Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সুধারণার আলোয় সুন্দর সমাজ-১ -মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                        সুধারণার আলোয় সুন্দর সমাজ-১

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

মানুষ মানুষে গড়া সমাজ, মিলন তারই প্রাণ,
ভালোবাসা, বিশ্বাস, মমতাসুন্দর জীবনের গান।
হৃদয়ে যদি সুধারণা জাগে, মুছে যায় সব ক্ষয়,
কুধারণার কালো ছায়া এলে শান্তি কোথায় রয়?

সুধারণা সুন্দর গুণ, মুমিনের অলংকার,
অন্যের প্রতি ভালো ভাবনাহৃদয়ের উপহার।
অকারণে দোষ না খুঁজি, সন্দেহ না করি মনে,
সত্য না জেনে রায় না দিই কোনো মানুষের সনে।

সুধারণা করা একটি ইবাদত”— শিক্ষায় মহীয়ান,
ভালো ভাবনা পবিত্র করে মুমিনের অন্তঃপ্রাণ।
রাসুল (সা.) বলেছেন সতর্কবাণী, সত্য যারই ভাষা
কুধারণা থেকে দূরে থাকো, রাখো অন্তরে আশা।

কুধারণা থেকে বেঁচে থাকো”— নবীর বাণী মহান,
কুধারণা বড় মিথ্যা শিক্ষা চির অম্লান।
মনের মাঝে সন্দেহ এলে থামাও তারই গতি,
প্রমাণ ছাড়া দোষী ভাবা ন্যায় নয়, নয় সুমতি।

কুরআনেরও শিক্ষা শুনিহে মুমিন মানবগণ,
অনুমানের অনেক কিছুতে রেখো না অন্ধ মন।
কোনো কোনো অনুমান পাপসতর্ক হও তাই,
অন্যের গোপন দোষের খোঁজে ছুটে বেড়ানো নাই।

কারও কথা বুঝিনি যদি, জিজ্ঞেস করি শান্ত মনে,
ভুল বুঝে কেন কষ্ট দেব আপন কোনো জনে?
হয়তো সে ব্যস্ত ছিল, তাই পারেনি দিতে সাড়া,
হয়তো তার অসুস্থ শরীর, জীবনজুড়ে হাহাকার।

হয়তো তার মনের মাঝে দুঃখের গভীর ক্ষত,
হয়তো সে নীরব ছিল, হৃদয় ছিল অবনত।
হয়তো তার সামর্থ্য কম, তাই পারেনি কাজ,
ভালো ব্যাখ্যার সুযোগ দিলে বাড়ে মনের সাজ।

একটি কথা, একটি দৃষ্টি, একটি ছোট আচরণ,
দেখেই যেন না করি আমরা কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
বাহ্যিক দৃশ্য সব সময় কি অন্তরের কথা কয়?
মানুষের মনের প্রকৃত খবর আল্লাহ ছাড়া কে রয়?

আল্লাহ জানেন অন্তরের সব গোপন অভিপ্রায়,
কে কী চায়, কে কী ভাবেসবই তাঁর জানা রয়।
তাই তো মুমিন তাড়াহুড়ো করে বিচার করে না,
প্রমাণহীন ধারণা নিয়ে মানুষের মন ভরে না।

কুধারণা নীরব বিষ, হৃদয়ে ঢালে ক্ষয়,
সন্দেহ থেকে জন্ম নেয় যে অশান্তি ভয়।
আজকে শুধু মনে হলো, কালকে হলো কথা,
পরশু গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মাঝে ব্যথা।

সন্দেহ থেকে গীবত আসে, অপবাদ আসে পরে,
চোগলখোরির বিষ ছড়িয়ে যায় ঘরে ঘরে।
একটি মিথ্যা ধারণা ডেকে আনে বিভেদ,
ভালোবাসার বাগান ভরে ওঠে কাঁটা আর খেদ।

তাই সন্দেহ জন্ম নিলে থামো প্রথম ধাপে,
সত্য যাচাই না করে কিছু বলো না চাপে।
নিজেকে বলো—“প্রমাণ কোথায়? সত্য কি জানা আছে?”
ভুল বুঝেছি কি না আমি?”—ভাবো শান্তির আশে।

এর কি কোনো ভালো ব্যাখ্যা থাকতে পারে মনে?”
আমি কি তাড়াহুড়ো করছি অজানা কোনো ক্ষণে?”
এমন করে আত্মজিজ্ঞাসা মানুষকে দেয় জ্ঞান,
ভুল সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা পায় মুমিনের প্রাণ।

