সহকারী শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক

ঢাকা ছেড়ে বের হতে গেলে কোনো না কোনো নদী পার হতেই হয়। বেশ কিছু নদী ঢাকা শহরকে ঘিরে আছে। যেমন গাবতলী থেকে যেকোনো বাস উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে প্রথমেই গাবতলী ব্রিজ পার হতে হবে। গাবতলী ব্রিজ তুরাগ নদের ওপর অবস্থিত। তুরাগ নদ ধরে কিছুটা বসিলার দিকে এগোলে সামনে পড়বে বুড়িগঙ্গা নদী। আমাদের চারপাশে এভাবেই ছড়িয়ে আছে নদী। আবার ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম যেতে হলে মেঘনা নদী পার হতে হবে। ঢাকা থেকে বরিশালে নদীপথে গেলে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, মেঘনা হয়ে তবেই যাওয়া যাবে। মানচিত্র দেখলে নদীগুলো সহজেই চোখে পড়ে। নদীর ধারাগুলো অনুসরণ করে সহজেই সামনে এগোনো যায়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী—সব কটি নদী মুন্সিগঞ্জে গিয়ে একসঙ্গে মিলেছে।
পৃথিবীর প্রায় সব নদীর নেটওয়ার্ক দেখতে একই রকম। ছোট ছোট নদী ও খাল একে অন্যের সঙ্গে মিশে বড় হয়। তারপর আরও বড় নদীতে গিয়ে মেশে। এভাবে নিচের দিকে, মানে সমুদ্রের দিকে নদীগুলো এগিয়ে যায়। আমাদের দেশের নদীগুলো এভাবেই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।
নদীর এই নকশা দেখতে অনেকটা গাছের ডালপালার মতো। গাছের শিকড়ের সঙ্গেও এর মিল আছে। আবার পাতার শিরার সঙ্গে, আমাদের শরীরের রক্তনালি কিংবা শহরের রেলপথ ও মহাসড়কের নেটওয়ার্কের সঙ্গেও নদীর এই শাখা-প্রশাখার মিল পাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে বরিশালে নদীপথে গেলে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, মেঘনা হয়ে তবেই যাওয়া যাবে। মানচিত্র দেখলে নদীগুলো সহজেই চোখে পড়ে। নদীর ধারাগুলো অনুসরণ করে সহজেই সামনে এগোনো যায়।
নদীর এই নকশার মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তবে কিছু বিশৃঙ্খলাও এর মধ্যে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নদীবিজ্ঞানী ক্রিস পাওলা বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, নদী, পাতার শিরা বা এ ধরনের শাখা-প্রশাখার নেটওয়ার্কের নকশা আমরা মোটামুটি বুঝতে পারি। কিন্তু এর মধ্যে আবার এমন এক বিশৃঙ্খলা আছে, যা পুরোপুরি বোঝা যায় না। এ ব্যাপারটিই নদীকে এত আকর্ষণীয় করে তোলে!
এ ধরনের শাখা-প্রশাখার নেটওয়ার্ককে বিজ্ঞানীরা বলেন পরিবহন নেটওয়ার্ক। এর কাজ হলো কোনো তরল পদার্থ, যেমন পানি বা রক্ত বা অন্য কোনো জিনিসকে অনেকগুলো জায়গা থেকে সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। নদী বৃষ্টির পানি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে শেষ পর্যন্ত সমুদ্র বা হ্রদে পৌঁছে দেয়। রক্তনালি শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তকে হৃদ্যন্ত্রে নিয়ে যায়। আবার সড়ক মানুষকে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে একটি কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
এসব উদাহরণের মধ্যে নদী এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। কারণ, নদী কোনো জীবের বিবর্তনের ফল নয়। আবার কোনো শহরের পরিকল্পনাকারীও নদীর নকশা তৈরি করেননি। পৃথিবীর নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নদীর সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি, মহাকর্ষ এবং পানি, মাটি ও পাথরের ক্ষয়; সব মিলে তৈরি হয় নদীর পথ। তারপরও নদীগুলো কিছু সহজ ও প্রায় সর্বজনীন নিয়ম মেনে চলে।
৪
৪ মন্তব্য