সহকারী অধ্যাপক
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৃষ্টির সেবা ও মানবকল্যাণ- ইসলামের মহান শিক্ষা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সৃষ্টির সেবা ও মানবকল্যাণ-
ইসলামের মহান শিক্ষা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
স্রষ্টার সৃষ্টি এই সুন্দর ধরা,
আকাশ-বাতাস, নদী-নালা ভরা।
পাহাড়-পর্বত, বন-বীথি-ঘেরা,
সৃষ্টির মাঝে রহমত ঝরে সারা।
মানুষ, পাখি, পশু, কীটপতঙ্গ,
সবার জীবন আল্লাহরই প্রদত্ত
অঙ্গ।
দিয়েছেন প্রাণ, দিয়েছেন যে দেহ,
তাঁরই কুদরত—কোথায় তার শেষ!
আদমসন্তান পেয়েছে মর্যাদা,
সঙ্গে দিয়েছে দায়িত্বের ধারা।
শুধু নিজের সুখ নয় জীবনের ব্রত,
অন্যের কল্যাণে হও নিবেদিত।
প্রশ্ন হোক না—‘আমি কী পেলাম?’
প্রশ্ন হোক—‘কতজনের পাশে দাঁড়ালাম?’
আমার হাতে কার হাসি ফুটল আজ?
আমার কাজে কমল কারও লাজ?
মানুষ হয়ে মানুষের তরে
দাঁড়াও গিয়ে বিপদের ঘোরে।
ক্ষুধার্ত মুখে তুলে দাও অন্ন,
দুঃখের রাতে হও আলোক-কিরণ।
অসুস্থ জনের নাও একটু খবর,
বিপদে বলো—‘ভয় কোরো না আর।’
পথহারা মানুষকে দেখাও পথ,
ভেঙে দাও তার হতাশার রথ।
যে কাঁদে নীরবে, তার পাশে বসো,
ভালোবাসা দিয়ে তার ব্যথা হরো।
যে পড়ে গেছে জীবনের পথে,
হাত বাড়িয়ে দাও আপন মমতাতে।
অর্থ না থাকলেও সেবা চলে,
সদ্বাক্য দাও ভালোবাসার ছলে।
একটি হাসিও হতে পারে দান,
একটি কথায় জাগে মরা প্রাণ।
দয়া ইসলামের সৌন্দর্য
রহমান তিনি, রহিম তিনি,
দয়ার সাগর মহান যিনি।
তাঁর বান্দা যদি দয়া না করে,
কেমন করে রহমত পাবে পরে?
দয়া দিয়ে হৃদয় করো নির্মল,
কোমল হোক মন, সুন্দর হোক চল।
নিষ্ঠুর হৃদয় মরুভূমির মতো,
মমতার স্পর্শে হয় সে সবুজতর।
বৃদ্ধের হাতে ধরো ভালোবেসে,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও হেসে।
এতিম শিশুর মাথায় রাখো হাত,
মুছে দাও তার অশ্রুসিক্ত রাত।
দরিদ্র মানুষ যেন না হয় অপমানিত,
সহায়তার মাঝে থাক সম্মান অক্ষুণ্ণ।
দান যদি করো, দিও নিঃশব্দে,
প্রতিদানের আশা রেখো না হৃদয়ে।
এক মুঠো অন্ন, এক গ্লাস জল,
কারও জীবনে হতে পারে বল।
একটি বই, একটি পোশাক, একটি ওষুধ,
বদলে দিতে পারে জীবনের রূপ।
কেউ দেয় অর্থ, কেউ দেয় শ্রম,
কেউ জ্ঞান বিলায় হয়ে মহত্তম।
কেউ দেয় সময়, কেউ দেয় সান্ত্বনা,
সব সেবাতেই জাগে মানবিক চেতনা।
অন্ধ মানুষটিকে পার করো পথ,
বৃদ্ধকে দাও বসার স্থান যথাযথ।
শিশুকে শেখাও অক্ষর-জ্ঞান,
জ্ঞানদানেও মেলে মহৎ সম্মান।
অসুস্থ বন্ধুর নাও একটু খোঁজ,
বিপন্ন মানুষের শুনে নাও রোজ।
কারও ভুল হলে দিও না গালি,
সুন্দর কথায় দাও সঠিক দিশা-চালি।
জ্ঞান হোক মানুষের কল্যাণে
জ্ঞান যদি থাকে হৃদয়ের ঘরে,
জ্বালো তার দীপ মানুষের তরে।
শিক্ষক যখন শিক্ষা দেন প্রাণে,
ভবিষ্যৎ গড়ে শিক্ষার্থীর টানে।
চিকিৎসক সেবা দেন রোগীর পাশে,
কৃষিবিদ জ্ঞান দেন কৃষকের আশে।
কারিগর শেখান দক্ষতার পাঠ,
জ্ঞান বিলালে আলোকিত হয় জাত।
জ্ঞান যদি শুধু অহংকার বাড়ায়,
মানুষে মানুষে দেয় যদি হেলায়,
তবে সে জ্ঞানের কী মূল্য বলো?