সুধারণা মানে কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস নয়,
অন্যায় দেখে চুপ থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়।
প্রমাণিত অপরাধ হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা চাই,
সত্যকে সত্য বলতে হবেভয় পাওয়ার কিছু নাই।

সুধারণা মানে হলোপ্রমাণ ছাড়া দোষ নয়,
ন্যায়ের পথে সত্য যাচাইএটাই সঠিক হয়।
অন্ধ বিশ্বাস নয় কখনো, নয় অবিবেচনা,
সত্য, ন্যায়, সতর্কতার সঙ্গে হোক সুধারণা।

পরিবার হলো শান্তির ঘর, ভালোবাসার নীড়,
সুধারণা থাকলে সেখানে সুখের থাকে ভিড়।
স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন আর বাবা-মায়ের টান,
বিশ্বাসেরই ভিতের ওপর গড়ে সুন্দর প্রাণ।

কেউ যদি আজ কথা কম কয়, রাগ করো না তায়,
হয়তো তার মন খারাপ, দুঃখ লুকিয়ে যায়।
কেউ যদি ফোন না ধরে, কোরো না অভিযোগ,
হয়তো সে বিপদে আছে, ব্যস্ততায় নিরুপায় লোক।

পরিবারে যদি সন্দেহ ঢোকে, ভাঙে মনের বাঁধ,
ভালোবাসার ফুল শুকিয়ে বাড়ে কষ্টের সাধ।
তাই ভুল হলে কথা বলো, রাগ নয়, শান্তি চাও,
আপনজনের মনের কথা ভালোবেসে জানাও।

বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি যে বিশ্বাস সম্মান,
সুধারণায় বন্ধুত্ব পায় সৌন্দর্যেরই প্রাণ।
বন্ধু যদি সময় না দেয়, বুঝতে চেষ্টা করো,
তার অবস্থার কথা ভেবে ভালো কিছুই ধরো।

ভুল করলে বন্ধু তাকে অপমান করো না,
সুন্দর ভাষায় সংশোধনের সুযোগ দিতে ভুলো না।
বন্ধুর দুঃখে পাশে থেকো, সুখে হও আনন্দিত,
শুভকামনায় ভরে থাকুক হৃদয় নির্মল, পবিত্র।

শিক্ষাঙ্গনেও চাই যে এমন সুন্দর পরিবেশ,
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে থাকুক ভালোবাসার রেশ।
শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ নয়,
কারণ জেনে শিক্ষা দিলে তারই উন্নতি হয়।

শিক্ষক যদি ভুলকে দেখে কেবল দোষই ধরেন,
শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে ক্ষণে।
আবার ছাত্র যদি শিক্ষককে ভুল বুঝে যায়,
জ্ঞান অর্জনের সুন্দর পথ বাধাগ্রস্ত হয় তায়।

তাই শিক্ষক হোন দয়ালু, শাসনে থাকুক মায়া,
শিক্ষার্থীও শ্রদ্ধা রাখুকএটাই শিক্ষার ছায়া।
ভুলের মাঝে শেখার সুযোগ, সংশোধনের দ্বার,
সুধারণায় গড়ে ওঠে শিক্ষার সুন্দর সংসার।

কর্মক্ষেত্রেও সুধারণা শান্তির একটি চাবি,
সহযোগিতার হাত বাড়ালে সফল হয় যে দাবি।
সহকর্মী কাজ না করলে কারণ আগে জানো,
অভিযোগের আগে সত্যের পথটি ভালো মানো।

কেউ যদি কোনো সিদ্ধান্ত বুঝতে না পারে ঠিক,
তাকে বুঝিয়ে বলো আগে, করো না তিরস্কার অধিক।
পারস্পরিক আস্থা হলে কাজের গতি বাড়ে,
সৌহার্দ্যের সেতু গড়ে প্রতিষ্ঠানের দ্বারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ দ্রুতগতির যুগ,
একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে বহুদূর।
ছবি, ভিডিও, কথার টুকরোসবই সত্য নয়,
যাচাই ছাড়া প্রচার করলে বিপদ ডেকে রয়।

শুনেছি”—বলে বিশ্বাস করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়,
দেখেছি”—বললেও সব সময় সত্য প্রমাণিত নয়।
তথ্য যাচাই, উৎ পরীক্ষাদায়িত্বশীলতার চিহ্ন,
মিথ্যা খবর ছড়ানো থেকে থাকো সদা ভিন্ন।

