সিনিয়র শিক্ষক
২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪২ অপরাহ্ণ
মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা নিন্দনীয়
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি মসজিদে নববিতে উপস্থিত হলে এক ব্যক্তি আমাকে একটি পাথরের টুকরো ছুড়ে মারলেন। আমি তখন তাকিয়ে দেখি-তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। তিনি বললেন, ওই যে, ওই দুই ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাদের তাঁর কাছে নিয়ে এলাম। তিনি বললেন, তোমরা কোন এলাকার? তারা বলল, তায়েফ এলাকার। তিনি বললেন, তোমরা যদি এই শহরের (মদিনার) লোক হতে, তাহলে আমি তোমাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদে এত জোরে কথা বলছ কেন? (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৭০)
শিক্ষা ও বিধান
১. মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা অনুচিত। মসজিদ ইবাদত, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও দ্বিনি শিক্ষার স্থান। তাই সেখানে এমনভাবে কথা বলা উচিত নয়, যাতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদত বা মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।
২. মসজিদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদে নববি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদ। সেখানে আচরণে অতিরিক্ত সতর্কতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যক।
৩. ইবাদতের স্থানেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। মসজিদে উপস্থিত হলেই মানুষ নিজের ইচ্ছামতো আচরণ করতে পারে না। মসজিদের পরিবেশের উপযোগী নীরবতা, বিনয় ও শালীনতা বজায় রাখা মুসল্লির দায়িত্ব।
৪. অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা, হাসাহাসি করা, মোবাইলে জোরে কথা বলা কিংবা এমন কোনো আচরণ করা, যাতে অন্য মুসল্লির নামাজ, তিলাওয়াত বা জিকিরে ব্যাঘাত ঘটে—তা পরিহার করা উচিত।
৫. ভুল দেখলে সংশোধন করা দায়িত্বশীলতার পরিচয়। ওমর (রা.) বিষয়টি দেখে চুপ থাকেননি; বরং তাদের সতর্ক করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রকাশ্য ভুল দেখলে সামর্থ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সুন্দরভাবে সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।
৬. শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ওমর (রা.) কঠোর ভাষায় সতর্ক করলেও তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মসজিদের মর্যাদা রক্ষা করা। তাই কাউকে সংশোধন করার সময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।
৭. মসজিদে প্রবেশের আগে তার আদব জানা উচিত। মুসল্লিদের শুধু নামাজের নিয়ম জানলেই হবে না; মসজিদের পরিবেশ, নীরবতা, পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার বিষয়েও সচেতন হতে হবে।
৮. মসজিদে প্রয়োজনীয় বৈধ কথা বলা নিষিদ্ধ নয়; তবে মসজিদকে অযথা গল্প, হাসি-তামাশা ও উচ্চস্বরে কথাবার্তার জায়গায় পরিণত করা নিন্দনীয়।
অতএব, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং ইবাদতের পবিত্র স্থান। সেখানে প্রবেশের পর কণ্ঠস্বর, আচরণ ও চলাফেরায় শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। বিশেষ করে মসজিদে নববির মতো পবিত্র স্থানে আদব ও সম্মানের প্রতি আরো বেশি যত্নশীল হওয়া উচিত।
১৪
২৪ মন্তব্য