সহকারী শিক্ষক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
উল্কার হুংকার ও দালানচূর্ণকারী বজ্রকণ্ঠ
মোস্তাফিজুর রহমান
কবি ও শিক্ষক
উন্নয়নের গাণিতিক ছলে লুটের জ্যামিতি,
বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারের এই তো শেষীতি!
মুসোলিনির উল্টো লটকে পড়া করুণ লাশ,
হিটলারের বাঙ্কারে ফুরানো শেষ নিঃশ্বাস।
মার্কোস, সুহার্তো কিংবা শাহের ময়ূর সিংহাসন,
রাজাপক্ষের পতন দেখে কাঁপছে কুলাঙ্গার মন!
ব্রিটেনের রেলওয়ে, পশ্চিমের আদমজি কারখানা,
এরশাদ-হাসিনার উন্নয়নের নিখুঁত বন্দনা—
উন্নয়নের মোড়কে মোড়া লুটের মহোৎসব,
ইতিহাসে আজ তাদের করুণ খতম সব!
যুগে যুগে কালে কালে স্বৈরাচারের দল,
জনতার ক্ষোভানলে ভেসে গেছে পচে গলিত জল।
নদীর স্রোত কভু কি বাঁধে ব্যাকরণের ডোরে?
সিন্ধু সভ্যতা ডুবেছে যেমন জলতরঙ্গ ঘোরে,
পিনোচেটের রক্তাক্ত হাত কিংবা হিটলারের ভূত,
জনতার বজ্রানলে সব হয়েছে ভস্মীভূত।
রাষ্ট্র কোনো দলের বাপের সম্পত্তি নয়,
উন্নয়ন কারো একক পারিবারিক জায়গির নয়।
জনতার ঘামঝরা ট্যাক্সের ওই কড়াকড়ি,
লুটেরার হাতে আর তুলে দেব না ধরি!
দিল্লির দরবারে কি বিকোবে এ মাটি-প্রাণ?
বেইজিং বা ওয়াশিংটনের সুরে গাবো কার গান?
ইসলামাবাদের জান্তা কিংবা মিয়ানমারের বুট,
পররাষ্ট্র মানে কি প্রভুর কাছে মাথা কুটকুট?
আমেরিকা, চীন, ভারত কিংবা মিয়ানমার সীমান্ত,
দালালির রাজনীতি হোক আজ চিরশান্ত!
আত্মমর্যাদার জোরে মাথা উঁচু করে রবো,
নিপীড়ক শিকল ভেঙে স্বাধীন সত্তায় লড়বো।
সোপার্জিত পরিচয়ে মুছে যাক সব দাসত্ব,
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হোক নব রাষ্ট্রত্ব।
অতীতের পতিত স্বৈরাচার আর ভবিষ্যতের ভূত,
শুনুক জনতার বজ্রকণ্ঠ, খসুক মোহের সুত।
শুদ্ধাচারের আলোয় গড়ি মোদের স্বদেশ ভূমি,
বিশ্বের সব স্বৈরাচারের চিতায় জ্বলে ওঠো তুমি!
দালাল-চাটুকারদের রক্তচোষা এই আঁধার রাতে,
উল্কার হুংকার আনো মুক্তিকামী জনতার হাতে!
১৪
২১ মন্তব্য