কারও সম্মান নষ্ট করে কী লাভ বলো ভাই?
একটি মিথ্যা কথার ক্ষত সহজে শুকায় নাই।
জবান যদি সংযত থাকে, রক্ষা পায় মান,
সত্য কথায় আলোকিত হয় মানুষেরই প্রাণ।

সুধারণা হৃদয়জুড়ে আনে প্রশান্তির আলো,
অন্যের মাঝে খুঁজে নিতে শেখায় দিকটি ভালো।
সন্দেহপ্রবণ মানুষ নিজের শান্তি হারায়,
ছোট্ট ঘটনাও তার মনে বড় ঝড় তুলায়।

একটি কথায় রাগের আগুন, একটি কথায় ক্ষোভ,
মনের মাঝে জমতে থাকে বিদ্বেষ আর শোক।
সুধারণা বলে—“ধীরে চলো, সত্যটাকে জানো,”
অন্যের প্রতি ন্যায়বোধের সুন্দর পথটি মানো।

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা মুমিনের সাধনা,
মনে আসা সব চিন্তাই সত্য ধারণা ঠিক না।
মনে যদি সন্দেহ জাগে, তাকে থামাও আগে,
সত্য-মিথ্যা যাচাই করে তারপর কথা লাগে।

অন্যের প্রতি সুধারণা, আল্লাহর প্রতিও আশা,
দুঃখের মাঝে মুমিন রাখে রবের প্রতি ভরসা।
বিপদ এলে হতাশ নয়, দোয়া করে প্রাণ,
আল্লাহর রহমত থেকে হারায় না সে জ্ঞান।

কখনো কোনো ঘটনার অর্থ বুঝি না আমরা,
আজ যে দুঃখ, কাল তা হয় কল্যাণেরই ধারা।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, দয়াময় পরম,
তাঁর হুকুমে ভরসা রাখে মুমিনের নির্মল মন।

তবু যদি কারও হাতে ঘটে অন্যায়,
ন্যায়ের পথে ব্যবস্থা নিতে পিছিয়ে থাকা যায়?
সুধারণার নামে কখনো অপরাধ ঢাকব না,
ন্যায়বিচারের পথ ছেড়ে অন্য পথে যাব না।

ব্যক্তিগত রাগ, শত্রুতা বা অহংকার নয়,
সত্য-প্রমাণ-ন্যায়ের পথে বিচার করতে হয়।
কোমল হৃদয়, দৃঢ় ন্যায়দুটিই থাকুক সাথে,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক আমাদেরই আচরণ-পথে।

সুধারণা ভ্রাতৃত্ব আনে, বাড়ায় ভালোবাসা,
ক্ষমার ফুল ফুটিয়ে তোলে মনের বাগানবাসা।
ছোটখাটো ভুলকে যদি ক্ষমা করা যায়,
ভাঙা সম্পর্ক নতুন করে ভালোবাসা পায়।

মানুষ ভুল করতেই পারেমানুষ তো সে ভাই,
ভুলের পরে ফিরে আসার সুযোগ দিতে চাই।
অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো মহত্ত্বের পরিচয় নয়,
নিজের ভুল সংশোধন করাই সত্য মহৎ জয়।

মানুষের সম্মান রক্ষা মুমিনের দায়িত্ব,
অকারণে অপমান করা নয় কোনো মহত্ত্ব।
কারও দুর্বলতা দেখে হাসি কেমন আচরণ?
বরং তাকে সাহায্য করা উত্তম মানবধর্মের কারণ।

সুধারণা ধৈর্য শেখায়, শেখায় সংযম,
রাগের বশে সিদ্ধান্ত নয়সত্যের প্রতি মম।
কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিতে নাই,
একটু ভেবে বললে পরে অনুতাপ থাকে নাই।

অভিযোগ শুনে প্রচার নয়, আগে সত্য জানো,
কারও নামে কথা বলার আগে নিজেকে থামাও।
সত্য হলে প্রয়োজনমতো ন্যায় কথা বলো,
মিথ্যা হলে নীরব থেকে কল্যাণের পথ চলো।

মুমিন মুমিনের ভাইভালোবাসা তার প্রাণ,
বিপদে সে পাশে থাকে, বাড়ায় শুভকামনা-দান।
অন্যের সুখে খুশি হওয়া ঈমানেরই রূপ,
অন্যের দুঃখে পাশে থাকা মানবতার ধ্রুব।

কারও ব্যর্থতায় হাসি নয়, সান্ত্বনা দাও তাকে,
ভুল করলে সুন্দর ভাষায় সত্যটি বোঝাও তাকে।
হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, নয় পরনিন্দা-গান,
সবার জন্য কল্যাণ চাওয়া মুমিনের পরিচয় মহান।

