সহকারী অধ্যাপক
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
মুসলমান সে—যার হাতে-জবানে নিরাপদ মানুষ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মুসলমান সে—যার হাতে-জবানে নিরাপদ মানুষ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মুসলমান সে, যার মুখের বাণী
আনে শান্তির আলো,
যার কর্মে কেউ কষ্ট না পায়,
হৃদয় থাকে ভালো।
জবান তার মধুর হয়ে
সত্যের কথা কয়,
তার আচরণে আপন-পর
ভালোবাসা হয়।
মুসলমান সে—যার হাত থেকে
নিরাপদ সব প্রাণ,
অন্যের মনে জাগায় না সে
ভয়, দুঃখ, অপমান।
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে রেখে
চলে ন্যায়ের পথে,
মানবতার সুবাস ছড়ায়
দিনের পরে রাতে।
রাসুলের বাণী স্মরণ করি—
শিক্ষা কত মহান,
“যার জবান ও হাতের অনিষ্টে
নিরাপদ মুসলমান।”
কথার আঘাত ক্ষত করে যে
দেহের ক্ষতের চেয়ে,
একটি কথা ভেঙে দিতে পারে
হৃদয় নিমেষে।
তাই তো জবান সংযত রাখি,
বলি না কটু কথা,
অকারণে কারও মনে
দিই না কোনো ব্যথা।
বিদ্রূপ করি না কাউকে,
দিই না মিথ্যা দোষ,
পরনিন্দার বিষ ছড়িয়ে
বাড়াই না কারও রোষ।
গালি দেওয়া মুমিনকে—
কাজটি নয় সামান্য,
ফাসেকির পথে ঠেলে দেয় তা,
অপরাধ তার ভয়ংকর।
রাগের বশে মুখের কথা
করো না অবাধ,
একটি বাক্য সৃষ্টি করে
বহু দিনের বিবাদ।
“মুসলিমকে গালি দেওয়া
ফাসেকিরই কাজ”—
হাদিসের এই শিক্ষা যেন
জাগায় বিবেক-লাজ।
মুখের ভাষা আমানত, ভাই,
রাখো তাকে পবিত্র,
সত্য, নম্র, সুন্দর কথায়
করো জীবন চরিত্র।
রাগ উঠলে থেমে যেয়ো,
নীরব হও আগে,
শয়তানের সেই কুমন্ত্রণা
যেন হৃদয়ে না জাগে।
ক্ষমা করো, ধৈর্য ধরো,
শান্ত করো মন,
মুসলিম ভাইয়ের মর্যাদা
রাখো সর্বক্ষণ।
মুসলিম হত্যা কত ভয়াবহ—
ভেবে কাঁপে প্রাণ,
হাদিসে এসেছে হত্যাকে
বলা হয়েছে কুফরী কাজের সমতুল্য জ্ঞান।
তাই মানুষের জীবন নিয়ে
খেলা করা নয়,
একজন মানুষের জীবনও
অমূল্য যে হয়।
রক্ত তার সম্মানযোগ্য,
জীবন তার পবিত্র,
অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়া
ভয়ংকর ও নিকৃষ্ট।
শক্তি যদি আল্লাহ দেন,
করো দুর্বলের ত্রাণ,
ক্ষমতারও হিসাব হবে—
মনে রেখো সেই জ্ঞান।
মুসলমানের সম্পদও ভাই
অন্যের কাছে হক,
লোভের বশে কেড়ে নেওয়া
কখনো নয় ঠিক।
প্রতারণা আর আত্মসাৎ
দূরে রাখো মন,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও—
এটাই ঈমানী পণ।
অন্যের ঘাম, অন্যের শ্রম,
অন্যের উপার্জন,
অন্যায়ভাবে গ্রাস করলে
কলুষিত হয় মন।
হালাল পথে রুজি খুঁজে
সন্তুষ্ট থাকো তাতে,
বরকত নেমে আসবে তখন
জীবনেরই সাথে।
ইজ্জত-সম্মান পবিত্র হক,
করো না তার ক্ষতি,
কাউকে হেয়, অপমান করে
মেলে না কোনো গতি।
মানুষেরও মান-মর্যাদা
আল্লাহরই দান,
সম্মান দিলে সম্মান বাড়ে—
সুন্দর হয় প্রাণ।
কাউকে নিয়ে হাসাহাসি নয়,
নয় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য,
কারও দুর্বলতাকে করে
করো না বিদ্রূপ-বিদ্রুপ।
আজ যে মানুষ অসহায়,
কাল সে হতে পারে
তোমার চেয়ে মর্যাদাবান
আল্লাহরই দ্বারে।
চেহারা দেখে বিচার কোরো না,
সম্পদ দেখে নয়,
পোশাক দেখে মানুষ মাপা
মুসলিমের কাজ নয়।
হৃদয়ের তাকওয়া, সৎ আমল—
মূল্য তারই বেশি,
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন
সে-ই প্রকৃত ধনী।
ভাইয়ে ভাইয়ে হিংসা কেন?
কেন এত দ্বন্দ্ব?
