Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

যে ব্রাজিলিয়ান ফুলকে বাংলা থেকে উৎখাত করা যায় নি

যে ব্রাজিলিয়ান ফুলকে বাংলা থেকে উৎখাত করা যায় নি


বর্ষাকালে বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল কিংবা পুকুর কচুরিপানায় ঢেকে যায়। যত দূর অতীতের কথা আমরা সর্বশেষ তিন চার প্রজন্মের মানুষ মনে করতে পারি সবাই বাংলার খালে বিলে কচুরিপানা দেখেছি। এতটাই পরিচিত যে আমরা কচুরিপানাকে বাংলাদেশেরই স্বাভাবিক উদ্ভিদ বলে মনে করি হয়ত।


কিন্তু কচুরিপানা বাংলাদেশের দেশজ উদ্ভিদ নয়। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ারও নয়। এর জন্ম অনেক দূরে—দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকায়। আর বাংলায় আসার পর একটি সুন্দর ফুলের জলজ উদ্ভিদ কীভাবে কয়েক দশকের মধ্যে কৃষি, নৌপথ, মৎস্য ও জনজীবনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিল, ব্রিটিশ সরকার এটিকে উৎখাত করতে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেও ব্যার্থ হয়েছিল!


১. আদি নিবাস:


কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক নাম Eichhornia crassipes। এটি Pontederiaceae পরিবারের একটি ভাসমান জলজ উদ্ভিদ। আমাজন অববাহিকাই এর আদিনিবাস বলে সাধারণভাবে স্বীকৃত।


পানির ওপর ভেসে থাকার জন্য কচুরিপানার পাতার গোড়ায় থাকে ফাঁপা, স্পঞ্জের মতো টিস্যু। এর সাহায্যে গাছটি পানিতে ভেসে থাকে। পানির ওপর থেকে দেখতে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর বংশবিস্তার ক্ষমতা ততটাই অসাধারণ।


একটি গাছের গোড়া থেকে লম্বা শাখা বা stolon বের হয়। সেই শাখা থেকে আবার নতুন গাছ তৈরি হয়। ফলে একটি গাছ খুব দ্রুত অনেকগুলো গাছে পরিণত হতে পারে। ফুল ও বীজের মাধ্যমেও এর বংশবিস্তার হয়।


দক্ষিণ আমেরিকার নিজস্ব পরিবেশে এই বিস্তার নিয়ন্ত্রিত রাখার মতো নানা প্রাকৃতিক উপাদান—রোগজীবাণু, কীটপতঙ্গ, প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্ভিদ ও অন্যান্য পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা—কাজ করে। কিন্তু পৃথিবীর অন্য অঞ্চলে যখন কচুরিপানা পৌঁছাল, সেখানে অনেক সময় সেই প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণগুলো ছিল না।


ফলে যে উদ্ভিদটি আমাজনে একটি স্বাভাবিক জলজ উদ্ভিদ, অন্য জায়গায় সেটিই হয়ে উঠল invasive species—এমন একটি আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি, যা দ্রুত বিস্তার লাভ করে স্থানীয় পরিবেশ ও মানুষের কর্মকাণ্ডে সমস্যা তৈরি করতে পারে।


আর এর ফুল কিন্তু মোটেও আগাছার মতো নয়। হালকা বেগুনি বা নীলচে ফুলের সৌন্দর্যই বরং একসময় মানুষকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কচুরিপানা নিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছিল। সেই সৌন্দর্যই শেষ পর্যন্ত বাংলার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


২. বাংলায় এল কীভাবে?


