সহকারী অধ্যাপক
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
আদর্শ স্বামী হিসাবে রাসূল (সা.)
ডক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস
স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের অর্ধাঙ্গ। মানুষ যেমন তার অর্ধেক অঙ্গ নিয়ে পূর্ণ জীবনের সাধ পেতে পারে না, তেমনি একজন লোক একজন ভাল স্বামী বা স্ত্রী ছাড়াও পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে পারে না। একে অপরকে যতটা বুঝতে পারবে তাদের জীবন ততটাই সুন্দর ও মধুময় হবে। একজন পুরুষের জীবনে যেমন অন্যতম আশা থাকে ভালো একজন স্ত্রী পাওয়া, তেমনিভাবে একজন মেয়েরও জীবনে সবচেয়ে বড় চাওয়া পাওয়া হলো ভালো একজন স্বামী ভাগ্যে জুটা। একমাত্র একজন আদর্শ স্বামীই পারে তার স্ত্রীর জীবনকে পূর্ণ করে দিতে। স্বামীর বাড়ির লোকজন যতই খারাপ হোক, যতই নিষ্ঠুর হোক, স্বামী যদি তার স্ত্রীকে বুঝতে পারে, তাকে ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করে দিতে পারে, তবে তাদের সংসার জীবন অনাবিল সুখে ভরপুর হয়ে যাবে। সেখানে পাওয়া যাবে জান্নাতের সন্ধান। এজন্য একজন ভাল স্বামী পাওয়াও কিন্তু ভাগ্যের ব্যাপার।
মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে”। [সূরা : আর্-রূম: ২১] ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি”।
রাসূল (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ। তিনি একদিকে যেমন একজন নবী-রাসূল, সেনাপতি, রাষ্ট্রপতি, অন্যদিকে তিনি তার স্ত্রীদের নিকট সবচেয়ে ভালোবাসার পাত্র ছিলেন। একজন স্বামী হিসেবে আপনি রাসূল (সা.) কে যদি আপনার আদর্শ বানাতে পারেন তবে পৃথিবীর সব স্ত্রীরাই সুখী হবেন, আপনার সংসারটা কানায় কানায় ভরে যাবে ভালোবাসায়। কি কি কাজ করলে আপনি একজন আদর্শ স্বামী হবেন এবং স্বামী হিসেবে রাসূল (সা.) কেমন ছিলেন তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
(১) প্রীতিপূর্ণ আচরণ: মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবার-পরিজন ছেড়ে যখন কোনো মেয়ে স্বামীর গৃহে আসে, তখন সে স্বামীর ভালোবাসার কাঙাল থাকে। শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর চেয়ে বেশি আপন আর কেউ স্ত্রীর থাকে না। এ অবস্থায় স্বামীর কর্তব্য হলো স্ত্রীর সঙ্গে দয়া, মমতা, হৃদ্যতা, আন্তরিকতা ও প্রীতিপূর্ণ আচরণ করা। মহানবী (সা.) তার স্ত্রীদের সঙ্গে দয়া, মমতা, হৃদ্যতা ও প্রীতিপূর্ণ আচরণ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) যদি তার মিসওয়াক দিয়ে মিসওয়াক করতেন, তাহলে তিনি বিষয়টি সমর্থন করতেন ও নীরব থাকতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) মিসওয়াক করে তা ধোয়ার জন্য আমাকে দিতেন। আমি নিজে প্রথমে তা দিয়ে মিসওয়াক করতাম, অতঃপর সেটা ধুয়ে তাকে দিতাম।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৫২)
বিশ্বনবী (সা.) কর্তৃক স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমময় ও প্রীতিপূর্ণ আচরণ করার অনন্য নজির হলো, আয়েশা (রা.) ঋতুবতী থাকা অবস্থায় পানি পান করলে পানপাত্রের যে স্থান দিয়ে তিনি পানি পান করতেন মহানবী (সা.)ও সে স্থান দিয়ে পানি পান করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে মহানবী (সা.)-কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম তিনিও পাত্রের সে স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (সা.) কে দিলে, আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন।’ (মুসলিম : ৫৭৯)
