সহকারী অধ্যাপক
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মনের আঘাতেরও একদিন হিলিং হয় - মোঃ মুজিবুর রহমান
মনের আঘাতেরও একদিন হিলিং হয়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শরীরের ক্ষত চোখে দেখা যায়,
ওষুধ দিলে ব্যথা কমে যায়,
সময় গেলে শুকায় ক্ষত,
হাসি ফিরে মুখের পটে।
মনের ক্ষত দেখা যায় না,
ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধা যায় না,
নীরব ব্যথা বুকেই থাকে,
অশ্রু হয়ে চোখে ঝরে।
শরীরের ক্ষত সেরে ওঠে,
মলম দিলে আরাম হয়,
মনের ক্ষত গভীর হলে
নিরাময়ে সময় লাগে রয়।
কেউ হাসে আর কেউ জানে না,
হাসির নিচে কত যে ব্যথা;
চোখে তারই দিনের আলো,
মনে জমে অন্ধকারের কথা।
কেউ হারিয়েছে বিশ্বাসখানি,
কেউ পেয়েছে আপনজনের ক্ষত,
কেউ প্রতারণায় নীরব হয়ে
বয়ে চলে বেদনার শত।
কেউ পেয়েছে কটু কথার আঘাত,
কেউ পেয়েছে অবহেলা;
কেউ আপন ভেবে যাকে ভালোবেসে
পেয়েছে শুধু দুঃখের মেলা।
একটি কথা ক্ষণিকের হলেও
রেখে যেতে পারে গভীর দাগ;
তাই তো কথা বলার আগে
ভাবতে হবে—কী তার ভাগ!
জিহ্বার আঘাত তলোয়ারের চেয়ে
কখনো হতে পারে কঠিন;
একটি কটু বাক্য ভেঙে দিতে পারে
হৃদয়ের শান্তি ক্ষণেকেই দিন।
তাই হে মানুষ, কথা বলো
মধুর ভাষায়, কোমল সুরে;
তোমার একটি সুন্দর বাক্য
হয়তো কাউকে বাঁচায় দূরে।
হে বিষণ্ন মন, ভয় পেয়ো না,
হতাশ হয়ে যেয়ো না;
আজ যে দুঃখ বুকের মাঝে,
কাল তা থাকবে এমন নয় না।
রাত যত দীর্ঘ হোক না কেন,
ভোর একদিন আসবেই;
মেঘ যতই আকাশ ঢাকে,
সূর্য আবার হাসবেই।
জীবন মানে সুখের মেলা
শুধু এমন কথা নয়;
সুখের পাশে দুঃখও থাকে,
হাসির পাশে কান্না রয়।
কখনো জীবন ফুলের বাগান,
কখনো কাঁটার পথ;
কখনো আসে বসন্ত-হাওয়া,
কখনো ঝড়ে ক্ষত।
তবু জীবন থেমে থাকে না,
সময় চলে আপন গতিতে;
শুকনো ডালে কুঁড়ি ফোটে
নতুন দিনের প্রভাতেতে।
যিনি তোমার অন্তর জানেন,
জানেন মনের গোপন ব্যথা,
তাঁর কাছে সব খুলে বলো,
তাঁর কাছেই মেলে শান্তির কথা।
মহান আল্লাহ সবই জানেন,
জানেন অশ্রুর প্রতিটি ঢেউ;
মানুষ না বুঝলেও তোমায়
তোমার রব অজানা নন কেউ।
কুরআনের বাণী হৃদয় ছুঁয়ে
আশার প্রদীপ জ্বেলে দেয়—
“জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই
অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।”
তাই দুঃখে তাঁকে স্মরণ করো,
কষ্টে তাঁকেই ডাকো;
সুখে যেমন শুকরিয়া দাও,
দুঃখেও তাঁর ওপর ভরসা রাখো।
সিজদাতে যদি চোখের পানি
নীরব ভাষায় কথা কয়,
সেই অশ্রুও ইবাদত হয়ে
রবের কাছে মূল্য পায়।
বলো—“হে রব, তুমি জানো
আমার অন্তরের সব কথা;
তুমি ছাড়া কে বুঝবে বলো
আমার নীরব দীর্ঘশ্বাসের ব্যথা?”
