Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:০৭ অপরাহ্ণ

বড় গ্রহাণু ঠেকাতে চীনা বিজ্ঞানীদের নতুন পারমাণবিক কৌশল

বড় গ্রহাণু ঠেকাতে চীনা বিজ্ঞানীদের নতুন পারমাণবিক কৌশল

চীনের China Academy of Launch Vehicle Technology-এর গবেষকরা বড় ও বিপজ্জনক গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য একটি নতুন পারমাণবিক বিস্ফোরণভিত্তিক কৌশল প্রস্তাব করেছেন। গবেষণাটি Space: Science and Technology সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে এমন পরিস্থিতির জন্য বিবেচনা করা হয়েছে, যখন কোনো বড় গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসছে এবং তা মোকাবিলার জন্য সতর্কতার সময় খুব কম।

কৌশতিটি কীভাবে কাজ করবে

প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে মূলত দুটি ধাপ রয়েছে।

প্রথম ধাপে একটি মহাকাশযান বিশেষ ভেদকারী যন্ত্র ব্যবহার করে গ্রহাণুর পৃষ্ঠে গভীর গর্ত তৈরি করবে। গবেষণায় প্রায় ৩০ মিটার গভীরতা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে আরেকটি মহাকাশযান সেই গর্তের মধ্যে পারমাণবিক বিস্ফোরক স্থাপন করবে। এরপর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রহাণুর ভেতরের দিকে শক্তি প্রয়োগ করা হবে।

গবেষণার সিমুলেশন অনুযায়ী, গ্রহাণুর পৃষ্ঠে বিস্ফোরণ ঘটানোর তুলনায় গভীরে বিস্ফোরণ ঘটালে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের প্রভাব প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

গবেষণার মূল ফলাফল

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩ মেগাটন শক্তির বিস্ফোরণ প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে ব্যাপকভাবে ভেঙে দিতে সক্ষম হতে পারে।

প্রায় ১ কিলোমিটার আকারের বড় গ্রহাণুর ক্ষেত্রেও তার গতিতে সামান্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে। গ্রহাণুর গতিতে এই সামান্য পরিবর্তন যদি অনেক আগে করা যায়, তাহলে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তার গতিপথে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং পৃথিবীর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

DART মিশনের সঙ্গে পার্থক্য

NASA-এর DART বা Double Asteroid Redirection Test মিশনে একটি মহাকাশযানকে একটি গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করিয়ে তার কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছিল।

তবে অত্যন্ত বড় গ্রহাণু অথবা খুব কম সতর্কতার সময় থাকলে কাইনেটিক ইমপ্যাক্টের মতো পদ্ধতি যথেষ্ট নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিস্ফোরণভিত্তিক পদ্ধতি একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে গবেষণা করা হচ্ছে।

বর্তমান অবস্থান

এটি এখনো গবেষণা ও কম্পিউটার সিমুলেশন পর্যায়ের একটি প্রস্তাব। বাস্তবে প্রয়োগের আগে অনেক প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তাগত এবং আন্তর্জাতিক আইনসংক্রান্ত বিষয় সমাধান করতে হবে।

বিশেষ করে মহাকাশে পারমাণবিক ব্যবস্থা পরিচালনা, গ্রহাণুর প্রকৃত গঠন নির্ণয়, বিস্ফোরণের পর তৈরি হওয়া খণ্ডগুলোর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

চীনা গবেষকদের প্রস্তাবের মূল ধারণা হলো গ্রহাণুর পৃষ্ঠে বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে তার ভেতরে গভীরভাবে বিস্ফোরণের শক্তি প্রয়োগ করা। গবেষণার সিমুলেশন অনুযায়ী, এতে বড় গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের কার্যকারিতা বাড়তে পারে।

তবে এটি এখনো কোনো প্রস্তুত গ্রহাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়। বরং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে সম্ভাব্য গ্রহাণুর আঘাত থেকে রক্ষা করার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার একটি সম্ভাব্য পথ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