জ্ঞান তো সে-ই, যা কল্যাণের আলো।
নিজে শেখো, অন্যকেও শেখাও,
অজ্ঞতার আঁধার দূরে সরাও।
কলম হোক সেবার শক্তিমান হাত,
শিক্ষার আলোয় বদলে যাক রাত।
সবাই পারে না অর্থ বিলাতে,
সবাই পারে না শ্রম দিতে হাতে।
কিন্তু সুন্দর কথা বলা তো যায়,
একটি বাক্যে বিষাদ দূরে যায়।
‘হতাশ হয়ো না, আল্লাহ আছেন’,
‘বিপদে তোমার পাশে আমি আছি’—
এমন কথায় জাগে যে আশা,
অন্ধকারেও হাসে ভালোবাসা।
কথার আঘাত হৃদয় ভাঙে,
কটু বাক্য বিষের মতো লাগে।
তাই জবান হোক নিরাপদ সবার,
মধুর কথায় ভরুক সংসার।
গীবত, অপবাদ, কটূক্তি ত্যাগ,
অশ্লীল ভাষায় না হোক অনুরাগ।
সত্য বলো, বলো মধুর ভাষায়,
মানবিকতা ফুটুক কথার আশায়।
প্রতিবেশী শুধু পাশের ঘর নয়,
তারও আছে অধিকারময় পরিচয়।
মুসলিম হোক কিংবা অন্য ধর্মের,
সদাচরণ করো সবার অন্তরে।
তার শান্তি নষ্ট কোরো না কখনো,
অন্যের গোপন কথা বলো না যেন।
বিপদে তার পাশে দাঁড়াও গিয়ে,
সুখে তার সুখে ওঠো হেসে।
কারও ঘরে যদি অন্নের টান,
সামর্থ্য থাকলে বাড়াও দান।
কেউ অসুস্থ হলে নাও তার খবর,
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো নিরন্তর।
বড় বড় কথা নয় সমাজ গড়ে,
ছোট ছোট ভালো কাজ ঘরে ঘরে।
একটি হাসি, একটি সহায়তা,
গড়ে তোলে ভালোবাসার সভ্যতা।
পরিবার থেকেই সেবার শুরু
বাইরে যদি ভালো ব্যবহার,
ঘরে যদি থাকে রূঢ় আচরণ ভার—
সে তো পূর্ণ মানুষ নয় কখনো,
ইসলামের শিক্ষা মানে না সে যেন।
মা-বাবার প্রতি সদাচরণ,
স্ত্রী-সন্তানের যথাযথ যত্ন।
সন্তানকে দাও সুশিক্ষার আলো,
পরিবারে রাখো ভালোবাসা ভালো।
স্বামী-স্ত্রীর অধিকার রক্ষা,
দায়িত্ব পালনে হোক না অবহেলা।
শান্ত পরিবার সমাজের ভিত্তি,
সেখান থেকেই মানবতার সৃষ্টি।
ঘর যদি হয় মায়া-মমতায় ভরা,
সমাজ হবে শান্তির সাগরধারা।
পরিবারে যে দায়িত্ববান,
সমাজেও সে কল্যাণবান।
শুধু মানুষ নয়, সৃষ্টির সকল,
দয়ার ছায়ায় হোক তাদের সকাল।
পশু-পাখিরও জীবন আছে,
তাদের ব্যথা আল্লাহরই কাছে।
তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে দাও একটু জল,
মমতার স্পর্শে হোক তার চল।
অকারণে কোনো প্রাণীকে মেরো না,
নির্যাতনের খেলায় মেতো না।
পাখির বাসা ভেঙো না অকারণে,
পশুকে কষ্ট দিও না বিনোদনে।
ক্ষুধার্ত প্রাণীকে দাও আহার,
রহমতের পথে এ-ও এক উপহার।
গাছ লাগাও, বৃক্ষ বাঁচাও,
পানি অপচয় থেকে নিজেকে বাঁচাও।
দূষণমুক্ত রাখো ধরিত্রী-মা,
প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নাও দয়া।
কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র—এটাই জীবন,
কেউ শক্তিমান, কেউ দুর্বল তখন।
কেউ পায় সুযোগ, কেউ পড়ে পিছে,
তাই সহমর্মিতা রাখো সবার কাছে।
জাকাত, সদকা, দান ও ফিতরা,
কল্যাণের পথে দেয় আলোর ধারা।
সামর্থ্যবান যদি এগিয়ে আসে,
দুঃখের আঁধার কমে মানুষের পাশে।
তবে দানের নামে অপমান নয়,
সহায়তার মাঝে সম্মানই জয়।
যাকে সাহায্য করো, রেখো তার মান,
নিঃশব্দে করো কল্যাণের দান।
অল্প কিছু দিয়েও হতে পারে বড়,
যদি তাতে থাকে ভালোবাসার ঘর।
একটি কর্মের সুযোগ, একটি বই,
কারও ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে সেই।
উপকারের নামে অন্যায় নয়,
মিথ্যা-প্রতারণা কল্যাণ নয়।
অন্যের অধিকার হরণ করে দান,
কখনোই নয় তা পুণ্যের সম্মান।
হারাম পথে অর্থ উপার্জন করে,
দান করলে কি সওয়াব মিলবে তাতে?
