সহকারী অধ্যাপক
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:০০ পূর্বাহ্ণ
প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্বপ্নপূরণ -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্বপ্নপূরণ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন বুকে রাখে,
আশার প্রদীপ জ্বালে আঁধারের ফাঁকে।
কেউ চায় জ্ঞানী হতে, কেউ সেবক মহান,
কেউ হতে চায় শিক্ষক, চিকিৎসক, জ্ঞানবান।
কেউ চায় আলেম হতে, কেউ গবেষক হয়,
কেউ চায় কর্ম দিয়ে গড়তে নতুন জয়।
কেউ চায় পরিবারে আনতে সুখের আলো,
কেউ চায় মানুষের জন্য করতে জীবন ভালো।
কিন্তু স্বপ্নের পথে ফুল সবসময় ফোটে না,
কাঁটার আঘাত ছাড়া সাফল্য ধরা দেয় না।
কখনো ঘরে বাধা, কখনো বাইরে ঝড়,
কখনো দুঃখ এসে করে হৃদয় জর্জর।
অভাব এসে বলে—“থামো, আর কত দূর?”
ব্যর্থতা বলে—“তোমার পথ বুঝি হলো চুর!”
মানুষ বলে—“তুমি পারবে না, যাও ফিরে,”
ভয় এসে দাঁড়ায় যেন অন্ধকার ঘিরে।
তবু মুমিন বলে—“আমি হব না হতাশ,
আমার রব আছেন, তিনিই পরম আশ্বাস।”
চেষ্টা আমার কাজ, ফল তাঁরই হাতে,
তাঁর ওপর ভরসা রাখি দিন-রাতের প্রাতে।
জীবন শুধু সুখ নয়, জীবন পরীক্ষা,
হাসির পাশে থাকে কত অশ্রুর রেখা।
ভয় আসে, ক্ষুধা আসে, আসে ক্ষতির কাল,
তবু ধৈর্য ধরলে মেলে রবের স্নেহঢাল।
আল্লাহ বলেছেন—পরীক্ষা আসবেই জীবনে,
ধৈর্যশীলের সুসংবাদ রয়েছে সেই বাণীতে।
সম্পদ যাবে, জীবন যাবে, ফলন হবে ক্ষয়,
সবর যারা ধরে রাখে, তাদেরই তো জয়।
তাই বিপদ দেখে কেন হবে মনের ক্ষয়?
রাত যত দীর্ঘ হোক, ভোর আসবেই নিশ্চয়।
ঝড় যত প্রবল হোক, থামবে একদিন,
সবরের পথ ধরে হাসবে নতুন রঙিন দিন।
ঘর তো মানুষের আপন, ভালোবাসার স্থান,
তবু সেথায় কখনো জাগে অভাবেরই টান।
ভুল বোঝাবুঝি আসে, আসে অনাস্থা,
স্বপ্নের পথে তখন বাড়ে মনের ব্যথা।
তবু রাগ নয়, চাই প্রজ্ঞা ও সম্মান,
কথায় নয়, কাজে দাও নিজের পরিচয়-জ্ঞান।
পরিবারকে কষ্ট দিয়ে যে সাফল্য আসে,
সে সাফল্যের সুখ কি থাকে হৃদয়ের পাশে?
নিজের স্বপ্নকে করো পরিবারের কল্যাণ,
দায়িত্ব পালন করেই হও স্বপ্নবান।
আপনজনের চোখে যেন না নামে জল,
তোমার সাফল্যে ফুটুক তাদের মুখে ফল।
ঘরের বাইরে আছে প্রতিযোগিতার ঢেউ,
কখনো অবমূল্যায়ন, কখনো বিরোধী কেউ।
কেউ হিংসা করবে, কেউ বলবে কথা,
কেউ তোমার পথে ছড়াবে কাঁটার ব্যথা।
তুমি কেন থামবে তাদের কথার ভয়ে?