কচুরিপানা ঠিক কবে, কে এবং কোন পথ দিয়ে প্রথম বাংলায় এনেছিলেন, তার কোনো একক, নির্ভুল ঐতিহাসিক নথি পাওয়া যায় না। বরং বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।


প্রচলিত একটি ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, জর্জ মরগান নামে একজন স্কটিশ পাট ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। বিদেশে যাতায়াতের সময় তিনি কচুরিপানার সুন্দর ফুল দেখে আকৃষ্ট হন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এর কিছু গাছ নিয়ে এসে নিজের বাগানের পুকুরে লাগান। কচুরিপানা তার আগেই অস্ট্রেলিয়ায় ঘাটি গেড়েছিল।


সেখান থেকেই কচুরিপানা ধীরে ধীরে আশপাশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে—এমন একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদ ইফতেখার ইকবালের গবেষণায়ও  এই বিবরণটি এসেছে। তবে একই গবেষণায় লেখক দেখিয়েছেন যে কচুরিপানার বাংলায় আগমনের আরও কয়েকটি ব্যাখ্যাও প্রচলিত ছিল।


তাই এটিকে নিশ্চিত ইতিহাস না বলে পূর্ববঙ্গে কচুরিপানার আগমনের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থানীয় বর্ণনাগুলোর একটি বলা নিরাপদ।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হলো, কচুরিপানা প্রথমে ব্রাজিল থেকে কলকাতার রয়াল বোটানিক্যাল গার্ডেনে আসে।


উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপীয় উদ্ভিদবিদদের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আকর্ষণীয় উদ্ভিদ সংগ্রহ করে বাগানে লাগানোর প্রবণতা ছিল। কচুরিপানাও সেই উদ্ভিদ-বিনিময়ের অংশ হয়ে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ভারতের দিকে আসে বলে একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা রয়েছে।


এরপর কলকাতার বাগান বা ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে এটি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- অস্ট্রেলিয়া থেকে জর্জ মরগানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে আসা এবং ব্রাজিল থেকে কলকাতায় আসা—এই দুই গল্প একে অপরকে পুরোপুরি বাতিল করে না।


কারণ কচুরিপানা তখন ইতিমধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছিল। ফলে অস্ট্রেলিয়া কিংবা কলকাতা- দুই জায়গাই বাংলায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য মধ্যম পথ হতে পারে।


আর একবার বাংলার উষ্ণ ও জলসমৃদ্ধ পরিবেশে পৌঁছে যাওয়ার পর এর বিস্তারের জন্য মানুষের আর তেমন কিছু করতে হয় নি। নদী, খাল, বিল আর বর্ষার স্রোতই হয়ে উঠল এর বাহন।


৩. সুন্দর ফুল থেকে ‘বাংলার আতঙ্ক’:


কচুরিপানার প্রকৃত বিপদ বোঝা শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে। প্রথমদিকে এটি ছিল বাগানের সৌন্দর্য। কিন্তু ধীরে ধীরে গাছটি ব্যক্তিগত পুকুরের সীমানা ছাড়িয়ে খাল, বিল ও নদীতে চলে যেতে থাকে।


তারপর শুরু হয় বিস্ফোরক বিস্তার।


একটি জলাশয়ের কচুরিপানা স্রোতের সঙ্গে অন্য জলাশয়ে যায়। সেখান থেকে আবার নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্ষাকালে এই বিস্তার আরও সহজ হয়।


কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ জলাভূমি কচুরিপানায় আক্রান্ত হতে শুরু করে। ১৯১০-এর দশকে সমস্যাটি এতটাই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে।


১৯১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স কচুরিপানার সমস্যা সরকারের নজরে আনে। কিন্তু তখনও সমস্যার প্রকৃত মাত্রা পুরোপুরি বোঝা যায় নি।


কচুরিপানা পুরো জলাশয় ঢেকে ফেলতে পারে। ঘন স্তর তৈরি হলে সূর্যের আলো পানির নিচে পৌঁছাতে পারে না। পানির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। সেচ ও নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হয়। পূর্ববঙ্গের কৃষির জন্য এটি ছিল বিশেষ বিপজ্জনক।


