সহকারী অধ্যাপক
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
আল্লাহভীতি, কুরআন, নীরবতা ও সত্যের পথে - মোঃ মুজিবুর রহমান
আল্লাহভীতি, কুরআন, নীরবতা ও সত্যের পথে
(মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হযরত আবু যর (রা.)-কে দেওয়া মূল্যবান উপদেশ অবলম্বনে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
আবু যর বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ,
দিয়ে যান আমায় এমন উপদেশ—
যে পথে চললে জীবন হবে সুন্দর,
মুছে যাবে অন্তরের সব অন্ধকার-অবশেষ।”
নবীজি বললেন, “আল্লাহকে ভয় করো,
তাকওয়া রাখো হৃদয় মাঝে;
তাকওয়াই তো তোমার সকল কর্ম
সুন্দর করে, রাখে সঠিক সাজে।
যে হৃদয়ে জাগে আল্লাহভীতি,
সে হৃদয় পাপে ভেসে যায় না;
গোপনেও সে অন্যায় করে না,
প্রভুর দৃষ্টি থেকে কিছুই লুকায় না।
মানুষ না দেখুক—আল্লাহ দেখেন,
এ বিশ্বাস রাখো প্রাণে;
তাকওয়ার আলো জ্বেলে রাখো
জীবনের প্রতিটি কাজে-কর্মে।
তাকওয়া হলো মুমিনের ঢাল,
পাপের পথে দেয় যে বাধা;
তাকওয়া দিয়ে জীবন সাজালে
আত্মা পায় প্রশান্তি সাধা।
আবু যর আবার বললেন,
“আরও কিছু বলুন, হে দয়ার নবী!”
বললেন তিনি, “কুরআন পড়ো,
জিকিরে রাখো হৃদয় নবী।”
কুরআন হলো আলোর কিতাব,
সত্যের পথে জ্বালে দীপ;
অন্ধকারে পথ হারালে
কুরআন দেয় আলোর নীড়।
কুরআনের আয়াত হৃদয়ে রাখো,
অর্থ বুঝে করো আমল;
জীবন হবে সুন্দর, পবিত্র,
দূর হবে পাপের কালো জঞ্জাল।
আল্লাহর নাম স্মরণ করো,
সকাল-সাঁঝে, ক্ষণে ক্ষণে;
জিকিরে শান্তি নামে মনে,
রহমত ঝরে জীবনে।
যে মুখ সদা প্রভুর নামে
সিক্ত রাখে আপন প্রাণ,
তার অন্তরে জেগে থাকে
ঈমানেরই পবিত্র গান।
কুরআন পাঠ ও আল্লাহর জিকির
করো জীবনের সাথি;
তবেই হবে পথের আলো,
দূর হবে মনের রাতি।
দুনিয়ার মানুষ না চিনলেও
আকাশে হবে তোমার কথা;
আল্লাহর কাছে মর্যাদা পাবে
সৎকর্মে ভরা জীবনগাথা।
আবু যর বললেন আবার,
“আরও দিন হেদায়াতের বাণী।”
নবীজি বললেন, “কম কথা বলো,
নীরবতাকে করো জ্ঞানের খনি।”
বেশি কথা অনেক সময়
ডেকে আনে কত ভুল;
অকারণে বলা কথায়
হৃদয় হয় ব্যথাতুর ও মলিন।
জিহ্বা ছোট, কিন্তু তারই
ক্ষমতা বড় অপরিসীম;
একটি কথায় গড়ে সম্পর্ক,
একটি কথায় ভাঙে হৃদয়-ঋণ।
তাই কথা বলার আগে ভেবো—
এ কথা কি সত্য?
এ কথা কি কল্যাণ বয়ে
আনবে সবার চিত্ত?
