সহকারী অধ্যাপক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
ইসলাম প্রগতির অন্তরায় নয় - মোঃ মুজিবুর রহমান
ইসলাম প্রগতির অন্তরায় নয়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
আকাশজুড়ে জ্ঞানের আলো, বিশ্বজুড়ে প্রাণ,
স্রষ্টার দানে মানুষ পেল বুদ্ধি-বিবেক-জ্ঞান।
চিন্তার শক্তি, গবেষণার দ্বার—খুলে দিলেন তিনি,
সত্য খুঁজে চলার পথে মানুষ হলো ঋণী।
পৃথিবী হলো মানুষের জন্য বাসযোগ্য এক ঘর,
কল্যাণ সাধন, গঠন-কর্মে ডাকছে নিরন্তর।
জ্ঞানচর্চা আর গবেষণাতে সভ্যতারই জয়,
সৃজনশীল কর্মে গড়ে উন্নত মানবময়।
তবু কেন কেউ বলে—ইসলাম প্রগতির বাধা?
এ যে শুধু ভুল ধারণা, সত্য থেকে সরে যাওয়া।
ইসলাম তো অজ্ঞতারই অন্ধকারে নয়,
জ্ঞান-আলোয় মানুষ গড়ার মহান শিক্ষা দেয়।
প্রথম ওহির প্রথম বাণী—শুনো হৃদয় ভরে,
“ইকরা”—পড়ো! জ্ঞানের ডাক উঠল বিশ্বজুড়ে।
যে ধর্মেরই সূচনা হয় পড়ার আহ্বানে,
সে ধর্ম কি বাধা হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের গানে?
পড়ো—তোমার প্রতিপালকের পবিত্র নামে,
জ্ঞান যেন যায় সত্য-ন্যায়ের কল্যাণধামে।
কলম হলো জ্ঞানের বাহন, শিক্ষার দীপশিখা,
জ্ঞান দিয়ে মানুষ যেন সত্যের পথে শেখে দীক্ষা।
প্রগতি মানে সামনে যাওয়া, উন্নতিরই নাম,
শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প—উন্নয়নের ধাম।
যোগাযোগ আর প্রযুক্তি, গবেষণার জয়,
মানুষের জীবন সহজ হলে প্রগতিরই পরিচয়।
সেতু হবে, অট্টালিকা উঠবে আকাশ ছুঁয়ে,
নতুন নতুন প্রযুক্তি আসবে পৃথিবীজুড়ে।
কিন্তু যদি ন্যায় না থাকে, সততা যায় হারি,
তবে সে উন্নয়ন কি আর কল্যাণ বয়ে আনি?
সম্পদ বাড়ে, অথচ যদি দরিদ্র কাঁদে পাশে,
অট্টালিকা উঠেও যদি অধিকার যায় নাশে,
প্রযুক্তি যদি মিথ্যা ছড়ায়, বাড়ায় শুধু ভয়—
সে উন্নয়ন পূর্ণ প্রগতি—ইসলাম তা নয়।
জ্ঞান যদি চরিত্রহীন হয়, অহংকারে ভরে,
শক্তি যদি অন্যায় করে দুর্বল মানুষ ধরে,
বিজ্ঞান যদি ধ্বংস আনে, শান্তি করে ক্ষয়—
সে অগ্রগতি নয় তো প্রভু, অকল্যাণময়।
জ্ঞান হবে, নৈতিকতা থাকবে তারই সাথি,
বিজ্ঞান হবে মানবসেবার কল্যাণের বাতি।
প্রযুক্তি হবে সত্য-ন্যায়ের সহায়ক নিরন্তর—
এমন প্রগতিই তো চায় ইসলাম সুন্দর।
জ্ঞানী আর জ্ঞানহীন কি সমান কোনো কালে?
