সহকারী শিক্ষক
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:০৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মেলাজমার লক্ষণ: ত্বকে দাগ দেখা দেয় কোন কোন জায়গায়?
মেলাজমার সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো ত্বকে হালকা বাদামি, গাঢ় বাদামি কিংবা নীলচে-ধূসর রঙের ছোপ বা ফ্রেকলসের মতো দাগ দেখা দেওয়া। সাধারণত এসব দাগ ত্বকের ওপর সমতল থাকে এবং মুখের বিভিন্ন অংশে একই সঙ্গে দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো আক্রান্ত স্থান কিছুটা লালচে বা প্রদাহযুক্তও হতে পারে।
মেলাজমা নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় বেশি দেখা যায়। কোন অংশে দাগ তৈরি হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে এর ধরনও আলাদা হতে পারে।
ব্র্যাকিয়াল মেলাজমা: কাঁধ ও ওপরের বাহুতে যখন মেলাজমার দাগ দেখা দেয়, তাকে ব্র্যাকিয়াল মেলাজমা বলা হয়। সাধারণত সূর্যের আলোতে বেশি উন্মুক্ত থাকা অংশে এ ধরনের দাগ দেখা দিতে পারে।
সেন্ট্রোফেসিয়াল মেলাজমা: মেলাজমার সবচেয়ে পরিচিত ধরনগুলোর একটি এটি। কপাল, দুই গাল, নাক এবং ওপরের ঠোঁটের অংশে দাগ দেখা যায়। মুখের মাঝামাঝি অংশজুড়ে ছোপ তৈরি হওয়ায় একে সেন্ট্রোফেসিয়াল বলা হয়।
ল্যাটেরাল চিক প্যাটার্ন: এ ক্ষেত্রে দুই গালে মেলাজমার দাগ দেখা যায়। মুখের পাশের অংশে সমানভাবে বা ছোপ আকারে দাগ তৈরি হতে পারে।
ম্যালার মেলাজমা: ম্যালার ধরনের মেলাজমায় মূলত গাল ও নাকের অংশে বাদামি বা নীলচে ছোপ দেখা যায়।
ম্যান্ডিবুলার মেলাজমা: চোয়ালের রেখা বা জ-লাইনের ওপর মেলাজমার দাগ তৈরি হলে তাকে ম্যান্ডিবুলার মেলাজমা বলা হয়।
ঘাড়ে মেলাজমা: তুলনামূলকভাবে বেশি বয়সী, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের সামনের, পাশের বা পেছনের অংশজুড়েও মেলাজমা দেখা দিতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
মেলাজমা সাধারণত প্রজননক্ষম বয়সের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা আরও বেশি। তবে পুরুষদেরও মেলাজমা হতে পারে। পরিবারে কারও মেলাজমা থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের ত্বক তুলনামূলক গাঢ় বাদামি এবং যারা সহজে ট্যান হন, তাদের মধ্যেও এটি বেশি দেখা যায়।
মেলাজমা কি ক্যানসার?
না। মেলাজমা ক্যানসার নয় এবং এটি ক্যানসারে পরিণতও হয় না। সাধারণত এতে ব্যথা, চুলকানি বা অন্য শারীরিক অস্বস্তি থাকে না। তবে কিছু ত্বকের ক্যানসার বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যাও কখনো কখনো মেলাজমার মতো দেখতে হতে পারে। তাই নতুন কোনো অস্বাভাবিক দাগ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সাধারণত ত্বক দেখেই মেলাজমা শনাক্ত করতে পারেন। প্রয়োজনে Wood’s lamp দিয়ে ত্বকের রঞ্জকের গভীরতা পরীক্ষা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অন্য রোগ থেকে মেলাজমাকে আলাদা করতে ছোট্ট ত্বকের নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি করা হতে পারে।
মেলাজমায় রঞ্জক ত্বকের কোন স্তরে রয়েছে, তার ওপরও চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে। ত্বকের ওপরের স্তরে থাকা রঞ্জক তুলনামূলক সহজে কমতে পারে। গভীর স্তরের রঞ্জক কমাতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং কখনো পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।
মেলাজমা ও খাবার: কোন খাবার উপকারী, আর থাইরয়েডের সঙ্গে কি সম্পর্ক আছে?
ত্বকে মেলাজমার দাগ দেখা দিলে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে—খাবারের কারণে কি এই দাগ বাড়ে? আবার বিশেষ কোনো খাবার খেলে কি মেলাজমা কমে যায়? এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা সরাসরি মেলাজমা সৃষ্টি করে, বাড়িয়ে দেয় কিংবা অলৌকিকভাবে সারিয়ে তোলে।
অর্থাৎ, শুধু খাবার বাদ দিয়ে বা নির্দিষ্ট কোনো খাবার বেশি খেলেই মেলাজমা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এমনটা বলা যায় না। তবে ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্য তালিকায়
ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। যেমন—বাদামের দুধ, ডিম, দুধ, মাংস, মাশরুম, তৈলাক্ত মাছ, কমলার রস ও দই। তবে মনে রাখতে হবে, এসব খাবার মেলাজমার নির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়। এগুলো মূলত সামগ্রিক পুষ্টি ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
৫
৬ মন্তব্য