নিজের কাজ করো তুমি সততার আশ্রয়ে।
কথার জবাব কথায় নয়—কর্ম দিয়ে দাও,
যোগ্যতার আলো জ্বেলে আপন পথ দেখাও।
মহান রবের বাণী রাখো হৃদয় মাঝে—
“মানুষ তাই পায়, যার জন্য চেষ্টা করে কাজে।”
অলস হাতে কখনো সাফল্য আসে না,
শ্রমহীন জীবনে অর্জনের হাসি হাসে না।
স্বপ্ন যদি থাকে শুধু চোখেরই কোণে,
বাস্তবতার সূর্য উঠবে কী করে জীবনে?
স্বপ্নকে লক্ষ্য করো, লক্ষ্যকে করো পথ,
প্রতিদিনের সাধনায় মুছে যাক সব ক্ষত।
বড় লক্ষ্য ভেঙে নাও ছোট ছোট ধাপে,
প্রতিদিন এগিয়ে চলো সাফল্যের মাপে।
আজ যদি সামান্যও এগিয়ে যেতে পারো,
আগামীর বিশাল পথে জয়কে কাছে ধরো।
একদিনে কেউ বড় হয় না পৃথিবীতে,
সাফল্য জমে ধীরে শ্রমের প্রতিটি ইটে।
একটি করে ইট দিয়ে গড়ে ওঠে ঘর,
একটি করে প্রচেষ্টায় জয় হয় দুর্বার।
সময় নদীর মতো বয়ে যায় অবিরাম,
ফিরে আসে না আর তার হারানো কোনো ক্ষণ।
যে সময় আজ গেল, ফিরবে না সে কাল,
সময় নষ্ট করলে জীবন হয় নিঃস্ব-শূন্য জাল।
আল্লাহ সময়ের শপথ করে দিলেন শিক্ষা—
মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, যদি না থাকে ঈমানের দীক্ষা।
সৎকর্ম, সত্যের পথে উপদেশ দাও ভাই,
ধৈর্যের পথে একে অন্যে চলার সাহস পাই।
তাই সময়কে রাখো তুমি আমানতের মতো,
প্রতিটি ক্ষণ গড়ুক তোমার জীবন যত।
ইবাদত, পড়াশোনা, কর্ম আর পরিবার,
সুন্দর ভারসাম্যে হোক জীবন আলোকধার।
সবর মানে বসে থাকা—এ কথা সত্য নয়,
সবর মানে বিপদেও সৎ পথে থাকা হয়।
ব্যর্থতার আঘাতে যখন কাঁদে মন,
সবর তখন বলে—“চলো, করো নতুন পণ।”
একবার যদি হারো, আবার দাঁড়াও ভাই,
এক পথে না হলে অন্য পথ খুঁজে পাই।
ভুল থেকে শিক্ষা নাও, ব্যর্থতা করো শিক্ষক,
হোঁচট খেয়েই মানুষ হয় অধিকতর দৃঢ়।
আল্লাহ বলেছেন—“সবরকারীর সঙ্গে আমি আছি,”
এই বাণী বুকে নিয়ে আঁধারে আলো যাচি।
যে রবের ওপর ভরসা রেখে সবর করে যায়,
তার হৃদয়ে আশার প্রদীপ নিভে যেতে চায় না হায়।
যখন মনে হবে—শেষ হলো সব আশা,
চারদিকে শুধু দুঃখ, বেদনা আর হতাশা;
তখন মনে রেখো রবের অমর বাণী—
কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে—এ সত্য অটল জানি।
একবার নয়, বারবার এসেছে সেই ঘোষণা,
দুঃখের পরে সুখ আসবেই—এ রবের সান্ত্বনা।
অন্ধকার যত ঘন হোক, ভোর হবে একদিন,
শুকনো মাটির বুকেও ফুটবে ফুল রঙিন।
তাই দুঃসময়ের কাছে নিজেকে দিও না হারিয়ে,
আশার নৌকা চালাও তাওয়াক্কুলের বৈঠা মারিয়ে।
আজ যে চোখে অশ্রু, কাল সে চোখে হাসি,
রবের রহমত পেলে দুঃখ থাকে না বেশি।
ব্যর্থতা মানে নয় জীবনের অবসান,
ব্যর্থতা অনেক সময় সাফল্যেরই সোপান।
যে পড়ে গিয়ে উঠে, সে-ই তো শক্তিমান,
হোঁচট খেয়ে শেখে মানুষ চলার নতুন জ্ঞান।
আজ যদি না হয়, কাল আবার করো চেষ্টা,
একটি বন্ধ দরজায় কেন হবে মন বিষণ্ন?