জ্ঞান তো মানুষকে উন্নত করে সত্যের আলোয় ঢালে।
অজ্ঞতার ঘন আঁধার কেটে জ্ঞানের দীপ জ্বালো,
সত্যকে চিনে, মিথ্যা ছেড়ে আলোর পথে চলো।
আকাশ দেখো, পৃথিবী দেখো, দেখো রাতের দিন,
বৃষ্টিধারা, ফুলের সুবাস, সবুজ অরণ্য ঋণ।
সাগরের ঢেউ, নক্ষত্রমালা, প্রাণের সৃষ্টি রহস্য,
চিন্তা করে খুঁজে দেখো স্রষ্টার মহিমা অসীম।
চোখ মেলে দেখো বিশ্বজগৎ, ভাবো আপন মনে,
কত নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ধরার কোণে কোণে।
জ্ঞান বাড়িলে বিনয় বাড়ুক—এটাই হোক ব্রত,
সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষ নম্র হয় অবিরত।
জ্ঞান তো নয় অহংকারের উঁচু কোনো মিনার,
জ্ঞান হলো মানুষের সেবার পবিত্র অঙ্গীকার।
নিজে শিখে অন্যকে শেখাও, দূর করো অন্ধকার,
জ্ঞান দিয়ে গড়ো পৃথিবী—সুন্দর, শান্ত, উদার।
তলোয়ার নয়, কলম জাগায় সভ্যতারই প্রাণ,
কলম ধরে লেখা হয়েছে মানুষের ইতিহাস-জ্ঞান।
গ্রন্থ রচে, জ্ঞান সংরক্ষণে, শিক্ষা দেয় কলম,
সভ্যতারই অগ্রযাত্রায় কলম মহত্তম।
একটি কলম খুলে দিতে পারে জ্ঞানের দ্বার,
একটি বই বদলে দিতে পারে জীবনধারার ভার।
একটি গবেষণা আনতে পারে নতুন দিনের আলো,
একটি আবিষ্কার মানুষের জীবন করতে পারে ভালো।
তাই পড়ো, লিখো, শিখো সবাই, গবেষণাতে যাও,
সত্যের পথে অর্জিত জ্ঞান মানবসেবায় দাও।
কলম হোক সত্যের সাথি, মিথ্যার বিরুদ্ধে ঢাল,
জ্ঞান-আলোয় আলোকিত হোক পৃথিবীর প্রতিটি কাল।
ইসলাম বলে—সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবো মনে,
সত্য অনুসন্ধান করো জ্ঞান-গবেষণায় ধনে।
আকাশ-পৃথিবী, দিন-রাত্রি, সাগর-বৃষ্টি-ধারা,
সবকিছুতেই চিন্তার জন্য রয়েছে কত ইশারা।
বিজ্ঞান মানে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা আর জ্ঞান,
যুক্তি দিয়ে সত্য খোঁজা, গবেষণার অভিযান।
মানুষেরই জীবনযাত্রা সহজ করার তরে,
বিজ্ঞানী আজ নতুন পথের সন্ধান করে।
চিকিৎসা রোগ সারায় এসে, কৃষি ফলন বাড়ায়,
প্রকৌশল জীবনযাত্রা সহজ করে যায়।
তথ্যপ্রযুক্তি দূরকে আনে মুহূর্তেরই কাছে,
জ্যোতির্বিজ্ঞান মহাকাশের রহস্য খুঁজে যাচে।
বিজ্ঞান যদি মানুষেরই কল্যাণে হয় নিয়োজিত,
জীবন যদি হয় তাতে সুন্দর, নিরাপদ, উপকৃত,
তবে জ্ঞানকে বাধা দেবে—এমন শিক্ষা কোথায়?