একই রবের বান্দা আমরা,
একই দ্বীনের বন্ধন।
একই কিবলা, একই কুরআন,
একই নবীর পথ,
ভালোবাসার সেতু গড়ি,
মুছে দিই সব ক্ষত।
মসজিদ থেকে বাজার পর্যন্ত
শান্তির বাণী ছড়াক,
পরিবারে ও সমাজজুড়ে
মমতার ফুল ফুটুক।
প্রতিবেশীর সুখে সুখী হই,
দুঃখে পাশে দাঁড়াই,
মুসলিম ভাই বিপদে পড়লে
হাত বাড়িয়ে যাই।
কথায় নয়, কর্মে দেখাই
ইসলামের সৌন্দর্য,
সততা আর আমানতে গড়ি
জীবনেরই ঐশ্বর্য।
মিথ্যা, জুলুম, অহংকারকে
দিই হৃদয় থেকে বিদায়,
ন্যায় ও সত্যের পথে চলি—
আল্লাহ যেন কবুল করায়।
মনে রেখো, জবান দিয়ে
তীর ছোড়া যায়,
অদৃশ্য সেই ক্ষত কখনো
সহজে শুকায় না হায়।
তাই কথা বলার আগে
একবার ভাবো মন,
কথাটি কি শান্তি দেবে,
নাকি বাড়াবে ক্ষণ?
সুন্দর কথা সদকা হতে পারে,
সত্য কথা নূর,
মিষ্টি বাণী ভাঙতে পারে
অভিমানের প্রাচীর।
একটি ভালো বাক্য কখনো
জীবন বদলে দেয়,
একটি কোমল কথায় মানুষ
আবার আশা পায়।
হাত যেন হয় সাহায্যের হাত,
আঘাতের নয় কভু,
অসহায়ের অশ্রু মুছে
দাও সান্ত্বনা প্রভু।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও,
তৃষ্ণার্তকে জল,
দুঃখীর পাশে দাঁড়ালে
হৃদয় হবে নির্মল।
মুসলিমের রক্ত, ধন ও মান—
সবই সম্মানযোগ্য,
এই শিক্ষা হৃদয়ে রাখলে
সমাজ হবে নির্ভয়।
লোভের বদলে ন্যায় আসুক,
বিদ্বেষ যাক দূরে,
ভালোবাসার ফুল ফুটুক
মানুষেরই ঘরে।
শুধু মুসলিম ভাই নয়,
মানুষের প্রতিও দয়া,
ইসলামের মহান আদর্শ
ছড়াক সবার মায়া।
জুলুম থেকে বিরত থাকা
মুমিনের পরিচয়,
ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে
সমাজ সুন্দর হয়।
বাবা-মায়ের প্রতি কোমল,
স্ত্রীর প্রতি দয়ালু,
সন্তানেরও অধিকার রক্ষা—
হও না কখনো নিষ্ঠুর।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান রাখো,
শিক্ষার্থীর প্রতি মায়া,
প্রতিবেশীর হক আদায় করে
গড়ো সুন্দর ছায়া।
বন্ধুত্ব মানে বিশ্বাস রাখা,
ভালো পথে ডাকা,
ভুল করলে স্নেহের সাথে
সত্য কথাটি বলা।
বন্ধুর গোপন কথা রেখে
রাখো তার সম্মান,
বিশ্বাস ভেঙে প্রতারণা করা
মুমিনের নয় কাম্য।
রাগ যদি আসে, ক্ষমা করো,
অহংকারকে ছাড়ো,
শয়তানের সেই পথ ছেড়ে
রহমানের পথ ধরো।
বিবাদ যখন শুরু হয়,
শান্তির কথা বলো,
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া দিতে
মমতার হাত বাড়াও।
যে মানুষটি কষ্ট দিয়েছে,
ক্ষমা করা শিখো,
তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়—
ন্যায়ের পথে থেকো।
ক্ষমা মানে দুর্বল হওয়া
এমন কথা নয়,
ক্ষমা অনেক বড় শক্তি—
মহৎ হৃদয়ের পরিচয়।
ইসলাম শুধু নামের পরিচয়
নয় তো বাহ্যিক বেশ,
ইসলাম হলো চরিত্রজুড়ে
আল্লাহভীতির রেশ।
নামাজ, রোজা, ইবাদতের
সাথে সুন্দর আচরণ,
মানুষ যেন নিরাপদ পায়
তোমার সান্নিধ্য-ক্ষণ।
মুখে যদি থাকে কুরআন,
কর্মে যদি জুলুম,
তবে কোথায় সেই ইসলামের
সুন্দরতম মর্ম?