এসো তবে অন্তর ধুই কুধারণার ময়লা,
ভালোবাসার আলো জ্বালি, মুছে দিই সব কালো।
দোষের খোঁজে নয়, বরং ভালো দিকটি দেখি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকেও ন্যায়ের পথটি রাখি।

প্রমাণ ছাড়া কারও নামে রায় যেন না দিই,
গুজব শুনে সত্য ভেবে অন্যের ক্ষতি না করি।
প্রয়োজনে তার সঙ্গে গিয়ে শান্তভাবে কথা বলি,
ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ভালোবাসা ঢালি।

সুধারণা থাকুক মনে, সত্য থাকুক মুখে,
ন্যায় থাকুক কর্মে আমাদের, দয়া থাকুক বুকে।
ক্ষমা থাকুক আচরণে, সতর্কতা সাথে,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক জীবনের প্রতিটি পথে।

যে সমাজে মানুষ মানুষকে সম্মান করে,
ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে বিপদে পাশে ধরে,
সেখানে থাকে শান্তি, থাকে ঐক্যের গান,
সেখানে মানুষ পায় মানুষে আপনজনের প্রাণ।

কুধারণার দেয়াল ভেঙে সুধারণার সেতু গড়ি,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে ভালোবাসার পথ ধরি।
গীবত, অপবাদ, গুজব ছেড়ে সত্যের আলো জ্বালি,
মানবতার পবিত্র পথে সবাই মিলে চলি।

পরিবার হবে শান্তিময়, বন্ধুত্ব হবে দৃঢ়,
শিক্ষাঙ্গনে জ্ঞানের আলো ছড়াবে সুদূর নীল।
কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতায় সাফল্য আসবে ঘরে,
সুধারণার সুবাস ছড়াক সমাজজুড়ে ভরে।

মনে রাখিঅন্যের অন্তর আমাদের জানা নয়,
অন্তরের সব গোপন কথা আল্লাহই শুধু রয়।
তাই বাহ্যিক কোনো ঘটনায় চূড়ান্ত রায় নয়,
সত্য যাচাই, ন্যায়বিচারমুমিনেরই জয়।

সুধারণা হোক আমাদের অন্তরের অলংকার,
সত্য-ন্যায় হোক জীবনের পথের দিশারী তার।
কুধারণার অন্ধকারে হারাব না আর মন,
আল্লাহর ভয়ে রাখব পবিত্র হৃদয়-প্রাণ।

এসো সবাই অঙ্গীকার করিসত্যের পথে চলব,
অমূলক সব সন্দেহ ছেড়ে ভালোবাসা বলব।
মানুষের মান রক্ষা করে গড়ব সুন্দর দেশ,
সুধারণার আলোয় মুছে যাক কুধারণার রেশ।

এসো সবাই হাতে হাত রেখে গড়ি এমন সমাজ,
যেখানে থাকবে ন্যায়নীতি, থাকবে না কোনো লাজ।
ভালোবাসা, বিশ্বাস, দয়া হবে জীবনের গান,
মানুষ হবে মানুষের তরেএটাই হোক মহান।

আল্লাহ আমাদের অন্তর করুন পবিত্র, নির্মল,
কুধারণার কালো ছায়া থেকে রাখুন চিরতরল।
সত্যের পথে চলার তাওফিক দিন প্রতিদিন,
সুধারণার আলোয় ভরে উঠুক জীবন নবীন।

পরিবারে শান্তি আসুক, সমাজে আসুক মৈত্রী,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাঁধা হোক মানবতার যাত্রী।
গীবত, অপবাদ, হিংসা দূরে যাক সবখান,
সুধারণার ফুল ফুটুকহাসুক বিশ্বমানব-প্রাণ।

সুধারণা হোক হৃদয়ের আলো,
সত্যের পথে চলা;
ভালোবাসায় ভরে উঠুক
জীবন, সমাজ, ভুবনতলা।

কুধারণা নয়সুধারণা চাই,
ন্যায়ের পথে চলি;
মানুষের তরে মানুষ হয়ে
কল্যাণের দীপ জ্বালি।

এই হোক আমাদের জীবনের পবিত্র অঙ্গীকার,
সুধারণায় গড়ব আমরা সমাজের ভিত্তি আর।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে আমাদের জীবনের লক্ষ্য,
সত্য, ন্যায়, মমতা দিয়ে গড়ব সুন্দর ভবিষ্যৎ
সুধারণার আলোয় একদিন হাসবে মানবধাম
ভালোবাসা, শান্তি, ভ্রাতৃত্বে ভরে উঠবে বিশ্বগ্রাম।

সুধারণার আলোয় সুন্দর সমাজ

মানুষ মানুষে গড়া সমাজ, মিলন তারই প্রাণ,
ভালোবাসা, বিশ্বাস, মমতাসুন্দর জীবনের গান।
হৃদয়ে যদি সুধারণা জাগে, মুছে যায় সব ক্ষয়,
কুধারণার কালো ছায়া এলে শান্তি কোথায় রয়?