(২) আনন্দ ও বিনোদন: আনন্দ ও বিনোদন, হাসি-কৌতুক ও হাস্যরসবিহীন সংসার ধূসর মরুভূমির মতো। সুখ, শান্তি ও প্রশান্তিময় দাম্পত্য জীবনের জন্য হাস্যরস থাকা অপরিহার্য। হালাল বিনোদন, হাসি-কৌতুক ও হাস্যরসের মাধ্যমে মহানবী (সা.) এর দাম্পত্য জীবন সুখময়, শান্তিময় ও প্রেমময় ছিল। তিনি উম্মাহাতুল মোমিনিনের সঙ্গে সময়ে সময়ে হাসি-কৌতুক, আনন্দ-বিনোদন ও হাস্যরস করতেন। একবার আয়েশা (রা.)-এর খেলনাগুলোর মধ্যে ডানাবিশিষ্ট একটি পুতুল দেখতে পেয়ে মহানবী (সা.) জিজ্ঞেস করেন, এটা কী? আয়েশা (রা.) জবাবে বলেন, ঘোড়া! মহানবী (সা.) হেসে বলেন, এটা আবার কেমন ঘোড়া, যার পাখা রয়েছে? এ প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) তাবুক অথবা খায়বরের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। ঘরের তাকের ওপর পর্দা ঝুলানো ছিল। বায়ু প্রবাহের ফলে তার এক পাশ সরে যায়, যাতে তার খেলার পুতুলগুলো দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। তিনি পুতুলগুলো দেখে বললেন, হে আয়েশা! এগুলো কী? উত্তরে তিনি বললেন, এগুলো আমার মেয়ে। আর তিনি এগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরি দুই ডানাবিশিষ্ট একটি ঘোড়াও দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, এগুলোর মধ্যে ওটা কী দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেন, ঘোড়া। নবী করিম (সা.) বললেন, তার ওপর আবার ওটা কী? তিনি বললেন, দুটো পাখা। তিনি বললেন, এ আবার কেমন ঘোড়া, যার পাখা আছে? আমি বললাম, আপনি কি শুনেননি, সুলাইমান (আ.)-এর ঘোড়ার কয়েকটি পাখা ছিল! আয়েশা (রা.) বলেন, একথা শুনে রাসুল (সা.) হেসে দিলেন, যাতে আমি তার সামনের সারির দাঁত দেখতে পেলাম।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৩২)
(৩) স্ত্রী ও পরিবার পরিজনের সাথে বদান্যতা ও সুন্দর আচরণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রী ও পরিবার পরিজনের সাথে সুন্দর আচরণকারী ছিলেন, তাদের সাথে কোমল ভাষায় কথা বলতেন, মাঝে মাঝে হাসি ঠাট্টা করতেন, তাদের সাথে ভালোবাসা ও বদান্যতার সাথে আচরণ করতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে পূর্ণাংগ ঈমানদার সেই ব্যক্তি যে উত্তম চরিত্রের ও তার পরিবারের সাথে সদব্যবহার করে”। (তিরমিযী) ইবনে সা‘দ রহ. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে একান্তে অবস্থানকালীন সময়ের স্বভাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বলেনঃ “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে কোমল ব্যক্তি, সদা সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল, তিনি কখনও তার সঙ্গীদের সামনে (তার শিষ্টাচারিতা ও পরিপূর্ণ সম্মানবোধের কারনে) পা প্রসারিত করে বসতেন না”।
(৪) স্ত্রীর উপর অযথা রাগ না করা, তারা রেগে গেলে ধৈর্য্য ধারণ করা: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “আমি জানি কখন তুমি আমার প্রতি খুশি থাক এবং কখন রাগান্বিত হও।” আমি বললাম, কি করে আপনি তা বুঝতে সক্ষম হন? তিনি বললেন, তুমি প্রসন্ন থাকলে বল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রব-এর কসম! কিন্তু তুমি আমার প্রতি নারাজ থাকলে বল, ইবরাহীম আলাইহিস সালামের রব-এর কসম! শুনে আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লাহর্ কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে ক্ষেত্রে শুধু আপনার নাম মুবারক উচ্চারণ করা থেকেই বিরত থাকি। [বুখারী]
(৫) প্রেম ও রোমান্টিকতা: আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে সবসময় ভালোবাসার কথা বলবেন, তাকে রোমান্টিকতা দিয়ে ভরপুর করে রাখবেন। আপনার স্ত্রী হয়ত ঘুরতে পছন্দ করেন, তাকে মাঝে মাঝে দূরে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যান, হারিয়ে যান কোনো অজানা প্রান্তে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে অনেক সফরে নিয়ে যেতেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হায়েজ অবস্থায় পানি পান করে সে পাত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আমি হায়েজ অবস্থায় হাড়ের টুকরা চুষে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তার মুখ লাগাতেন। [১]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “একবার আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক অভিযানে বের হলাম, তখন আমি অল্প বয়সী ছিলাম, শরীর তেমন মোটা ছিল না। তিনি তার সাথীদেরকে বললেন, তোমরা আগে চল, ফলে তারা এগিয়ে গেল। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, এসো আমরা দৌঁড় প্রতিযোগিতা দেই, প্রতিযোগিতায় আমি এগিয়ে গেলাম। এরপরে আমার শরীরে মেদ বেড়ে গেল, একটু মোটা হলাম। একদা এক সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার সাথীদেরকে বললেন, তোমরা আগে চল, ফলে তারা এগিয়ে গেল। অতঃপর আমাকে বললেন, এসো আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা দেই, প্রতিযোগিতায় তিনি এবার এগিয়ে গেলেন। তিনি হেসে হেসে বললেন, এটা তোমার পূর্বের প্রতিযোগিতার উত্তর (অর্থাৎ তুমি আগে প্রথম হয়েছিলে, এবার আমি প্রথম হলাম, তাই মন খারাপ করোনা)।[২]