কথা যদি হয় মধুর, বলো,
উপকার হলে বলো;
অন্যথায় নীরব থাকো,
নীরবতার পথেই চলো।
নীরব থাকা কাপুরুষতা নয়,
নীরবতা জ্ঞানের শক্তি;
যে নিজ জিহ্বা সংযত রাখে,
সে পায় আত্মশুদ্ধির ভক্তি।
অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা,
পরনিন্দা আর গীবত—
জিহ্বার এসব বিষ থেকে
বাঁচাও তোমার ঈমান-দীপ।
শয়তানের পথে জিহ্বা দিয়ে
যেন না হয় কোনো সাড়া;
নীরবতা হোক ঢাল তোমার,
সত্য হোক তোমার ভরসা।
আবু যর বললেন আবার,
“আরও বলুন, হে আলোর নবী!”
বললেন তিনি, “সত্য বলো,
যদিও তা হয় তিতা সবই।”
সত্য কথা তিক্ত হলেও
সত্য থেকে সরে যেও না;
মানুষ রুষ্ট হলেও সত্য
কখনো তুমি ছেড়ে দিও না।
মিথ্যা দিয়ে ক্ষণিক হাসি
আনা যায় এই জীবনে,
কিন্তু মিথ্যার কালো ছায়া
জ্বালা বাড়ায় অন্তর-মনে।
সত্য কথা হয়তো কখনো
দুঃখ দেবে ক্ষণিক প্রাণে,
কিন্তু সত্যই মুক্তি দেবে
দুনিয়া ও পরকালে।
সত্য বলো কোমল ভাষায়,
সত্য বলো সুন্দর করে;
সত্য যেন আঘাত না হয়
অন্যায়ের কোনো ঘোরে।
সত্য মানে শুধু কথার সত্য
নয় তো শুধু মুখের বাণী;
সত্য মানে কর্মে সত্য,
সত্য মানে অন্তরখানি।
কথা ও কাজে মিল রাখো,
প্রতিশ্রুতি রাখো মান;
আমানতের হক আদায় করো,
এটাই মুমিনের পরিচয়-জ্ঞান।
আল্লাহভীতি—প্রথম শিক্ষা,
কুরআন—জীবনের আলো;
জিকির—হৃদয়ের প্রশান্তি,
সত্য—পথের দীপটি ভালো।
নীরবতা—জিহ্বার পাহারা,
সংযম—মুমিনের ঢাল;
এই গুণগুলো হৃদয়ে রাখলে
সুন্দর হবে জীবনকাল।
তাকওয়া যদি থাকে মনে,
পাপের পথে পা যাবে না;
কুরআনের আলো হৃদয়ে থাকলে
ভ্রান্তির রাতে হারাবে না।
জিকির যদি থাকে জিহ্বায়,
অশান্তি আর থাকবে কই?
আল্লাহর স্মরণে শান্ত হৃদয়
দুঃখের মাঝেও ভেঙে পড়ে না কই।
নীরবতার শিক্ষা নিলে
কমবে কত অনর্থ কথা;
সত্যের পথে চলতে গেলে
মুছে যাবে মিথ্যার ব্যথা।
হে মুমিন, তাই হৃদয় গড়ো
তাকওয়ার পবিত্র আলোয়;
কুরআন রাখো বুকে ধরে,
জিকির রাখো ভালোয় ভালোয়।
কম বলো আর বেশি শোনো,
ভেবেচিন্তে দাও উত্তর;
সত্য বলো, ন্যায় করো,
হৃদয় রাখো নির্মল-সুন্দর।
কারও দোষ খুঁজে বেড়িও না,
নিজের দোষ আগে দেখো;
নিজের অন্তর শুদ্ধ করে
আল্লাহর পথে দৃঢ় থেকো।
রাগের বশে কথা বলো না,
ক্রোধে যেন জিহ্বা না চলে;
একটি কথা আগুন জ্বালায়,
একটি কথা শান্তি আনে বলে।
তাই জিহ্বাকে আমানত মানো,
কথাকে ভাবো দায়িত্ব;
প্রতিটি শব্দ লিখে রাখেন
ফেরেশতারা—এটাই সত্য।
যে কথা হবে কল্যাণময়,
সেই কথাই মুখে আনো;
যে কথা ক্ষতি ডেকে আনে,
নীরব হয়ে তা থামাও।
আল্লাহভীতি জীবন গড়ে,