ইসলাম তো কল্যাণমুখী জ্ঞানচর্চারই সহায়।
জ্ঞান আর ঈমান—দুইটি নয় পরস্পরের শত্রু,
সত্য জ্ঞানেই চিনতে শেখে মানুষ স্রষ্টার মহত্ত্ব।
যত জানো, ততই বোঝো—জ্ঞান সীমাহীন নয়,
নিজের সীমা বুঝে মানুষ বিনয়ী হতে হয়।
জ্ঞান যদি দেয় অহংকার, সে জ্ঞান অসম্পূর্ণ,
জ্ঞান যদি দেয় মানবসেবা, তবেই তার গুণ পূর্ণ।
জ্ঞান যদি সত্য চিনিয়ে দেয়, মুছে মিথ্যার ভয়,
সে জ্ঞানই তো মানুষ গড়ার আলোকময় জয়।
ঈমান দেবে নৈতিকতা, জ্ঞান দেবে পথ,
দুইয়ের মিলেই মানুষ পাবে সুন্দর জীবনের রথ।
বিজ্ঞান দেবে কর্মদক্ষতা, নীতি দেবে মান,
এই সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আদর্শ মানবপ্রাণ।
ইতিহাসের পাতায় দেখো জ্ঞানের কত ফুল,
মুসলিম জ্ঞানীর গবেষণাতে বিশ্ব হলো কূল।
অনুবাদ আর গ্রন্থ রচনায় জ্বলে জ্ঞানের শিখা,
সভ্যতারই অগ্রযাত্রায় তারা দিল দীক্ষা।
আল-খাওয়ারিজমি গণিতেরই জগৎ করলেন সমৃদ্ধ,
বীজগণিতের বিকাশে তাঁর অবদান অনবদ্য।
সংখ্যা আর হিসাবের জগৎ পেল নতুন প্রাণ,
তাঁর গবেষণা বিশ্বজুড়ে রাখল অবদান।
ইবন সিনা চিকিৎসাক্ষেত্রে জ্ঞানের দীপ জ্বালেন,
রোগের কারণ, চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে কাজ করলেন।
শত শত বছর তাঁর গ্রন্থ পড়েছে জ্ঞানীজন,
চিকিৎসাবিজ্ঞানে রেখে গেলেন স্মরণীয় চিহ্ন।
আল-বিরুনি গবেষণাতে ছিলেন অগ্রগামী,
জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, গণিতে ছিলেন জ্ঞানী।
পৃথিবীর নানা রহস্য খুঁজে জ্ঞানের দ্বার খুলে,
বিশ্বসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার করলেন তিনি ফুলে।
ইবন আল-হাইসাম আলো নিয়ে গবেষণাতে নাম,
আলোকবিজ্ঞানের ইতিহাসে উজ্জ্বল তাঁর ধাম।
পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, যুক্তি—বৈজ্ঞানিক পথ,
জ্ঞানসাধনায় রেখে গেলেন অনন্য পরিচয়।
এমন আরও কত মনীষী জ্ঞানের প্রদীপ হাতে,
আলো ছড়ান বিশ্বজুড়ে যুগের পর যুগ রাতে।
ইতিহাস তাই সাক্ষ্য দেয়—জ্ঞানই শক্তি মহান,
শিক্ষা, গবেষণা, সাধনাতেই জাতির সম্মান।
শিক্ষার অধিকার জাগুক নারী-পুরুষ সবার,
জ্ঞানবঞ্চনা দূর হোক আজ পৃথিবীরই ঘর।
শিক্ষিত নারী পরিবারে জ্ঞানের আলো জ্বালে,
সন্তান গড়ে নৈতিকতায়, সত্যের পথ দেখালে।
আয়িশা (রা.) ছিলেন জ্ঞান ও হাদিসে মহীয়সী,
ফিকহের জ্ঞান, প্রজ্ঞার আলোয় ছিলেন খ্যাতিমান তিনি।
অনেক সাহাবি জ্ঞান নিয়েছেন তাঁরই কাছ থেকে,
নারীশিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জেগে আছে ইতিহাসে।
শালীনতা ও মর্যাদা রেখে শিক্ষা হোক প্রসারিত,
জ্ঞানচর্চার পথে নারী হোক সমানভাবে শক্তিমান।
পরিবার ও সমাজ গড়ায় নারী রাখে বড় ভূমিকা,
শিক্ষার আলোয় সুন্দর হোক তার জীবন-দীক্ষা।
ইবাদত শুধু ব্যক্তিজীবন ঘিরে নয় যে শেষ,
মানুষের হক আদায় করাও ইসলামেরই নির্দেশ।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, অসুস্থের সেবা করো,
দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার আলো ধরো।
এতিম শিশুর দায়িত্ব নাও, দরিদ্রকে দাও সহায়,
প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করো সদায়।
বিপদগ্রস্ত মানুষ দেখলে ফিরো না মুখ ঘুরিয়ে,
মানবতার হাত বাড়িয়ে দাও ভালোবাসা ছড়িয়ে।
নিজের জন্য যা ভালোবাসো, ভাইয়ের জন্য তাই,
এই মহান শিক্ষার চেয়ে সুন্দর শিক্ষা নাই।
সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব, দয়া—মানবতারই প্রাণ,
এই গুণেই সুন্দর হবে সমাজ ও দেশ-মহাদেশ-প্রাণ।
আধুনিক এই যুগে প্রযুক্তির জয়গান,
মুঠোফোনে বিশ্ব আজ যেন হাতের মুঠোয় প্রাণ।
ইন্টারনেটের বিস্তৃত পথে জ্ঞানের কত দ্বার,
দূরের মানুষ কাছে আসে, সহজ হয় যোগাযোগ আর।
মোবাইল দিয়ে কুরআন পড়ো, জ্ঞান অর্জন করো,
অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে নিজের জীবন গড়ো।
দূরদেশের শিক্ষক আজও হতে পারেন কাছে,
জ্ঞান আহরণের সুযোগ এখন সবার ঘরে আছে।
কিন্তু প্রযুক্তি যদি মিথ্যার বাহন হয়ে যায়,
অপবাদ আর অশ্লীলতায় মানুষের ক্ষতি চায়,
প্রতারণা আর গুজব ছড়িয়ে সমাজ করে ক্ষয়—
তবে সেই প্রযুক্তি আর কল্যাণের উপায় নয়।
প্রযুক্তি নিজে মন্দ নয়—ব্যবহারটাই মূল,
সৎ কাজে তার ব্যবহারেই সফলতার ফুল।
শক্তি যদি ভালো কাজে নিয়োজিত হয়,
তবে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা
এখন এলো নতুন যুগ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
জ্ঞান-বিশ্লেষণ, গবেষণাতে বাড়ছে তার ক্ষমতা।
চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগের কাজে,
নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে সবার মাঝে।
কিন্তু শক্তি যত বাড়ে, দায়িত্ব তত বাড়ে,
নৈতিকতার লাগাম চাই শক্তির ব্যবহারে।
মিথ্যা, প্রতারণা, ক্ষতি, অধিকারহানি করে
কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করো না অন্যের ঘরে।
মানুষের উপকার হোক প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য,
সত্য ও ন্যায় থাকুক তার ব্যবহারের পথ্য।
জ্ঞান যখন নীতির সঙ্গে মিলবে সুন্দর করে,
তখনই সে শক্তি হবে কল্যাণেরই তরে।
শুনলেই সব সত্য নয়—যাচাই করো আগে,
মিথ্যা সংবাদ ছড়িও না কোনো মানুষের ভাগে।
সামাজিক মাধ্যম আজ দিয়েছে দ্রুত খবর ছড়াবার পথ,
তাই তো বেড়েছে দায়িত্ব—সত্য যাচাইয়ের শপথ।
অযাচিত কোনো গুজব যদি ছড়িয়ে দাও তুমি,
কারও জীবন, মান-সম্মান হতে পারে ক্ষতি ভূমি।
একটি মিথ্যা বাক্য কত হৃদয়ে আনে ক্ষত,
সত্য যাচাই করে বলো—এই হোক দৃঢ় শপথ।
শেয়ার করার আগে ভাবো—সত্য কি এ কথা?
প্রমাণ কোথায়? নাকি শুধু গুজবেরই ব্যথা?
ইসলামের সত্যনিষ্ঠা হোক ডিজিটাল জীবনের নীতি,
তথ্য ব্যবহারে সতর্কতা গড়ুক সুন্দর রীতি।
বিজ্ঞান বলে—কীভাবে এক শক্তি তৈরি হয়,
নৈতিকতা প্রশ্ন তোলে—কাজটি ন্যায় কি নয়?
