সহকারী শিক্ষক
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৩২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুরা নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ছে। দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, কর্মসংস্থানের জন্য বাবা-মায়ের দূরে অবস্থান—এসব তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক শিশুর বাবা-মা গার্মেন্টসে কাজ করেন, মাছ ধরেন, ইটভাটায় শ্রম দেন কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে অন্যত্র চলে যান। ফলে অনেক শিশুকে দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছে রেখে যেতে হয়।
বয়স্ক দাদা-দাদি বা নানা-নানির পক্ষে অনেক সময় শিশুর প্রয়োজনীয় যত্ন, পড়াশোনার তদারকি ও নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অভিভাবকের যথাযথ তদারকি ও শাসনের অভাবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারায়। আবার নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও দারিদ্র্যের মতো উপকূলীয় বাস্তবতাও তাদের শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে অন্যান্য শিশুদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় বিদ্যালয়, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের শিশুদের জন্য উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাবা-মায়ের কর্মস্থলে অবস্থানের কারণে যেসব শিশু দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছে থাকে, তাদের জন্য বিদ্যালয়ে বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত অভিভাবক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষকদের নিয়মিত বাড়ি পরিদর্শন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর খোঁজ নেওয়া, অভিভাবক সভা এবং শিশুবান্ধব বিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করা যেতে পারে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় দুর্যোগের সময়ও যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালু থাকে, সে জন্য বিকল্প ও দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোনো শিশুকে তার পারিবারিক বা অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া যাবে না। পরিবার, শিক্ষক, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে দায়িত্ব নিলে উপকূলের শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসবে, শিক্ষায় এগিয়ে যাবে এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে
১
১ মন্তব্য