কুরআন দেয় পথের দিশা;
জিকির জাগায় হৃদয়জুড়ে
রহমতেরই মধুর আশা।
নীরবতা দেয় আত্মসংযম,
সত্য দেয় মুক্তির পথ;
এই চারটি গুণ ধারণ করলে
আলোকিত হয় জীবন-রথ।
দুনিয়ার মোহ ক্ষণস্থায়ী,
আজ আছে তো কাল নেই;
চিরস্থায়ী পরকালের ঘর—
সেই ঘরের কথা ভুলে যেয়ো নে ভাই।
সম্পদ যাবে, ক্ষমতা যাবে,
যৌবন যাবে ক্ষয়ে;
সঙ্গে যাবে শুধু আমল
কবরের অন্ধকার বয়ে।
তাই আজই গড়ো নিজের জীবন,
আজই করো তাওবা;
আল্লাহর দিকে ফিরে এসো,
তিনি পরম দয়ালু প্রভু আমাদের সবার।
কুরআনের আলো হাতে নিয়ে
চলো সরল পথে;
তাকওয়ার চাদর জড়িয়ে নাও
জীবনের প্রতিটি প্রহরে।
সত্যকে রাখো আপন করে,
মিথ্যাকে দাও বিদায়;
নীরবতার সৌন্দর্য নিয়ে
চলো রবেরই দেখানো হেদায়।
হে আল্লাহ, দাও তাকওয়া আমাদের,
দাও কুরআনের আলো;
জিকিরে ভরাও অন্তরখানি,
করো জীবন নির্মল-ভালো।
জিহ্বাকে দাও সংযম, প্রভু,
মিথ্যা থেকে রাখো দূরে;
তিক্ত হলেও সত্য বলার
সাহস দাও অন্তরজুড়ে।
গীবত, অপবাদ, মিথ্যা, অহংকার
থেকে আমাদের করো মুক্ত;
সত্য, ন্যায়, দয়া ও তাকওয়ায়
করো জীবন পরিপূর্ণ, পবিত্র, যুক্ত।
আবু যরের প্রতি নবীর
এই উপদেশ অমূল্য ধন—
তাকওয়া, কুরআন, জিকির, সত্য,
নীরবতায় গড়ো জীবন।
যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয়,
যে জীবনে কুরআনের আলো,
যে জিহ্বায় সত্যের বাণী—
সেই জীবনই সত্যিই ভালো।
যে মানুষ কম কথা বলে,
কাজে রাখে সত্যের ছাপ,
সে-ই পায় রবের নৈকট্য,
সে-ই বাঁচে পাপের মাপ।
তাই এসো, হে মানবসমাজ,
শুনি নবীর সেই আহ্বান—
তাকওয়া নিয়ে জীবন গড়ি,
কুরআন হোক পথের প্রাণ।
জিকির হোক হৃদয়ের সুর,
সত্য হোক মুখের ভাষা;
নীরবতায় সংযম শিখে
রাখি রবের প্রতি আশা।
তাকওয়ার আলোয় পথ চলি,
কুরআন বুকে রাখি;
সত্য কথা বলি নির্ভয়ে,
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি।
এই হোক আজ জীবনের শপথ,
এই হোক অন্তরের গান—
আল্লাহভীতি, কুরআন, জিকির,
নীরবতা, সত্য—মুমিনের প্রাণ।
দুনিয়ার পথে যতই আসুক
বিপদ, দুঃখ, ঝড়-ঝঞ্ঝা;
তাকওয়ার আলো সঙ্গে থাকলে
ভয় করবে না মুমিন-প্রাণ।
শেষ নিশ্বাস যখন আসবে,
থামবে জীবনের গান,
সত্য, তাকওয়া, কুরআন, জিকির—
হবে তখন আসল সম্বল-ধন।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ,
দাও আমাদের এমন জীবন—
তোমার ভয়ে পবিত্র হৃদয়,
সত্যে উজ্জ্বল মুখ ও মন।
তোমার স্মরণে কাটুক জীবন,
কুরআনে হোক হৃদয় ভরা;
তোমার পথে সত্যের যাত্রী
হয়ে যেন যাই পরপারে ধরা।
আল্লাহুম্মা আমীন।
১৪
২৪ মন্তব্য