সহকারী অধ্যাপক
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
সন্তান আল্লাহর আমানত - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সন্তান আল্লাহর আমানত
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
সন্তান আল্লাহর দান, অমূল্য আমানত,
তাদের মাঝে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের প্রভাত।
শিশুর হাসি ঘরে আনে আনন্দেরই ঢেউ,
সঠিক পথে গড়লে তাদের হার মানাবে কে?
আজ যে শিশু ছোট্ট কুঁড়ি, আগামী দিনের ফুল,
তার হাতেই গড়ে উঠবে পৃথিবী নির্মল-কূল।
কেউ হবে জ্ঞানী, কেউ আলেম, শিক্ষক মহান,
কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী—করবে দেশের কল্যাণ।
কেউ হবে কৃষক, গবেষক, সমাজসেবক জন,
কেউ হবে ন্যায়পথের সাহসী পথপ্রদর্শন।
কেউ গড়বে শিল্প, কেউ বিজ্ঞান, কেউ করবে আবিষ্কার,
সৎ মানুষের কর্মে ভরে উঠবে দেশবারবার।
তাই শুধু সন্তান জন্ম দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
সৎ মানুষ গড়ার সাধনাতেই অভিভাবকের জয়।
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান—এসব অবশ্যই চাই,
কিন্তু শুধু দেহের যত্নে পূর্ণ দায়িত্ব নাই।
ঈমান দাও, আদব দাও, দাও জ্ঞানের আলো,
সত্য-ন্যায়ের পথ দেখিয়ে মানুষ করো ভালো।
হৃদয়ে ঈমান, মুখে সত্য, কাজে আমানত,
এভাবেই গড়ে উঠুক শিশুর পবিত্র জীবন-ভুবন।
সন্তান কোনো সম্পদ নয়, রবের দেওয়া দান,
তাদের প্রতি দায়িত্ব তাই পবিত্র এক আমান।
রহমতের উপহার তারা, আল্লাহরই নিদর্শন,
তাদের সঠিকভাবে গড়াই পিতামাতার সাধন।
ভালোবাসা দিয়ে তাদের মর্যাদা দিতে হবে,
সুন্দর আচরণ শেখাতে হবে জীবনের প্রতিটি ভবে।
রাসুলের মহান আদর্শ হোক তাদের পথের আলো,
সুন্নাহর সুশীতল ছায়ায় জীবন হোক ভালো।
“সন্তানদের মর্যাদা দাও”—মহৎ সেই বাণী,
সুন্দর আচার শেখাও—হোক জীবনেরই বাণী।
শুধু শাসন নয়, চাই মমতা, স্নেহের কোমল হাত,
ভালোবাসায় গড়ে ওঠে শিশুর সুন্দর প্রভাত।
সন্তানের প্রথম বিদ্যালয় আপন ঘরটি তার,
মা-বাবাই প্রথম শিক্ষক, প্রথম পথপ্রদর্শক আর।
শিশু শুধু কথা শুনে নয়, দেখে শেখে বেশি,
অভিভাবকের আচরণেই পায় জীবনের দিশা-রাশি।
বাবা যদি সত্য বলেন, সত্য শেখে শিশু,
মা যদি ধৈর্য ধরেন, ধৈর্য শেখে শিশুও।
ঘরে যদি সালাম থাকে, কুরআনের সুর বাজে,
ঈমানের আলো জ্বলে শিশুর কোমল অন্তর-মাঝে।
তাই আগে নিজে হও আদর্শের দিশারি,
তারপর সন্তান গড়ো—এ নীতি হোক ভারী।
নিজের জীবনে সত্য রাখো, মিথ্যা মুখে নয়,
কাজের মাঝে আদর্শ থাকলে শিক্ষাই সার্থক হয়।
শিশুর কোমল হৃদয় যেন নির্মল নদীর জল,
মমতার পরশ পেলে জীবন হয় উজ্জ্বল।
অপমানের কাঁটা দিয়ে হৃদয় কোরো না ক্ষত,
ভালোবাসার স্পর্শে গড়ে সুন্দর মানবসত্তা।
তুলনা করে বলো না—“ওর মতো কেন নও?”