চিকিৎসা বলে রোগ সারানোর পথের সন্ধান,
নৈতিকতা শেখায় রোগীর প্রতি রাখতে সম্মান।
অর্থনীতি শেখায় সম্পদ সৃষ্টির কৌশল,
নৈতিকতা বলে—অন্যায় কোরো না, হও নির্মল।
প্রযুক্তি আনে দ্রুত যোগাযোগেরই গতি,
নৈতিকতা বলে—মিথ্যা নয়, সত্য হোক তার রীতি।
বিজ্ঞান যদি হয় জাহাজ, নীতি তারই হাল,
জ্ঞান যদি হয় শক্তি, নীতি তারই ঢাল।
দুটিকে যে মিলিয়ে নেয়, সে-ই সফল জাতি,
জ্ঞান ও নীতির মিলনেই আসে সত্য প্রগতি।
ইসলাম চায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাক ঘরে,
অজ্ঞতারই কালো মেঘ দূর হয়ে যাক ঝরে।
কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস হারিয়ে যাক দূরে,
সত্যের দীপ জ্বলে উঠুক মানুষের অন্তরে।
ইসলাম চায় চিকিৎসা হোক সবার নাগালের মাঝে,
শিক্ষার আলো পৌঁছে যাক প্রত্যন্ত গ্রামের কাজে।
দরিদ্র মানুষ সহায়তা পাক, অসহায় পাক ঠাঁই,
নারী-শিশুর মর্যাদা রক্ষায় কোনো ঘাটতি নাই।
ইসলাম চায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক দেশে,
মানুষ যেন নিরাপদ থাকে আপন ঘরে-ঘরে হেসে।
জীবন, সম্পদ, সম্মান—সব হোক নিরাপদ,
পরিবেশও রক্ষা পাক, সুন্দর হোক বিশ্বজগত।
উন্নতি হবে, কিন্তু সাথে দায়িত্বও বাড়বে,
শক্তিমান মানুষ দুর্বলের পাশে দাঁড়াবে।
দুনিয়ার কল্যাণের সাথে আখিরাতের জয়—
এই ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ইসলামেরই পরিচয়।
কোনো মানুষ ভুল করলে ইসলাম ভুল হয় না,
কোনো ব্যক্তি অজ্ঞ হলে সত্য অন্ধ হয় না।
কেউ যদি ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দেয়,
তার ভুলকে ইসলামের শিক্ষা বলা কি ন্যায় হয়?
গোঁড়ামি আর ইসলামকে এক করে দেখো না,
অজ্ঞতাকে ধর্মের নামে কখনো রেখো না।
ধর্মের নামে কুসংস্কার যেমন ঠিক নয় ভাই,
বিজ্ঞানের নামে নৈতিকতাহীন জীবনও ঠিক নয় তাই।
ইসলাম জ্ঞান থামায় না—জ্ঞানকে দেয় দিশা,
সত্য অনুসন্ধানের পথে শেখায় সঠিক শিক্ষা।
প্রশ্ন করো, চিন্তা করো, সত্য যাচাই করো,
জ্ঞানকে মানবকল্যাণের মহাপথে ধরো।
হে তরুণ, তোমার হাতে ভবিষ্যতের দেশ,
তোমার জ্ঞানে ফুটবে আগামী দিনের রেশ।
নিয়মিত পড়াশোনা করো, সময় কোরো মান,
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ো নিজের প্রাণ।
বিজ্ঞান শেখো, প্রযুক্তি শেখো, গবেষণাতে যাও,
সত্য যাচাই না করে কোনো কথা বিশ্বাস না করাও।
জ্ঞান যদি পাও, মানুষেরই কল্যাণে তা দাও,
অপব্যবহারের পথ ছেড়ে সত্যের পথে চাও।
সততা হবে হৃদয়জুড়ে, বিনয় হবে সাথি,
দায়িত্ববোধ, মানবপ্রেমে জ্বলুক মনের বাতি।
সৃজনশীল চিন্তা হোক তোমার জীবনের ধন,
জ্ঞানী হও, দক্ষ হও, সুন্দর করো মন।
শিক্ষক শুধু পরীক্ষারই নম্বর শেখান না,
শিক্ষার গভীর উদ্দেশ্য শুধু ফলাফলে থামে না।
শিক্ষক শেখান কীভাবে সত্য যাচাই করতে হয়,