না—সেবার সঙ্গে সততা চাই,
হালাল পথে চলাই সঠিক ঠাঁই।
আমানত রক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
সত্যের পথে হোক জীবনের দীক্ষা।
যে সেবা অন্যের অধিকার কাড়ে,
সে সেবা নয়—অন্যায়ই বাড়ে।
তাই কল্যাণ হোক পবিত্র মনে,
সত্য ও ন্যায়ের নির্মল পণে।
নিয়ত হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি,
তবেই সেবায় মিলবে জীবনের পুষ্টি।
কর্মক্ষেত্রেও মানবসেবা
শিক্ষক যদি দেন নিষ্ঠার পাঠ,
তাঁর শ্রমে গড়ে ভবিষ্যতের ভোর।
চিকিৎসক যদি করেন সেবা,
রোগীর মুখে ফুটে আশার আলো-রেখা।
ব্যবসায়ী যদি প্রতারণা না করেন,
ক্রেতার অধিকার সযতনে রাখেন।
কৃষক যদি ফলান খাদ্যের শস্য,
শ্রমিক গড়েন দেশের মহৎ ভবিষ্যৎ।
কর্মই হোক মানুষের কল্যাণ,
সততায় ভরে উঠুক কর্মপ্রাণ।
বড় পদে থাকা জরুরি নয়,
নিজ নিজ কাজে সেবাই বড় পরিচয়।
ক্ষমা ও সহনশীলতার আলো
মানুষ ভুল করে—এটাই স্বাভাবিক,
ভুলের কারণে হয় না সে অবাঞ্ছিত।
ক্ষমার মাঝে থাকে মনের বল,
ক্ষমাশীল হৃদয় সত্যিই নির্মল।
রাগ যদি আসে, ধৈর্য ধরো,
প্রতিহিংসার আগুন দূরে সরো।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে মানা নয়,
ন্যায়ের পথে থেকেও ক্ষমাই মহৎ জয়।
যে ক্ষমা করে আল্লাহর তরে,
তার হৃদয় শান্তি পায় অন্তরে।
অভিমান-ক্রোধ দূরে সরিয়ে,
ভালোবাসা দাও হৃদয় ভরিয়ে।
সহযোগিতার হাত বাড়াও
একজন মানুষ একা কত করবে?
সব দুঃখ কি একা সে হরবে?
তাই এসো সবাই হাতে হাত রাখি,
কল্যাণের পথে একসঙ্গে হাঁটি।
সৎ কাজে হোক পরস্পর সহযোগিতা,
তাকওয়ার পথে থাকুক দৃঢ় একতা।
অন্যায় কাজে নয় কোনো সমর্থন,
পাপের পথে নয় বন্ধুত্বের বন্ধন।
যেখানে মানুষ মানুষকে ধরে,
সেখানে আশার প্রদীপ জ্বলে ঘরে।
একজনের শক্তি আরেকজনের বল,
সহযোগিতাতেই সমাজ হয় সফল।
আজকের পৃথিবীর প্রয়োজন
বিজ্ঞান বেড়েছে, প্রযুক্তি বেড়েছে,
দূরের মানুষ কাছে এসে মিশেছে।
তবু কেন হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ে?
কেন মানুষ একা কাঁদে অন্ধকার ঘরে?
হাজার বন্ধু আছে মুঠোফোনে,
তবু মন কাঁদে নিঃসঙ্গ ক্ষণে।
তাই দরকার মমতার হাত,
মানবতার উষ্ণ ভালোবাসার প্রভাত।
বৃদ্ধ যেন আর অবহেলায় না কাঁদে,
শিশু যেন নিরাপদ থাকে সাধে।
দরিদ্র যেন অপমানিত না হয়,
দুর্বল যেন শক্তিশালীর ভয়ে না রয়।
অসুস্থ মানুষ একা না থাকে,
প্রতিবেশী প্রতিবেশীর পাশে থাকে।
ব্যবসায়ী যেন প্রতারণা না করে,
শিক্ষক জ্ঞান দেন ভালোবেসে ঘরে।
ধনী যেন গরিবকে তুচ্ছ না করে,
ক্ষমতাবান জুলুম না করে দুর্বলে।
ন্যায়-দয়া-সততা হোক সমাজের প্রাণ,
মানবিকতায় গড়ি শান্তির দিগন্ত মহান।
যার ঈমান চরিত্রে ফুটে,
যার হৃদয় থাকে দয়ার ছুটে,
যার হাতে মানুষ নিরাপদ রয়,
যার কথায় মুছে মানুষের ভয়—
সেই তো মুমিন, সেই তো মানুষ,
তার হৃদয়ে জ্বলে ঈমানের ফানুস।
নামাজ তাকে অন্যায় থেকে ফেরায়,
রোজা তাকে সংযম শেখায়।
জাকাত তাকে দরিদ্রের কথা শেখায়,
কুরআন তাকে ন্যায়ের পথে নেয়।
ঈমান তার হৃদয় করে কোমল,
মানুষের দুঃখে হয় সে ব্যাকুল।
নিজের জন্য যা ভালোবাসে প্রাণে,
অন্যের জন্যও চায় তা সমান টানে।
মানুষের সুখে আনন্দ পায়,
মানুষের দুঃখে অশ্রু ঝরায়।
বলো না কখনো—‘আমি গরিব,
কীভাবে করব সেবার প্রতিদান?’
