Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সৃষ্টির সেবায় মহত্ত্ব - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                                                                সৃষ্টির সেবায় মহত্ত্ব

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

মানুষ একা নয় ধরায়, সমাজ তার আপন ঘর,
জন্ম হতে মৃত্যুপথেসবারই লাগে পরস্পর।
পরিবার আর প্রতিবেশী, আপনজন আর মানবসমাজ,
সবার মাঝে জীবন গড়ে, সবার সেবায় জীবনের সাজ।

আকাশ জুড়ে নক্ষত্র হাসে, সাগর বয়ে আপন তালে,
পাহাড় দাঁড়ায় দৃঢ় হয়ে, নদী ছুটে সবুজ কূলে।
পশু-পাখি, বৃক্ষলতা, কীটপতঙ্গ, জীবের মেলা,
সবই তো সেই রবের সৃষ্টি, তাঁরই কুদরত-ভরা খেলা।

সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার দান, সবার মাঝে তাঁরই চিহ্ন,
দয়া-মায়া, সেবা-ভালোবাসামুমিনেরই মহৎ গুণ।
নিজের সুখে শুধু না থেকে, দুঃখীর দুঃখ বুঝতে হবে,
আল্লাহ যাদের সৃষ্টি করেছেন, ভালোবেসে পাশে রবে।

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন, সবার স্রষ্টা, সবার রব,
তাঁরই হুকুমে সৃষ্টি জগৎ, তাঁরই দানে জীবন-সব।
মানুষ, জিন ফেরেশতা, পশু-পাখি, বৃক্ষ, নদী,
পাহাড়, সাগর, মাঠ মরুসবই তাঁরই কুদরতি নিদর্শনখানি।

আল্লাহ বলেন, পৃথিবীতে যত প্রাণী চলে আপন পথে,
আকাশে যত পাখি ওড়ে দুই ডানারই শক্তিতে
তারা সবাই জাতি তোমাদের মতোই আপন নিয়মে,
সৃষ্টিকর্তার হুকুম মেনে চলে নিজ নিজ বিধানে।

তাই তো কোনো জীবের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয় মহৎ,
দয়া যার হৃদয়ভরা, সেই তো মুমিন সত্য।
অকারণে প্রাণী কষ্ট দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়,
মমতার হাত বাড়িয়ে দিলে আল্লাহ খুশি হন নিশ্চয়।

মুসলিম সে, যার হাত-জিহ্বা মানুষকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়,
তার কথাতে শান্তি নামে, তার আচরণে মুছে ভয়।
অপমান নয়, কটু কথা নয়, প্রতারণা নয় কোনো ক্ষণ,
মুমিনের পথ সত্য-ন্যায়, সুন্দর তার ব্যবহার-চরণ।

কারও চোখে অশ্রু এলে মুছে দেবে মমতার হাতে,
কেউ যদি পড়ে বিপদ মাঝে, দাঁড়াবে তারই পাশে।
দুর্বল যদি সাহায্য চায়, ফিরিয়ে দেবে না তাকে,
অসহায়ের ব্যথা বুঝে আপন করে নেবে তাকে।

মানুষের সম্পদ লুটবে না, করবে না কারও ক্ষতি,
জুলুম-অত্যাচার ছেড়ে গড়বে ন্যায়ের বসতি।
কারও দুর্বলতা নিয়ে কখনো করবে না স্বার্থসাধন,
মানুষের সম্মান রক্ষা হবে মুমিনেরই পবিত্র পণ।

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, তৃষ্ণার্তকে দাও পানি,
রোগীর পাশে বসে থেকো, সান্ত্বনা দাও বাণী।
দুঃখী মানুষের মুখে ফুটাও আশার মধুর হাসি,
বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকো ভালোবেসে খাঁটি।

আল্লাহ বলেনসৎকর্মে তোমরা একে অন্যের সাথী হও,
তাকওয়ার পথে সহযোগী হয়ে সত্যের পথে রও।
পাপের কাজে সহযোগিতা কখনো যেন না হয়,
ন্যায় কল্যাণের পথে চলাই মুমিনের জয়।