(৬) স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, অনুরাগ ও অভিমানের সম্পর্ক। এই সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় হয় যদি স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং স্ত্রী স্বামীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। স্বামী স্ত্রীকে ভালোবাসার কথা বললে এবং স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসার কথা বললে দাম্পত্য জীবন সুখময় ও প্রেমময় হয়। মহানবী (সা.) স্ত্রীদের প্রতি নিজের ভালোবাসা ব্যক্ত করতেন। বিশ্বনবী (সা.)-কে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ হলো প্রিয়তমা আয়েশা। আবু উসমান (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-কে সেনাপতি হিসেবে জাতুস সালাসিল বাহিনীর বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমর ইবনুল আস বলেন, ‘যুদ্ধ শেষে আমি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাছে কোন লোকটি অধিকতর ভালোবাসার পাত্র? তিনি উত্তর দিলেন, আয়েশা (রা.)। আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তার (আয়েশার) পিতা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বললেন, ওমর (রা.)। এভাবে তিনি পরপর আরো কয়েকজনের নাম বললেন। আমি চুপ হয়ে গেলাম এ ভয়ে যে, আমাকে না তিনি সবার শেষে গণ্য করে বসেন।’ (বোখারি : ৪৩৫৮)
(৭) কাজে সহায়তা করা: রান্নাবান্না করা, ঘরদোর ঝাড়ু দেওয়া ও সন্তান লালনপালনসহ সংসারের বহুবিধ কাজ করতে দিতে গিয়ে একজন স্ত্রীকে অনেক সময় হাঁপিয়ে উঠতে হয়। বহু কষ্ট-ক্লেশ ও পরিশ্রমের সম্মুখীন হতে হয়। এমন সময় যদি জীবনসঙ্গী স্বামী তার স্ত্রীর কাজকর্মে কিছুটা সহায়তা করে, তাহলে তার জন্য সংসারের কাজ সামাল দেওয়া সহজ হয়ে যায়। খুব কম পুরুষই এমন আছে, যারা স্ত্রীকে তাদের ঘরের কাজকর্মে সহায়তা করে থাকে। মহানবী (সা.) ঘরের কাজকর্মে স্ত্রীদের সহায়তা করতেন। তিনি অত্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও ঘরে থাকা অবস্থায় স্ত্রীদের তাদের কাজে সাহায্য করতেন। আসওয়াদ (রা.) বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, মহানবী (সা.) ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বলেন, ‘ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারকে সহায়তা করতেন। আর নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য চলে যেতেন।’ (বোখারি : ৬৭৬)
(৮) পরামর্শ গ্রহন করা সম্মান দেওয়া: আপনার পরিবারের সব ছোট বড় সিদ্ধান্তে আপনার স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করুন। তাকে সম্মান দেখান, দেখবেন সেও আপনাকে অনেক সম্মান করবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের নানা সমস্যা তাঁর স্ত্রীদের কাছে জানাতেন। তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরামর্শ দিতেন। যেমন: হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরদের সাথে চুক্তি শেষ করে সাহাবাদেরকে হাদির পশু যবাই করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তাঁরা রাসূলের হিকমত বুঝতে না পেরে যবাই করতে বিলম্ব করেন, এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে উম্মে সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ ঘটনা জানান। তিনি এ সমস্যা সমাধানে সুন্দর মতামত দেন।