অর্থ ছাড়া সেবার কত পথ,
ভালো কাজেই জাগে জীবনের অর্থ।
রাস্তা থেকে কাঁটা সরিয়ে দাও,
তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি দাও।
একটি গাছের চারা রোপণ করো,
সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন ধরো।
অন্ধকে দাও পথের দিশা,
বৃদ্ধকে দাও বসার আশা।
শিশুকে শেখাও জ্ঞানের বাণী,
বিপন্নের পাশে হও আপনজনখানি।
কারও কথা মন দিয়ে শোনো,
দুঃখের সময়ে তাকে আপন জেনো।
ভুল করলে তাকে দিও না অপমান,
সুন্দরভাবে বোঝাও সঠিক জ্ঞান।
ছোট ছোট কাজ, ছোট নয় কভু,
তাতেই গড়ে ওঠে মানবতার রূপ।
একটি প্রদীপ অন্ধকার হরায়,
একটি ভালো কাজ সমাজ বদলায়।
সাফল্য শুধু অর্থ নয়,
ক্ষমতা নয়, সম্মান নয়।
প্রাসাদ, সম্পদ, নামের বাহার—
এসব নয় জীবনের শেষ উপহার।
সত্যিকারের সাফল্য সেই,
আল্লাহ যাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন সেই।
যার জীবনে মানুষের কল্যাণ,
যার হৃদয়ে দয়া, মুখে সৎ বাণী মহান।
প্রশ্ন করো না—‘কত আছে আমার?’
প্রশ্ন করো—‘কতজন পেল আমার?’
আমার জ্ঞান কি কারও কাজে লাগে?
আমার শ্রম কি কারও দুঃখ ভাগে?
আমার অর্থ কি ক্ষুধা মেটায়?
আমার কথা কি আশার আলো জ্বালায়?
আমার আচরণে শান্তি আসে?
আমার জীবন কি কল্যাণের পাশে?
মানুষ ভুলে যেতে পারে তোমার দান,
ভুলে যেতে পারে তোমার অবদান।
তবু আল্লাহ ভুলবেন না কিছু,
তাঁর জ্ঞানে থাকে ভালো কাজ পিছু।
প্রশংসা যদি না-ও মেলে শেষে,
ভালো কাজ করো আল্লাহর উদ্দেশে।
কেউ না জানুক, তিনি তো জানেন,
নীরব সেবাও তাঁর কাছে মানেন।
নিয়ত যদি হয় পবিত্র, সুন্দর,
সামান্য কাজও হয় মহত্তর।
মানুষের জন্য যে হৃদয় কাঁদে,
রহমতের আশা সে হৃদয়ে বাঁধে।
এসো আমরা শপথ করি আজ,
মানুষের কল্যাণ হবে জীবনের কাজ।
নিজে ভালো থাকব, অন্যকেও রাখব,
অন্যায়ের পথে কখনো না যাব।
নিজে নিরাপদ, অন্যও নিরাপদ,
এই হোক জীবনের পবিত্র অঙ্গীকার।
নিজে চলব কল্যাণের পথে,
অন্যকেও ডাকব সুন্দর কথাতে।
ক্ষুধার্তের পাশে অন্ন নিয়ে,
অসহায়ের পাশে মমতা দিয়ে,
দুঃখীর পাশে সান্ত্বনা হয়ে,
অন্ধকারে আলোর প্রদীপ হয়ে—
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করব,
পরিবারকে ভালোবাসা দেব।
পশু-পাখির প্রতি দয়া রাখব,
সবুজ পৃথিবী রক্ষায় দাঁড়াব।
সত্য বলব, আমানত রাখব,
অন্যের অধিকার কখনো না কাড়ব।
হালাল পথে জীবন গড়ব,
ন্যায় ও তাকওয়ায় সমাজ গড়ব।
হে আল্লাহ, দাও এমন মন,
যেখানে থাকবে মায়া-দরদ-স্নেহের ক্ষণ।
দাও এমন হাত, সেবায় বাড়ে,
দাও এমন হৃদয়, দুঃখীর পাশে দাঁড়ায়।
দাও এমন জবান, ভালো কথা বলে,
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দেয় মধুর ছলে।
দাও এমন জ্ঞান, মানুষের কাজে,
দাও এমন কর্ম, কল্যাণের মাঝে।
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করো প্রাণে,
সততা দাও আমাদের জীবনে।
অহংকার থেকে রাখো মুক্ত,
দয়া-মায়ায় করো হৃদয় সিক্ত।
হে রব, আমাদের করো এমন বান্দা,
যাদের কারণে কমে মানুষের দ্বন্দ্ব-বাধা।
যাদের হাতে মানুষের নিরাপত্তা,
যাদের কাজে ছড়ায় শান্তির বারতা।
মানুষের কষ্ট লাঘব হোক আমাদের হাতে,
ভালোবাসা ফুটুক মানুষের সাথে।
সৃষ্টির প্রতি মমতা, মানুষের কল্যাণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের গান।
নিজে ভালো থাকি, অন্যকেও রাখি,
অন্যের দুঃখে আপন হয়ে থাকি।
কল্যাণের পথে জীবন সাজাই,
সত্য ও ন্যায়ের পতাকা উড়াই।
দয়া হোক হৃদয়ে, সেবা হোক প্রাণে,
তাকওয়ার আলো জ্বলুক জীবনে।
মানবতার ফুল ফুটুক ঘরে ঘরে,
শান্তির সুবাস ছড়াক বিশ্বভরে।
এই হোক আমাদের জীবনের ব্রত—
‘আমি নই শুধু, সবার কল্যাণ হোক শত।’
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনের ধন,
সেবায় পূর্ণ হোক আমাদের জীবন।
হে আল্লাহ! আমাদের এমন বান্দা হওয়ার তাওফিক দাও,
যাদের মাধ্যমে তোমার সৃষ্টির কল্যাণ সাধিত হয়,
মানুষের কষ্ট লাঘব হয়,
সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়,
আর পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে দয়া, ভালোবাসা ও মানবতার আলো।
আমিন।
সৃষ্টির সেবা ও মানবকল্যাণ
ইসলামের মহান শিক্ষা
স্রষ্টার সৃষ্টি এই সুন্দর ধরা,
আকাশ-বাতাস, নদী-নালা ভরা।
পাহাড়-পর্বত, বন-বীথি-ঘেরা,
সৃষ্টির মাঝে রহমত ঝরে সারা।
মানুষ, পাখি, পশু, কীটপতঙ্গ,
সবার জীবন আল্লাহরই অঙ্গ।
দিয়েছেন প্রাণ, দিয়েছেন যে দেহ,
তাঁরই কুদরত—কোথায় তার শেষ!
