Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:০৬ অপরাহ্ণ

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে আমাদের করণীয়

আমি নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, ফটিকছড়ির একজন শিক্ষক। আমাদের গ্রামের কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ১ম বর্ষ থেকে ২য় বর্ষে ওঠার আগেই অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। আবার কেউ কেউ ২য় বর্ষ পর্যন্ত পড়লেও অর্থাভাব, পারিবারিক সমস্যা বা কর্মব্যস্ততার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। বিষয়টি শুধু একটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং দেশের ভবিষ্যৎ জড়িত।

বিশেষ করে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পারিবারিক চাপ। অন্যদিকে অনেক ছাত্র পরিবারের অভাব দূর করার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি বা শ্রমের কাজে যুক্ত হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস করা, পড়া প্রস্তুত করা এবং পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

আমার মতে, এই সমস্যা সমাধানে শুধু শিক্ষার্থীদের দোষ দিলে হবে না। পরিবার, শিক্ষক, কলেজ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রধান কারণ

গ্রামের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা।

  • মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া।

  • ছাত্রদের উপার্জনের জন্য চাকরি বা শ্রমে যুক্ত হওয়া।

  • পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার কারণে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া।

  • কলেজে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা।

  • অভিভাবকদের অসচেতনতা বা শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা।

  • যাতায়াত খরচ, বই-খাতা ও পরীক্ষার ফি বহনের অসুবিধা।

  • পারিবারিক অশান্তি, অসুস্থতা বা দায়িত্বের চাপ।

  • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত যোগাযোগের অভাব।

  • পরীক্ষাভীতি এবং দুর্বল ফলাফলের কারণে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

    বাল্যবিবাহ রোধে পরিবারকে সচেতন করা

    ছাত্রীদের ঝরে পড়ার অন্যতম বড় কারণ হলো অল্প বয়সে বিয়ে। অনেক পরিবার মনে করে, মেয়েকে যত দ্রুত বিয়ে দেওয়া যায় ততই ভালো। কিন্তু বাস্তবে অল্প বয়সে বিয়ে একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে।

    ইসলাম জ্ঞান অর্জনকে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছে। ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নিরাপদ ও শালীন পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। বিয়ের আগে মেয়ের মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    এ ক্ষেত্রে কলেজ থেকে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে শিক্ষক, স্থানীয় আলেম, ইমাম, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে পারেন। পরিবারকে বোঝাতে হবে—একজন শিক্ষিত মেয়ে শুধু নিজের জীবনই সুন্দর করে না; সে ভবিষ্যৎ পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা

    অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়—এটি আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য কলেজে একটি ‘শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল’ গঠন করা যেতে পারে। এই তহবিলে শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

    এই তহবিল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী—

    • বই ও খাতা দেওয়া।

    • পরীক্ষার ফি বা বেতন পরিশোধে সহায়তা করা।

    • দরিদ্র শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচে সহযোগিতা করা।

    • মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া।

    • মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা।

    • জরুরি পারিবারিক সমস্যায় সীমিত সহায়তা দেওয়া।

    সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি ছোট কমিটি গঠন করে প্রকৃত অসচ্ছল শিক্ষার্থী বাছাই করা যেতে পারে।

    কর্মজীবী ছাত্রদের জন্য নমনীয় ব্যবস্থা

    অনেক ছাত্র পরিবারের অভাবের কারণে চাকরি বা শ্রমের কাজে যুক্ত হয়। তাদের যদি বলা হয়, ‘কাজ বাদ দিয়ে শুধু পড়াশোনা করো’, তাহলে বাস্তব সমস্যার সমাধান হবে না। বরং তাদের পরিস্থিতি বুঝে সহযোগিতা করতে হবে।

    কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—

    • তাদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি করা।

    • গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস ও পরীক্ষার বিষয়ে আগে থেকে জানানো।

    • অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্ত নোট ও পাঠ সহায়িকা তৈরি করা।

    • সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া।

    • দরকার হলে ছুটির দিন বা সুবিধাজনক সময়ে পুনরাবৃত্তিমূলক ক্লাসের ব্যবস্থা করা।

    • মোবাইল ফোন বা অনলাইন মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পড়া ও নোট সরবরাহ করা।

    • কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত নির্দিষ্ট সময় পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহ দেওয়া।

      তবে শিক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে, জীবিকা অর্জন জরুরি হলেও শিক্ষা শেষ করার চেষ্টা বন্ধ করা যাবে না। শিক্ষাগত যোগ্যতা ভবিষ্যতে ভালো কাজ ও স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে পারে।

      প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া

      শিক্ষার্থী ঝরে পড়া বন্ধ করতে হলে ২য় বর্ষে গিয়ে খোঁজ নিলে হবে না। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, ফলাফল ও পারিবারিক পরিস্থিতির প্রতি নজর দিতে হবে।

      কলেজে একটি ‘শিক্ষার্থী অনুসরণ ব্যবস্থা’ চালু করা যেতে পারে। এতে—

      • প্রতিটি শিক্ষকের কাছে নির্দিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব থাকবে।

      • কোনো শিক্ষার্থী টানা কয়েক দিন অনুপস্থিত হলে তার কারণ জানা হবে।

      • বাড়িতে যোগাযোগ করে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলা হবে।

      • দরিদ্র, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের আলাদা তালিকা তৈরি করা হবে।

      • মাসে অন্তত একবার তাদের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

      একজন শিক্ষক যখন একজন শিক্ষার্থীর খোঁজ নেন, তখন শিক্ষার্থী মনে করে—কলেজে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই আন্তরিকতা অনেক সময় একজন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় ধরে রাখতে পারে।

      পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা

      অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে এলেও পড়া বুঝতে না পারার কারণে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের অপমান বা ছোট করা যাবে না।