ইবাদতের সাথে আখলাক গড়ো,
শুদ্ধ করো মন,
মানুষের হক রক্ষা করাই
মহৎ জীবনের পণ।
চলো তবে আজ প্রতিজ্ঞা করি—
কটু কথা নয়,
মিথ্যা, গীবত, অপমানের
পথে চলব না কেউ।
অন্যের ধন আত্মসাৎ নয়,
জুলুম নয় প্রাণে,
মানুষের হক রক্ষা করব
আল্লাহরই বিধানে।
কারও চোখে অশ্রু এলে
হাসব না তার ক্ষণে,
বরং গিয়ে দাঁড়াব পাশে
সহমর্মী মনে।
কারও মনে ভয় জাগাব না,
দেব না কোনো ক্ষত,
আমার হাতে নিরাপদ হোক
প্রতিটি মানবজীবন।
মুসলমান সে—শান্তির দূত,
মমতারই আলো,
তার ব্যবহারে ফুটে ওঠে
ইসলামেরই ভালো।
তার জবান সত্য ও মধুর,
তার হাত সেবাময়,
তার হৃদয়ে আল্লাহভীতি,
তার চরিত্র নির্মলময়।
যে সমাজে মানুষ মানুষকে
সম্মান দিতে জানে,
সে সমাজে শান্তির পাখি
গান গায় প্রাণে প্রাণে।
সেখানে নেই হিংসা-বিদ্বেষ,
নেই জুলুমের ভয়,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্ত
হয়ে সবাই রয়।
আসুক এমন দিন, যখন
গালি হবে ক্ষয়,
হিংসা-হানাহানি মুছে গিয়ে
শান্তির সূর্য উদয়।
রক্ত, সম্পদ, সম্মান সবার
থাকুক নিরাপদ,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক
মানবতার প্রাঙ্গণ।
হে আল্লাহ, আমাদের তুমি
সুন্দর চরিত্র দাও,
জবান-হাতের অনিষ্ট থেকে
মানুষকে নিরাপদ রাখো।
অন্যের হক নষ্ট না করি,
জুলুম থেকে বাঁচি,
সত্য-ন্যায় ও ভালোবাসায়
জীবন যেন সাজাই।
হে রব, আমাদের অন্তর হতে
হিংসা-বিদ্বেষ হরো,
ক্ষমা, দয়া, ধৈর্য, তাকওয়া
হৃদয়জুড়ে ধরো।
তোমার প্রিয় বান্দা হয়ে
জীবন যেন কাটে,
মানুষ যেন নিরাপদ পায়
আমাদেরই সাথে।
মুসলমান সে—যার কারণে
শান্তি পায় প্রাণ,
মুসলমান সে—যার আচরণে
ফুটে ঈমানের গান।
মুসলমান সে—যার জবান ও
হাত থেকে নিরাপদ জন,
এমন মুসলিম হওয়ার তরে
সাজাই জীবন-মন।
রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান
রাখি পবিত্র করে,
ভালোবাসার দীপ জ্বালাই
মানুষেরই ঘরে।
রাসুলের সেই শিক্ষা বুকে
রাখি অবিচল,
সৎ চরিত্রে জীবন গড়ি—
হোক সমাজ নির্মল।
গালি নয়—দাও ভালো কথা,
হিংসা নয়—দাও দয়া;
জুলুম নয়—ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
বিদ্বেষ নয়—মায়া।
অন্যের হক রক্ষা করি,
রাখি সবার মান—
এভাবেই হোক জীবনের
সার্থক পরিচয়: মুসলমান।
আল্লাহর পথে চলব সবাই,
সুন্নাহ হবে আলো,
নিজে ভালো, অন্যের জন্য
হব আরও ভালো।
জবান হবে সত্যের বাহন,
হাত হবে কল্যাণ,
আমাদেরই আচরণে ফুটুক
ইসলামের মহান গান।
মুসলমান সে—যার কাছে
নিরাপদ অন্য প্রাণ;
মুসলমান সে—যার হৃদয়ে
আল্লাহর ভয়-জ্ঞান।
মুসলমান সে—যে রক্ষা করে
মানুষের অধিকার;
এমন জীবন গড়তে পারাই
মুমিনের অঙ্গীকার।
মুসলমান সে—যার হাতে-জবানে নিরাপদ মানুষ
মুসলমান সে, যার মুখের বাণী
আনে শান্তির আলো,
যার কর্মে কেউ কষ্ট না পায়,
হৃদয় থাকে ভালো।
জবান তার মধুর হয়ে
সত্যের কথা কয়,
তার আচরণে আপন-পর
ভালোবাসা হয়।
মুসলমান সে—যার হাত থেকে
নিরাপদ সব প্রাণ,
অন্যের মনে জাগায় না সে
ভয়, দুঃখ, অপমান।
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে রেখে
চলে ন্যায়ের পথে,
মানবতার সুবাস ছড়ায়
দিনের পরে রাতে।
রাসুলের বাণী স্মরণ করি—
শিক্ষা কত মহান,
“যার জবান ও হাতের অনিষ্টে
নিরাপদ মুসলমান।”
