সহকারী শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাওয়া পুথিপাঠের আসর
হারিয়ে যাওয়া পুথিপাঠের আসর
পাবনার চাটমোহরে বসেছিল হারিয়ে যাওয়া পুথিপাঠের আসর। প্রায় তিনশো বছর আগে মুসলিম সমাজে সৃষ্টি হওয়া এক বিশেষ সাহিত্যধারা ও লোকসাহিত্যের ভাষা—পৃথিপাট—কালের পরিক্রমায় আজ প্রায় বিলুপ্ত। তার ঠাঁই হয়েছে পুরোনো বইয়ের পাতায়, স্মৃতিতে আর ইতিহাসের খাতায়।
কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সেই ঐতিহ্যকে আবারও মানুষের সামনে ফিরিয়ে আনতে চাটমোহরের এক সাহিত্যপ্রেমী তরুণের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সোনাহার পাড়ায় বসেছিল এক অনবদ্য পৃথিপাটের আসর।
রাত তখন প্রায় নয়টা। কিতাবপ্রেমী এক পরিবারের বাড়ির উঠোনে মাদুর বিছিয়ে গোল হয়ে বসেছিলেন নানা বয়সের মানুষ। আকাশে ছিল চাঁদের মায়াবী আলো, আর উঠোনের একপাশে কুপিবাতির নিভু নিভু আলো। সেই আবছা আলো-আঁধারির মধ্যে গায়েন যখন মায়াবী সুরে পৃথিপাট পরিবেশন শুরু করলেন, তখন যেন কয়েকশো বছর আগের কোনো এক সময় ফিরে এলো আমাদের সামনে।
শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন হারিয়ে যাওয়া সেই শব্দ, সুর আর গল্পের বয়ান। চারপাশের নীরবতা, কুপিবাতির আলো, চাঁদের আভা আর গায়েনের কণ্ঠ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক অপূর্ব আবহ।
সত্যিই, এমন একটি আসর শুধু গান বা সাহিত্য শোনার আসর নয়; এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক অপূর্ব সুযোগ। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের লোকসাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এই ছোট ছোট প্রচেষ্টাই হয়তো একদিন আমাদের লোকসংস্কৃতির অমূল্য সম্পদকে আবারও মানুষের হৃদয়ে ফিরিয়ে আনবে।
৭
৭ মন্তব্য