সুধারণা সুন্দর গুণ, মুমিনের অলংকার,
অন্যের প্রতি ভালো ভাবনাহৃদয়ের উপহার।
অকারণে দোষ না খুঁজি, সন্দেহ না করি মনে,
সত্য না জেনে রায় না দিই কোনো মানুষের সনে।

সুধারণা করা একটি ইবাদত”— শিক্ষায় মহীয়ান,
ভালো ভাবনা পবিত্র করে মুমিনের অন্তঃপ্রাণ।
রাসুল (সা.) বলেছেন সতর্কবাণী, সত্য যারই ভাষা
কুধারণা থেকে দূরে থাকো, রাখো অন্তরে আশা।

কুধারণা থেকে বেঁচে থাকো”— নবীর বাণী মহান,
কুধারণা বড় মিথ্যা শিক্ষা চির অম্লান।
মনের মাঝে সন্দেহ এলে থামাও তারই গতি,
প্রমাণ ছাড়া দোষী ভাবা ন্যায় নয়, নয় সুমতি।

কুরআনেরও শিক্ষা শুনিহে মুমিন মানবগণ,
অনুমানের অনেক কিছুতে রেখো না অন্ধ মন।
কোনো কোনো অনুমান পাপসতর্ক হও তাই,
অন্যের গোপন দোষের খোঁজে ছুটে বেড়ানো নাই।

কারও কথা বুঝিনি যদি, জিজ্ঞেস করি শান্ত মনে,
ভুল বুঝে কেন কষ্ট দেব আপন কোনো জনে?
হয়তো সে ব্যস্ত ছিল, তাই পারেনি দিতে সাড়া,
হয়তো তার অসুস্থ শরীর, জীবনজুড়ে হাহাকার।

হয়তো তার মনের মাঝে দুঃখের গভীর ক্ষত,
হয়তো সে নীরব ছিল, হৃদয় ছিল অবনত।
হয়তো তার সামর্থ্য কম, তাই পারেনি কাজ,
ভালো ব্যাখ্যার সুযোগ দিলে বাড়ে মনের সাজ।

একটি কথা, একটি দৃষ্টি, একটি ছোট আচরণ,
দেখেই যেন না করি আমরা কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
বাহ্যিক দৃশ্য সব সময় কি অন্তরের কথা কয়?
মানুষের মনের প্রকৃত খবর আল্লাহ ছাড়া কে রয়?

আল্লাহ জানেন অন্তরের সব গোপন অভিপ্রায়,
কে কী চায়, কে কী ভাবেসবই তাঁর জানা রয়।
তাই তো মুমিন তাড়াহুড়ো করে বিচার করে না,
প্রমাণহীন ধারণা নিয়ে মানুষের মন ভরে না।

কুধারণা নীরব বিষ, হৃদয়ে ঢালে ক্ষয়,
সন্দেহ থেকে জন্ম নেয় যে অশান্তি ভয়।
আজকে শুধু মনে হলো, কালকে হলো কথা,
পরশু গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মাঝে ব্যথা।

সন্দেহ থেকে গীবত আসে, অপবাদ আসে পরে,
চোগলখোরির বিষ ছড়িয়ে যায় ঘরে ঘরে।
একটি মিথ্যা ধারণা ডেকে আনে বিভেদ,
ভালোবাসার বাগান ভরে ওঠে কাঁটা আর খেদ।

তাই সন্দেহ জন্ম নিলে থামো প্রথম ধাপে,
সত্য যাচাই না করে কিছু বলো না চাপে।
নিজেকে বলো—“প্রমাণ কোথায়? সত্য কি জানা আছে?”
ভুল বুঝেছি কি না আমি?”—ভাবো শান্তির আশে।

এর কি কোনো ভালো ব্যাখ্যা থাকতে পারে মনে?”
আমি কি তাড়াহুড়ো করছি অজানা কোনো ক্ষণে?”
এমন করে আত্মজিজ্ঞাসা মানুষকে দেয় জ্ঞান,
ভুল সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা পায় মুমিনের প্রাণ।