কথার আঘাত ক্ষত করে যে
দেহের ক্ষতের চেয়ে,
একটি কথা ভেঙে দিতে পারে
হৃদয় নিমেষে।
তাই তো জবান সংযত রাখি,
বলি না কটু কথা,
অকারণে কারও মনে
দিই না কোনো ব্যথা।
বিদ্রূপ করি না কাউকে,
দিই না মিথ্যা দোষ,
পরনিন্দার বিষ ছড়িয়ে
বাড়াই না কারও রোষ।
গালি দেওয়া মুমিনকে—
কাজটি নয় সামান্য,
ফাসেকির পথে ঠেলে দেয় তা,
অপরাধ তার ভয়ংকর।
রাগের বশে মুখের কথা
করো না অবাধ,
একটি বাক্য সৃষ্টি করে
বহু দিনের বিবাদ।
“মুসলিমকে গালি দেওয়া
ফাসেকিরই কাজ”—
হাদিসের এই শিক্ষা যেন
জাগায় বিবেক-লাজ।
মুখের ভাষা আমানত, ভাই,
রাখো তাকে পবিত্র,
সত্য, নম্র, সুন্দর কথায়
করো জীবন চরিত্র।
রাগ উঠিলে থেমে যেয়ো,
নীরব হও আগে,
শয়তানের সেই কুমন্ত্রণা
যেন হৃদয়ে না জাগে।
ক্ষমা করো, ধৈর্য ধরো,
শান্ত করো মন,
মুসলিম ভাইয়ের মর্যাদা
রাখো সর্বক্ষণ।
মুসলিম হত্যা কত ভয়াবহ—
ভেবে কাঁপে প্রাণ,
হাদিসে এসেছে হত্যাকে
বলা হয়েছে কুফরী কাজের সমতুল্য জ্ঞান।
তাই মানুষের জীবন নিয়ে
খেলা করা নয়,
একজন মানুষের জীবনও
অমূল্য যে হয়।
রক্ত তার সম্মানযোগ্য,
জীবন তার পবিত্র,
অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়া
ভয়ংকর ও নিকৃষ্ট।
শক্তি যদি আল্লাহ দেন,
করো দুর্বলের ত্রাণ,
ক্ষমতারও হিসাব হবে—
মনে রেখো সেই জ্ঞান।
মুসলমানের সম্পদও ভাই
অন্যের কাছে হক,
লোভের বশে কেড়ে নেওয়া
কখনো নয় ঠিক।
প্রতারণা আর আত্মসাৎ
দূরে রাখো মন,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও—
এটাই ঈমানী পণ।
অন্যের ঘাম, অন্যের শ্রম,
অন্যের উপার্জন,
অন্যায়ভাবে গ্রাস করলে
কলুষিত হয় মন।
হালাল পথে রুজি খুঁজে
সন্তুষ্ট থাকো তাতে,
বরকত নেমে আসবে তখন
জীবনেরই সাথে।
ইজ্জত-সম্মান পবিত্র হক,
করো না তার ক্ষতি,
কাউকে হেয়, অপমান করে
মেলে না কোনো গতি।
মানুষেরও মান-মর্যাদা
আল্লাহরই দান,
সম্মান দিলে সম্মান বাড়ে—
সুন্দর হয় প্রাণ।
কাউকে নিয়ে হাসাহাসি নয়,
নয় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য,
কারও দুর্বলতাকে করে
করো না বিদ্রূপ-বিদ্রুপ।
আজ যে মানুষ অসহায়,
কাল সে হতে পারে
তোমার চেয়ে মর্যাদাবান
আল্লাহরই দ্বারে।
চেহারা দেখে বিচার কোরো না,
সম্পদ দেখে নয়,
পোশাক দেখে মানুষ মাপা
মুসলিমের কাজ নয়।
হৃদয়ের তাকওয়া, সৎ আমল—
মূল্য তারই বেশি,
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন
সে-ই প্রকৃত ধনী।
ভাইয়ে ভাইয়ে হিংসা কেন?
কেন এত দ্বন্দ্ব?
একই রবের বান্দা আমরা,
একই দ্বীনের বন্ধন।
একই কিবলা, একই কুরআন,
একই নবীর পথ,
ভালোবাসার সেতু গড়ি,
মুছে দিই সব ক্ষত।
মসজিদ থেকে বাজার পর্যন্ত
শান্তির বাণী ছড়াক,
পরিবারে ও সমাজজুড়ে
মমতার ফুল ফুটুক।
প্রতিবেশীর সুখে সুখী হই,
দুঃখে পাশে দাঁড়াই,
মুসলিম ভাই বিপদে পড়লে
হাত বাড়িয়ে যাই।
কথায় নয়, কর্মে দেখাই
ইসলামের সৌন্দর্য,
সততা আর আমানতে গড়ি
জীবনেরই ঐশ্বর্য।
মিথ্যা, জুলুম, অহংকারকে
দিই হৃদয় থেকে বিদায়,
ন্যায় ও সত্যের পথে চলি—
আল্লাহ যেন কবুল করায়।
মনে রেখো, জবান দিয়ে
তীর ছোড়া যায়,
অদৃশ্য সেই ক্ষত কখনো
সহজে শুকায় না হায়।
তাই কথা বলার আগে
একবার ভাবো মন,
কথাটি কি শান্তি দেবে,
নাকি বাড়াবে ক্ষণ?