আদমসন্তান পেয়েছে মর্যাদা,
সঙ্গে দিয়েছে দায়িত্বের ধারা।
শুধু নিজের সুখ নয় জীবনের ব্রত,
অন্যের কল্যাণে হও নিবেদিত।
প্রশ্ন হোক না—‘আমি কী পেলাম?’
প্রশ্ন হোক—‘কতজনের পাশে দাঁড়ালাম?’
আমার হাতে কার হাসি ফুটল আজ?
আমার কাজে কমল কারও লাজ?
মানুষ হয়ে মানুষের তরে
দাঁড়াও গিয়ে বিপদের ঘোরে।
ক্ষুধার্ত মুখে তুলে দাও অন্ন,
দুঃখের রাতে হও আলোক-কিরণ।
অসুস্থ জনের নাও একটু খবর,
বিপদে বলো—‘ভয় কোরো না আর।’
পথহারা মানুষকে দেখাও পথ,
ভেঙে দাও তার হতাশার রথ।
যে কাঁদে নীরবে, তার পাশে বসো,
ভালোবাসা দিয়ে তার ব্যথা হরো।
যে পড়ে গেছে জীবনের পথে,
হাত বাড়িয়ে দাও আপন মমতাতে।
অর্থ না থাকলেও সেবা চলে,
সদ্বাক্য দাও ভালোবাসার ছলে।
একটি হাসিও হতে পারে দান,
একটি কথায় জাগে মরা প্রাণ।
রহমান তিনি, রহিম তিনি,
দয়ার সাগর মহান যিনি।
তাঁর বান্দা যদি দয়া না করে,
কেমন করে রহমত পাবে পরে?
দয়া দিয়ে হৃদয় করো নির্মল,
কোমল হোক মন, সুন্দর হোক চল।
নিষ্ঠুর হৃদয় মরুভূমির মতো,
মমতার স্পর্শে হয় সে সবুজতর।
বৃদ্ধের হাতে ধরো ভালোবেসে,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও হেসে।
এতিম শিশুর মাথায় রাখো হাত,
মুছে দাও তার অশ্রুসিক্ত রাত।
দরিদ্র মানুষ যেন না হয় অপমানিত,
সহায়তার মাঝে থাক সম্মান অক্ষুণ্ণ।
দান যদি করো, দিও নিঃশব্দে,
প্রতিদানের আশা রেখো না হৃদয়ে।
এক মুঠো অন্ন, এক গ্লাস জল,
কারও জীবনে হতে পারে বল।
একটি বই, একটি পোশাক, একটি ওষুধ,
বদলে দিতে পারে জীবনের রূপ।
কেউ দেয় অর্থ, কেউ দেয় শ্রম,
কেউ জ্ঞান বিলায় হয়ে মহত্তম।
কেউ দেয় সময়, কেউ দেয় সান্ত্বনা,
সব সেবাতেই জাগে মানবিক চেতনা।
অন্ধ মানুষটিকে পার করো পথ,
বৃদ্ধকে দাও বসার স্থান যথাযথ।
শিশুকে শেখাও অক্ষর-জ্ঞান,
জ্ঞানদানেও মেলে মহৎ সম্মান।
অসুস্থ বন্ধুর নাও একটু খোঁজ,
বিপন্ন মানুষের শুনে নাও রোজ।
কারও ভুল হলে দিও না গালি,
সুন্দর কথায় দাও সঠিক দিশা-চালি।
জ্ঞান হোক মানুষের কল্যাণে
জ্ঞান যদি থাকে হৃদয়ের ঘরে,
জ্বালো তার দীপ মানুষের তরে।
শিক্ষক যখন শিক্ষা দেন প্রাণে,
ভবিষ্যৎ গড়ে শিক্ষার্থীর টানে।
চিকিৎসক সেবা দেন রোগীর পাশে,
কৃষিবিদ জ্ঞান দেন কৃষকের আশে।
কারিগর শেখান দক্ষতার পাঠ,
জ্ঞান বিলালে আলোকিত হয় জাত।
জ্ঞান যদি শুধু অহংকার বাড়ায়,
মানুষে মানুষে দেয় যদি হেলায়,
তবে সে জ্ঞানের কী মূল্য বলো?