“(এ ঘটনাটি উল্লেখ করে) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, আমি এর জন্য (অর্থাৎ ধৈর্যহীনতার কাফফারা হিসাবে) অনেক নেক আমল করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধিপত্র লেখা শেষ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা উঠ এবং যবাই কর ও মাথা কামিয়ে ফেল। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তিনবার বলার পরও কেউ উঠলেন না। তাদের কাউকে উঠতে না দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে এসে লোকদের এ আচরণের কথা বলেন। উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর নবী, আপনি যদি তাই চান, তাহলে আপনি বাইরে যান ও তাদের সাথে কোনো কথা না বলে আপনার উট আপনি নাহর (যবেহ) করুন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়িয়ে নিন। সে অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে গেলেন এবং কারো সাথে কোনো কথা না বলে নিজের পশু যবাই করলেন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়িয়ে নিলেন। তা দেকে সাহাবীগণ উঠে দাঁড়ালেন ও নিজ নিজ পশু কুরবানী দিলেন এবং একে অপরের মাথা কামিয়ে দিলেন। অবস্থা এমন হলো যে, ভীড়ের কারণে একে অপরের উপর পড়তে লাগলেন”।
(৯) স্ত্রীর ভুলত্রুটি ক্ষমা করা: সংসার জীবনে স্ত্রীর ভুলভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক। স্ত্রীর ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে না দেখলে সংসার অনেক সময় অগ্নিগর্ভ ও অশান্তিময় হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু স্বামী এমন আছেন, যারা স্ত্রীর ভুলভ্রান্তি সহ্য করতে চান না। মহানবী (সা.) এমন ছিলেন না। তিনি স্ত্রীদের ভুলভ্রান্তি সহ্য করতেন। জাতুর রিকার যুদ্ধের সফরে আয়েশা (রা.)-এর অন্যমনস্কতার কারণে তার গলার হার ছিঁড়ে পড়ে যায়। যে স্থানটিতে হার হারায় সেখানে পানি ছিল না এবং বাহিনীর লোকদের সঙ্গেও পানি ছিল না। ফলে পুরো বাহিনীকে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহানবী (সা.) আয়েশা (রা.)-কে বকাবকি বা তিরস্কার করেননি। তিনি বিষয়টি সহ্য করেন এবং বাহিনীর লোকদের নিয়ে হারের সন্ধানে লেগে পড়েন। স্ত্রীর এত বড় ভুল সহ্য করে নেওয়া এবং তাকে শাসন বা তিরস্কার না করা মহানবীর সহনশীল ও প্রেমময় গুণ ছিল।
এ ঘটনাটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধের সফরে গিয়েছিলাম, তখন আমার হারটি গলা থেকে ছিঁড়ে পড়ে যায়। হারটি খোঁজার জন্য মহানবী (সা.) সেখানে অবস্থান করেন। এ জন্য সাহাবিরাও তাঁর সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে পানি ছিল না এবং তাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। তাই সাহাবিরা আবু বকর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, আপনি কি দেখছেন না, আয়েশা (রা.) কী করলেন? তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.) এবং তার সঙ্গে সাহাবীদের এমন স্থানে অবস্থান করালেন, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। তখন আবু বকর (রা.) আমার কাছে এলেন। এ সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) আমার উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি আল্লাহর রাসুল (সা.) ও সাহাবীদের এমন এক স্থানে আটকিয়ে রেখেছ, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই।
আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি আমাকে অনেক বকাবকি করলেন। এমনকি তিনি হাত দ্বারা আমার কোমরে খোঁচা মারতে লাগলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) আমার উরুর ওপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কারণে আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। এমনি পানি না থাকা অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.) সকাল পর্যন্ত ঘুমন্ত থাকলেন। তখন আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন এবং সবাই তায়াম্মুম করলেন। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রা.) বলেন, হে আবু বকর (রা.)-এর পরিবারবর্গ, এটা আপনাদের প্রথম বরকত নয়। আয়েশা (রা.) বলেন, অতঃপর আমরা সে উটটিকে উঠালাম যে উটের ওপর আমি সওয়ার ছিলাম। আমরা হারটি তার নিচে পেয়ে গেলাম।’ (বোখারি : ৩৬৭২)