সুন্দর কথা সদকা হতে পারে,
সত্য কথা নূর,
মিষ্টি বাণী ভাঙতে পারে
অভিমানের প্রাচীর।
একটি ভালো বাক্য কখনো
জীবন বদলে দেয়,
একটি কোমল কথায় মানুষ
আবার আশা পায়।
হাত যেন হয় সাহায্যের হাত,
আঘাতের নয় কভু,
অসহায়ের অশ্রু মুছে
দাও সান্ত্বনা প্রভু।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও,
তৃষ্ণার্তকে জল,
দুঃখীর পাশে দাঁড়ালে
হৃদয় হবে নির্মল।
মুসলিমের রক্ত, ধন ও মান—
সবই সম্মানযোগ্য,
এই শিক্ষা হৃদয়ে রাখলে
সমাজ হবে নির্ভয়।
লোভের বদলে ন্যায় আসুক,
বিদ্বেষ যাক দূরে,
ভালোবাসার ফুল ফুটুক
মানুষেরই ঘরে।
শুধু মুসলিম ভাই নয়,
মানুষের প্রতিও দয়া,
ইসলামের মহান আদর্শ
ছড়াক সবার মায়া।
জুলুম থেকে বিরত থাকা
মুমিনের পরিচয়,
ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে
সমাজ সুন্দর হয়।
বাবা-মায়ের প্রতি কোমল,
স্ত্রীর প্রতি দয়ালু,
সন্তানেরও অধিকার রক্ষা—
হও না কখনো নিষ্ঠুর।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান রাখো,
শিক্ষার্থীর প্রতি মায়া,
প্রতিবেশীর হক আদায় করে
গড়ো সুন্দর ছায়া।
বন্ধুত্ব মানে বিশ্বাস রাখা,
ভালো পথে ডাকা,
ভুল করলে স্নেহের সাথে
সত্য কথাটি বলা।
বন্ধুর গোপন কথা রেখে
রাখো তার সম্মান,
বিশ্বাস ভেঙে প্রতারণা করা
মুমিনের নয় কাম্য।
রাগ যদি আসে, ক্ষমা করো,
অহংকারকে ছাড়ো,
শয়তানের সেই পথ ছেড়ে
রহমানের পথ ধরো।
বিবাদ যখন শুরু হয়,
শান্তির কথা বলো,
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া দিতে
মমতার হাত বাড়াও।
যে মানুষটি কষ্ট দিয়েছে,
ক্ষমা করা শিখো,
তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়—
ন্যায়ের পথে থেকো।
ক্ষমা মানে দুর্বল হওয়া
এমন কথা নয়,
ক্ষমা অনেক বড় শক্তি—
মহৎ হৃদয়ের পরিচয়।
ইসলাম শুধু নামের পরিচয়
নয় তো বাহ্যিক বেশ,
ইসলাম হলো চরিত্রজুড়ে
আল্লাহভীতির রেশ।
নামাজ, রোজা, ইবাদতের
সাথে সুন্দর আচরণ,
মানুষ যেন নিরাপদ পায়
তোমার সান্নিধ্য-ক্ষণ।
মুখে যদি থাকে কুরআন,
কর্মে যদি জুলুম,
তবে কোথায় সেই ইসলামের
সুন্দরতম মর্ম?
ইবাদতের সাথে আখলাক গড়ো,
শুদ্ধ করো মন,
মানুষের হক রক্ষা করাই
মহৎ জীবনের পণ।
চলো তবে আজ প্রতিজ্ঞা করি—
কটু কথা নয়,
মিথ্যা, গীবত, অপমানের
পথে চলব না কেউ।
অন্যের ধন আত্মসাৎ নয়,
জুলুম নয় প্রাণে,
মানুষের হক রক্ষা করব
আল্লাহরই বিধানে।
কারও চোখে অশ্রু এলে
হাসব না তার ক্ষণে,
বরং গিয়ে দাঁড়াব পাশে
সহমর্মী মনে।
কারও মনে ভয় জাগাব না,
দেব না কোনো ক্ষত,
আমার হাতে নিরাপদ হোক
প্রতিটি মানবজীবন।
মুসলমান সে—শান্তির দূত,
মমতারই আলো,
তার ব্যবহারে ফুটে ওঠে
ইসলামেরই ভালো।
তার জবান সত্য ও মধুর,
তার হাত সেবাময়,
তার হৃদয়ে আল্লাহভীতি,
তার চরিত্র নির্মলময়।
যে সমাজে মানুষ মানুষকে
সম্মান দিতে জানে,
সে সমাজে শান্তির পাখি
গান গায় প্রাণে প্রাণে।
সেখানে নেই হিংসা-বিদ্বেষ,
নেই জুলুমের ভয়,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্ত
হয়ে সবাই রয়।
আসুক এমন দিন, যখন
গালি হবে ক্ষয়,
হিংসা-হানাহানি মুছে গিয়ে
শান্তির সূর্য উদয়।
রক্ত, সম্পদ, সম্মান সবার
থাকুক নিরাপদ,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক
মানবতার প্রাঙ্গণ।