“হে আল্লাহ, আমার অন্তর
বিদ্বেষ থেকে রাখো মুক্ত;
দুঃখকে দাও শিক্ষার শক্তি,
ব্যথাকে করো কল্যাণযুক্ত।”
সালাত হোক মনের আশ্রয়,
কুরআন হোক আলোর পথ;
জিকির হোক অন্তরের সাথি,
সবর হোক জীবনের রথ।
কষ্ট এলে সবর করো,
অশ্রু এলে দোয়া করো;
অন্যায়ের কাছে নত না হয়ে
ন্যায়ের পথে দাঁড়িয়ে চলো।
ক্ষমা করা মহৎ গুণ,
তবে অন্যায় মেনে নেওয়া নয়;
ক্ষমা মানে হৃদয় থেকে
বিদ্বেষের আগুন সরানো হয়।
যে তোমাকে কষ্ট দিয়েছে,
তার জন্যও দোয়া করো;
তবে নিজের নিরাপত্তা,
সম্মান ও সীমারেখা রক্ষা করো।
অন্যায় হলে ন্যায় চাও,
অধিকার হলে কথা বলো;
কিন্তু প্রতিহিংসার আগুনে
নিজের অন্তর জ্বালিয়ে দিও না কোনোদিন।
কারও কটু কথাকে ভেবে
নিজের মূল্য কমিয়ো না;
মানুষের দেওয়া অপমান দিয়ে
নিজের পরিচয় গড়িয়ো না।
তোমার মর্যাদা মানুষের হাতে
নয়—তোমার রব জানেন;
তোমার অন্তরের সত্যটুকু
তোমার সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
কিছু মানুষ আসে জীবনে,
কিছু মানুষ যায়;
কেউ রেখে যায় মধুর স্মৃতি,
কেউ শিক্ষা দিয়ে যায়।
কেউ শেখায় ভালোবাসতে,
কেউ শেখায় সাবধান;
কেউ শেখায় বিশ্বাস করতে,
কেউ শেখায় চিনতে মানুষ।
তাই অতীতকে অভিশাপ দিয়ে
বর্তমানকে করো না ক্ষয়;
গত দিনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা
আগামীর পাথেয় হয়।
ভুল যদি হয়ে থাকে জীবনে,
ভুল থেকে শিক্ষা নাও;
নিজেকে শুধু দোষী ভেবে
অন্ধকারে হারিয়ে যেয়ো না।
মানুষ মাত্রই ভুল করে,
ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়;
তওবার দরজা খোলা আছে,
রহমত কখনো শেষ নয়।
যদি কষ্ট দীর্ঘ হয় মনে,
একা একা সব বয়ে নিও না;
বিশ্বস্ত মানুষ পাশে থাকলে
মনের কথা গোপন রেখো না।
কখনো বন্ধু, কখনো পরিবার,
কখনো জ্ঞানীজনের সহায়;
প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাছে
যাও—এতে লজ্জা কোথায়?
সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়,
এটি সাহসের পরিচয়;
নিজের কষ্ট স্বীকার করতে
পারাই শক্তির পরিচয়।
মনের ক্ষতকে সময় দাও,
তাড়াহুড়ো করে সেরে ওঠার
চাপ নিজের ওপর দিও না;
ধীরে ধীরে পথটি চলো,
আশা কখনো ছেড়ো না।
হয়তো ক্ষতটির দাগ থাকবে,
থাকবে কিছু স্মৃতির রেশ;
তবু মানুষ নতুন করে
হাসতে শেখে অবশেষ।
কখনো স্মৃতি ফিরে আসবে,
কখনো মন হবে ভার;
তবু সেই স্মৃতি জীবনজুড়ে
হয়ে থাকবে না অন্ধকার।
ব্যথা তোমার পরিচয় নয়,
ব্যথা জীবনের একটি অধ্যায়;
একটি অধ্যায় শেষ হলে
নতুন অধ্যায় সামনে আসে হায়।
যে হৃদয় একদিন কেঁদেছে,
সে হৃদয় হাসতে পারে;
যে মানুষটি ভেঙে পড়েছিল,
সে আবারও দাঁড়াতে পারে।
আজ যে পথটি বন্ধ মনে হয়,
কাল খুলতে পারে দ্বার;