(১০) স্ত্রীকে সঙ্গ দেওয়া ও খোঁজখবর রাখা: কিছু পুরুষ এমন আছেন, যারা কর্মব্যস্ততার দোহাই দিয়ে স্ত্রীকে সময় দেন না ও তার যথাযথ খোঁজ নেন না। কিন্তু মহানবী (সা.) একজন রাষ্ট্রনায়ক, সমরনায়ক, প্রধান বিচারপতি ও ইমাম-কাম খতিব হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীদের প্রয়োজন পরিমাণ সময় দিতেন ও তাদের খোঁজখবর নিতেন। স্ত্রীদের মধ্য থেকে কারো কোনো প্রয়োজন থাকলে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘যখন মহানবী (সা.) আসরের নামাজ শেষ করতেন, তখন নিজ স্ত্রীদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনের কাছে গমন করতেন। একদিন তিনি স্ত্রী হাফসা (রা.)-এর কাছে গেলেন এবং সাধারণত যে সময় কাটান তার চেয়ে বেশি সময় কাটালেন।’ (বোখারি: ৫২১৬)
(১১) স্ত্রীকে সান্ত¡না দেওয়া: নারীদের স্বভাব অত্যন্ত নাজুক ও সংবেদনশীল। তারা অনেক সময় অল্পতেই কাতর হয়ে যায় এবং ক্রন্দন ও বিলাপ করে বুক ভাসায়। এ সময় প্রয়োজন হয় স্ত্রীকে আদর, সোহাগ ও ভালোবাসার সঙ্গে সান্ত¡না দেওয়া। কিন্তু বহু পুরুষ এমন রয়েছে, যারা স্ত্রীর অনুভব-অনুভূতি অনুধাবন করতে সক্ষম হয় না। তবে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) স্ত্রীদের অবস্থা বুঝতে পারতেন। তিনি স্ত্রীদের অনুভব-অনুভূতি গভীরভাবে অনুধাবন করতেন ও তাদের প্রয়োজনীয় সান্ত¡না দিতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) তার কাছে প্রবেশ করলেন। অথচ মক্কায় প্রবেশের আগেই ‘সারিফ’ নামক জায়গায় তার মাসিক শুরু হয়। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। নবী (সা.) বললেন, ‘তোমার কী হয়েছে? মাসিক শুরু হয়েছে নাকি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী (সা.) বললেন, এটা এমন এক ব্যাপার যা আল্লাহ আদম (আ.)-এর কন্যাদের ওপর নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কাজেই হাজীরা যা করে থাকে, তুমিও তেমনি করে যাও, তবে তুমি বাইতুল্øাহর তাওয়াফ করবে না।’ (বোখারি : ৫৫৪৮)
(১২) স্ত্রীর চোখে শ্রেষ্ঠ হওয়া: কাছ থেকে দেখে একজন মানুষকে যেভাবে পরখ করা যায়, দূর থেকে দেখে ঠিক সেভাবে পরখ করা যায় না। দূর থেকে বহু মানুষকেই অত্যন্ত ভালো ও শ্রেষ্ঠ মনে হয়। কিন্তু কাছে গেলে অনেক সময় এই ধারণা পাল্টে যায় ও বিশ্বাস ভঙ্গ হয়। আর মানুষ নিজের জীবনে আপন পরিবার পরিজনের সঙ্গে যত সময় ব্যয় করে; বিশেষত স্ত্রীর সঙ্গে যত সময় অতিবাহিত করে, সাধারণত অন্য কারো সঙ্গে তত সময় অতিবাহিত করে না। অতএব, কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামী শ্রেষ্ঠ ও চরিত্রবান হওয়ার সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য ও যথার্থ। মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও পরিবার পরিজনদের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে বিবেচিত ছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মাঝে সে-ই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়ে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি : ৩৮৯৫)
(১৩) স্ত্রীর জন্য দোয়া করা: পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হওয়া সত্ত্বেও নবী করিম (সা.) তাঁর স্ত্রীদের সালাম দিতেন। তাদের জন্য দোয়া করতেন এবং যে স্ত্রীর পালা যেদিন আসত, সেদিন তিনি তার কাছে রাত যাপন করতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) ফজরের নামাজ আদায় করে জায়নামাজে বসতেন। সূর্যোদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত তার পাশে লোকেরাও বসে থাকত। এর পর তিনি তার স্ত্রীদের প্রত্যেকের কাছে গমন করে তাদের সালাম দিতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। এর পর যে স্ত্রীর পালার দিন থাকত তার কাছে বসতেন।’ (মুজামে আওসাত : ৮৭৬৪)
