিকগঞ্জ ৮৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্লে শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার বাবা সাগর রবিদাস পেশায় একজন চর্মকার। আদালত চত্বরে বছরের পর বছর ধরে জুতা সেলাই করে সংসার চালান। অভাবের কারণে নিজে কখনো স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। কিন্তু নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি ছেলেমেয়েদের মাধ্যমে পূরণ করতে চান।
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই। তাই স্কুল ছুটি হলেই প্রিয়জিত চলে আসে বাবার দোকানে। বাবা জুতা সেলাই করেন, আর পাশে বসেই ছেলে বই নিয়ে পড়ে।
তিনি নিয়মিত স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। তবে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসার সময় শ্রেণিকক্ষের দরজার ফাঁক দিয়ে শিক্ষকদের পাঠদান শুনে কিছুটা শেখার চেষ্টা করেছেন। সেগুলোই নিজের কাজের ফাঁকে পড়াচ্ছেন ছেলে-মেয়েদের এবং তাদের লেখাপড়ায় উৎসাহ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে প্রিয়জিতের ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাস দিয়া শাহীন স্কুলের শিক্ষার্থী। সে বর্তমানে নার্সারি শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সেও ভাই এর মত বাবার পাশে বসে খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করে।
সাগর রবিদাসের পরিবারে চারজন সদস্য। জুতা সেলাইয়ের সামান্য আয়ে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতে হয় তাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও সীমিত আয়ের কারণে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বহন করাও দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে তার। তবুও অভাবের কাছে হার না মেনে সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়েই নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
১৪
২৪ মন্তব্য