আজ যে চোখে অশ্রু ঝরে,
কাল সেখানে হাসির ভার।
কুরআনের আশার বাণী
মুমিন হৃদয়কে বলে—
“নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে
স্বস্তি রয়েছে;
নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে
স্বস্তি রয়েছে।”
তাই কষ্টকে শেষ ভেবো না,
কষ্টকে করো না ভয়;
কখনো কষ্টের গভীর ভেতর
নতুন শক্তির জন্ম হয়।
একটি ব্যর্থতা শেষ নয়,
একটি বিচ্ছেদ শেষ নয়;
একটি অপমান, একটি আঘাত
জীবনের পরিসমাপ্তি নয়।
যে চলে গেছে, যেতে দাও,
সবাই থাকে না চিরদিন;
কিছু সম্পর্ক শেষ হলেও
শেষ হয় না জীবন কখনোই।
যে কষ্ট দিয়েছে, ক্ষমা করো,
তবে শিক্ষা ভুলে যেয়ো না;
আবার যেন একই আঘাতে
নিজেকে হারিয়ে ফেলো না।
মানুষকে ভালোবাসো,
কিন্তু সীমা জেনে ভালোবাসো;
মানুষের ওপর ভরসা রাখো,
তবে সর্বশেষ ভরসা রবের ওপর রাখো।
কারণ মানুষ বদলে যেতে পারে,
পরিস্থিতি বদলায় প্রতিদিন;
কিন্তু আল্লাহর রহমতের দুয়ার
মুমিনের জন্য খোলা চিরদিন।
যখন সবাই দূরে সরে যায়,
রব তখনও কাছে রয়;
যখন কেউ কথা শোনে না,
তাঁর কাছে সবই বলা যায়।
তোমার অশ্রু বৃথা নয়,
তোমার দোয়া হারায় না;
তোমার কষ্ট তাঁর জ্ঞানে,
তাঁর হিকমত ফুরায় না।
তাই হে মন, তুমি বলো—
“আমি হার মানব না;
আল্লাহ আছেন আমার সঙ্গে,
আমি একা নই কোনোদিন।”
আমি কাঁদব, তবে ভাঙব না,
আমি থামব, তবে হারব না;
সবর নিয়ে রবের পথে
অন্যায়ের কাছে নত হব না।
আমি ব্যথা থেকে শিখব,
আমি দুঃখ থেকে গড়ব;
অতীতের ছাই সরিয়ে দিয়ে
আগামীর স্বপ্ন গড়ব।
আমার চোখের অশ্রু যেন
অন্যের চোখে জল না আনে;
আমি যে ব্যথা পেয়েছি জীবনে
তা যেন কাউকে না দেয় প্রাণে।
যে কথা আমাকে কাঁদিয়েছে,
সে কথা আমি বলব না;
যে আচরণ আমাকে ভেঙেছে,
অন্যের সঙ্গে করব না।
এই হোক মনের পবিত্রতা,
এই হোক জীবনের শিক্ষা—
নিজে কষ্ট পেলেও যেন
অন্যকে না দিই কষ্টের দীক্ষা।
হে আল্লাহ, ভাঙা হৃদয়গুলো
তোমার রহমতে জুড়িয়ে দাও;
অশ্রুসিক্ত প্রতিটি চোখে
আশার আলো ফিরিয়ে দাও।
যারা নীরবে কাঁদে রাতে,
তাদের তুমি শান্তি দাও;
যারা একাকিত্বে ভোগে,
তাদের পাশে সহায় দাও।
যারা বিশ্বাসভঙ্গের ব্যথায়
হৃদয়খানি হারিয়েছে,
তাদের নতুন আশার আলোয়
জীবনটাকে ভরিয়ে দাও।
যারা আপনজন হারিয়েছে,
তাদের দাও ধৈর্যের শক্তি;
যারা দুঃখে পথ হারিয়েছে,
তাদের দাও হেদায়াতের ভক্তি।
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তর
হিংসা-বিদ্বেষ থেকে রাখো মুক্ত;
ক্ষমা, দয়া, মমতা দিয়ে
করো হৃদয় নির্মল ও পবিত্র।
কেউ কষ্ট দিলে যেন আমরা
কষ্টের জবাব কষ্টে না দিই;
ন্যায়ের পথে অটল থেকে
অন্যায়ের কাছে মাথা না নত করি।
মনের ক্ষত থাকলেও যেন
মানবিকতা হারিয়ে না যায়;
আমাদের দুঃখ অন্য কারও