জ্ঞান তো সে-ই, যা কল্যাণের আলো।
নিজে শেখো, অন্যকেও শেখাও,
অজ্ঞতার আঁধার দূরে সরাও।
কলম হোক সেবার শক্তিমান হাত,
শিক্ষার আলোয় বদলে যাক রাত।
সবাই পারে না অর্থ বিলাতে,
সবাই পারে না শ্রম দিতে হাতে।
কিন্তু সুন্দর কথা বলা তো যায়,
একটি বাক্যে বিষাদ দূরে যায়।
‘হতাশ হয়ো না, আল্লাহ আছেন’,
‘বিপদে তোমার পাশে আমি আছি’—
এমন কথায় জাগে যে আশা,
অন্ধকারেও হাসে ভালোবাসা।
কথার আঘাত হৃদয় ভাঙে,
কটু বাক্য বিষের মতো লাগে।
তাই জবান হোক নিরাপদ সবার,
মধুর কথায় ভরুক সংসার।
গীবত, অপবাদ, কটূক্তি ত্যাগ,
অশ্লীল ভাষায় না হোক অনুরাগ।
সত্য বলো, বলো মধুর ভাষায়,
মানবিকতা ফুটুক কথার আশায়।
প্রতিবেশী শুধু পাশের ঘর নয়,
তারও আছে অধিকারময় পরিচয়।
মুসলিম হোক কিংবা অন্য ধর্মের,
সদাচরণ করো সবার অন্তরে।
তার শান্তি নষ্ট কোরো না কখনো,
অন্যের গোপন কথা বলো না যেন।
বিপদে তার পাশে দাঁড়াও গিয়ে,
সুখে তার সুখে ওঠো হেসে।
কারও ঘরে যদি অন্নের টান,
সামর্থ্য থাকলে বাড়াও দান।
কেউ অসুস্থ হলে নাও তার খবর,
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো নিরন্তর।
বড় বড় কথা নয় সমাজ গড়ে,
ছোট ছোট ভালো কাজ ঘরে ঘরে।
একটি হাসি, একটি সহায়তা,
গড়ে তোলে ভালোবাসার সভ্যতা।
বাইরে যদি ভালো ব্যবহার,
ঘরে যদি থাকে রূঢ় আচরণ ভার—
সে তো পূর্ণ মানুষ নয় কখনো,
ইসলামের শিক্ষা মানে না সে যেন।
মা-বাবার প্রতি সদাচরণ,
স্ত্রী-সন্তানের যথাযথ যত্ন।
সন্তানকে দাও সুশিক্ষার আলো,
পরিবারে রাখো ভালোবাসা ভালো।
স্বামী-স্ত্রীর অধিকার রক্ষা,
দায়িত্ব পালনে হোক না অবহেলা।
শান্ত পরিবার সমাজের ভিত্তি,
সেখান থেকেই মানবতার সৃষ্টি।
ঘর যদি হয় মায়া-মমতায় ভরা,
সমাজ হবে শান্তির সাগরধারা।
পরিবারে যে দায়িত্ববান,
সমাজেও সে কল্যাণবান।
শুধু মানুষ নয়, সৃষ্টির সকল,
দয়ার ছায়ায় হোক তাদের সকাল।
পশু-পাখিরও জীবন আছে,
তাদের ব্যথা আল্লাহরই কাছে।
তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে দাও একটু জল,
মমতার স্পর্শে হোক তার চল।
অকারণে কোনো প্রাণীকে মেরো না,
নির্যাতনের খেলায় মেতো না।
পাখির বাসা ভেঙো না অকারণে,
পশুকে কষ্ট দিও না বিনোদনে।
ক্ষুধার্ত প্রাণীকে দাও আহার,
রহমতের পথে এ-ও এক উপহার।
গাছ লাগাও, বৃক্ষ বাঁচাও,
পানি অপচয় থেকে নিজেকে বাঁচাও।
দূষণমুক্ত রাখো ধরিত্রী-মা,
প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নাও দয়া।
কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র—এটাই জীবন,
কেউ শক্তিমান, কেউ দুর্বল তখন।
কেউ পায় সুযোগ, কেউ পড়ে পিছে,
তাই সহমর্মিতা রাখো সবার কাছে।
জাকাত, সদকা, দান ও ফিতরা,
কল্যাণের পথে দেয় আলোর ধারা।
সামর্থ্যবান যদি এগিয়ে আসে,
দুঃখের আঁধার কমে মানুষের পাশে।
তবে দানের নামে অপমান নয়,
সহায়তার মাঝে সম্মানই জয়।
যাকে সাহায্য করো, রেখো তার মান,
নিঃশব্দে করো কল্যাণের দান।
অল্প কিছু দিয়েও হতে পারে বড়,
যদি তাতে থাকে ভালোবাসার ঘর।
একটি কর্মের সুযোগ, একটি বই,
কারও ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে সেই।
উপকারের নামে অন্যায় নয়,
মিথ্যা-প্রতারণা কল্যাণ নয়।
অন্যের অধিকার হরণ করে দান,
কখনোই নয় তা পুণ্যের সম্মান।
হারাম পথে অর্থ উপার্জন করে,
দান করলে কি সওয়াব মিলবে তাতে?
