Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

টেস্টে অকৃতকার্য হলে এসএসসি পরীক্ষায় বাধা দিতে পারে স্কুল?
Bikash to get government education stipends (300x250)
Presidency University admission (300x250) 20-08-26

টেস্টে অকৃতকার্য হলে এসএসসি পরীক্ষায় বাধা দিতে পারে স্কুল?

এসএসসি ও এইচএসসির নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

#এসএসসি পরীক্ষা #টেস্ট পরীক্ষা

এসএসসি ও এইচএসসির নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করলে মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই, তবে এর কঠোর প্রয়োগের ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসাই হয় না—যার ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ছে।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে অংশগ্রহণকারী ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তবে জানা যায়, ওই স্কুলে দশম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা ১০৩ জন শিক্ষার্থীকে মূল পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। কেবল নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় এই শতভাগ সাফল্য এসেছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়মবহির্ভূত কোনো কৌশল নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে স্কুলটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার সুযোগ কি একটি স্কুলের রয়েছে? এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম কী?

AIUB (300x250) 25-08-26

বাংলাদেশে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার মান যাচাই করে দেখতে স্কুল থেকে টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা আছে, বোর্ড অনুমোদিত কোনো বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষাক্রম শেষ করার পর ওই বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।’

সেখানে স্পষ্ট করে এও লেখা রয়েছে, বোর্ডের কেবলমাত্র বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীরাই পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবে।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জারি করা একটি বিশেষ আদেশে এসএসসি ও এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্র বা খাতা পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করারও আদেশ দেওয়া হয় তখন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, টেস্ট পরীক্ষায় পাস করতে হবে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানের ইন্টেনশন থাকে যে যারা জিপিএ-৫ পাবে না, তাদেরকে ইচ্ছে করে ফেল দেখাব, যাতে ফরম পূরণ করতে না পারে।

এই বিষয়টিকে তিনি ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বোর্ড কোনো র‍্যাংকিং করে না, গত তিন বছরেও করেনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদেরকে সেরা দেখানোর জন্য এটা করে। নিজেকে সেরা দেখালে সেরা শিক্ষার্থীগুলো পাবে। বেতন বেশি নিতে পারবে। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করে, তখন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পাঠদানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরের পর বছর বেতন-ভাতা নিয়ে কেন-ই বা উপরের ক্লাসে তোলা হলো, সেটিও তখন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি জানান, তারপরও কোনো শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে তার পুনরায় (রিটেক) একাধিকবার টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষমতাও ওই প্রতিষ্ঠানের হাতে আছে।

মন্তব্য করুন