কীভাবে প্রশ্ন, চিন্তা, গবেষণায় এগোতে হয়।
শুধু মুখস্থ নয়—চিন্তার শক্তি জাগাও,
অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় আনো।
সততা আর মানবিকতায় শিক্ষার্থীকে গড়ো,
জ্ঞান যেন মানুষের কাজে লাগে—সে শিক্ষা দাও আরো।
মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়,
জ্ঞান-নৈতিকতার মিলনেই আদর্শ শিক্ষালয়।
ধর্মীয় জ্ঞানের সাথে আধুনিক জ্ঞান হোক,
দক্ষতা আর মানবিকতার সুন্দর সমন্বয় হোক।
ঈমানে দৃঢ়, জ্ঞানে সমৃদ্ধ, চরিত্র হবে সুন্দর,
চিন্তায় মুক্ত, কাজে দক্ষ, হৃদয় হবে উদার।
মানুষের প্রতি কল্যাণকামী, সত্যভাষী প্রাণ,
দেশ ও সমাজ গড়ার তরে দেবে নিজের জ্ঞান।
কুরআন-হাদিস শিখবে যেমন, শিখবে বিজ্ঞানও,
গণিত, ভাষা, প্রযুক্তি—শিখবে প্রয়োজনও।
চিকিৎসা, কৃষি, অর্থনীতি, প্রকৌশলের জ্ঞান,
যে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই দেবে অবদান।
শুধু নিজের সাফল্য নয়, সমাজেরও জয়,
নিজের উন্নয়ন যেন সবার কল্যাণময় হয়।
এই শিক্ষাতেই গড়ে উঠুক আগামী দিনের মানুষ,
জ্ঞান ও ঈমানে সমৃদ্ধ, চরিত্রে হোক অনুপম।
কত সেতু, কত ভবন—শুধু তা নয় মান,
কত গাড়ি, কত প্রযুক্তি—শুধু তা নয় জ্ঞান।
মানুষ কত নিরাপদ, কত শিক্ষিত প্রাণ,
ন্যায়বিচার কত প্রতিষ্ঠিত—সেটিই বড় মান।
স্বাস্থ্যসেবা সবার আছে? শিক্ষা কি সবার দ্বার?
দরিদ্র মানুষের মুখে কি হাসি ফুটে বারবার?
নারী-শিশুর মর্যাদা কি নিরাপদ এই দেশে?
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত কি সমাজের পরিবেশে?
বিজ্ঞান আছে, কিন্তু যদি ন্যায় না থাকে কোথা,
সম্পদ আছে, মানবিকতা নেই—সে উন্নয়ন ব্যর্থতা।
প্রযুক্তি আছে, সত্য নেই—সে সমাজ অসম্পূর্ণ,
নৈতিকতার আলো ছাড়া উন্নয়ন নয় পূর্ণ।
জাগো মুসলিম, জ্ঞানকে আবার হৃদয়ের ধন করো,
গবেষণার নতুন পথে সাহস করে চলো।
গ্রন্থ পড়ো, কলম ধরো, জ্ঞানের সাগর পাড়ি,
অজ্ঞতার সব শৃঙ্খল ভেঙে দাঁড়াও ভারী।
অনুবাদ করো, গবেষণা করো, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি,
সত্যের পথে অবিচল হও, দূর করো সব ভ্রান্তি।
শিক্ষালয়ে আলো জ্বালো, গবেষণাগার গড়ো,
জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতায় বিশ্বমাঝে চড়ো।
যে জাতি জ্ঞানকে মানে, সে জাতি ওঠে জেগে,
শিক্ষার শক্তি জাতিকে তোলে উন্নতিরই বেগে।
জ্ঞানচর্চা যখন কমে, দুর্বল হয় সমাজ,
তাই তো শিক্ষা-গবেষণাতেই পুনর্জাগরণের কাজ।
দুনিয়ার উন্নতি চাই, চাই আখিরাতের জয়,
জ্ঞান হোক সত্যের সাথি, কর্ম হোক কল্যাণময়।
শুধু ভোগের উন্নয়ন নয়, চাই নৈতিক প্রাণ,
মানুষ যেন মানুষ থাকে—এই হোক অভিযান।
বিজ্ঞান হাতে শক্তি দেবে, ঈমান দেবে ভয়,
আল্লাহর কাছে জবাবদিহি মনে রাখলে হয়।
