প্রভাষক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:১৪ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ইরুকানজি জেলিফিশ: বিষাক্ত সমুদ্রের ক্ষুদ্র বিস্ময়
ইরুকানজি জেলিফিশ (Irukandji Jellyfish) পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র অথচ ভয়ংকর বিষাক্ত সামুদ্রিক প্রাণী। অস্ট্রেলিয়ার ইরুকানজি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ইরুকানজি জেলিফিশ প্রধানত Carybdeida বর্গের বক্স জেলিফিশের অন্তর্ভুক্ত। এদের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এদের অতি ক্ষুদ্র আকার। একটি পূর্ণবয়স্ক ইরুকানজি জেলিফিশের ঘণ্টার মতো দেখতে বেল বা ছাতাটি মাত্র ১ ঘন সেন্টিমিটার (প্রায় একটি নখের সমান) হয়ে থাকে। এর চারটি কোণ থেকে ১ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার পর্যন্ত লম্বা চারটি পাতলা শুঁড় (tentacles) ঝুলে থাকে। পুরো শরীরে ‘নেমাটোসিস্ট’ নামক বিশেষ বিষাক্ত কোষ থাকে, যা থেকে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র বিষ সংক্রামিত হয়। প্রধানত উত্তর অস্ট্রেলিয়া উপকূলের উষ্ণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সামুদ্রিক জলে এদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য উষ্ণ অঞ্চলেও এদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এরা গভীর সমুদ্র অপেক্ষা উপকূলীয় অঞ্চলের তুলনামূলক শান্ত পানিতে বিচরণ করতে বেশি পছন্দ করে। অন্যান্য জেলিফিশের মতো এরা শুধু স্রোতের সাথে ভেসে বেড়ায় না; বরং সক্রিয়ভাবে সাঁতার কাটতে পারে। এরা এদের স্বচ্ছ শরীর ও শুঁড়ের সূক্ষ্ম স্পর্শ ব্যবহার করে ছোট মাছ ও চিংড়িজাতীয় প্রাণী শিকার করে। শিকারে নেমাটোসিস্ট স্পর্শ করা মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে বিষ প্রয়োগ করে শিকারকে অবশ করে ফেলে। ইরুকানজির জীবনচক্র মূলত দুটি ধাপে বিভক্ত—পলিপ (Polyp) এবং মেদুসা (Medusa)। প্রজননের পর উৎপন্ন লার্ভা সমুদ্রের তলদেশে পাথরে আটকে গিয়ে পলিপে রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে মুক্তভাবে সাঁতার কাটা মেদুসায় পরিণত হয়। মানুষের জন্য এদের কামড় অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর হুল ফোটানোর তীব্র প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় ‘ইরুকানজি সিন্ড্রোম’ (Irukandji Syndrome)। দংশনের ২০-৩০ মিনিট পর শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা, তীব্র পিঠ ও পেশির ব্যথা, বমি, উচ্চ রক্তচাপ এবং মারাত্মক মানসিক দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রক্তক্ষরণ বা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ক্ষুদ্র শরীর আর নিখুঁত শিকার কৌশলের কারণে ইরুকানজি জেলিফিশ প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও আতঙ্কের প্রতীক।
৩
৪ মন্তব্য