একটি ছোট ভালো কাজও হারায় না তো কখনো,
মানুষ ভুলে গেলেও রব ভুলে যান না কোনোদিনও।
আজ যে দান করছ তুমি, কাল তা হবে সঞ্চয়,
আল্লাহর কাছে জমা থাকবেআখিরাতে হবে জয়।

কারও ঘরে চুলা জ্বলে না, কারও ঘরে নেই আহার,
কেউবা আবার চিকিৎাহীন, কেউবা নিঃস্ব পরিবার।
কেউ কর্মহীন, কেউ ঋণগ্রস্ত, কেউ দুর্যোগে সর্বহারা,
কেউবা সন্তানের পড়াশোনায় খুঁজে পায় না পথের ধারা।

তুমি যদি সামর্থ্যবান হও, ভাগ করে নাও অন্ন,
তোমার অল্প দানেই হয়তো বাঁচবে একটি জীবন।
এক মুঠো ভাত, এক গ্লাস পানি, সামান্য কিছু দান,
হয়তো সেটাই দুঃখী প্রাণে ফিরিয়ে দেবে প্রাণ।

দান করে দম্ভ নয়, দান করে অপমান নয়,
দুঃখী মানুষকে ছোট করা কোনো মুমিনের কাজ নয়।
ডান হাতে যা দাও তুমি, লোক দেখানোর সাধ নয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টি চাওএটাই সেবার মহৎ পরিচয়।

দূরের মানুষকে ভালোবেসে পাশের মানুষ ভুলে যেও না,
প্রতিবেশীর কষ্ট দেখেও নীরব থেকে থেকো না।
পাশের ঘরে ক্ষুধার কান্না, আর তুমি ভোজে মত্ত
কেমন মানবতা বলো, কোথায় হৃদয় সত্য?

প্রতিবেশী মুসলিম হোক বা অন্য ধর্মের মানুষ,
ন্যায়-সদাচরণে তার প্রতি রেখো ভালোবাসার স্পর্শ।
তার ঘরে যেন তোমার হাতে না পৌঁছায় কোনো ভয়,
তোমার ঘর থেকে তার ঘরে শান্তির সুবাস বইবে সয়।

খোঁজ নাও তার, বিপদে পাশে দাঁড়াও তার তরে,
সুখের দিনে অভিনন্দন, দুঃখে থেকো অন্তরে।
মানুষ মানুষকে সম্মান দিলে কমে যাবে বিভেদ,
ভালোবাসার সেতু গড়ে মুছে যাবে সব খেদ।

মানবসেবার প্রথম পাঠটি নিজের ঘরেই শুরু,
মায়ের স্নেহ, বাবার ত্যাগভুলে যেও না গুরু।
আল্লাহ বলেনপিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করো,
কোমল ভাষায় কথা বলো, ভালোবাসায় ভরো।

বৃদ্ধ হলে বাবা-মা যদি ধীর হয়ে যায় চলায়,
তাদের সেবা করো তখন মমতারই ছায়ায়।
তাদের মুখে হাসি ফোটাও, পূরণ করো প্রয়োজন,
তাদের জন্য দোয়া করোএটাই সন্তানের পুণ্যগুণ।

উফ শব্দটিও নয় তাদের, কষ্ট দেবে না মনে,
সেবার হাত বাড়িয়ে দিও জীবনের শেষ ক্ষণে।
যে মা-বাবা রাত জেগে তোমায় মানুষ করেছে,
তাদের সেবা করাই তো জীবনের শ্রেষ্ঠ ঋণ মিটিয়েছে।

ছোটদের দাও স্নেহ-ভালোবাসা, বড়দের দাও মান,
পরিবারের প্রতিটি মানুষসবারই আছে সম্মান।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের অধিকার রাখবে মনে,
আত্মীয়তার বন্ধন রাখবে ভালোবাসার টানে।