এক পথ যদি বন্ধ হয়, পথ আছে আরও,
রবের দুনিয়ায় আশার দরজা থাকে অগণিত আরও।
বলবে না কখনো—“আমি পারিনি, তাই শেষ,”
বরং বলো—“নতুন পথে করব আবার প্রবেশ।”
পরাজয়কে শিক্ষা করে এগিয়ে চলো ভাই,
চেষ্টাশীল মানুষের জন্য আশা শেষ হয় নাই।
নিজের শক্তি চিনবে তুমি—এটাই আত্মবিশ্বাস,
কিন্তু অহংকারে যেন না ডুবে যায় নিঃশ্বাস।
বলবে না—“সব আমি করেছি, আমিই মহাশক্তিমান,”
বলবে—“রবের দয়ায় পেয়েছি শক্তি ও সম্মান।”
পরিকল্পনা করো, শ্রম দাও, দক্ষতা অর্জন,
তারপর রবের হাতে সঁপে দাও ফলের গণন।
তাওয়াক্কুল মানে নয় কর্ম ছেড়ে দেওয়া,
চেষ্টা শেষে রবের ওপর হৃদয়টি তুলে দেওয়া।
সিদ্ধান্ত যখন নেবে, রবের ওপর ভরসা রাখো,
তাঁর ভালোবাসার পথে নিজের জীবন আঁকো।
কারণ মুমিন জানে—ক্ষমতা সীমিত তার,
রবের হুকুমেই খুলে যায় সাফল্যের দ্বার।
দোয়া করো, সঙ্গে করো কর্মের আয়োজন,
দোয়া ছাড়া শ্রম যেমন অসম্পূর্ণ জীবন।
শুধু বসে দোয়া করে দায়িত্ব এড়ানো নয়,
আবার নিজের শক্তিকেই সব ভাবাও ভুল হয়।
হাত থাকবে কর্মে, হৃদয় থাকবে রবের পানে,
চোখ থাকবে আশায়, জিহ্বা থাকবে দোয়ার গানে।
“হে রব, সাহায্য করো”—বলবে অন্তর ভরে,
তারপর এগিয়ে যাবে সত্য ও শ্রমের ঘরে।
রব বলেছেন—“আমাকে ডাকো”—এ আহ্বান মহান,
দোয়ার দরজা খোলা থাকে সকাল-সন্ধ্যাবেলায় প্রাণ।
বিপদের রাতে দোয়া দিক অন্তরে শান্তি,
রবের সঙ্গে সম্পর্ক হোক জীবনের প্রকৃত কান্তি।
কেউ যদি বলে—“তুমি পারবে না”—শুনে হেসো ভাই,
মানুষের কথাতেই জীবনের পরিমাপ হয় নাই।
যে আজ তোমায় ছোট করে, কাল সে দেখবে পথ,
তোমার নীরব পরিশ্রমই হবে শ্রেষ্ঠ জবাব যথার্থ।
অন্যায় কথার পেছনে নষ্ট করো না সময়,
নিজের কর্ম, চরিত্র, জ্ঞান—হোক তোমার পরিচয়।
কথার লড়াই ছেড়ে কাজে বাড়াও মান,
সাফল্যের আলোয় একদিন মিলবে সম্মান।
স্বপ্ন যদি বড় হয়, জ্ঞান চাই তার সাথে,
দক্ষতা চাই, সাধনা চাই প্রতিটি প্রভাতে।
বই পড়ো, শিখো নতুন, ভুল থেকে শিক্ষা নাও,
অভিজ্ঞজনের সুন্দর পরামর্শ হৃদয়ে ঠাঁই দাও।