সুধারণা মানে কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস নয়,
অন্যায় দেখে চুপ থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়।
প্রমাণিত অপরাধ হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা চাই,
সত্যকে সত্য বলতে হবেভয় পাওয়ার কিছু নাই।

সুধারণা মানে হলোপ্রমাণ ছাড়া দোষ নয়,
ন্যায়ের পথে সত্য যাচাইএটাই সঠিক হয়।
অন্ধ বিশ্বাস নয় কখনো, নয় অবিবেচনা,
সত্য, ন্যায়, সতর্কতার সঙ্গে হোক সুধারণা।

পরিবার হলো শান্তির ঘর, ভালোবাসার নীড়,
সুধারণা থাকলে সেখানে সুখের থাকে ভিড়।
স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন আর বাবা-মায়ের টান,
বিশ্বাসেরই ভিতের ওপর গড়ে সুন্দর প্রাণ।

কেউ যদি আজ কথা কম কয়, রাগ করো না তায়,
হয়তো তার মন খারাপ, দুঃখ লুকিয়ে যায়।
কেউ যদি ফোন না ধরে, কোরো না অভিযোগ,
হয়তো সে বিপদে আছে, ব্যস্ততায় নিরুপায় লোক।

পরিবারে যদি সন্দেহ ঢোকে, ভাঙে মনের বাঁধ,
ভালোবাসার ফুল শুকিয়ে বাড়ে কষ্টের সাধ।
তাই ভুল হলে কথা বলো, রাগ নয়, শান্তি চাও,
আপনজনের মনের কথা ভালোবেসে জানাও।

বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি যে বিশ্বাস সম্মান,
সুধারণায় বন্ধুত্ব পায় সৌন্দর্যেরই প্রাণ।
বন্ধু যদি সময় না দেয়, বুঝতে চেষ্টা করো,
তার অবস্থার কথা ভেবে ভালো কিছুই ধরো।

ভুল করলে বন্ধু তাকে অপমান করো না,
সুন্দর ভাষায় সংশোধনের সুযোগ দিতে ভুলো না।
বন্ধুর দুঃখে পাশে থেকো, সুখে হও আনন্দিত,
শুভকামনায় ভরে থাকুক হৃদয় নির্মল, পবিত্র।

শিক্ষাঙ্গনেও চাই যে এমন সুন্দর পরিবেশ,
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে থাকুক ভালোবাসার রেশ।
শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ নয়,
কারণ জেনে শিক্ষা দিলে তারই উন্নতি হয়।

শিক্ষক যদি ভুলকে দেখে কেবল দোষই ধরেন,
শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে ক্ষণে।
আবার ছাত্র যদি শিক্ষককে ভুল বুঝে যায়,
জ্ঞান অর্জনের সুন্দর পথ বাধাগ্রস্ত হয় তায়।

তাই শিক্ষক হোন দয়ালু, শাসনে থাকুক মায়া,
শিক্ষার্থীও শ্রদ্ধা রাখুকএটাই শিক্ষার ছায়া।
ভুলের মাঝে শেখার সুযোগ, সংশোধনের দ্বার,
সুধারণায় গড়ে ওঠে শিক্ষার সুন্দর সংসার।

কর্মক্ষেত্রেও সুধারণা শান্তির একটি চাবি,
সহযোগিতার হাত বাড়ালে সফল হয় যে দাবি।
সহকর্মী কাজ না করলে কারণ আগে জানো,
অভিযোগের আগে সত্যের পথটি ভালো মানো।

কেউ যদি কোনো সিদ্ধান্ত বুঝতে না পারে ঠিক,
তাকে বুঝিয়ে বলো আগে, করো না তিরস্কার অধিক।
পারস্পরিক আস্থা হলে কাজের গতি বাড়ে,
সৌহার্দ্যের সেতু গড়ে প্রতিষ্ঠানের দ্বারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ দ্রুতগতির যুগ,
একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে বহুদূর।
ছবি, ভিডিও, কথার টুকরোসবই সত্য নয়,
যাচাই ছাড়া প্রচার করলে বিপদ ডেকে রয়।

শুনেছি”—বলে বিশ্বাস করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়,
দেখেছি”—বললেও সব সময় সত্য প্রমাণিত নয়।
তথ্য যাচাই, উৎ পরীক্ষাদায়িত্বশীলতার চিহ্ন,
মিথ্যা খবর ছড়ানো থেকে থাকো সদা ভিন্ন।

কারও সম্মান নষ্ট করে কী লাভ বলো ভাই?
একটি মিথ্যা কথার ক্ষত সহজে শুকায় নাই।
জবান যদি সংযত থাকে, রক্ষা পায় মান,
সত্য কথায় আলোকিত হয় মানুষেরই প্রাণ।