এ কথাতে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যেতে চাও?
প্রত্যেক শিশুর মেধা আলাদা, আলাদা তার গতি,
নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে চলাই হোক নীতি।
আজ সে যদি দুর্বল হয়, কাল সে হতে পারে শ্রেষ্ঠ,
চেষ্টার ভেতর লুকিয়ে থাকে সাফল্যের রেশ।
নম্বর দিয়ে বিচার কোরো না সন্তানের সব গুণ,
প্রচেষ্টারও মূল্য দাও, উৎসাহ দাও প্রতিক্ষণ।
ভুল করলে বোঝাও তাকে, কোরো না অপমান,
ভুল থেকেই শিক্ষা নিয়ে বাড়ে জ্ঞানের মান।
চিৎকার, গালি, ভয় দেখানো শিক্ষার পথ নয়,
মমতা আর যুক্তির আলোয় সংশোধন করাই জয়।
শাসন মানে রাগ নয়, শাসন মানে পথ দেখানো,
ভুলের আঁধার থেকে তাকে আলোর পথে আনা।
ভয় দেখিয়ে নয়, বিবেক জাগিয়ে দাও শিক্ষা,
সত্যের পথে চলার শক্তি—এই হোক তার দীক্ষা।
শিশুর মনে জাগাও আল্লাহর পরিচয়,
তিনি স্রষ্টা, পালনকর্তা—তাঁরই মহিমাময়।
তিনি দেখেন, তিনি শোনেন, জানেন সব কথা,
তাঁর ভয় ও ভালোবাসায় দূর হোক সব ব্যথা।
আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়—বিশ্বাস দাও মনে,
রাসুল ﷺ আদর্শ আমাদের—শেখাও যতনে।
কুরআন হলো জীবনপথ, সত্যের আলোকধারা,
তারই আলোয় আলোকিত হোক শিশুর জীবন সারা।
সালাতের শিক্ষা দাও ভালোবাসার সাথে,
ওযু শেখাও, আজান শুনে দাঁড়াক নামাজের পথে।
নামাজ শুধু ইবাদত নয়—শৃঙ্খলারও পাঠ,
সময়জ্ঞান, পরিচ্ছন্নতায় সুন্দর হয় স্বভাব।
পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দেওয়ার শিক্ষা,
নিজে নামাজে অবিচল থেকে দেখাও তার দীক্ষা।
ঘরে ঘরে সালাত হোক শান্তির নির্মল সেতু,
ইবাদতের আলোয় জ্বলে উঠুক প্রতিটি শিশু।
জ্ঞানার্জনের পথে তাকে উৎসাহ দাও প্রাণে,
প্রশ্ন করলে বকো না, উত্তর খুঁজতে দাও জ্ঞানে।
কৌতূহলী শিশুমনকে দিও না কখনো ভয়,
প্রশ্নের মধ্য দিয়েই তো জ্ঞানের সূচনা হয়।
কুরআনের জ্ঞান, দ্বীনি শিক্ষা হোক তার পাথেয়,
বাংলা, বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাসও হোক সহায়।
ইংরেজি ও প্রযুক্তি শেখো, শেখাও সময়মতো,
জ্ঞানকে করো কল্যাণময় সত্যের পথেই যত।
দ্বীনি জ্ঞান ও দুনিয়ার জ্ঞান মিলুক একই স্রোতে,
ভারসাম্যের মানুষ গড়ুক জ্ঞানের আলো হাতে।
শিক্ষা যেন শুধু সনদ হয়ে না থাকে শেষে,
বিবেক জাগুক, সত্য-মিথ্যা চিনুক জীবনের দেশে।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ো, খুলে দাও জ্ঞানের দ্বার,