ধান ও পাটের জমির সঙ্গে যুক্ত খাল-বিল ও জলপথগুলো কচুরিপানায় আটকে গেলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতো। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হতো, কোথাও আবার সেচব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতো।


১৯২০-এর দশকে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি ক্ষতির যে হিসাব পাওয়া যায়, তা ছিল ভয়াবহ। ময়মনসিংহে এমন এলাকাও ছিল যেখানে কৃষকেরা কচুরিপানার কারণে জমি চাষ করা ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে রিপোর্ট করা হয়েছিল।


১৯২৬ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় আমন ধানের ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির কারণ ছিল কচুরিপানা।


নদী ও নৌপথের শত্রু:


তখনকার পূর্ববঙ্গ ছিল নদী ও খালের দেশ। মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, পাটের ব্যবসা- সবকিছুর সঙ্গে নৌপথের সম্পর্ক ছিল গভীর। 


ছোট নদী ও খালগুলোতে কখনো এত ঘনভাবে কচুরিপানা জমে যেত যে নৌকা চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত। পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বহনকারী নৌকাগুলো আটকে যেত।


একটি জায়গা পরিষ্কার করলেও সমস্যা শেষ হতো না। উজান থেকে আবার ভেসে আসত নতুন কচুরিপানা।


মাছের ওপর প্রভাব: 


বাংলার মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতিতে মাছের গুরুত্ব তখনও বিশাল। কচুরিপানা পানির ওপর ঘন আবরণ তৈরি করলে পানিতে আলো ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মাছের চলাচল ও প্রজননের পরিবেশও বদলে যায়। ফলে মৎস্যসম্পদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।


জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব:


কচুরিপানা নিয়ে আরেকটি বড় উদ্বেগ ছিল জনস্বাস্থ্য। তৎকালীন কিছু কর্মকর্তা ও গবেষক মনে করতেন, কচুরিপানা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে স্থির পানির পরিবেশ তৈরি করছে এবং এর ফলে মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ বাড়ছে।


বিশেষ করে ম্যালেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ঘন কচুরিপানা জলাবদ্ধ ও স্থির পানির পরিবেশ তৈরি করে মশার জন্য উপযোগী আবাসস্থল সৃষ্টি করতে পারে।


১৯২০-এর দশকে ‘বাংলার আতঙ্ক’:


সমস্যা এতটাই বেড়ে যায় যে সরকারকে বিশেষভাবে কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করতে হয়। ১৯২১–২২ সালে Water Hyacinth Committee গঠিত হয়। এই কমিটির সঙ্গে ছিলেন বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু।


কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কচুরিপানায় আক্রান্ত। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া প্রায় সব জেলাতেই এর উপস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছিল।


কচুরিপানাকে তখন আর কোনো সাধারণ আগাছা হিসেবে দেখা হচ্ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল জনজীবনের জন্য হুমকি। 


কচুরিপানার বিরুদ্ধে যুদ্ধ:


মানুষ এবার কচুরিপানার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করল। সমস্যা মোকাবিলায় একের পর এক পদ্ধতি নেওয়া হলেও কোনোটি স্থায়ী সমাধান দিতে পারে নি।


সার বানানোর চেষ্টা: কচুরিপানা তুলে পচিয়ে সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গাছের অধিকাংশই পানি হওয়ায় তা সংগ্রহ ও পরিবহন ছিল ব্যয়বহুল, আর পচানোর সময় অনেক পুষ্টিমান নষ্ট হতো।


অর্থনৈতিক ব্যবহার: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পটাশের সংকট দেখা দিলে কচুরিপানার ছাই থেকে পটাশ তৈরির চেষ্টা হয়। বোর্ড, জ্বালানি ও অ্যালকোহল তৈরির সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ সম্ভাব্য লাভের চেয়ে বেশি হওয়ায় কোনো উদ্যোগই টেকে নি। 