কুরআনের প্রথম আহ্বান—“পড়ো”—জাগায় জ্ঞান,
জ্ঞানচর্চায় আলোকিত হোক মানুষের প্রাণ।
শিক্ষা শুধু চাকরি নয়, জীবন গড়ার আলো,
জ্ঞানী হলে মানুষকে শেখানো যায় ভালো।
কলম হোক আমানত, জ্ঞান হোক মানুষের তরে,
নিজের অর্জন বিলিয়ে দাও কল্যাণের ঘরে।
যে জ্ঞান মানুষকে গড়ে, সে জ্ঞানই মহৎ,
অজ্ঞতার আঁধার ভেঙে দেয় জ্ঞানেরই প্রভাত।
অর্থ চাই, কিন্তু চাই হালাল উপার্জন,
সম্মান চাই, কিন্তু চাই না অন্যায় অর্জন।
পদ চাই, কিন্তু নয় প্রতারণার বিনিময়ে,
খ্যাতি চাই না যদি তা আসে অন্যের ক্ষতিতে।
মানুষের হক মেরে যে বড় হয় দুনিয়ায়,
আখিরাতের বিচারে সে সফল নয় হায়।
সততা হারিয়ে পাওয়া সাফল্য নয় সাফল্য,
হারাম পথে অর্জন শুধু বাহ্যিক বিভ্রম-মাত্র।
মুমিনের সাফল্য হলো রবের সন্তুষ্টি,
সৎকর্মে সুন্দর জীবন, অন্তরে পবিত্র দৃষ্টি।
হালাল রুজি, উত্তম চরিত্র, মানুষের অধিকার,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে সফলতার মিনার।
আরামের দিনে কে কতটা শক্ত—বোঝা যায় না,
ঝড় না এলে নৌকার মাঝি পরিচিত হয় না।
দুঃখ এসে শেখায় মানুষ কীভাবে দাঁড়ায়,
ব্যর্থতা শেখায় আবার কীভাবে পথ চায়।
বিপদে যে ধৈর্য ধরে, সে-ই তো দৃঢ় প্রাণ,
কষ্টে যে সত্য থাকে, সে-ই সত্যিকারের মহান।
যা আজ তোমার কাছে মনে হয় অকল্যাণ,
হয়তো তার মাঝেই লুকিয়ে আছে কল্যাণ।
মানুষ দেখে বর্তমান, রব জানেন ভবিষ্যৎ,
তাই তাঁর ফয়সালাতে রাখো হৃদয়কে সন্তুষ্ট।
চেষ্টা করো, দোয়া করো, রাখো তাঁরই ভরসা,
মুমিনের অন্তরে জাগুক রবের প্রতি ভালোবাসা।
অন্যের সাফল্য দেখে নিজেকে দিও না দোষ,
প্রত্যেক জীবনের পথ আলাদা, আলাদা তার রোষ।
কারও সাফল্য আসে আগে, কারও আসে পরে,
কারও ফুল ফোটে বসন্তে, কারও শরৎ-ঘোরে।
তুমি শুধু দেখো—গতকালের তুমি কোথায়,
আজ কি তার চেয়ে ভালো হতে পেরেছ হায়?
গতকালের ভুল আজ কি কিছুটা কমেছে?
গতকালের জ্ঞান আজ কি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে?