সুন্দর চিন্তা, সৎ কর্ম হোক জীবনের অলংকার।
জ্ঞান যদি চরিত্র গড়ে—সেই জ্ঞান সত্য ধন,
জ্ঞান যদি অন্যায় বাড়ায়—ব্যর্থ তার অর্জন।
মোবাইল আজ প্রয়োজন, ইন্টারনেটও সাথী,
সঠিক ব্যবহারে জ্ঞান, ভুলে ডেকে আনে ক্ষতি।
প্রযুক্তি নিষেধ নয়, শেখাও তার বিধান,
ভালো-মন্দ বুঝে চলাই প্রযুক্তির জ্ঞান।
কী দেখা যায়, কী এড়াতে হয়—শেখাও তাকে স্পষ্ট,
অনলাইনের আচরণেও হোক নৈতিকতার শ্রেষ্ঠ।
অপরিচিতের সঙ্গে মেলামেশায় থাকুক সতর্কতা,
গোপন তথ্য রক্ষা করুক, বজায় রাখুক শালীনতা।
ডিজিটাল জগতেও সত্য, শিষ্টতা আর মান,
মানবতার শিক্ষা হোক প্রযুক্তিরও প্রাণ।
অভিভাবক নিজেও আগে হোন সচেতন,
শিশুর সামনে আচরণে রাখুন সংযম।
যে কাজ সন্তানকে নিষেধ, নিজেও তা এড়াও,
কথার চেয়ে নিজের কাজে উত্তম শিক্ষা দাও।
শিশু দেখে শেখে বেশি—ভুলো না এ বাণী,
আচরণেই ফুটে ওঠে পরিবারের আসল জ্ঞানী।
সন্তানকে দাও সময়, মন দিয়ে তার কথা শোনো,
দুঃখ, ভয় আর ভুলের কথা বলার সুযোগ দাও যেন।
সে যেন ভাবে—“ভুল হলেও মা-বাবা বুঝবেন”,
বিপদের দিনে আপন ঘরেই ফিরে এসে দাঁড়াবে।
বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ো, সীমারেখা রেখো ঠিক,
ভালোবাসার সঙ্গে দাও দায়িত্ববোধের দীক্ষা।
অন্ধ প্রশ্রয় দিও না, তবু হৃদয় ভেঙো না,
শৃঙ্খলার নামে শিশুমনে আতঙ্ক রেখো না।
অতিরিক্ত প্রশ্রয়ে দায়িত্ববোধ যায় হারিয়ে,
অতিরিক্ত কঠোরতায় বিদ্রোহ জাগে হৃদয়ে।
তাই স্নেহ, শাসন, স্বাধীনতা, দায়িত্ব—
সমন্বয়ের পথেই গড়ুক শিশুর ব্যক্তিত্ব।
বয়স অনুযায়ী দায়িত্ব দাও ছোট্ট শিশুকে,
বই-খাতা গুছিয়ে রাখা শেখাও তাকে সুখে।
ঘর পরিচ্ছন্ন রাখা, গাছের যত্ন নেওয়া,
অতিথিকে পানি দেওয়া—শেখাও ভালোবেসে সেবা।
ছোট ভাই-বোনকে সাহায্য, সহযোগিতার হাত,
এভাবেই শিশুর মনে জাগে কর্তব্যের পাঠ।
আজ যে নিজের কাজ করে, কাল সে সমাজ গড়বে,
দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে দেশের পাশে দাঁড়াবে।
প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, আত্মীয়ের প্রতি টান,
শিক্ষক-বয়োজ্যেষ্ঠের প্রতি থাকুক সম্মান।
দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি সহমর্মী হও,
মানুষকে ভালোবেসে মানবতার পথে রও।
গালি নয়, উপহাস নয়, অহংকারও নয়,
কারও অধিকার নষ্ট করা মুমিনের কাজ নয়।
