ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। ডেঙ্গু জ্বরের কারণে প্লাটিলেট কমে যাওয়া এবং ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা সঠিক খাবারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নিচে ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যতালিকায় কী রাখা উচিত এবং কী বর্জন করা উচিত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. তরল খাবার (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
- খাবার স্যালাইন ও ডাবের পানি: শরীরে খনিজ লবণের ঘাটতি মেটাতে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ডাবের পানি ও ওআরএস (ORS) খাওয়াতে হবে।
- পর্যাপ্ত পানি: রোগীকে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে।
- লেবুর রস ও ফলের জুস: কমলা, মালটা, বা আনারসের রস দেওয়া যেতে পারে। এগুলো ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- সুপ: মুরগির মাংস বা সবজির গরম সুপ রোগীর মুখের রুচি ফেরাতে এবং পুষ্টি জোগাতে দারুণ কাজ করে।
২. প্লাটিলেট ও রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে সহায়ক খাবার
- পেঁপে পাতা ও পেঁপে: পাকা পেঁপে এবং পেঁপে পাতার রস প্লাটিলেট কাউন্ট দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।
- আনার বা বেদানা: এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ক্লান্তি দূর করে এবং রক্তকণিকা বাড়ায়।
- সবুজ শাকসবজি ও ব্রকলি: বিশেষ করে পালং শাক এবং ব্রকলিতে ভিটামিন কে থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে এবং প্লাটিলেট উন্নত করতে সাহায্য করে।
৩. সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন
- ডিম ও মুরগির মাংস: নরম করে সেদ্ধ ডিম বা মুরগির হালকা ঝোল পেশির দুর্বলতা কাটাতে প্রোটিনের জোগান দেয়।
- নরম ভাত বা জাউ ভাত: সহজে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট রোগীকে দ্রুত শক্তি দেয়।
৪. যেসব খাবার সম্পূর্ণ বর্জনীয়
- তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার: অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায় এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটায়।
- গাঢ় রঙের খাবার: চকোলেট, কোমল পানীয় (Cold drinks) বা অতিরিক্ত লাল রঙের খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলো খেলে বমি বা পায়খানার সাথে রক্ত যাচ্ছে কি না (অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ), তা বুঝতে সমস্যা হয়।
- ক্যাফেইন: চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকস শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেটেড (শুষ্ক) করে ফেলে।
১৪
২৪ মন্তব্য