Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দ্যা ফার্স্ট গার্ল -

দ্যা ফার্স্ট  গার্ল

সারাহার সেদিন প্লে শ্রেণির  বার্ষিক পরীক্ষার  রেজাল্ট  প্রকাশের দিন। খুব এক্সাইটেড।  মায়ের খুব  চিন্তা।  মা তাই মেয়ের রেজাল্টের দিন স্কুলে  যেতে রাজি হলো না। সাধারণত  মা ওর দেখভাল করে, স্কুলে  নিয়ে যায়,  ব্যাচে নিয়ে যায়, বাসায়  পড়ায়। কিন্তু  ওর মনের কথা ওর মায়ের তুলনায়  বাবা ক্লার্ক ভালো  বুঝতে পারে। ওর বাবা ওর সাথে স্কুলে  যেতে রাজি হলো।   স্কুল  ড্রেস পরলো। নিজেকে  পরিপাটি  করলো।স্কুলে  যাওয়ার আগে ওর বাবাকে বললো,  " আজ আমি রেজাল্ট  আনতে যাচ্ছি না, আজ আমি একটি  স্বপ্ন আঁকতে  যাচ্ছি "। শুনে বাবা খুশি হয়ে সারাহকে কাছে ডেকে ডান গালে পাপ্পি একে দিল। ওর সেদিন  রেজাল্ট  দিল। ও এক নম্বরের  জন্য ফার্স্ট  হতে পারল না। খুব করে কাদল। বাবা ওকে পড়ে ফেললো।  বুঝে  নিল, ছোট  মেয়ের মাঝে ও ফার্স্ট  হওয়ার  অসাধারণ  আগ্রহ ।  নার্সারিতে  উঠে  ও আরও  আক্রমনাত্মক হলো।  স্কুলের  প্রথম  বেঞ্চ ওর কোন দিন  মিছ হতো না। সবার আগে পড়া দেওয়া।  সবার আগে লেখা। চোখের  নিমিষেই  ও ক্লাস  ওয়ার্ক করে ফেলত।  স্যারেরা  ওর অসম্ভব  আগ্রহ  দেখে খুশি হত। যে কাজ করত তাতেই ওর ফার্স্ট  হওয়ার  প্রবণতা।  যেকোনো  কাজ খুব  দ্রুত করে ফেলত। ওর মা ও খুব  দ্রুত  যেকোনো  কাজ করতে পারত। ওর বাবার বিশ্বাস যে, সন্তান  বাবা অথবা  মায়ের গূণ পেয়ে থাকে। ৫ম শ্রেণি পাশ করে ঢাকার ভালো  একটা  বিদ্যালয়ে ভর্তি  হলো।  জীবনের  পরিবর্তন  এলো।  নতুন  বন্ধুদের সাথে সহজে মিশল না। খুব  কম মেশে। জিদ ছিল। কম কথা বলে। কাজের বেশি  কথা বলে না। অহেতুক  কথা বলে না। স্যারদের  ধারণা,  জেদি শিশুরা জীবনে  ভালো  কিছু  করতে পারে। হুম ও পেরেছিল।  বুয়েট  থেকে  পাশ করে স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া  চলে  গেল। কয়েক  বছরের  মধ্যে  ওর বাবা-মাকে নিয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়ার  জীবন ওদের সুখের হলো।  আর ও ওর বাবা-মায়ের স্বপ্ন আঁকতে  পারল।

মন্তব্য করুন