প্রতারণা ও মিথ্যাকে স্পষ্ট ভাষায় বলো—“না”,
নিজের ভুল স্বীকার করাও মহৎ গুণের ধারা।
অন্যের ভালো দেখে যেন আনন্দ জাগে মনে,
ক্ষমা আর ধৈর্য শেখাও প্রতিদিনের জীবনে।
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দাও ভালোবাসার দান,
মানবতার ফুল ফুটুক শিশুর হৃদয়-বাগান।
রাস্তা-ঘাট নোংরা নয়—শেখাও পরিচ্ছন্নতা,
পরিবেশ রক্ষার মাঝেও রয়েছে মহৎ নৈতিকতা।
অন্যের সম্পদ নষ্ট নয়, জনসম্পদ রাখো মান,
দেশকে ভালোবাসার এ-ও মহান নিদর্শন।
ঘরের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ শিশুর মনে দাগ,
অশান্তির পরিবেশে বাড়ে ভয়, কমে অনুরাগ।
বাবা-মায়ের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা,
শিশুর মনে ফুটিয়ে তোলে শান্তিরই কবিতা।
রাগের সময় সংযম রাখো, কথায় রেখো মান,
সমস্যা এলে ধৈর্য ধরো, বাড়িও না অপমান।
শান্ত ঘরের নির্মল বাতাসে শিশু পায় নিরাপত্তা,
ভালোবাসার পরিবেশে গড়ে সুন্দর ব্যক্তিত্বটা।
পরিবার যদি হয় শান্তি, মমতা আর ভরসার ঘর,
সন্তানের মনও হবে নির্মল, সুন্দর ও নির্ভর।
ঘরের শিক্ষা, ঘরের ভাষা, ঘরের প্রতিটি আচরণ,
শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনে রাখে গভীর অনুরণন।
পরিবার একা নয়, বিদ্যালয়ও সাথী,
সমাজও শিশুর চরিত্র গঠনের সহযাত্রী।
ঘর যদি শেখায় এক, বিদ্যালয় দেয় ভিন্ন পাঠ,
সমাজ যদি বিপরীত হয়—শিশুর মনে লাগে আঘাত।
অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম, সমাজের দায়িত্বশীলজন,
একসঙ্গে গড়ুন শিশুদের নৈতিক জীবন।
জ্ঞান ও শিষ্টাচার, সততা ও মানবতা,
দায়িত্ব, দেশপ্রেম, পরিবেশ—হোক শিক্ষার কথা।
আজকের শিশুই তো আগামী দিনের সমাজ,
আজকের চরিত্রেই গড়বে ভবিষ্যতের কাজ।
আজ যদি সত্য শেখাই, কাল সত্য হবে বল,
আজ যদি আমানত শিখি, কমবে অন্যায়ের দল।
আজ যদি ভালোবাসা দিই মানুষের প্রতি,
কাল বিদ্বেষ কমে বাড়বে মানবভ্রাতৃত্বটি।
আজ যদি আল্লাহভীতি হৃদয়ে দিই স্থান,
কাল ন্যায় ও সততায় ভরে উঠবে দেশ-প্রাণ।
সন্তানের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরি নয়—চরিত্র,
শুধু ধন-সম্পদ নয়—নৈতিকতা পবিত্র।
উচ্চশিক্ষিত হয়েও যদি অসৎ হয় মন,
তবে সে জ্ঞান সমাজে আনতে পারে বিপর্যয়ক্ষণ।
ধনী হয়েও নিষ্ঠুর হলে কী লাভ সেই ধনে?
ক্ষমতাবান হয়ে যদি অধিকার কেড়ে নেয় জনে?