না—সেবার সঙ্গে সততা চাই,
হালাল পথে চলাই সঠিক ঠাঁই।
আমানত রক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
সত্যের পথে হোক জীবনের দীক্ষা।
যে সেবা অন্যের অধিকার কাড়ে,
সে সেবা নয়—অন্যায়ই বাড়ে।
তাই কল্যাণ হোক পবিত্র মনে,
সত্য ও ন্যায়ের নির্মল পণে।
নিয়ত হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি,
তবেই সেবায় মিলবে জীবনের পুষ্টি।
শিক্ষক যদি দেন নিষ্ঠার পাঠ,
তাঁর শ্রমে গড়ে ভবিষ্যতের ভোর।
চিকিৎসক যদি করেন সেবা,
রোগীর মুখে ফুটে আশার আলো-রেখা।
ব্যবসায়ী যদি প্রতারণা না করেন,
ক্রেতার অধিকার সযতনে রাখেন।
কৃষক যদি ফলান খাদ্যের শস্য,
শ্রমিক গড়েন দেশের মহৎ ভবিষ্যৎ।
কর্মই হোক মানুষের কল্যাণ,
সততায় ভরে উঠুক কর্মপ্রাণ।
বড় পদে থাকা জরুরি নয়,
নিজ নিজ কাজে সেবাই বড় পরিচয়।
ক্ষমা ও সহনশীলতার আলো
মানুষ ভুল করে—এটাই স্বাভাবিক,
ভুলের কারণে হয় না সে অবাঞ্ছিত।
ক্ষমার মাঝে থাকে মনের বল,
ক্ষমাশীল হৃদয় সত্যিই নির্মল।
রাগ যদি আসে, ধৈর্য ধরো,
প্রতিহিংসার আগুন দূরে সরো।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে মানা নয়,
ন্যায়ের পথে থেকেও ক্ষমাই মহৎ জয়।
যে ক্ষমা করে আল্লাহর তরে,
তার হৃদয় শান্তি পায় অন্তরে।
অভিমান-ক্রোধ দূরে সরিয়ে,
ভালোবাসা দাও হৃদয় ভরিয়ে।
একজন মানুষ একা কত করবে?
সব দুঃখ কি একা সে হরবে?
তাই এসো সবাই হাতে হাত রাখি,
কল্যাণের পথে একসঙ্গে হাঁটি।
সৎ কাজে হোক পরস্পর সহযোগিতা,
তাকওয়ার পথে থাকুক দৃঢ় একতা।
অন্যায় কাজে নয় কোনো সমর্থন,
পাপের পথে নয় বন্ধুত্বের বন্ধন।
যেখানে মানুষ মানুষকে ধরে,
সেখানে আশার প্রদীপ জ্বলে ঘরে।
একজনের শক্তি আরেকজনের বল,
সহযোগিতাতেই সমাজ হয় সফল।
বিজ্ঞান বেড়েছে, প্রযুক্তি বেড়েছে,
দূরের মানুষ কাছে এসে মিশেছে।
তবু কেন হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ে?
কেন মানুষ একা কাঁদে অন্ধকার ঘরে?
হাজার বন্ধু আছে মুঠোফোনে,
তবু মন কাঁদে নিঃসঙ্গ ক্ষণে।
তাই দরকার মমতার হাত,
মানবতার উষ্ণ ভালোবাসার প্রভাত।
বৃদ্ধ যেন আর অবহেলায় না কাঁদে,
শিশু যেন নিরাপদ থাকে সাধে।
দরিদ্র যেন অপমানিত না হয়,
দুর্বল যেন শক্তিশালীর ভয়ে না রয়।
অসুস্থ মানুষ একা না থাকে,
প্রতিবেশী প্রতিবেশীর পাশে থাকে।
ব্যবসায়ী যেন প্রতারণা না করে,
শিক্ষক জ্ঞান দেন ভালোবেসে ঘরে।
ধনী যেন গরিবকে তুচ্ছ না করে,
ক্ষমতাবান জুলুম না করে দুর্বলে।
ন্যায়-দয়া-সততা হোক সমাজের প্রাণ,
মানবিকতায় গড়ি শান্তির দিগন্ত মহান।
যার ঈমান চরিত্রে ফুটে,
যার হৃদয় থাকে দয়ার ছুটে,
যার হাতে মানুষ নিরাপদ রয়,
যার কথায় মুছে মানুষের ভয়—
সেই তো মুমিন, সেই তো মানুষ,
তার হৃদয়ে জ্বলে ঈমানের ফানুস।
নামাজ তাকে অন্যায় থেকে ফেরায়,
রোজা তাকে সংযম শেখায়।
জাকাত তাকে দরিদ্রের কথা শেখায়,
কুরআন তাকে ন্যায়ের পথে নেয়।
ঈমান তার হৃদয় করে কোমল,
মানুষের দুঃখে হয় সে ব্যাকুল।
নিজের জন্য যা ভালোবাসে প্রাণে,
অন্যের জন্যও চায় তা সমান টানে।
মানুষের সুখে আনন্দ পায়,
মানুষের দুঃখে অশ্রু ঝরায়।
বলো না কখনো—‘আমি গরিব,
কীভাবে করব সেবার প্রতিদান?’