ঘরের মানুষ কাঁদবে আর তুমি বাইরে হাসবে নয়,
ঘর থেকেই চরিত্র গড়ে, ঘরেই মানবতার জয়।
বাইরে যদি ভদ্র হও আর ঘরে হও কঠোর,
তবে তোমার চরিত্রে রয়ে গেছে সংশোধনের ঘোর।

ঘর হবে শান্তির বাগান, ভালোবাসার নীড়,
সবার মুখে হাসি ফুটবেমুছে যাবে মনের পীড়।

এতিম শিশুর চোখে থাকে বেদনারই ছায়া,
বাবার স্নেহ হারিয়ে তার বুক ভরে যায় মায়া।
তাকে তুমি অবহেলা কোরো না কোনোদিন,
ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে হও তার আপনজন।

আল্লাহ বলেনএতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না,
সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দিয়ে দূরে সরিয়ে দিও না।
সাহায্য যদি করো তুমি, সম্মান দিয়ে করো,
দয়ার নামে মানুষের মনে আঘাত যেন না ধরো।

বিধবার পাশে দাঁড়াও, অসহায়ের হাত ধরো,
দরিদ্র মানুষের দুঃখে নিজের হৃদয় ভরো।
প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি রেখো সম্মানের দৃষ্টি,
সহযোগিতার হাত বাড়ানোই মানবতার সৃষ্টি।

মানুষ শুধু নয়প্রাণীরও আছে ব্যথা,
তৃষ্ণায় কাতর হলে তারও লাগে একটু পানি যথা।
একটি প্রাণী কথা বলে নাতাই বলে কি তার কষ্ট কম?
তারও প্রাণ আছে, ক্ষুধা আছেদয়া করো হে আদমসন্তান!

তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি দিয়ে এক মানুষ পেল ক্ষমা,
দয়ার কাজে খুলে যেতে পারে রহমতেরই দ্বার।
রাসুল শিক্ষা দিয়েছেনজীবন্ত প্রাণীর সেবায় সওয়াব,
দয়ার মাঝে লুকিয়ে থাকে রবের রহমতের জবাব।

অকারণে পশু মারবে না, নির্যাতন করবে না,
ক্ষুধার্ত রেখে প্রাণীটিকে কষ্টে ফেলবে না।
পাখির বাসা ভেঙে দিয়ে আনন্দ পাবে না মন,
প্রাণীর প্রতিও দয়া হবে মুমিনের পরিচয়-চিহ্ন।

নদী আমাদের, সাগর আমাদেরআল্লাহর দেওয়া দান,
বৃক্ষ দেয় অক্সিজেন, সবুজ করে প্রাণ।
মাটি, পানি, বায়ুসবই রবের আমানত,
এসব রক্ষা করা তাই দায়িত্বেরই নিদর্শন।

নদী-নালা দূষিত কোরো না, ফেলো না বিষাক্ত বর্জ্য,
অকারণে বৃক্ষ কেটো না, নষ্ট কোরো না অরণ্য।
পানি অপচয় কোরো না, রক্ষা করো পরিবেশ,
সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ববোধে সুন্দর হোক আবেশ।

আল্লাহ বলেনসংশোধনের পর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না,
তাঁর দেওয়া এই সুন্দর ধরণী নষ্ট করে দিও না।
সবুজ গাছ লাগাও সবাই, প্রকৃতিকে ভালোবাসো,
সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব নিয়ে সুন্দর পৃথিবী গড়ো।

মানুষের উপকার করতে কোটি টাকা লাগে না,
সেবার পথে যেতে হলে প্রাসাদও লাগে না।
একটি ভালো কথা যথেষ্ট ভাঙা হৃদয় জুড়াতে,
একটু সময় যথেষ্ট হয় অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে।

একজন বৃদ্ধকে পথ দেখানো,
একজন শিশুকে জ্ঞান শেখানো,
একজন রোগীর পাশে বসা,
একজন দুঃখীর ব্যথা শোনা

এসবও তো সেবা-দান, এসবও মহৎ কাজ,
সামান্য মমতায় ফুটে ওঠে মানবতার সাজ।

হাসি হতে পারে সদকা, ভালো কথা হতে পারে দান,
সান্ত্বনার একটি বাক্য জাগায় নতুন প্রাণ।
সময় দান, শ্রম দান, জ্ঞান দানসবই মূল্যবান,
ভালোবাসা আর সহানুভূতিও মহান এক দান।