হে আল্লাহ, আমাদের তুমি
সুন্দর চরিত্র দাও,
জবান-হাতের অনিষ্ট থেকে
মানুষকে নিরাপদ রাখো।
অন্যের হক নষ্ট না করি,
জুলুম থেকে বাঁচি,
সত্য-ন্যায় ও ভালোবাসায়
জীবন যেন সাজাই।
হে রব, আমাদের অন্তর হতে
হিংসা-বিদ্বেষ হরো,
ক্ষমা, দয়া, ধৈর্য, তাকওয়া
হৃদয়জুড়ে ধরো।
তোমার প্রিয় বান্দা হয়ে
জীবন যেন কাটে,
মানুষ যেন নিরাপদ পায়
আমাদেরই সাথে।
মুসলমান সে—যার কারণে
শান্তি পায় প্রাণ,
মুসলমান সে—যার আচরণে
ফুটে ঈমানের গান।
মুসলমান সে—যার জবান ও
হাত থেকে নিরাপদ জন,
এমন মুসলিম হওয়ার তরে
সাজাই জীবন-মন।
রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান
রাখি পবিত্র করে,
ভালোবাসার দীপ জ্বালাই
মানুষেরই ঘরে।
রাসুলের সেই শিক্ষা বুকে
রাখি অবিচল,
সৎ চরিত্রে জীবন গড়ি—
হোক সমাজ নির্মল।
গালি নয়—দাও ভালো কথা,
হিংসা নয়—দাও দয়া;
জুলুম নয়—ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
বিদ্বেষ নয়—মায়া।
অন্যের হক রক্ষা করি,
রাখি সবার মান—
এভাবেই হোক জীবনের
সার্থক পরিচয়: মুসলমান।
আল্লাহর পথে চলব সবাই,
সুন্নাহ হবে আলো,
নিজে ভালো, অন্যের জন্য
হব আরও ভালো।
জবান হবে সত্যের বাহন,
হাত হবে কল্যাণ,
আমাদেরই আচরণে ফুটুক
ইসলামের মহান গান।
মুসলমান সে—যার কাছে
নিরাপদ অন্য প্রাণ;
মুসলমান সে—যার হৃদয়ে
আল্লাহর ভয়-জ্ঞান।
মুসলমান সে—যে রক্ষা করে
মানুষের অধিকার;
এমন জীবন গড়তে পারাই
মুমিনের অঙ্গীকার।
মুসলমান সে—যার হাতে-জবানে নিরাপদ মানুষ
মুসলমান সে—যার জবানেতে
শান্তির মধুর বাণী,
যার আচরণে ফুটে ওঠে
ঈমানেরই নিশানি।
যার হাত থেকে নিরাপদ থাকে
মানুষের প্রাণ-মান,
সত্য, ন্যায়, দয়া যার
জীবনেরই প্রাণ।
মুসলমান সে—যার কথাতে
কেউ না পায় ব্যথা,
অকারণে কারও হৃদয়
ভাঙে না যার কথা।
কটু ভাষা, গালি, বিদ্রূপ
দূরে রাখে মন,
মধুর বচন দিয়ে গড়ে
ভালোবাসার বন্ধন।
রাসুলের সেই মহান বাণী
স্মরণ করি আজ,
জবান-হাতের অনিষ্ট থেকে
রাখি সবাইকে আজ।
যার হাত ও মুখের অনিষ্টে
মুসলিম থাকে নিরাপদ,
সেই তো সত্য মুসলমান—
সেই চরিত্র সুন্দর।
জবান যেন ফুলের মতো
সুবাস ছড়ায় সদা,
কথার মাঝে সত্য থাকুক,
থাকুক মায়া-মমতা।
মিথ্যা, গীবত, অপবাদকে
করব না আপন,
সুন্দর কথায় আলোকিত
হোক আমাদের জীবন।
রাগের বশে কটু কথা
বলব না আর কভু,
ক্ষণের রাগে দীর্ঘদিনের
সম্পর্ক ভাঙে প্রভু।
কথা বলার আগে ভাবব—
কথাটি কি হিত?
নাকি আমার একটি কথায়
হবে কারও ক্ষত?
মুসলিমকে গালি দেওয়া
ফাসেকিরই কাজ,
হাদিসের এই শিক্ষা যেন
জাগায় বিবেক-লাজ।
তাই তো ভাই, মুখের ভাষা
রাখো পবিত্র করে,
মধুর কথার আলো জ্বালাও
মানুষের অন্তরে।
কাউকে হেয় করো না কখনো,
করো না উপহাস,
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে
দিয়ো না পরিহাস।
আজ যে মানুষ কাঁদছে বসে
দুঃখেরই ভারে,
কাল সে-ই হয়তো দাঁড়াবে
তোমারই পাশে এসে।
মানুষের সম্মান পবিত্র,
রাখো তার মর্যাদা,
অন্যের দোষ প্রচার করে
বাড়িয়ো না বিরোধ-বাধা।
কারও গোপন কথা জেনে
করো না প্রকাশ,
বিশ্বাস ভেঙে মানুষের মনে
দিয়ো না সর্বনাশ।
মুসলিম ভাইয়ের রক্ত যেন
হয় না কখনো হালকা,
অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়া
ভয়ংকর অপরাধ।
হাদিসে হত্যাকে কুফরী বলা—
কত কঠিন সতর্কতা!
