সহকারী শিক্ষক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
চাঁদের হাজার বছরের নিঃসঙ্গতা প্রথমবারের মতো ঘুচিয়েছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। যে চাঁদ ছিল মানুষের রাতের আকাশে, গান, কবিতা আর গল্পে, সে চাঁদকে প্রথমবারের মতো ছুঁয়ে দিয়েছিলেন এই মার্কিন নভোচারী।
নীল আর্মস্ট্রংয়ের পুরো নাম নীল এল্ডেন আর্মস্ট্রং। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেটের ওয়াপাকনেটা নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন স্টিফেন কনিগ আর্মস্ট্রং এবং ভায়োলা লুইসা এঞ্জেল দম্পতির প্রথম সন্তান। বংশানুক্রমিকভাবে তিনি একজন স্কটিশ ও জার্মান।
নীল আর্মস্ট্রং একাধারে একজন মহাকাশচারী, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, নেভাল অ্যাভিয়েটর, টেস্ট পাইলট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জুলাই মাত্র ছয় বছর বয়সে যখন তিনি প্রথমবারের মতো বিমান যাত্রা করেন তখন থেকেই তার বিমান এবং এভিয়েশন বিষয়ে অদম্য আগ্রহ জন্ম নেয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তার ষোলোতম জন্মদিনে একজন লাইসেন্সড পাইলট এবং নেভাল এয়ার ক্যাডেটের স্বীকৃতি পান। তিনি বয়েজ স্কাউটের সদস্য ছিলেন এবং এর সর্বোচ্চ সম্মাননা ঈগল স্কাউট অর্জন করেন।
১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। দুই বছর পর যোগ দেন কোরিয়ার যুদ্ধে। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চলে আসেন বিদ্যাপীঠে। কয়েক বছরের মধ্যে যোগ দেন ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি ফর অ্যারোনটিকসে, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে যেটি রূপান্তরিত হয় নাসায়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আর্মস্ট্রং।
১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—চন্দ্রজয়ের মিশন হাতে নেন আর্মস্ট্রং। ২০ জুলাই চাঁদের মাটিতে পা রাখেন আর্মস্ট্রং, আর বলেন, ‘একজনের জন্য ছোট্ট পদক্ষেপ হলেও মানবজাতির জন্য বিশাল এক অগ্রযাত্রা।’
তারপর অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হয়ে যোগ দেন ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে। আট বছর শিক্ষকতা করেছেন। তারও পরে, ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কম্পিউটিং টেকনোলজিস ফর এভিয়েশন ইনকরপোরেটেডে।
আর্মস্ট্রং জীবন কাটিয়েছেন ভীষণ নিভৃতে। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ৬০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে চাঁদ নিয়ে বলেছিলেন, ‘সূর্যালোকে চাঁদের পৃষ্ঠটি অসাধারণ। জায়গাটি দারুণ। আমি তো সবাইকে সেখান থেকে ঘুরে আসতে বলব।’ একই বছর প্রকাশিত হয় আর্মস্ট্রংয়ের একমাত্র অনুমোদিত জীবনী ফার্স্ট ম্যান: দ্য লাইফ অব নিল এ. আর্মস্ট্রং।
২০১২ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টে আর্মস্ট্রংয়ের বাইপাস সার্জারি হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই- ২৫ আগস্ট ৮২ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে চিরদিনের জন্য বিদায় নেন আর্মস্ট্রং।
১৪
২৪ মন্তব্য