Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:২২ পূর্বাহ্ণ

উত্তম চরিত্র—ঈমানের সৌন্দর্য ও মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার - মোঃ মুজিবুর রহমান

উত্তম চরিত্রঈমানের সৌন্দর্য মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

মানুষের যত অলংকার, যত গৌরব-ভূষণ,
উত্তম চরিত্র সবার সেরাসর্বশ্রেষ্ঠ ধন।
সোনা-রূপা ম্লান হয়ে যায়, ম্লান হয় রাজমুকুট,
সুন্দর চরিত্র থাকলে মানুষ হয় সত্যিই অমূল্য রত্ন।

ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, ক্ষমতা ক্ষণিকের,
রূপ-যৌবন ঝরে পড়ে সময়েরই স্রোতের।
কিন্তু ভালো চরিত্র থাকে মানুষের স্মরণে,
সুগন্ধ হয়ে বেঁচে থাকে মানুষেরই হৃদয়ে।

ঈমান শুধু মুখের কথাএমন নয় তার রূপ,
কর্মে তার প্রকাশ ঘটে, চরিত্রে তার দীপ।
অন্তরে তাকওয়া জাগে, সত্যে ভরে প্রাণ,
সুন্দর আচরণে তখন ফুটে ঈমানের গান।

রাসুল বলেছেনতিনি প্রেরিত হয়েছেন
মহৎ চরিত্র পূর্ণ করার জন্যেহাদিসে তা জেনেছি।
তাই চরিত্র গঠন করা মুমিনেরই কাজ,
সুন্দর চরিত্রেই মেলে দুনিয়া-আখিরাতের সাজ।

সত্য বলো, সত্য চলো, সত্য রাখো প্রাণে,
সত্য মানুষ সম্মান পায় দুনিয়ারই টানে।
মিথ্যার পথে লাভ থাকলেও শেষটা বড় ক্ষয়,
সত্যের পথে কষ্ট এলেও শেষে আসে জয়।

সত্য কথা তিক্ত হলেও সত্য থাকে সত্য,
মিথ্যা দিয়ে সাজালে জীবন হয় শুধু ভ্রান্ত।
আল্লাহ ভালোবাসেন সত্যবাদী বান্দাকে,
সত্যের আলো পথ দেখায় অন্ধকারের বাঁকে।

কথায় সত্য, কাজে সত্য, সত্য হোক মন,
সত্য দিয়ে গড়ে ওঠে সুন্দর জীবনধন।
যে মুখে সত্য উচ্চারিত, সে মুখ পবিত্র হয়,
সত্যনিষ্ঠ মানুষের প্রতি সবার শ্রদ্ধা রয়।

আমানত রাখো আমানত, করো না তার খেয়ানত,
মুমিনের পরিচয় হলো বিশ্বস্ততার প্রমাণ।
কারও গোপন কথা পেলে রেখো তা গোপনে,
অন্যের হক নষ্ট কোরো না কোনো ছলচাতুরিতে।

দায়িত্ব যখন হাতে আসে, পালন করো ঠিক,
অন্যের অধিকার কেড়ে নিও না একটুও অধিক।
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, করো না অবিচার,
আমানতদার মানুষ পায় রবের অনুগ্রহ-ভার।

বড় হলে অহংকারে মাথা কোরো না উঁচু,
বিনয়েরই সৌন্দর্য হলো মানুষের সবচেয়ে পিছু।
জ্ঞান যদি বাড়ে তোমার, বিনয় বাড়ুক সাথে,
ফলভরা গাছ যেমন নত হয়ে থাকে পথে।

অহংকার মানুষের মনে অন্ধকারই আনে,
বিনয় মানুষকে তুলে ধরে সম্মানেরই সিংহাসনে।
নিজেকে বড় ভাবার আগে ভাবো একবার ভাই,
যে মাটিতে জন্ম তোমার, সেখানেই ফিরতে হয় তাই।

পিতা-মাতা জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম ছায়া,
তাঁদের সেবায় মেলে রবের সন্তুষ্টির মায়া।
কণ্ঠে যেন না ওঠে কখনো বিরক্তিরই স্বর,
ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও তাঁদের জীবনভর।

বৃদ্ধ হলে মায়ের হাতে ধরো স্নেহের হাত,
বাবার ক্লান্ত চোখে দিও ভালোবাসার প্রভাত।
তাঁদের জন্য দোয়া করো, রাখো তাঁদের মান,
পিতা-মাতার সেবায় জাগে মানবতার প্রাণ।