শিক্ষক শুধু পাঠ দেন নামানুষ গড়েন তিনি,
জ্ঞান দিয়ে আলোকিত করেন অন্ধকারের দিনই।
দুর্বল ছাত্র পিছিয়ে গেলে বাড়িয়ে দেন হাত,
সৎপথে চলার শিক্ষা দিয়ে খুলে দেন জ্ঞানের দ্বার।

শিক্ষক যদি জ্ঞান বিলান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়,
অসংখ্য প্রাণ আলোকিত হয় তাঁর জ্ঞানেরই ছায়ায়।
শিক্ষার্থীও জ্ঞান অর্জন করে করবে সমাজসেবা,
নিজে শিখে অন্যকে শেখানো এক মহৎ সেবা।

জ্ঞান এমন এক সম্পদ, যত দাও তত বাড়ে,
একটি প্রদীপ জ্বালালে শত প্রদীপ আলোয় ভরে।

সেবা যদি হয় লোক দেখানো, কোথায় তার মূল্য?
মানুষের বাহবা চেয়ে করলে আমল হয় না পূর্ণ।
আল্লাহ দেখেন অন্তরটাকে, দেখেন মনের কথা,
তাই ইখলাস ছাড়া সেবায় থাকে অপূর্ণতা।

দান করো আল্লাহর জন্য, প্রশংসার আশায় নয়,
সেবা করো রবের জন্য, মানুষের বাহবা নয়।
ছবি তুলে প্রচার করে দম্ভ দেখিও না,
দুঃখী মানুষকে অপমান করে সওয়াব খুঁজিও না।

বলবে মনে—“হে আল্লাহ, তোমার সন্তুষ্টির তরে,
এই সামান্য সেবা আমার কবুল করো অন্তরে।
এই নিয়ত অহংকার থেকে রাখবে তোমায় দূরে,
সেবার কাজ ইবাদত হবে ইখলাসেরই নূরে।

মানুষের উপকার মানে পাপে সহযোগিতা নয়,
অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া মানবতার পরিচয় নয়।
আল্লাহ বলেনসৎকর্মে পরস্পর সহযোগী হও,
পাপ সীমালঙ্ঘনে কখনো সহযোগী হয়ো না।

অন্যের অধিকার নষ্ট করে কারও উপকার নয়,
প্রতারণা আড়াল করে দয়া দেখানো সত্য নয়।
অপরাধীর অন্যায় ঢেকে সেবা বলা ভুল,
ন্যায়-সত্যের পথেই হবে সেবার পথ নির্মল।

যে সেবা সত্যকে রাখে, ন্যায়কে করে প্রতিষ্ঠিত,
সেই সেবা মুমিনের কাছে সত্যিই মহৎ, পবিত্র।

যে সামর্থ্য পেয়েছ তুমিসবই তো আল্লাহর দান,
সম্পদ, জ্ঞান, সময়, শক্তিসবই তাঁরই অবদান।
আজ তুমি সাহায্য করছ, কাল তোমারও লাগতে পারে,
মানুষ মানুষকে আঁকড়ে ধরে জীবনেরই স্রোতধারে।

তাই সেবা করে বলো না—“আমি কত বড় দাতা!
বরং বলো—“রব দিয়েছেন সুযোগ, তাঁরই অনুগ্রহতা।
নিজেকে বড় ভাবলে সেবার সৌন্দর্য যায় হারিয়ে,
বিনয়ী হৃদয় সেবা করে রবের নাম স্মরণ করে।

প্রযুক্তি আজ কাছে এনেছে পৃথিবীর মানুষজন,
তবু কেন দূরে সরে যায় মানুষেরই আপন মন?
যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে, বেড়েছে জ্ঞানের আলো,
তবু কোথাও স্বার্থের আগুনে পুড়ে মানবতাও ভালো।