দুঃখের কারণ যেন না হয়।
শরীরের ক্ষত যেমন সারে,
মনের ক্ষতও ধীরে সারে;
সময়, ভালোবাসা, দোয়া, সবর
নিরাময়ের পথে হাত বাড়ায় তারে।
হয়তো আগের মতো হবে না সব,
তবু জীবন সুন্দর হয়;
ভাঙা স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপেও
নতুন স্বপ্নের ফুল ফোটে নিশ্চয়।
মনের আঘাত গভীর হলেও
জীবন থেমে থাকে না;
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে
অন্ধকার চিরস্থায়ী হয় না।
রাত যত দীর্ঘ হোক না কেন,
ভোর তত কাছে আসে;
ঝড় যত প্রবল হোক না কেন,
শান্তি ফিরে আসে শেষে।
তাই হে মানুষ, কেঁদো যদি—
কেঁদো রবের দরবারে;
দুঃখ যদি আসে জীবনে,
আশা রেখো অন্তরে।
সিজদাতে যে অশ্রু ঝরে,
সে অশ্রু গোপন নয়;
রহমতের রব জানেন সবই,
কোনো কান্নাই বৃথা নয়।
তাওয়াক্কুলে বুক বাঁধো,
সবর দিয়ে পথ চলো;
কুরআনের আলো হৃদয়ে নিয়ে
সত্যের পথে জীবন গড়ো।
জীবন তোমার আমানত—
সযতনে তাকে গড়ে তোলো;
ব্যথার ভেতর শিক্ষা নিয়ে
নতুন আশার প্রদীপ জ্বালো।
মনের আঘাতকে বলো তুমি—
“তুমি আমার শেষ পরিচয় নও;
আমি আল্লাহর বান্দা, আমি
হতাশ হয়ে হারিয়ে যাব না কভু।”
আজ যে হৃদয় কাঁদছে নীরব,
কাল সে হৃদয় হাসবে;
আজ যে মানুষ পথ হারিয়েছে,
কাল সে সঠিক পথ পাবে।
আজ যে চোখে অশ্রুধারা,
কাল সে চোখে আলো;
আজ যে মনে অন্ধকার,
কাল সেখানে ফুটবে ভালো।
ব্যথা হয়তো স্মৃতি হয়ে
কখনো ফিরে আসবে;
তবু সেই স্মৃতি পেরিয়ে
জীবন নতুন হাসি হাসবে।
মনের ক্ষত মানেই নয়
জীবনের সব শেষ;
আল্লাহর রহমত থাকলে
আশার থাকে অবশেষ।
সবর করো, দোয়া করো,
রবের ওপর ভরসা রাখো;
মনের যত ব্যথা আছে
তাঁর দরবারে খুলে রাখো।
অতীতকে শিক্ষা বানিয়ে
বর্তমানকে সুন্দর করো;
আগামীর স্বপ্ন বুকে নিয়ে
আলোর পথে এগিয়ে চলো।
মনে রেখো—তুমি একা নও,
রহমতের রব আছেন;
অন্ধকারের গভীর রাতেও
তিনি আলোর পথ দেখান।
শেষ কথা তাই এইটুকুই—
ব্যথা চিরদিন থাকে না;
আঘাত যত গভীর হোক,
আশার আলো নিভে না।
শরীরের ক্ষত শুকায় একদিন,
মনের ক্ষতও সারে;
সবর, দোয়া, ভালোবাসা
আশার আলো জ্বালে।
কুরআনের নূর হৃদয়ে রাখো,
আল্লাহর স্মরণে মন ভরাও;
দুঃখ পেরিয়ে, ব্যথা সরিয়ে
নতুন জীবনের পথে চলো।
মনের আঘাত শেষ নয়—
এ শুধু জীবনের একটি অধ্যায়;
আল্লাহর রহমত সঙ্গে থাকলে
ভাঙা হৃদয়ও আবার হাসতে চায়।
আশা রেখো, দোয়া করো,
সত্যের পথে অটল রও;
মনের ক্ষত একদিন সেরে
আবার সুন্দর জীবন গড়ো।
***
মনের আঘাতেরও একদিন হিলিং হয়
শরীরের ক্ষত শুকিয়ে যায়,
সময় গেলে ব্যথা কমে,
মনের ক্ষত নীরব থাকে,
অশ্রু ঝরে গোপন ঘরে।
শরীরের আঘাত দেখা যায়,
ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধা যায়,
মনের ক্ষত অদৃশ্য বলে
কতজনই বা বুঝতে চায়!
