Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

পেছনে পড়ার ও আনন্দ আছে!

পেছনে পড়ারও আনন্দ আছে!


আমাদের সন্তানদের যেন খুব সকালেই ভোর হয়ে যায়। ঠিক ভোর হওয়ার আগেই তারা জেগে ওঠে—ছুটতে হবে, সবার আগে যেতে হবে, অন্যদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের যেন সব সময় প্রমাণ করতে হবে—তারা ফার্স্ট, তাদেরই এগিয়ে থাকতে হবে।

কিন্তু কেন জানি, এই দৌড়ের সঙ্গে আমার একটু মতের অমিল আছে।

পেছনে পড়লে কি সত্যিই সব শেষ হয়ে যায়?

একবার পিছিয়ে পড়লেই কি জীবনের পথ বন্ধ হয়ে যায়?

একটি গাছের দিকে তাকান। গাছটি রোপণ করার পর সে শুধু বড় হতে থাকে। কখনো আলো কম পায়, কখনো ছায়ায় পড়ে, কখনো ঝড়ে তার ডাল ভেঙে যায়, কখনো চারপাশে আগাছা জন্মায়। তবুও সে থেমে থাকে না। একটু বাঁকা হয়ে, একটু ধীরে—তবুও সে বড় হয়। একদিন সে-ই হয়তো অন্যদের ছায়া দেয়।

জীবনও অনেকটা তেমনই।

সব সময় সবার আগে থাকতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। পেছনে পড়ে গেলেও কাজে মন দিতে হবে, নিজের কাজটা নিবিড়ভাবে করে যেতে হবে। কারণ জীবন কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়; জীবন নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই।

পেছনে পড়ে গেলে বুকের ভেতর অকারণে ধুকধুক করার কী আছে? কেউ এসে জিজ্ঞেস করবে না—‘তুমি পিছিয়ে পড়লে কেন?’ কিংবা ‘যে তোমাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল, সে তো তোমাকে পরাজিত করেছে!’

না, জীবন এমন নয়।

বরং পেছনে পড়ার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ আছে। সেই আনন্দ হলো নিজের গতিতে বেড়ে ওঠার আনন্দ। চারপাশের ময়লা-আবর্জনা, অবহেলা, ব্যর্থতা, হতাশা—সবকিছুকে পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে নিজের পথ তৈরি করার আনন্দ।

জীবনে অনেক কথা শুনতে হবে। কেউ জ্ঞান দেবে, কেউ উপদেশ দেবে, কেউ বকবে, কেউ গালি দেবে, কেউ হয়তো তোমার অক্ষমতার হিসাবও দেবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—এই পৃথিবীতে ‘তুমিও পারবে’ বলার মানুষের বড় অভাব।

অথচ একটু সাহস দিলে, একটু ভালোবাসা দিলে, একটু সময় দিলে, একটু মন দিয়ে পাশে দাঁড়ালে—পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল ছাত্রটিও একদিন ভালো করতে পারে।

তাই সন্তানকে শুধু ‘ফার্স্ট হতে হবে’ বলবেন না।

বলুন—‘তুমি তোমার মতো করে এগিয়ে যাও।’

বলুন—‘আজ না পারলে কাল পারবে।’

বলুন—‘অন্যের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো।’

আর সবচেয়ে বেশি করে বলুন,

‘তুমিও পারবে।’

কারণ এই ছোট্ট তিনটি শব্দ কখনো কখনো একটি শিশুর পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

সত্যিই, এই সমাজে জ্ঞান দেওয়ার মানুষের অভাব নেই; কিন্তু ‘তুমিও পারবে’—এই কথাটি বলার মানুষের বড্ড বেশি অভাব।

মন্তব্য করুন