তাই সন্তানের হাতে শুধু সনদ দিও না,
চরিত্রের শক্তি দাও, সত্য থেকে সরিও না।
খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, চিকিৎসা যেমন চাই,
ভালোবাসা, নিরাপত্তা, শিক্ষাও প্রয়োজন তাই।
মর্যাদা ও নৈতিকতার অধিকার আছে তার,
সন্তানের পাশে থাকা দায়িত্ব পিতামাতার।
শুধু সফল নয়—সৎ মানুষ হোক সে,
শুধু শিক্ষিত নয়—সুশিক্ষার আলো থাকুক তার বুকে।
শুধু মেধাবী নয়—বিবেকবান হোক সে,
শুধু প্রতিষ্ঠিত নয়—মানবিক হোক দেশে।
নিজের সুখের পাশাপাশি অন্যের সুখ চায়,
দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে মমতার হাত বাড়ায়।
হালাল পথে উপার্জন, মানুষের হক রক্ষা,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের প্রত্যাশা।
সন্তানকে গড়তে হলে নিজেকেও গড়ো আগে,
নিজের আমল ফুটে উঠুক সন্তানের অনুরাগে।
বাবা যদি আমানতদার, শিশু শিখবে তাই,
মা যদি মমতাময়ী হন, কোমল হবে ভাই।
কুরআনের তিলাওয়াত যদি ঘরে ওঠে সুর,
সালাম, দোয়া, সৌজন্যে দূর হবে মনের দূর।
পারস্পরিক সম্মানের পবিত্র পরিবেশ,
সন্তানের চরিত্রে তারই ফুটবে অনুরণন বিশেষ।
তুমি যদি সত্য বলো, সে সত্য বলবে পরে,
তুমি যদি ক্ষমা করো, ক্ষমা ফুটবে তার অন্তরে।
তুমি যদি অন্যের হক রাখো অটুট সম্মানে,
সে-ও ন্যায় শিখবে তোমার জীবনেরই টানে।
তুমি যদি বিপদে ধৈর্য ধরো রবের ভরসায়,
সন্তানের মনেও তাওয়াক্কুলের দীপ জ্বলে যায়।
তুমি যদি দয়া করো, দয়া শিখবে সে,
তুমি যদি বিনয় ধরো, বিনয় ফুটবে তার হৃদয়ে।
সন্তানের জন্য দোয়া করো প্রতিটি দিন-রাত,
রবের দরবারে চাও তার ঈমানের প্রভাত।
চাও তার তাকওয়া, চাও উত্তম চরিত্র,
চাও তার জ্ঞান, নেক আমল, জীবন হোক পবিত্র।
চাও সে হোক হালাল পথে উপার্জনকারী,
অসহায়ের পাশে থাকা মমতাময় সহচর ভারী।
শুধু দুনিয়ার সাফল্য নয়, আখিরাতের জয়,
মুমিনের পরম কামনা জান্নাতের আশ্রয়।
“হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের
চোখের শীতলতা দাও”—দোয়া উঠুক অন্তরে।
নেক সন্তান হোক তারা, দ্বীনের পথে চলে,
আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজুক জীবনের প্রতিটি ফলে।
সন্তান গড়া মানে শুধু একটি জীবন গড়া নয়,
তার মাঝে ভবিষ্যৎ সমাজের নির্মাণ নিহিত রয়।
একটি শিশুর চরিত্র মানে আগামী দিনের সমাজ,
তাই আজই শুরু হোক সুশিক্ষার মহাযাত্রা আজ।
তাকে বলো—“তুমি মূল্যবান, তুমি প্রিয় আমাদের,
তবে তোমার কাজেরও দায়িত্ব আছে অন্তরে।”
ভালোবাসা থাকবে সাথে, দায়িত্ব থাকবে হাতে,
সত্য-ন্যায়ের পথেই চলো জীবনের প্রতিটি পথে।
অভিভাবক, তোমার হাতে ভবিষ্যতের বীজ,
যতনে তাকে রোপণ করো—করো না কোনো হীন।
ঈমান হবে তার মূল, চরিত্র হবে ডাল,