তাই জুলুমের পথ ছেড়ে
বেছে নাও ন্যায়ের পথটা।
কোনো প্রাণের মূল্য কম নয়,
জীবন আল্লাহর দান,
অন্যায়ভাবে প্রাণহানি
মহাপাপেরই নিদর্শন।
শক্তি যদি থাকে হাতে,
দুর্বলকে দাও আশ্রয়,
অত্যাচারীর পথে নয়—
ন্যায়ের পথে জয়।
মুসলমানের সম্পদও ভাই
পবিত্র একটি হক,
লোভের বশে অন্যের ধন
কেড়ে নেওয়া ঠিক নয়।
প্রতারণা আর আত্মসাৎ
করব না কোনো দিন,
হালাল পথে উপার্জনই
হোক আমাদের ঋণ।
অন্যের ঘাম, অন্যের শ্রম,
অন্যের উপার্জন,
অন্যায়ভাবে গ্রাস করলে
কলুষিত হয় মন।
অল্প হলেও হালাল রুজি
বরকতময় ধন,
হারাম পথে প্রাচুর্য থেকেও
শ্রেয় পবিত্র মন।
ইজ্জত, সম্মান, মান-মর্যাদা
রাখো সবার কাছে,
মানুষকে যে সম্মান দেয়
সম্মান ফিরে পায় সে।
কাউকে ছোট করে মানুষ
বড় হতে পারে না,
অন্যের চোখের অশ্রু দিয়ে
সুখের ঘর গড়া যায় না।
একই রবের বান্দা আমরা,
একই দ্বীনের ভাই,
হিংসা-বিদ্বেষ রেখে মনে
কোথায় শান্তি পাই?
একই কুরআন পথ দেখায়,
একই নবীর শিক্ষা,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়াই
মুমিনেরই দীক্ষা।
ভাইয়ের সুখে আনন্দিত হও,
দুঃখে পাশে দাঁড়াও,
বিপদে পড়লে হাত বাড়িয়ে
ভালোবাসা দেখাও।
অসহায়ের অশ্রু মুছে
দাও সান্ত্বনার বাণী,
মানবতার সেবায় গড়ে
তুলে ধরো ঈমানি।
হাতটি হোক সাহায্যের হাত,
আঘাতের নয় কভু,
দুর্বলের চোখের জল মুছে
দাও সান্ত্বনা প্রভু।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও,
তৃষ্ণার্তকে জল,
সেবার মাঝে হৃদয় হবে
পবিত্র ও নির্মল।
মুসলমানের রক্ত, সম্পদ,
ইজ্জত অমূল্য ধন,
অন্য মুসলিম ভাইয়ের কাছে
রাখতে হবে পবিত্র মন।
এই শিক্ষা হৃদয়ে রাখলে
শান্ত হবে সমাজ,
মুছে যাবে হিংসা-হানাহানি,
ফিরবে সুখের সাজ।
শুধু মুখে ইসলাম বললেই
পূর্ণ হয় না ঈমান,
চরিত্রে তার প্রমাণ দিতে
হয় যে অবিরাম।
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের
সাথে উত্তম আচরণ,
মানুষ যেন নিরাপদ পায়
তোমার সান্নিধ্যক্ষণ।
মুখে যদি কুরআন থাকে,
কর্মে যদি জুলুম,
তবে কোথায় ইসলামের সেই
সুন্দরতম মর্ম?
ইবাদতের পাশাপাশি চাই
আখলাকেরই আলো,
নিজে ভালো, অন্যের জন্য
হও আরও ভালো।
বাবা-মায়ের প্রতি কোমল,
স্বজনের প্রতি দয়ালু,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে
হও না কখনো শৈথিল্যশীল।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান রেখো,
ছোটদের দাও স্নেহ,
সুন্দর আচরণে গড়ে ওঠে
জীবনেরই গৃহ।
বন্ধুত্ব মানে বিশ্বস্ত থাকা,
বন্ধুর মান রাখা,
ভুলের পথে গেলে বন্ধুকে
সত্যের পথে ডাকা।
গোপন কথা আমানত জেনে
রাখো তা গোপন,
বিশ্বাস ভেঙে কষ্ট দেওয়া
মুমিনের নয় গুণ।
রাগ এলে ধৈর্য ধরো,
ক্ষমা করো ভুল,
অহংকারের আগুন নেভাও,
মুছে দাও সব ধূলি।
বিবাদ যদি শুরু হয়,
শান্তির কথা বলো,
ভাঙা হৃদয় জোড়া দিতে
ভালোবাসা ঢালো।
ক্ষমা মানে দুর্বল হওয়া
এ কথা সত্য নয়,
ক্ষমাশীলের হৃদয় অনেক
শক্তিশালী হয়।
ন্যায়ের পথে অটল থেকেও
ক্ষমা করা যায়,
মহৎ হৃদয় প্রতিশোধ নয়—
কল্যাণ বেছে নেয়।
জবান যদি হয় সংযত,
শান্ত হবে মন,
হাত যদি হয় কল্যাণময়,
সুন্দর হবে জীবন।
চোখে যদি থাকে লজ্জা,
মনে যদি তাকওয়া,
তবে মানুষের জীবনজুড়ে
ফুটবে নূরের ছায়া।
একটি কথা ফুলের মতো
হৃদয় জুড়ে হাসে,
একটি কথা বিষের মতো
বছর ধরে ভাসে।
তাই তো কথা বলার আগে
ভেবে নিও ভাই,
আমার কথায় শান্তি আসবে—
নাকি অশান্তি তাই?