রব্বির হামহুমা”—দোয়ার সুরে ভরে মন,
যেমন শৈশবে লালন করেছেন”—স্মরণ করো ক্ষণ।
মায়ের কষ্ট, বাবার শ্রম ভুলে যেয়ো না আর,
তাঁদের প্রতি সদাচরণ মুমিনেরই অহংকার।

পাশের ঘরের মানুষটিও তোমার আপনজন,
প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখে রাখো তারে স্মরণ।
ক্ষুধার দিনে খাবার দাও, বিপদে বাড়াও হাত,
প্রতিবেশীর চোখের পানি মুছে দাও রাত-প্রভাত।

তোমার কারণে কারও যেন না আসে কোনো কষ্ট,
তোমার কথায় ভেঙে যেন না যায় কারও হৃদয়।
মুমিন সে-, যার হাত জবান থেকে মানুষ নিরাপদ,
শিক্ষা রাখো হৃদয়জুড়েএটাই ঈমানের সৌন্দর্য।

কেউ যদি তোমায় কষ্ট দেয়, প্রতিশোধেই কি জয়?
ক্ষমা করে দিলে দেখো, হৃদয়ে শান্তি রয়।
রাগ উঠিলে সংযম ধরো, থামাও ক্রোধের ঢেউ,
ক্ষমাশীল মানুষের মতো মহৎ মানুষ 'জন কেউ?

রাগকে যে সংযত রাখে, সে- শক্তিমান,
ক্রোধ দমন করা যে বড় সাহসেরই প্রমাণ।
অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে ন্যায়ের বিধান মেনে,
কিন্তু সীমা লঙ্ঘন কোরো না প্রতিশোধের টানে।

ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়,
ক্ষমা মানে নিজের নফসকে করা সত্যিই জয়।
ন্যায় রেখে দয়া করো, হৃদয় রাখো নরম,
এভাবেই চরিত্রে ফুটে ইসলামেরই মর্ম।

বিপদ এলে ভেঙে যেয়ো না, ধরো ধৈর্যের হাত,
সবর করে আল্লাহকে ডাকো দিন আর রাত।
কষ্ট যত গভীর হোক, রব আছেন পাশে,
মুমিনের আশা কখনো নিভে না হতাশায় ভাসে।

সুখের দিনে শুকরিয়া আর দুঃখে রাখো সবর,
এই দুই গুণে সুন্দর হয় মুমিনেরই অন্তর।
পরীক্ষা আসে জীবনেএটাই দুনিয়ার নিয়ম,
সবরের পথে চললে শেষে আসে রহমতের ঋণ।

কথা বলো মিষ্টি করে, কোমল হোক বাণী,
একটি কথা ভাঙতে পারে হৃদয়খানি।
আবার একটি সুন্দর কথা দিতে পারে প্রাণে আলো,
তাই জিহ্বাকে সংযত রাখোবলবে শুধু ভালো।

কটু কথা, গালি, অপবাদমুখে দিও না স্থান,
পরনিন্দা আর গীবত করে কলুষিত কোরো না প্রাণ।
যা বললে উপকার হবে, সেই কথাই বলো,
নীরবতা উত্তম হলে নীরব থাকাই ভালো।

অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো মুমিনের কাজ নয়,
পরনিন্দাতে অন্তর কালো, নেক আমল ক্ষয়।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ কোরো না গান,
নিজের দোষ সংশোধন করোএটাই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।

অপবাদ দিয়ে মানুষের সম্মান কোরো না নষ্ট,
একটি মিথ্যা কথায় জীবন হতে পারে বিপর্যস্ত।
জিহ্বা ছোট, কিন্তু তার ক্ষতি হতে পারে বড়,
তাই জিহ্বাকে পাহারা দাওসতর্ক থাকো ঘোর।

অন্যের সুখ দেখে কেন জ্বলবে তোমার মন?
হিংসা শুধু পোড়ায় তোমার নিজেরই জীবন।
অন্যের জন্য দোয়া করো—“হে আল্লাহ, দাও কল্যাণ,
এভাবেই পরিষ্কার হবে মুমিনের অন্তর-প্রাণ।

অহংকার বলে—“আমি বড়, তাকওয়া বলে—“রব মহান,
বিনয় বলে—“সবই তাঁর”—এই তো ঈমানের জ্ঞান।
মানুষ যত জ্ঞানী হোক, যতই হোক ধনী,
আল্লাহর দরবারে সবাই তাঁরই বান্দাকেউ নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ।

নিজে খেয়ে অন্যকে না দিলে পূর্ণ হয় না সুখ,
অসহায়ের মুখে হাসি ফুটাও, মুছে দাও তার দুঃখ।
ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, তৃষ্ণার্তকে পানি,
মানুষের সেবায় খুঁজে নাও রবের রহমতখানি।

