Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ

পার্সিভিয়ারেন্স (Perseverance) রোভার

পার্সিভিয়ারেন্স (Perseverance) রোভার

পার্সিভিয়ারেন্স হলো নাসার (NASA) মার্স ২০২০ মিশনের অংশ হিসেবে পাঠানো একটি অত্যন্ত উন্নত রোবোটিক যান। এটি ২০২০ সালের ৩০ জুলাই মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে অবতরণ করে।

মূল লক্ষ্য

মঙ্গলে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করা এবং ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গলে যাওয়ার পথ সুগম করা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • অবতরণের স্থান: জেজেরো ক্রেটার (Jezero Crater)। বিজ্ঞানীদের মতে, বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে এখানে একটি বিশাল হ্রদ ও নদীর ব-দ্বীপ ছিল। তাই প্রাচীন অণুজীবের সন্ধানের জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।
  • আকার ও ওজন: ছোট গাড়ির মতো (প্রায় ১০ ফুট লম্বা)। ওজন ১,০২৫ কিলোগ্রাম।
  • ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন: ১৯টি অত্যাধুনিক ক্যামেরা, যা মঙ্গলের রঙিন ও হাই-রেজোলিউশন ছবি পৃথিবীতে পাঠায়। এতে মাইক্রোফোনও রয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষ প্রথমবারের মতো মঙ্গলের বাতাসের শব্দ শুনতে পেয়েছে।

মিশনের মূল উদ্দেশ্য

  1. প্রাচীন প্রাণের সন্ধান মঙ্গলের অতীত পরিবেশ বিশ্লেষণ করে সেখানে প্রাচীন কোনো অণুজীবের (Microbial life) অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।
  2. নমুনা সংগ্রহ (Sample Caching) মঙ্গলের মাটি ও পাথরের কোর নমুনা সংগ্রহ করে বিশেষ টিউবে সংরক্ষণ করা। নাসার পরিকল্পনা হলো ২০৩০-এর দশকের দিকে অন্য একটি মিশনের মাধ্যমে এই নমুনাগুলো গবেষণার জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা।
  3. অক্সিজেন তৈরির পরীক্ষা রোভারের সাথে থাকা মক্সি (MOXIE) যন্ত্র মঙ্গলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত পাতলা বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন তৈরির সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানব মিশন পাঠানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মজার তথ্য

পার্সিভিয়ারেন্স একা মঙ্গলে যায়নি। এটি তার পেটের নিচে করে ইনজেনুইটি (Ingenuity) নামের একটি ছোট হেলিকপ্টার বা ড্রোন নিয়ে গিয়েছিল। এটি পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে মানুষের তৈরি প্রথম যান, যা সফলভাবে উড়তে সক্ষম হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