কোথাও বৃদ্ধ মা-বাবা একা বসে কাঁদেন,
কোথাও এতিম শিশুরা আশ্রয়ের খোঁজে ঘোরেন।
কোথাও রোগী চিকিৎসাহীন, কোথাও ক্ষুধার্ত প্রাণ,
কোথাও প্রতিবেশী বিপদেতবু নেই কারও টান।

এসো তবে হৃদয় জাগাই, জাগাই মমতার আলো,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে করি জীবন ভালো।
শক্তিমান দুর্বলকে রক্ষা করবে ভালোবেসে,
ধনী দাঁড়াবে দরিদ্রেরই দুঃখের পাশে এসে।

শিক্ষিত মানুষ জ্ঞান বিলাবে অশিক্ষিতের মাঝে,
সুস্থ মানুষ সেবা করবে অসুস্থেরই কাজে।
সচ্ছল মানুষ বুঝবে যেন অসচ্ছলের ব্যথা,
প্রতিবেশী নেবে প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখের কথা।

মানুষ মানুষকে মানুষ জেনে করবে সম্মান,
এই হোক আমাদের সমাজ, এই হোক মহান প্রাণ।

পিতা-মাতার সেবা করব, ঘরে রাখব শান্তি,
পরিবারের প্রতি রাখব মমতা, ভালোবাসা কান্তি।
প্রতিবেশীর খোঁজ নেব, ক্ষুধার্তকে দেব আহার,
রোগীর পাশে দাঁড়াব গিয়ে, মুছে দেব অশ্রুধার।

এতিম-দরিদ্র-অসহায়ের পাশে থাকব সবে,
বিপদগ্রস্ত মানুষ দেখলে সাহায্য করব তবে।
ঋণগ্রস্তের কষ্ট বুঝে সামর্থ্য অনুযায়ী দেব,
বৃদ্ধ মানুষ পথ হারালে পথ দেখিয়ে দেব।

শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেব জ্ঞানের আলোকশিখা,
অজ্ঞতার আঁধার সরিয়ে দেব সত্যের সুন্দর দীক্ষা।
পশুপাখিকে কষ্ট দেব না, দেব তৃষ্ণার্তকে পানি,
বৃক্ষরোপণ করব সবাইসবুজ হবে ধরণী।

পানি-খাদ্য অপচয় রোধে সচেতন হব আমরা,
অন্যের সম্মান রক্ষা করব, গোপন রাখব কথা।
অন্যায়-জুলুম-প্রতারণা থেকে থাকব দূরে,
কারও মনে কষ্ট দিলে ক্ষমা চাইব অন্তঃপুরে।

ভালো কথা বলব সবে, কটু কথা এড়াব,
অন্যের জন্য আন্তরিক দোয়া প্রতিদিনই করব।
প্রতিটি সৎকর্মের আগে নিয়ত করব ঠিক
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য”—এই হবে পথের দিক।

আমি হব না কারও কষ্টের কারণ,
আমি হব না জুলুমের সহচর,
আমি হব অসহায়ের আশ্রয়,
আমি হব দুঃখীর মনের প্রিয় স্বজন।

যতটুকু পারি উপকার করব,
অন্যায়ের পথে পা বাড়াব না,
ক্ষুধার্তকে অন্ন দেব,
তৃষ্ণার্তকে পানি দেব।

রোগীর পাশে বসব,
বৃদ্ধের হাত ধরব,
এতিম শিশুর চোখের জল
মমতার হাতে মুছব।

প্রাণীর প্রতি দয়া করব,
বৃক্ষের প্রতি মমতা রাখব,
নদী-জল-বায়ু রক্ষা করে
ধরণীকে সুন্দর রাখব।

জ্ঞান পেলে জ্ঞান বিলাব,
সম্পদ পেলে ভাগ করব,
সময় পেলে পাশে থাকব,
ভালোবাসা দিয়ে হৃদয় ভরব।