      শিক্ষকরা সহজ ভাষায় পাঠ বুঝিয়ে দিতে পারেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ‘সহপাঠী সহায়তা কার্যক্রম’ চালু করা যেতে পারে। এতে একজন ভালো শিক্ষার্থী একজন দুর্বল শিক্ষার্থীকে পড়ায় সহযোগিতা করবে।

      এ ছাড়া প্রতি মাসে ছোট পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা যেতে পারে। এতে পরীক্ষাভীতি কমবে এবং শেষ মুহূর্তে বড় চাপ তৈরি হবে না।

      পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

      কিছু শিক্ষার্থী ২য় বর্ষ পর্যন্ত পড়লেও ফরম পূরণ, পরীক্ষার ফি, প্রস্তুতির অভাব বা পারিবারিক সমস্যার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। এই বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

      পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। যারা ফরম পূরণ করেনি, তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কারণ জানতে হবে। প্রকৃত অসচ্ছল হলে কলেজের সহায়তা তহবিল বা স্থানীয় সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়াতে হবে।

      শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নিয়ম, ফরম পূরণের সময়সীমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে আগেই জানানো উচিত। অনেক সময় তথ্যের অভাবেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না।

      অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

      শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পরিবেশ তৈরিতে অভিভাবকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে চলবে না। নিয়মিত অভিভাবক সভা আয়োজন করতে হবে।

      অভিভাবকদের বোঝাতে হবে—

      • সন্তানকে শুধু উপার্জনের কাজে না পাঠিয়ে শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে।

      • মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দিতে হবে।

      • শিক্ষার্থীর সামনে সব সময় হতাশাজনক কথা বলা যাবে না।

      • পড়াশোনার জন্য বাড়িতে নির্দিষ্ট সময় ও শান্ত পরিবেশ দিতে হবে।

      • দুর্বল ফলাফল হলে বকাঝকা না করে কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

      • সন্তানের বন্ধু, চলাফেরা ও মানসিক অবস্থার প্রতি দায়িত্বশীল নজর রাখতে হবে।

      অভিভাবককে ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা ও যুক্তির মাধ্যমে সচেতন করতে হবে।

      ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষা

      আমাদের সমাজ মুসলিম মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তাই শিক্ষার প্রসারে আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। ইসলাম সততা, পরিশ্রম, জ্ঞান অর্জন, দায়িত্ববোধ, পরস্পরের সহযোগিতা এবং মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।

      কলেজে নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, সময়ের মূল্য, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য শালীন, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

      ছেলে-মেয়ে সবার পড়াশোনার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। তবে তাদের পারিবারিক, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। শিক্ষার্থীদের পোশাক, আচরণ, ভাষা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভদ্রতা, সংযম ও শালীনতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করা যেতে পারে।

      শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব

      একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখেন। তাই ঝরে পড়া রোধে আমাদের নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে—

      • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক ও সম্মানজনক আচরণ করা।

      • দরিদ্র বা দুর্বল শিক্ষার্থীকে অবহেলা না করা।

      • ক্লাসকে সহজ, আকর্ষণীয় ও বাস্তবভিত্তিক করা।

      • অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর কারণ খুঁজে দেখা।

      • নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া।

      • শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সমস্যা গোপনীয়তার সঙ্গে শোনা।

      • অভিভাবকের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করা।

      • ভালো কাজ ও নিয়মিত উপস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া।

      • শাস্তির পরিবর্তে সংশোধন ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া।

      একজন শিক্ষক যদি আন্তরিকভাবে একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান, তাহলে সেই শিক্ষার্থী হয়তো নতুন করে সাহস পেতে পারে।

      স্থানীয় সমাজের সহযোগিতা

      শিক্ষার্থী ঝরে পড়া শুধু কলেজের একার সমস্যা নয়। এটি পুরো এলাকার সমস্যা। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

      প্রতি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে সচেতনতামূলক সভা করা যায়। কোনো মেয়ের বাল্যবিবাহের আয়োজন হলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পরিবারকে বুঝিয়ে বলতে পারেন। কোনো দরিদ্র ছাত্র কাজের জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিতে চাইলে স্থানীয়ভাবে তার জন্য বৃত্তি বা কাজের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।


    • আমাদের কলেজগুলোতে ধাপে ধাপে কয়েকটি কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে—

      1. ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করা।

      2. মাসিক উপস্থিতি ও ফলাফল পর্যালোচনা করা।

      3. শিক্ষকভিত্তিক শিক্ষার্থী পরামর্শ ব্যবস্থা চালু করা।

      4. দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা তহবিল গঠন করা।

      5. ছাত্রীদের অভিভাবকদের নিয়ে বিশেষ সভা করা।

      6. বাল্যবিবাহবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা আয়োজন করা।

      7. কর্মজীবী ছাত্রদের জন্য অতিরিক্ত সহায়ক ক্লাস নেওয়া।

      8. পরীক্ষার ফরম পূরণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পৃথক মনিটরিং করা।

      9. প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

      10. শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করা।

        শেষ কথা

        শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন আন্তরিকতা, নিয়মিত যোগাযোগ, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। একটি শিক্ষার্থীকে কলেজে ধরে রাখা মানে শুধু একজনকে পড়াশোনা শেষ করানো নয়; বরং একটি পরিবারকে এগিয়ে নেওয়া এবং সমাজের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।

        নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, ফটিকছড়ির একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই মূল্যবান। অর্থের অভাব, পারিবারিক চাপ বা সামাজিক সমস্যার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়—এ দায়িত্ব আমাদের সবার। পরিবার, কলেজ ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার অনেক কমানো সম্ভব হবে।

        আমাতাল্লাহ মাহমুদা সিদ্দিকা

        নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ,ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।


মন্তব্য করুন

ব্লগ