গীবত, মিথ্যা, অপবাদ ছেড়ে
সত্য কথাই বলি,
পরনিন্দার অন্ধকার ছেড়ে
সত্যের পথে চলি।
অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো
মুমিনের কাজ নয়,
নিজের ভুল সংশোধন করাই
সফলতার পরিচয়।
কারও মনে ভয় জাগাব না,
দেব না কোনো ক্ষত,
আমার কথা, আমার কাজে
কেউ না হোক আহত।
আমার ঘরে, আমার পথে,
আমার কর্মস্থলে—
নিরাপত্তার সুবাস ছড়াক
আমার ব্যবহারে।
যে সমাজে সম্মান থাকে,
সেখানে শান্তি রয়,
যে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত,
সেখানেই সুখময়।
যেখানে ভাই ভাইকে ভালোবাসে,
দুঃখে পাশে দাঁড়ায়,
সেই সমাজে রহমতেরই
বৃষ্টি নেমে যায়।
চলো তবে শপথ করি আজ—
কটু কথা নয়,
গালি দিয়ে কাউকে আমরা
করব না ক্ষয়।
মিথ্যা, গীবত, অপবাদ ছেড়ে
সত্যের পথে চলি,
মানুষের হক রক্ষা করে
জীবনখানি গড়ি।
অন্যের ধন আত্মসাৎ নয়,
প্রতারণা নয়,
অন্যায়ভাবে কারও ইজ্জত
নষ্ট করা নয়।
জুলুম থেকে দূরে থাকি,
ন্যায়কে করি মান,
সুন্দর চরিত্রে গড়ে তুলি
মুসলিমের সম্মান।
মুসলমান সে—যার জবানেতে
শান্তির মধুর সুর,
মুসলমান সে—যার কর্মে
দূর হয় আঁধার-দুঃখ।
মুসলমান সে—যার কারণে
কেউ না পায় ভয়,
তার আচরণে ইসলামেরই
সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।
মুসলমান সে—যার হাতে
নিরাপদ মানুষের প্রাণ,
মুসলমান সে—যার কাছে
সম্মান পায় সম্মান।
মুসলমান সে—যে রক্ষা করে
অন্যের সম্পদ-মান,
এমন জীবন গড়াই হোক
মুমিনের অঙ্গীকার মহান।
হে আল্লাহ, আমাদের তুমি
সুন্দর চরিত্র দাও,
কটু ভাষা, জুলুম, হিংসা
হৃদয় থেকে সরাও।
জবান-হাতের অনিষ্ট থেকে
মানুষকে নিরাপদ রাখো,
সত্য, ন্যায়, দয়া ও ক্ষমার
পথে আমাদের রাখো।
হে রব, আমাদের অন্তর ভরাও
তাকওয়ারই আলোয়,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ি
তোমারই সন্তোষে।
অন্যের হক রক্ষা করে
জীবন করি দান,
মানুষ যেন নিরাপদ পায়—
এমন হোক মুসলমান।
গালি নয়—মধুর বাণী,
হিংসা নয়—দয়া,
জুলুম নয়—ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
বিদ্বেষ নয়—মায়া।
অন্যের হক রক্ষা করি,
রাখি সবার মান,
হাতে-জবানে শান্তি ছড়াই—
এই হোক পরিচয় মহান।
মুসলমান সে—যার কারণে
নিরাপদ থাকে প্রাণ;
মুসলমান সে—যার আচরণে
ফুটে ওঠে ঈমান।
মুসলমান সে—যে সম্মান দেয়,
রক্ষা করে অধিকার;
এমন জীবন গড়তে পারাই
মুমিনের অঙ্গীকার।
আল্লাহর পথে চলব সবাই,
সুন্নাহ হবে আলো,
নিজে ভালো, অন্যের জন্য
হব আরও ভালো।
জবান হবে সত্যের বাহন,
হাত হবে কল্যাণ,
আমাদেরই চরিত্রে ফুটুক
ইসলামের মহান গান।
শান্তির পথে চলুক মানুষ,
মুছে যাক সব দ্বন্দ্ব;
ভালোবাসায় গড়ে উঠুক
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান
হোক সবার নিরাপদ—
হাতে-জবানে সত্য মুসলিম
হোক সমাজের সম্পদ।
১৪
২৪ মন্তব্য