কেউ যেন আমার হাতে
নিরাপত্তাহীন না হয়,
কেউ যেন আমার কথায়
অপমানিত না হয়।

আমার জ্ঞান থেকে অজ্ঞ
আলোর দেখা পাক,
আমার সম্পদে দরিদ্র
একটু স্বস্তি পাক।

আমার হাসিতে দুঃখী
একটু হাসতে শিখুক,
আমার সেবায় অসহায়
আশার আলো দেখুক।

সেবা মানে শুধু দান নয়সেবা মানে মনের দান,
সেবা মানে ভালোবাসা, সেবা মানে মানবজ্ঞান।
সেবা মানে ন্যায়-সত্যে মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
সেবা মানে বিপদে পড়ে কাউকে না ছেড়ে যাওয়া।

সেবা মানে মায়ের মুখে হাসি, বাবার মনে শান্তি,
সেবা মানে এতিম শিশুর জীবনে আনা কান্তি।
সেবা মানে প্রতিবেশীর দুঃখ বুঝে পাশে থাকা,
সেবা মানে প্রাণীর তৃষ্ণা মেটাতে পানি ঢালা।

সেবা মানে সবুজ গাছের চারায় জলের ধারা,
সেবা মানে দূষণ রোধে সুন্দর পৃথিবী গড়া।
সেবা মানে জ্ঞান বিলানো, সত্যের পথে ডাকা,
সেবা মানে মানুষের মাঝে ভালোবাসা রাখা।

সেবা মানে ইখলাস নিয়ে রবের পথে চলা,
সেবা মানে অহংকারের দ্বারটি বন্ধ করা।
সেবা মানে পাপের কাজে সহযোগিতা নয়,
সেবা মানে ন্যায়-কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জয়।

হে আল্লাহ, দাও আমাদের কোমল হৃদয়খানি,
দাও মমতা, দাও ইখলাস, দাও তাকওয়ার বাণী।
দাও এমন মন, যে কাঁদে দুঃখীর ব্যথা দেখে,
দাও এমন হাত, যে সাহায্য করে বিপদে এসে।

দাও এমন মুখ, যার কথায় শান্তি নামে,
দাও এমন চরিত্র, যা মানুষকে টানে প্রেমের টানে।
দাও এমন জীবন, যার পথে কল্যাণের ফুল ফোটে,
দাও এমন কর্ম, যা কবুল হয় তোমারই দরবারে।

মানুষের জন্য কল্যাণের উৎ যেন হতে পারি,
দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে যেন মুছে দিতে পারি অশ্রুধারি।
অসহায়ের চোখে যেন আশার আলো জ্বালি,
ক্ষুধার্তের মুখে যেন হাসির ফুল ফোটাই খালি।

পিতা-মাতার সেবা যেন করি ভালোবেসে,
প্রতিবেশীর হক আদায় করি আন্তরিক মনে এসে।
এতিম-দরিদ্র-অসহায়ের পাশে যেন থাকি,
প্রাণীর প্রতিও দয়া দিয়ে মমতার পথ আঁকি।

ধরণীর সবুজ রক্ষা করি, নদী রাখি নির্মল,
আল্লাহর দেওয়া আমানত রাখি যত্নে অবিচল।
সত্য-ন্যায় কল্যাণে জীবন করি নিবেদিত,
ইখলাস, তাকওয়া, উত্তম চরিত্রে হই সমৃদ্ধ।

দুনিয়াতে কল্যাণের পথে চলুক আমাদের প্রাণ,
আখিরাতে তোমার রহমত হোক আমাদের সম্মান।
মানুষ, প্রাণী, প্রকৃতিসবাই হোক উপকৃত,
আমাদের প্রতিটি সেবাকর্ম হোক তোমার কাছে কবুলিত।
আমাদের দ্বারা যেন কারও ক্ষতি না হয়,
বরং আমাদের জীবন থেকে কল্যাণের আলো ছড়ায়।
আমাদের হাতে যেন নিরাপত্তা,
কথায় যেন শান্তি,
হৃদয়ে যেন মমতা,
কর্মে যেন ইখলাস,
জীবনে যেন তাকওয়া
এবং প্রতিটি সেবায় যেন তোমার সন্তুষ্টি থাকে।

আমিনইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন