বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত মিড-ডে মিল (যেমন: ডিম, কলা, রুটি) যাতে অপচয় না হয় এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকরা বেশ কয়েকটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে পারেন:
উপস্থিত অন্যান্যদের মাঝে বণ্টন: শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত তুলনামূলকভাবে বেশি প্রয়োজন বা অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে এই অতিরিক্ত খাবার অতিরিক্ত পুষ্টি হিসেবে বণ্টন করে দেওয়া যেতে পারে।
পরবর্তী দিনের জন্য সংরক্ষণ (যদি পচনশীল না হয়): রুটি বা কলার মতো খাবার যদি ভালো থাকে, তবে তা পরের দিনের জন্য কিংবা ক্লাসের পর যেসব শিক্ষার্থী অতিরিক্ত সময় (যেমন: খেলাধুলা বা কোচিং) স্কুলে থাকে তাদের টিফিন হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। (তবে পচনশীল খাবার বেশি সময় সংরক্ষণ না করাই উত্তম)।
স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সহকারীদের দেওয়া: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়া, দপ্তরি বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী—যাঁরা সারাদিন কষ্ট করেন, সম্মান ও সৌজন্যতার অংশ হিসেবে তাঁদের মাঝে এই টিফিন বিতরণ করা যেতে পারে।
স্থানীয় দুস্থ বা পথশিশুদের দান: স্কুলের আশেপাশে যদি কোনো দুস্থ শিশু বা পথশিশু থাকে, তবে তাদের দেওয়া যেতে পারে। এতে খাবারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং অপচয় রোধ হয়।
অভাবী পরিবারে পাঠানো: অনুপস্থিত শিক্ষার্থী যদি কোনো বিশেষ সমস্যার কারণে (যেমন: অসুস্থতা বা আর্থিক সংকট) স্কুলে আসতে না পারে এবং সে যদি খুব অসচ্ছল পরিবারের হয়, তবে তার সহপাঠীদের মাধ্যমে বা শিক্ষকরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে সেই খাবার তার বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারেন।
খাবার অপচয় না করে এভাবে বণ্টন করা হলে তা একদিকে যেমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝেও সঠিক সম্পদের ব্যবহার ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।
১৪
২৪ মন্তব্য