অর্থ ছাড়া সেবার কত পথ,
ভালো কাজেই জাগে জীবনের অর্থ।
রাস্তা থেকে কাঁটা সরিয়ে দাও,
তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি দাও।
একটি গাছের চারা রোপণ করো,
সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন ধরো।
অন্ধকে দাও পথের দিশা,
বৃদ্ধকে দাও বসার আশা।
শিশুকে শেখাও জ্ঞানের বাণী,
বিপন্নের পাশে হও আপনজনখানি।
কারও কথা মন দিয়ে শোনো,
দুঃখের সময়ে তাকে আপন জেনো।
ভুল করলে তাকে দিও না অপমান,
সুন্দরভাবে বোঝাও সঠিক জ্ঞান।
ছোট ছোট কাজ, ছোট নয় কভু,
তাতেই গড়ে ওঠে মানবতার রূপ।
একটি প্রদীপ অন্ধকার হরায়,
একটি ভালো কাজ সমাজ বদলায়।
সাফল্য শুধু অর্থ নয়,
ক্ষমতা নয়, সম্মান নয়।
প্রাসাদ, সম্পদ, নামের বাহার—
এসব নয় জীবনের শেষ উপহার।
সত্যিকারের সাফল্য সেই,
আল্লাহ যাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন সেই।
যার জীবনে মানুষের কল্যাণ,
যার হৃদয়ে দয়া, মুখে সৎ বাণী মহান।
প্রশ্ন করো না—‘কত আছে আমার?’
প্রশ্ন করো—‘কতজন পেল আমার?’
আমার জ্ঞান কি কারও কাজে লাগে?
আমার শ্রম কি কারও দুঃখ ভাগে?
আমার অর্থ কি ক্ষুধা মেটায়?
আমার কথা কি আশার আলো জ্বালায়?
আমার আচরণে শান্তি আসে?
আমার জীবন কি কল্যাণের পাশে?
মানুষ ভুলে যেতে পারে তোমার দান,
ভুলে যেতে পারে তোমার অবদান।
তবু আল্লাহ ভুলবেন না কিছু,
তাঁর জ্ঞানে থাকে ভালো কাজ পিছু।
প্রশংসা যদি না-ও মেলে শেষে,
ভালো কাজ করো আল্লাহর উদ্দেশে।
কেউ না জানুক, তিনি তো জানেন,
নীরব সেবাও তাঁর কাছে মানেন।
নিয়ত যদি হয় পবিত্র, সুন্দর,
সামান্য কাজও হয় মহত্তর।
মানুষের জন্য যে হৃদয় কাঁদে,
রহমতের আশা সে হৃদয়ে বাঁধে।
এসো আমরা শপথ করি আজ,
মানুষের কল্যাণ হবে জীবনের কাজ।
নিজে ভালো থাকব, অন্যকেও রাখব,
অন্যায়ের পথে কখনো না যাব।
নিজে নিরাপদ, অন্যও নিরাপদ,
এই হোক জীবনের পবিত্র অঙ্গীকার।
নিজে চলব কল্যাণের পথে,
অন্যকেও ডাকব সুন্দর কথাতে।
ক্ষুধার্তের পাশে অন্ন নিয়ে,
অসহায়ের পাশে মমতা দিয়ে,
দুঃখীর পাশে সান্ত্বনা হয়ে,
অন্ধকারে আলোর প্রদীপ হয়ে—
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করব,
পরিবারকে ভালোবাসা দেব।
পশু-পাখির প্রতি দয়া রাখব,
সবুজ পৃথিবী রক্ষায় দাঁড়াব।
সত্য বলব, আমানত রাখব,
অন্যের অধিকার কখনো না কাড়ব।
হালাল পথে জীবন গড়ব,
ন্যায় ও তাকওয়ায় সমাজ গড়ব।
হে আল্লাহ, দাও এমন মন,
যেখানে থাকবে মায়া-দরদ-স্নেহের ক্ষণ।
দাও এমন হাত, সেবায় বাড়ে,
দাও এমন হৃদয়, দুঃখীর পাশে দাঁড়ায়।
দাও এমন জবান, ভালো কথা বলে,
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দেয় মধুর ছলে।
দাও এমন জ্ঞান, মানুষের কাজে,
দাও এমন কর্ম, কল্যাণের মাঝে।
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করো প্রাণে,
সততা দাও আমাদের জীবনে।
অহংকার থেকে রাখো মুক্ত,
দয়া-মায়ায় করো হৃদয় সিক্ত।
হে রব, আমাদের করো এমন বান্দা,
যাদের কারণে কমে মানুষের দ্বন্দ্ব-বাধা।
যাদের হাতে মানুষের নিরাপত্তা,
যাদের কাজে ছড়ায় শান্তির বারতা।
মানুষের কষ্ট লাঘব হোক আমাদের হাতে,
ভালোবাসা ফুটুক মানুষের সাথে।
সৃষ্টির প্রতি মমতা, মানুষের কল্যাণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের গান।
নিজে ভালো থাকি, অন্যকেও রাখি,
অন্যের দুঃখে আপন হয়ে থাকি।
কল্যাণের পথে জীবন সাজাই,
সত্য ও ন্যায়ের পতাকা উড়াই।
দয়া হোক হৃদয়ে, সেবা হোক প্রাণে,
তাকওয়ার আলো জ্বলুক জীবনে।
মানবতার ফুল ফুটুক ঘরে ঘরে,
শান্তির সুবাস ছড়াক বিশ্বভরে।
এই হোক আমাদের জীবনের ব্রত—
‘আমি নই শুধু, সবার কল্যাণ হোক শত।’
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনের ধন,
সেবায় পূর্ণ হোক আমাদের জীবন।
Bottom of Form
১৪
২৪ মন্তব্য