সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা—আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এই সময়সূচি যেন এক অলিখিত পাথর! অথচ একটু গভীরভাবে ভাবলেই বোঝা যায়, শিক্ষার্থীদের মেধা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার জন্য এই সময়সূচিই যথেষ্ট।
গ্রামাঞ্চলের এক শিফটের বিদ্যালয়গুলোতে এখনো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। কিন্তু এই ৬ ঘণ্টা বাস্তবে শিক্ষার্থীদের কতটা উপকারে আসছে?
প্রাইভেটের বলি সাধারণ শিক্ষা: সকাল ৭টা-৮টা থেকে প্রাইভেট পড়ে এবং পড়িয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক উভয়েই ক্লাসে আসার আগেই পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। ফলে প্রাইভেট হয়ে যায় মূল কেন্দ্র, আর স্কুল হয়ে যায় কেবল হাজিরা দেওয়ার জায়গা।
ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি: বাড়ি থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরা দুপুরে টিফিন হিসেবে পায় সিঙ্গাড়া, ঝালমুড়ি কিংবা অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া। দিনের প্রধান সুষম খাবার থেকে তারা বঞ্চিত হয়, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে তাদের মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিতে।
অসহ্য গরমে মনযোগের অভাব: আমাদের দেশের জলবায়ু অনুযায়ী দুপুরের পর গরম চরম আকার ধারণ করে। যোহরের পরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী—কারোরই ন্যূনতম মনোযোগ বা একাগ্রতা থাকে না।
দিনের প্রতিটি অংশের অপচয়: ১০টা-৪টার ছকে আটকা পড়ে সকাল, দুপুর কিংবা বিকেল—কোনো সময়কেই শিক্ষার্থী তার নিজের মেধা বিকাশ, খেলাধুলা বা পরিবারের কাজে লাগাতে পারে না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ব্যবস্থার এই পরিবর্তন অনেকেই চান না। বিশেষ করে যারা সকালে প্রাইভেট বাণিজ্যে যুক্ত কিংবা যারা শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা, দোকান বা কৃষিকাজ শেষ করে স্কুলে যান।
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা বা ২টা পর্যন্ত একটানা ক্লাস পরিচালিত হলে সকালে তাজা মন নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন শিখতে পারবে, তেমনি দুপুরে ঘরে ফিরে পুষ্টিকর খাবার, বিশ্রাম ও বিকেলে খেলার সুযোগ পাবে।
মান্ধাতা আমলের এই ব্যর্থ সময়সূচির আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
১৪
২৪ মন্তব্য