জ্ঞান হবে তার পাতা, সেবায় ফুটবে ফুলের জাল।
সততা হবে সুগন্ধ তার, ধৈর্য হবে ছায়া,
তাওয়াক্কুলে দৃঢ় হবে বিপদে তার মায়া।
নম্রতা হবে অলংকার, দয়া হবে প্রাণ,
মানুষের কল্যাণে দিক তার জীবন-দান।
এসো তবে সন্তান গড়ি কুরআনের আলোয়,
সুন্নাহর আদর্শ নিয়ে সুন্দর ভালোয়।
শুধু সফল নয়—তাকে সৎ মানুষ করি,
শুধু শিক্ষিত নয়—সুশিক্ষার আলোয় ভরি।
শুধু মেধাবী নয়—বিবেকবান হোক সে,
শুধু প্রতিষ্ঠিত নয়—মানবিক হোক দেশে।
শুধু নিজের সুখ নয়—অন্যের সুখ চায়,
দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে মমতার হাত বাড়ায়।
পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ—হোক এক কাতার,
সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার হোক অঙ্গীকার।
আজকের যত্ন, আজকের শিক্ষা, আজকের সৎ বীজ,
আগামীর প্রভাতে তার ফল হবে আলোকময়, সুদৃঢ়।
সন্তান আমাদের সম্পদ নয়—আল্লাহর আমানত,
সন্তান শুধু অহংকার নয়—দায়িত্বের শপথ।
সন্তান শুধু আজকের শিশু নয়—আগামীর সমাজ,
তাদের চরিত্র গড়াই আজ আমাদের মহৎ কাজ।
হে আল্লাহ, আমাদের সন্তান করো নেক ও সৎ,
জ্ঞানী, বিনয়ী, আমানতদার—চরিত্রে করো দৃঢ়তর।
কুরআনের আলোয় তাদের হৃদয় করো ভরা,
সত্য-ন্যায়ের পথে রাখো, করো কল্যাণধারা।
হে রব, আমাদের দাও সন্তান পালনের জ্ঞান,
তাদের হক আদায়ের শক্তি, ধৈর্য ও সম্মান।
আমাদের জীবন হোক তাদের জন্য আদর্শ,
আমাদের আমল দেখে তারা হোক সত্যের অনুসারী সর্বদা।
আজকের শিশু আগামী দিনের আলোকিত প্রাণ,
তাদের হাতেই গড়বে দেশ, সমাজ ও মহান।
তাই তাদের গড়ি আমরা ভালোবাসা দিয়ে,
ঈমান, জ্ঞান, আদব, চরিত্র—সব একসাথে নিয়ে।
হে আল্লাহ, কবুল করো আমাদের এই প্রয়াস,
সন্তানের জীবনে দাও ঈমানের সুবাস।
নেক আমল, উত্তম চরিত্র, জ্ঞানের আলো দাও,
তোমার প্রিয় বান্দাদের দলে তাদের স্থান দাও।
আমাদের সন্তান হোক চোখের শীতলতা,
তাদের জীবনে ফুটুক ঈমান, জ্ঞান ও মানবতা।
পরিবারের গর্ব নয় শুধু—উম্মাহর সম্পদ হোক,
মানুষের কল্যাণে তাদের জীবন উৎসর্গ হোক।
দুনিয়ায় হোক সৎ, আখিরাতে হোক সফল,
আল্লাহর রহমতে তাদের জীবন হোক নির্মল।
অভিভাবকের দায়িত্ব কবুল করো দরবারে,
সুন্দর চরিত্র ফুটুক তাদের জীবনের আচরণে।
সন্তান আল্লাহর আমানত—ভুলো না এ বাণী,
তাদের গড়ার দায়িত্বই অভিভাবকের মহাজ্ঞানী।
আজ যে বীজ বুনবে তুমি ভালোবাসার হাতে,
আগামীকাল ফলবে সে-ই সমাজের প্রতিটি প্রভাতে।
সন্তান হোক সৎ, সুশিক্ষিত, মানবিক ও জ্ঞানী,
আল্লাহর পথে চলুক তারা—এই হোক মনের বাণী।
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হোক তাদের সাথী,
হে আল্লাহ, কবুল করো—আমাদের এ প্রার্থনাটি।
আমিন।
৭
৭ মন্তব্য