এই ছোট উন্নতিই বড় দিনের বীজ,
ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে জীবনের মহারথ।
অন্যের পথ না মেপে নিজের পথ চলো,
নিজের দায়িত্ব পালন করে নিজেকেই বদলাও ভালো।
বাহিরে সাফল্য পেলেই সফল হওয়া নয়,
অন্তর যদি কালো থাকে, সে সাফল্য পূর্ণ নয়।
লোভ, হিংসা, অহংকার, অলসতা, অসততা,
এসব দূর না করলে মুছে না মনের অন্ধতা।
নিজেকে শুদ্ধ করো, হৃদয় করো নির্মল,
ক্ষমা করো, সত্য বলো, রাখো অন্তর সরল।
রব বলেছেন—“যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে, সে-ই সফল,”
তাই আত্মশুদ্ধির পথেই ফুটুক জীবনের কমল।
শুধু নিজের জন্য যদি স্বপ্ন হয় পূরণ,
সাফল্যের পরিধি থাকে ততটাই সীমাবদ্ধ ক্ষণ।
নিজের জ্ঞান, সম্পদ, শক্তি, সামর্থ্য যত,
মানুষের কল্যাণে দাও—তবেই জীবন মহৎ।
শিক্ষক গড়ে মানুষ, চিকিৎসক দেয় সেবা,
কৃষক ফলায় অন্ন, ব্যবসায়ী পূরণ করে চাহিদা।
লেখক জ্বালায় জ্ঞানের প্রদীপ ঘরে ঘরে,
সৎ কর্মী গড়ে সমাজ সত্যেরই তরে।
নিজের অর্জন যদি অন্যের হাসি আনে,
তবেই সাফল্য সৌন্দর্য পায় মানুষের প্রাণে।
নিজে ভালো থেকো, অন্যকেও ভালো রাখো,
দুনিয়ার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখো।
যখন চারদিক অন্ধকার, পথ যখন বন্ধ,
তখনও মুমিনের হৃদয় থাকে না নিস্তব্ধ।
সালাতে দাঁড়াও, রবের কাছে চাও সাহায্য,
সবরকে সঙ্গী করো, জাগাও অন্তরের শক্তি।
সমস্যাকে ভেঙে নাও ছোট ছোট ভাগে,
একটি একটি করে সমাধান খুঁজে নাও আগে।
বিশ্বস্ত জ্ঞানীর কাছে প্রয়োজন হলে যাও,
অভিজ্ঞতার আলো নিয়ে নিজের পথ গড়াও।
বিপদের মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত নিও না তাড়ায়,
স্থির হও, ভাবো, তারপর এগিয়ে যাও বিচারে।
রবের ওপর ভরসা রেখে রাখো নৈতিকতা,
সত্যের পথে থাকলেই মেলে অন্তরের পবিত্রতা।
ঈমান হবে ভিত্তি, নিয়ত হবে শুদ্ধ,
জ্ঞান হবে আলো, চরিত্র হবে দৃঢ়।
পরিকল্পনা থাকবে, থাকবে শ্রমের গান,
সবর হবে সাথী, দোয়া হবে প্রাণ।
তাওয়াক্কুল থাকবে, সততা থাকবে সাথে,
হালাল পথেই চলবে জীবন প্রভাতের প্রভাতে।
এই পথেই গড়ে ওঠে কল্যাণময় জয়,
এই জয় দুনিয়া পেরিয়ে আখিরাতেও রয়।
পরিশ্রম থাকবে—অহংকার থাকবে না,
স্বপ্ন থাকবে—হারাম পথ থাকবে না।
প্রতিযোগিতা থাকবে—হিংসা থাকবে না,
উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকবে—রবকে ভোলা যাবে না।
ব্যর্থতা আসবে—হতাশা স্থায়ী হবে না,
সাফল্য এলে কৃতজ্ঞতা হারিয়ে যাবে না।
জীবনের প্রতিটি অর্জন বলবে মনে মনে—
“সবই রবের দয়া”—কৃতজ্ঞতা থাকবে প্রাণে।
কেউ বলে সম্পদই জীবনের সাফল্য,