সুধারণা হৃদয়জুড়ে আনে প্রশান্তির আলো,
অন্যের মাঝে খুঁজে নিতে শেখায় দিকটি ভালো।
সন্দেহপ্রবণ মানুষ নিজের শান্তি হারায়,
ছোট্ট ঘটনাও তার মনে বড় ঝড় তুলায়।

একটি কথায় রাগের আগুন, একটি কথায় ক্ষোভ,
মনের মাঝে জমতে থাকে বিদ্বেষ আর শোক।
সুধারণা বলে—“ধীরে চলো, সত্যটাকে জানো,”
অন্যের প্রতি ন্যায়বোধের সুন্দর পথটি মানো।

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা মুমিনের সাধনা,
মনে আসা সব চিন্তাই সত্য ধারণা ঠিক না।
মনে যদি সন্দেহ জাগে, তাকে থামাও আগে,
সত্য-মিথ্যা যাচাই করে তারপর কথা লাগে।

অন্যের প্রতি সুধারণা, আল্লাহর প্রতিও আশা,
দুঃখের মাঝে মুমিন রাখে রবের প্রতি ভরসা।
বিপদ এলে হতাশ নয়, দোয়া করে প্রাণ,
আল্লাহর রহমত থেকে হারায় না সে জ্ঞান।

কখনো কোনো ঘটনার অর্থ বুঝি না আমরা,
আজ যে দুঃখ, কাল তা হয় কল্যাণেরই ধারা।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, দয়াময় পরম,
তাঁর হুকুমে ভরসা রাখে মুমিনের নির্মল মন।

তবু যদি কারও হাতে ঘটে অন্যায়,
ন্যায়ের পথে ব্যবস্থা নিতে পিছিয়ে থাকা যায়?
সুধারণার নামে কখনো অপরাধ ঢাকব না,
ন্যায়বিচারের পথ ছেড়ে অন্য পথে যাব না।

ব্যক্তিগত রাগ, শত্রুতা বা অহংকার নয়,
সত্য-প্রমাণ-ন্যায়ের পথে বিচার করতে হয়।
কোমল হৃদয়, দৃঢ় ন্যায়দুটিই থাকুক সাথে,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক আমাদেরই আচরণ-পথে।

সুধারণা ভ্রাতৃত্ব আনে, বাড়ায় ভালোবাসা,
ক্ষমার ফুল ফুটিয়ে তোলে মনের বাগানবাসা।
ছোটখাটো ভুলকে যদি ক্ষমা করা যায়,
ভাঙা সম্পর্ক নতুন করে ভালোবাসা পায়।

মানুষ ভুল করতেই পারেমানুষ তো সে ভাই,
ভুলের পরে ফিরে আসার সুযোগ দিতে চাই।
অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো মহত্ত্বের পরিচয় নয়,
নিজের ভুল সংশোধন করাই সত্য মহৎ জয়।

মানুষের সম্মান রক্ষা মুমিনের দায়িত্ব,
অকারণে অপমান করা নয় কোনো মহত্ত্ব।
কারও দুর্বলতা দেখে হাসি কেমন আচরণ?
বরং তাকে সাহায্য করা উত্তম মানবধর্মের কারণ।

সুধারণা ধৈর্য শেখায়, শেখায় সংযম,
রাগের বশে সিদ্ধান্ত নয়সত্যের প্রতি মম।
কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিতে নাই,
একটু ভেবে বললে পরে অনুতাপ থাকে নাই।

অভিযোগ শুনে প্রচার নয়, আগে সত্য জানো,
কারও নামে কথা বলার আগে নিজেকে থামাও।
সত্য হলে প্রয়োজনমতো ন্যায় কথা বলো,
মিথ্যা হলে নীরব থেকে কল্যাণের পথ চলো।

মুমিন মুমিনের ভাইভালোবাসা তার প্রাণ,
বিপদে সে পাশে থাকে, বাড়ায় শুভকামনা-দান।
অন্যের সুখে খুশি হওয়া ঈমানেরই রূপ,
অন্যের দুঃখে পাশে থাকা মানবতার ধ্রুব।

কারও ব্যর্থতায় হাসি নয়, সান্ত্বনা দাও তাকে,
ভুল করলে সুন্দর ভাষায় সত্যটি বোঝাও তাকে।
হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, নয় পরনিন্দা-গান,
সবার জন্য কল্যাণ চাওয়া মুমিনের পরিচয় মহান।

এসো তবে অন্তর ধুই কুধারণার ময়লা,
ভালোবাসার আলো জ্বালি, মুছে দিই সব কালো।
দোষের খোঁজে নয়, বরং ভালো দিকটি দেখি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকেও ন্যায়ের পথটি রাখি।

প্রমাণ ছাড়া কারও নামে রায় যেন না দিই,
গুজব শুনে সত্য ভেবে অন্যের ক্ষতি না করি।
প্রয়োজনে তার সঙ্গে গিয়ে শান্তভাবে কথা বলি,
ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ভালোবাসা ঢালি।

সুধারণা থাকুক মনে, সত্য থাকুক মুখে,
ন্যায় থাকুক কর্মে আমাদের, দয়া থাকুক বুকে।
ক্ষমা থাকুক আচরণে, সতর্কতা সাথে,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক জীবনের প্রতিটি পথে।

যে সমাজে মানুষ মানুষকে সম্মান করে,
ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে বিপদে পাশে ধরে,
সেখানে থাকে শান্তি, থাকে ঐক্যের গান,
সেখানে মানুষ পায় মানুষে আপনজনের প্রাণ।

কুধারণার দেয়াল ভেঙে সুধারণার সেতু গড়ি,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে ভালোবাসার পথ ধরি।
গীবত, অপবাদ, গুজব ছেড়ে সত্যের আলো জ্বালি,
মানবতার পবিত্র পথে সবাই মিলে চলি।

পরিবার হবে শান্তিময়, বন্ধুত্ব হবে দৃঢ়,
শিক্ষাঙ্গনে জ্ঞানের আলো ছড়াবে সুদূর নীল।
কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতায় সাফল্য আসবে ঘরে,
সুধারণার সুবাস ছড়াক সমাজজুড়ে ভরে।

মনে রাখিঅন্যের অন্তর আমাদের জানা নয়,
অন্তরের সব গোপন কথা আল্লাহই শুধু রয়।
তাই বাহ্যিক কোনো ঘটনায় চূড়ান্ত রায় নয়,
সত্য যাচাই, ন্যায়বিচারমুমিনেরই জয়।

সুধারণা হোক আমাদের অন্তরের অলংকার,
সত্য-ন্যায় হোক জীবনের পথের দিশারী তার।
কুধারণার অন্ধকারে হারাব না আর মন,
আল্লাহর ভয়ে রাখব পবিত্র হৃদয়-প্রাণ।

এসো সবাই অঙ্গীকার করিসত্যের পথে চলব,
অমূলক সব সন্দেহ ছেড়ে ভালোবাসা বলব।
মানুষের মান রক্ষা করে গড়ব সুন্দর দেশ,
সুধারণার আলোয় মুছে যাক কুধারণার রেশ।

এসো সবাই হাতে হাত রেখে গড়ি এমন সমাজ,
যেখানে থাকবে ন্যায়নীতি, থাকবে না কোনো লাজ।
ভালোবাসা, বিশ্বাস, দয়া হবে জীবনের গান,
মানুষ হবে মানুষের তরেএটাই হোক মহান।

আল্লাহ আমাদের অন্তর করুন পবিত্র, নির্মল,
কুধারণার কালো ছায়া থেকে রাখুন চিরতরল।
সত্যের পথে চলার তাওফিক দিন প্রতিদিন,
সুধারণার আলোয় ভরে উঠুক জীবন নবীন।

পরিবারে শান্তি আসুক, সমাজে আসুক মৈত্রী,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাঁধা হোক মানবতার যাত্রী।
গীবত, অপবাদ, হিংসা দূরে যাক সবখান,
সুধারণার ফুল ফুটুকহাসুক বিশ্বমানব-প্রাণ।

সুধারণা হোক হৃদয়ের আলো,
সত্যের পথে চলা;
ভালোবাসায় ভরে উঠুক
জীবন, সমাজ, ভুবনতলা।

কুধারণা নয়সুধারণা চাই,
ন্যায়ের পথে চলি;
মানুষের তরে মানুষ হয়ে
কল্যাণের দীপ জ্বালি।

এই হোক আমাদের জীবনের পবিত্র অঙ্গীকার,
সুধারণায় গড়ব আমরা সমাজের ভিত্তি আর।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে আমাদের জীবনের লক্ষ্য,
সত্য, ন্যায়, মমতা দিয়ে গড়ব সুন্দর ভবিষ্যৎ
সুধারণার আলোয় একদিন হাসবে মানবধাম
ভালোবাসা, শান্তি, ভ্রাতৃত্বে ভরে উঠবে বিশ্বগ্রাম।

মন্তব্য করুন