(১৪) স্ত্রীকে প্রহার না করা: স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর চলাফেরা খানিক সময়ের নয়, বরং সারা জীবনের। এজন্যই হয়তো স্ত্রীকে পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী বলা হয়। স্বামীর সঙ্গে জীবনযাপন করতে গিয়ে অনেক সময় স্ত্রীর ভুলভ্রান্তি হতে পারে। এই ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে পারা উত্তম পুরুষের পরিচায়ক। কিন্তু অনেক পুরুষ জীবন সাথির ভুলভ্রান্তিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিতে পারে না। পান থেকে চুন খসলেই রাগান্বিত হয়ে প্রিয়তমা স্ত্রীর ওপর হামলে পড়ে। কারণে-অকারণে স্ত্রীকে বকাবকি করতে থাকে এবং অনেক সময় মেজাজ খারাপ করে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। কিন্তু বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) কখনো এমন করেননি। তিনি স্ত্রীদের ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন। তার জীবনে কোনো স্ত্রীকে কিংবা যুদ্ধের ময়দান ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে প্রহার করার নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি কখনো আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে তাঁর কোনো সেবক এবং তাঁর কোনো স্ত্রীকে প্রহার করতে দেখিনি। তিনি আল্লাহর পথে জিহাদরত থাকা ছাড়া কোনো সময় কাউকে প্রহার করেননি।’ (মুসনাদে আহমদ : ২৫৩৯২)
(১৫) উপদেশ দেওয়া: আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নারীদেরকে উত্তম উপদেশ দিবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি অধিক বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থেকে যাবে। কাজেই নারীদের সাথে কল্যাণ করার উপদেশ গ্রহণ কর”।[১]
যদি স্ত্রীর মধ্যে অবাধ্যতা, হঠকারিতা ও অসৎ চরিত্র লক্ষ্য করা যায়, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সীমারেখা রয়েছে যা লঙ্ঘন করা থেকে সাবধান থাকতে হবে। কুরআনুল কারীম এবং সুন্নাতে নববীতে এর একটি সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ বলেন, “পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযাত করেছেন। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ কর এবং তাদেরকে (মৃদু) প্রহার কর। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমুন্নত মহান”। [সূরা আন-নিসা: ৩৪]
(১৬) স্ত্রীর মৃত্যুর পরও ভালোবাসা প্রকাশ: মহানবী (সা.) শুধু জীবিত স্ত্রীদের ভালবাসতেন তা নয়, বরং তিনি মৃত স্ত্রীদেরও ভালোবাসতেন এবং তাদের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতেন। খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যুর পর তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে নবী করিম (সা.) তার বান্ধবীদের কাছে বিভিন্ন সময় উপহার প্রেরণ করতেন। এ কারণে আয়েশা (রা.) একদিন উষ্মা প্রকাশ করলে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি খাদিজাকে বড়ই ভালোবাসি। তার ভালোবাসা আমার অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি খাদিজা ছাড়া নবী (সা.)-এর সহধর্মিণীদের আর কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হইনি, অথচ আমার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটেনি। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) যখন বকরি জবাই করতেন তখন বলতেন, এর গোশত খাদিজার বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও। একবার আমি তাকে রাগিয়ে দিলাম ও বললাম, খাদিজাকে এতই ভালবাসেন? রাসুল (সা.) বললেন, তার ভালোবাসা আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।’ (মুসলিম : ৬১৭২)
সমাপনী: পরিশেষে বলব, একজন আদর্শ স্বামী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিতি করতে চাইলে পারিবারিক জীবনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শই আমাদের আদর্শ হতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত স্ত্রীকে ভালোবাসলেই স্ত্রী নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করবেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত একজন আদর্শ স্বামী হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
১৪
২৪ মন্তব্য