ক্ষমতা পেয়ে অন্যায় নয়, সেবা হবে কাজ,
মানুষেরই কল্যাণে কাটুক জীবনের প্রতিটি সাজ।
জ্ঞান হবে, প্রযুক্তি হবে, হবে উন্নয়ন,
কিন্তু হৃদয়ে থাকবে নীতি, থাকবে সংযম-মন।
এই পথেই দুনিয়া সুন্দর, আখিরাতও শুভ—
জ্ঞান-ঈমানের সমন্বয়ে জীবন হবে মধু।
এসো তবে জ্ঞানের পথে সবাই হাতে হাত ধরি,
অজ্ঞতার সব কালো মেঘ জ্ঞানের আলোয় সরি।
সত্য, ন্যায় ও মানবতার পতাকা হাতে তুলি,
বিজ্ঞানকে কল্যাণের পথে নিয়োজিত করি।
কলম হোক সত্যের অস্ত্র, বই হোক জ্ঞানের দ্বার,
গবেষণা হোক উন্নতিরই আলোকিত অঙ্গীকার।
প্রযুক্তি হোক সেবার বাহন, মিথ্যার নয় সাথি,
মানবতারই কল্যাণে জ্বলুক জ্ঞানের বাতি।
মসজিদ থেকে জ্ঞানের ডাক, বিদ্যালয়ে আলো,
গবেষণাগারে সত্য খোঁজা—সবই হোক ভালো।
হাতে আধুনিক প্রযুক্তি, মনে রবের ভয়,
চিন্তায় জ্ঞান, কাজে সততা—এ জীবনই তো জয়।
ইসলাম কোনো অগ্রগতির অন্তরায় নয়,
ইসলাম জ্ঞান-আলোর পথে মানবতারই জয়।
অজ্ঞতার অন্ধকারে ইসলাম দেয় না ঠাঁই,
সত্য-জ্ঞান আর ন্যায় ছাড়া ইসলামের পথ নাই।
“ইকরা”—পড়ো! সেই আহ্বান আজও বাজে কানে,
জ্ঞানার্জনের মহাসড়ক খুলে দেয় প্রাণে।
সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করো, সত্য অনুসন্ধান করো,
অর্জিত জ্ঞান মানবতার কল্যাণে অর্পণ করো।
ইসলাম চায় জ্ঞান বাড়ুক, নীতি থাকুক সাথে,
বিজ্ঞান হোক মানুষেরই কল্যাণেরই পথে।
প্রযুক্তি হোক সত্যের বাহন, মিথ্যার নয় জয়,
উন্নয়ন হোক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণময়।
ইসলাম চায় নারী-শিশুর মর্যাদা অটুট থাক,
দরিদ্রের মুখে হাসি ফুটুক, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হোক।
পরিবেশ হোক সুরক্ষিত, নিরাপদ হোক প্রাণ,
জ্ঞানী, সৎ, দায়িত্বশীল হোক প্রতিটি মানবপ্রাণ।
ইসলাম উন্নয়নের শত্রু নয়—
অজ্ঞতার অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জয়।
ইসলাম বিজ্ঞানকে ভয় করে না—
মানবকল্যাণে বিজ্ঞানকে পথ দেখাতে চায়।
ইসলাম জ্ঞানকে থামায় না—
সত্য ও ন্যায়ের সাথে জ্ঞানকে যুক্ত করে।
ইসলাম চিন্তার দ্বার বন্ধ করে না—
সত্য অনুসন্ধানে মানুষকে দায়িত্বশীল করে।
জ্ঞান যেখানে নীতির সাথি,
বিজ্ঞান যেখানে মানবতার বাতি,
প্রযুক্তি যেখানে কল্যাণের বাহন,
সততা যেখানে জীবনের সাধন—
সেখানেই প্রগতির সত্য পরিচয়,
সেখানেই মানুষের প্রকৃত জয়।
দুনিয়ার কল্যাণ, আখিরাতের আলো—
এই পথেই হোক আমাদের চলা ভালো।
জ্ঞান হোক শক্তি, নীতি হোক প্রাণ,
মানবসেবায় দিই অর্জিত জ্ঞান।
ঈমানের আলোয় গড়ি নতুন সমাজ—
সত্য ও ন্যায়ে হোক তার সাজ।
ইসলাম প্রগতির অন্তরায় নয়—
জ্ঞান-বিজ্ঞান-মানবকল্যাণের পথপ্রদর্শক হয়।
আলো থেকে আলো জ্বালো, দূর করো সব ভয়—
জ্ঞান, নীতি, মানবতায় গড়ো বিশ্বময় জয়।
১৪
২৪ মন্তব্য