কেউ হয়তো হাসে বাইরে,
ভেতরজুড়ে কষ্ট তার,
চোখের কোণে হাসি থাকে,
বুকের মাঝে অশ্রুধার।
কেউ হারায় বিশ্বাস যখন,
কেউ বা পায় আপনজনের ক্ষত,
কেউ প্রতারণায় ভেঙে পড়ে,
কেউ নীরবে সয়ে যায় শত।
কথার আঘাত তীরের মতো
বিদ্ধ করে কোমল মন,
একটি কথা সারাজীবন
রেখে যেতে পারে ক্ষতচিহ্ন।
তবু বলি—হে বিষণ্ন মন,
হতাশ হয়ো না কোনোদিন;
রাতের শেষে ভোর যে আসে,
দুঃখ শেষে আসে রঙিন দিন।
যিনি তোমার অন্তর জানেন,
যিনি জানেন গোপন ব্যথা,
তাঁর কাছে সব খুলে বলো,
তাঁর কাছেই মেলে শান্তির কথা।
মহান আল্লাহ দুঃখ জানেন,
জানেন চোখের অশ্রুপাত,
জানেন মনের গভীর ক্ষত,
জানেন নীরব দীর্ঘশ্বাস।
মানুষ যখন দূরে সরে,
আল্লাহ তখন নিকটতম;
সব দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায়,
তাঁর রহমতের দরজা থাকে অবারিত সর্বক্ষণ।
“জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই
অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।”
এই বাণী মুমিন হৃদয়ে
আশার দীপ জ্বালিয়ে রয়।
তাই কষ্টে ভেঙে পড়ো না,
দুঃখে হারিয়ো না আশা;
সবর নিয়ে পথটি চলো,
আল্লাহর রহমতই ভরসা।
যে মানুষটি কাঁদিয়েছে তোমায়,
তার হাতে রেখো না মন;
ক্ষমা করো, শিক্ষা নাও,
তবে ভুলে যেয়ো না সত্যের পণ।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে
সত্য বলে মেনে নেওয়া নয়;
ক্ষমা মানে নিজের অন্তর
বিদ্বেষের আগুনে পোড়ানো নয়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়
রাখতে হবে দৃঢ় পা,
তবে প্রতিহিংসার আগুন জ্বেলে
নিজের মনকে দিও না জ্বালা।
কেউ যদি তোমায় কষ্ট দেয়,
কটু কথা বলে বারবার,
তার কথাকে সত্য ভেবে
ভেঙে দিও না নিজের দ্বার।
তুমি জানো তোমার রবকে,
তিনি জানেন তোমার মান;
মানুষের দেওয়া অপমান
করতে পারে না তোমার সম্মান।
জীবন নদীর মতো বয়ে যায়,
কখনো শান্ত, কখনো ঢেউ;
আজ যে দুঃখ বুকের মাঝে,
কাল তা থাকবে এমন নয়।
সময় কখনো থেমে থাকে না,
বদলে যায় দিন-রাত;
শুকনো ডালে কুঁড়ি ফোটে,
শেষ হয় দীর্ঘ শীতের রাত।
তাই আজ যদি চোখে পানি,
আজ যদি মন ভার,
মনে রেখো—আল্লাহ আছেন,
তিনিই শ্রেষ্ঠ সহায় তোমার।
কাঁদতে হলে রবের কাছে
সিজদায় গিয়ে কেঁদো তুমি;
অন্তরের সব ব্যথা খুলে
তাঁর রহমতের দ্বার খোঁজো তুমি।
দোয়ার মাঝে বলো ধীরে—
“হে আল্লাহ, শান্তি দাও,”
ভাঙা মনের প্রতিটি কোণে
তোমার রহমত ছড়িয়ে দাও।
সালাত হোক হৃদয়ের আশ্রয়,
কুরআন হোক আলোর পথ,
জিকির হোক অন্তরের সাথি,
সবর হোক জীবনের রথ।
কষ্ট এলে মনে রেখো,
কষ্ট চিরস্থায়ী নয়;
মেঘ যতই ঘন হোক আকাশে,
সূর্য হারিয়ে যায় না কভু নিশ্চয়।
৫
৬ মন্তব্য