কেউ বলে পদ, কেউ খ্যাতি, কেউ ক্ষমতার ঐশ্বর্য।
কিন্তু মুমিন জানে—এসব ক্ষণিকের ছায়া,
আখিরাতের সফলতাই চূড়ান্ত মহিমাময় মায়া।
যে আগুন থেকে বাঁচে, জান্নাতে করে প্রবেশ,
সত্যিকারের সফল সে—রবের ঘোষণা বিশেষ।
দুনিয়ার উন্নতি চাই, তবে আখিরাত ভুলে নয়,
দুই জীবনের কল্যাণেই মুমিনের প্রকৃত জয়।
দুনিয়ায় হোক সম্মান, জীবনে হোক কল্যাণ,
হালাল পথে চলুক কর্ম, পবিত্র হোক প্রাণ।
রবের সন্তুষ্টি হোক জীবনের শেষ কামনা,
জান্নাতের আশাই হোক মুমিনের চূড়ান্ত প্রার্থনা।
ঘরে যদি বাধা আসে—থেমো না, ভাই,
বাইরে যদি ঝড় ওঠে—ভয় পেয়ো না তাই।
অভাব যদি আসে—সবরকে করো সাথী,
ব্যর্থতা যদি আসে—নতুন করো গাঁথি।
মানুষ যদি বলে—“তুমি পারবে না আর,”
রবের রহমত ভেবে এগিয়ে যাও বারবার।
ভয় যদি হৃদয়ে এসে আঁধার করে ঘর,
ঈমানের আলো জ্বেলে দূর করো সে ভয়-ঝড়।
স্বপ্ন যদি সত্যিই হয় কল্যাণের পথ,
সততা দিয়ে গড়ো তাকে, করো জীবন মহৎ।
শর্টকাটের মোহ ছেড়ে ন্যায়ের পথে চলো,
হারাম ছেড়ে হালাল বেছে রবের কাছে বলো—
“হে আমার রব, তুমি আমার পথের আলো,
দুঃখে তুমি সান্ত্বনা, সুখে তুমি ভালো।
আমি দুর্বল, তুমি শক্তি; আমি ক্ষুদ্র, তুমি মহান,
তোমার দয়াতেই গড়ুক আমার জীবন ও সম্মান।”
বাধা এলে থামব না,
ব্যর্থ হলে ভাঙব না;
সবর নিয়ে পথ চলব,
সৎ প্রচেষ্টায় এগোব।
অন্ধকারে ভয় পাব না,
আশার আলো নিভাব না;
রবের ওপর ভরসা রেখে
স্বপ্নপথে থামব না।
জ্ঞান হবে হাতে প্রদীপ,
সততা হবে পথ;
দোয়া হবে হৃদয়ের ভাষা,
সবর হবে রথ।
তাওয়াক্কুল থাকবে অন্তরে,
কর্ম থাকবে হাতে;
হালাল পথে চলব আমরা
রবের সন্তুষ্টির সাথে।
আজ যদি পথ কঠিন হয়,
কাল হবে সহজ;
কষ্ট পেরিয়ে ফুটবে একদিন
সাফল্যেরই কুসুম।
আজ যে চোখে অশ্রুধারা,
কাল সে চোখে হাসি;
রবের রহমত পেলে ভাই,
দুঃখ থাকে না বেশি।
পড়ে গেলে আবার উঠব,
ভুল করলে শিক্ষা নেব;
হার না মেনে সত্যপথে
নতুন করে পথ গড়ব।
ঘরে-বাইরে যত বাধা,
যতই আসুক ঝড়—
ঈমান, সবর, কর্ম নিয়ে
হব আমরা দৃঢ়।
দুনিয়াতে কল্যাণ চাই,
আখিরাতে নাজাত;
রবের সন্তুষ্টিই হোক
জীবনের মূল প্রভাত।
স্বপ্ন হবে সত্য একদিন—
যদি থাকে সৎ সাধনা;
সফল হবে জীবন তখন—
যদি থাকে রবের রাহে চলা।
তাই আজ থেকে পণ করি—
হাল ছাড়ব না আর;
রবের ওপর ভরসা রেখে
খুলব সাফল্যের দ্বার।
প্রতিকূলতা পথের শেষ নয়,
প্রতিকূলতা শিক্ষা;
কাঁটার পথে হাঁটলেই তো
ফুটে সাফল্যের দীক্ষা।
চেষ্টা হবে আমাদের,
ফয়সালা রবের হাতে;
ঈমান নিয়ে এগিয়ে যাব
আলোভরা প্রভাতে।
দুনিয়ার ক্ষণিক সাফল্য নয়—
চাই চিরস্থায়ী জয়;
জান্নাতের সেই মহাসাফল্য
হোক আমাদের পরিচয়।
১
১ মন্তব্য