শ্রমিক দিয়ে অপসারণ: মানুষ দিয়ে কচুরিপানা তুলে ফেলা ছিল সবচেয়ে সরল পদ্ধতি, কিন্তু হাজার হাজার বর্গমাইলের জলপথ পরিষ্কার করা ছিল প্রায় অসম্ভব। একটি জায়গা পরিষ্কার করার পরই উজান থেকে আবার কচুরিপানা ভেসে আসত।


রাসায়নিক প্রয়োগ: বিভিন্ন রাসায়নিক ও স্প্রে দিয়েও ধ্বংসের চেষ্টা হয়। কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। উপরন্তু মরা উদ্ভিদ পানিতে পচে মাছ ও জলজ পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও ছিল।


আইন করে নিয়ন্ত্রণ: ১৯২১ সালে স্থানীয়ভাবে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণের আইন করা হয়। পরে ১৯৩৬ সালের Bengal Water Hyacinth Act-এর মাধ্যমে এর আমদানি, বিক্রি, চাষ ও এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয় এবং সরকারকে জলাশয় পরিষ্কারের ক্ষমতা দেওয়া হয়। কিন্তু কচুরিপানা কোনো প্রশাসনিক সীমানা মানে না—এক জায়গা পরিষ্কার করলেও অন্য জায়গা থেকে আবার ভেসে আসত। ফলে আইনও শেষ পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে নি।


একটি পুকুর পরিষ্কার করলেই হবে না। তার সঙ্গে যুক্ত খাল পরিষ্কার করতে হবে। খাল থেকে নদী, নদী থেকে উজানের জলপথ—সব জায়গা একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।


কচুরিপানার বংশবৃদ্ধিও এত দ্রুত যে পরিষ্কার করার গতি অনেক সময় তার বৃদ্ধির গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারত না। আর পূর্ববঙ্গের ভূপ্রকৃতি ছিল তার পক্ষে আদর্শ—অসংখ্য নদী, খাল, বিল, হাওর, পুকুর এবং বর্ষার পানির বিশাল নেটওয়ার্ক।


১৯৩৩ সালেই বাংলার গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন স্বীকার করেছিলেন যে সফলভাবে কচুরিপানা নির্মূল করতে হলে পুরো আক্রান্ত অঞ্চলে একই সময়ে অভিযান চালাতে হবে। কিন্তু এত বিশাল অভিযান পরিচালনার মতো প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা সরকারের ছিল না।


শেষ পর্যন্ত কচুরিপানা জিতে গেল:


কচুরিপানাকে নির্মূল করার সেই ঔপনিবেশিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সফল হয় নি।


একদিকে সরকার তাকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা তার ব্যবহার খুঁজেছেন; কেউ সার বানাতে চেয়েছেন, কেউ পটাশ, কেউ জ্বালানি, কেউ শিল্পপণ্য।


কিন্তু কোনোটিই এমন কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারেনি, যা পূর্ববঙ্গের বিশাল জলাভূমি থেকে কচুরিপানাকে নির্মূল করতে পারে।


আর এভাবেই দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকার একটি সুন্দর জলজ উদ্ভিদ বাংলায় এসে পরিণত হয় “বাংলার আতঙ্কে”।


এই একবিংশ শতকেও কচুরিপানা একই সমস্যা নিয়ে বয়ে চলেছে। বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে গিয়েছে। যার কারণে কচুরিপানা বিভিন্ন যায়গায় আটকে থাকছে। অনেক যায়গায় একারণে নৌকা বাইচও আয়োজন করতে পারছে না।


তবে নতুন করে গবেষণা হয়েছে এই সমস্যা দূর করতে। আসলে দূর করতে না, কচুরিপানাকে ব্যবহার করতে। বরিশাল এলাকায় এটিকে কৃষিকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কচুরিপানা থেকে কুটির শিল্পপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো কচুরিপানার ব্যবহার মাত্র। সমাধান নয়।



মন্তব্য করুন