অসহায়ের পাশে দাঁড়াও, এতিমের মাথায় হাত,
রোগীর পাশে বসে শোনো তার কষ্টেরই কথা।
বৃদ্ধ মানুষ রাস্তা পার হলে বাড়িয়ে দাও হাত,
একটু সেবায় জেগে উঠতে পারে মানবতার প্রভাত।

সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারহাদিসে এসেছে বাণী,
সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে মেলে রবের করুণা-খানি।
যে মানুষ মানুষের জন্য হয়ে ওঠে কল্যাণ,
আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা হয় মহান।

শিশু হলো ফুলের মতো, কোমল তার প্রাণ,
ভালোবাসা দিলে সে পায় সুন্দর জীবনের গান।
বকাঝকা আর ভয় দেখিয়ে গড়ো না তার মন,
স্নেহ, শিক্ষা, আদর দিয়ে করো তার জীবনধন।

শিশুর ভুলে শিক্ষা দাও, দিও না অপমান,
ভালোবাসায় সংশোধন করোএটাই উত্তম জ্ঞান।
রাসুল শিশুদের প্রতি দেখিয়েছেন যে দয়া,
সেই আদর্শে গড়ে উঠুক প্রতিটি ঘরের মায়া।

শিক্ষক জ্ঞানের আলো জ্বালেন অজ্ঞতার ঘরে,
জীবনের পথ চিনিয়ে দেন ভালোবাসার তরে।
শিক্ষকের সম্মান করা শিক্ষার্থীরই গুণ,
শ্রদ্ধা দিয়ে গ্রহণ করলে জ্ঞানের হয় পূর্ণতা অর্জন।

জ্ঞান যার আছে, সে যেন বিনয়ী হয় আরও,
জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে করো বড়।
শিক্ষা শুধু পরীক্ষার জন্য ধারণা কোরো না,
শিক্ষার আলো চরিত্রে দাও, জীবন থেকে সরো না।

বন্ধু বেছে নাও ভেবে, সঙ্গ বড়ই শক্তি,
সৎ সঙ্গ জীবনে আনে কল্যাণের ভক্তি।
যে তোমাকে ভালো কাজে উৎসাহ দেয় সদা,
সে- সত্যিকারের বন্ধু, সে- আপন হৃদয়দাতা।

খারাপ সঙ্গ ধীরে ধীরে নষ্ট করে মন,
সৎ সঙ্গ মানুষকে দেয় আলোকিত জীবন।
বন্ধুর ভুল দেখলে তাকে সুন্দর করে বোঝাও,
অন্যায়ের পথে গেলে তাকে সত্যের পথে আনাও।

দয়া করো মানুষ, পশু, পাখিসবার প্রতি আজ,
দয়ার মাঝে ফুটে ওঠে ইসলামেরই সাজ।
তৃষ্ণার্ত প্রাণী দেখলে দিও একটু পানি,
অসহায় জীবের প্রতি রাখো মমতাখানি।

দয়া যার অন্তরে থাকে, সে হৃদয়ে মহৎ,
নিষ্ঠুরতার অন্ধকারে মানুষ হয় অবনত।
আল্লাহর রহমত পেতে দয়া করো প্রাণে,
দয়া ছড়িয়ে দাও তুমি মানুষেরই টানে।

আপন-পরের ভেদ না করে ন্যায় কথা বলো,
সত্যের পথে দৃঢ় থেকো, অন্যায়ের সাথে চলো না।
নিজের বিপক্ষে হলেও সত্যকে করো মান,
ন্যায়বিচার মুমিনেরই মহৎ পরিচয়-জ্ঞান।

ক্ষমতাবান দুর্বলকে যেন না করে দমন,
ধনী যেন গরিবের হক না করে হরণ।
ন্যায়ের পাল্লা সোজা রাখো, বাঁকা কোরো না আর,
ন্যায়ের পথে দাঁড়ালে মানুষ হয় সত্যিকার মহৎ চরিত্রধারী।

ঘরে যদি শান্তি চাও, সুন্দর করো আচরণ,
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের হক রাখো স্মরণ।
ভালোবাসা, ক্ষমা, ধৈর্যঘরের হোক ভিত্তি,
সুন্দর চরিত্রেই আসে পরিবারের প্রকৃত সমৃদ্ধি।

ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা, বোনের প্রতি মান,
পরিবারে সহযোগিতাএটাই মুমিনের জ্ঞান।
ছোটদের দাও স্নেহ, বড়দের দাও মান,
এভাবেই ঘরে গড়ে ওঠে শান্তিরই বাগান।

সমাজ যদি সুন্দর চাও, নিজেকে আগে গড়ো,
অন্যের দোষ দেখার আগে নিজের ভুলটি ধরো।
রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার রাখো, ময়লা ফেলো না,
জনসাধারণের সম্পদ তুমি নিজের মতো রক্ষা করো না?

অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে কোরো না গ্রহণ,
প্রতারণা, ঘুষ দুর্নীতি ছাড়ো সর্বক্ষণ।
হকদারের হক ফিরিয়ে দাও, করো না হক নষ্ট,
সততার সমাজ গড়লেই কমবে মানুষের কষ্ট।

আজকের দিনে হাতে হাতে জ্ঞান আর যোগাযোগ,
একটি কথায় ছড়িয়ে পড়ে ভালো কিংবা দুর্যোগ।
অনলাইনে লেখার আগে ভেবে নিও ভাই,
মিথ্যা, গীবত, অপবাদ ছড়ানো মুমিনের কাজ নয় তাই।

কারও ছবি, সম্মান, গোপন কথা কোরো না প্রচার,
ডিজিটাল দুনিয়াতেও মানো ইসলামের অধিকার।
কলম যেমন শক্তিশালী, কণ্ঠও তেমন শক্ত,
ভালো কথা ছড়িয়ে দাওহৃদয় হোক পবিত্র।

আমাদের শ্রেষ্ঠ আদর্শ মুহাম্মদ ,
তাঁর চরিত্রে ফুটেছিল কুরআনেরই রূপ।
ক্ষমা ছিল তাঁর গুণ, দয়া ছিল প্রাণ,
সত্য, আমানত, ন্যায়ছিল তাঁরই মহান জ্ঞান।

শত্রুও তাঁর সত্যবাদিতায় করত বিশ্বাস,
তাঁর চরিত্রে ফুটে উঠত রহমতের সুবাস।
কষ্ট দিয়েও যারা তাঁকে করেছে নির্যাতন,
তাদের জন্যও তিনি চেয়েছেন হেদায়াতের দান।

তাই যদি চরিত্র গড়তে চাও জীবনের পথে,
নবীর আদর্শ রাখো হৃদয়েরই সাথে।
সুন্নাহর আলোয় গড়ে তোলো আচরণ,
তবেই সুন্দর হবে তোমার দুনিয়া পরকাল-জীবন।

ঈমানের সৌন্দর্য শুধু কথায় প্রকাশ নয়,
চরিত্রে তার পরিচয়, কর্মে তারই জয়।
নামাজ যদি শেখায় তোমায় অন্যের হক মানতে,
রোজা যদি শেখায় ধৈর্য, নফসকে সংযত রাখতে

তবে সে ইবাদত চরিত্রে আনবে আলো,
মুমিনের আচরণ হবে সুন্দর, নির্মল ভালো।
ইবাদত যদি মানুষকে করে না নম্র-সদয়,
তবে নিজের আমল যাচাই করা প্রয়োজন নিশ্চয়।

কুরআনের শিক্ষা হৃদয়ে করো ধারণ,
সুন্নাহর আদর্শে সাজাও জীবন।
আল্লাহভীতি অন্তরে রেখে চলো সোজা পথে,
তাকওয়ার আলো জ্বলুক তোমার প্রতিটি কথায়-কাজে।

বংশ নয়, ধন নয়, রূপ নয় পরিচয়,
চরিত্রই বলে মানুষ কেমনকী তার সত্য জয়।
উচ্চ আসন, বড় পদ, সম্পদ অঢেল
চরিত্রহীন মানুষ হলে সবই যেন নিষ্ফল খেল।

গরিব হলেও সৎ হও, বিনয়ী হও প্রাণে,
সত্য থাকলে সম্মান আসে মানুষেরই টানে।
ছোট ঘরে থেকেও মানুষ হতে পারে মহান,
চরিত্রের সৌন্দর্যেই উজ্জ্বল হয় তার নাম।

প্রতিদিন নিজেকে জিজ্ঞেস করোকেমন হলো দিন?
কাউকে কি কষ্ট দিলাম? করলাম কি অন্যায় ঋণ?
কারও হক কি নষ্ট হলো আমার কোনো কাজে?
কাউকে কি কাঁদিয়েছি আমার কথারই আঘাতে?

ভুল হলে তাওবা করো, ফিরে এসো রবের পথে,
অন্তরকে পরিষ্কার রাখো সত্য নেক আমলের সাথে।
আজকের চেয়ে আগামীকাল হও আরও ভালো,
চরিত্রের বাগানে ফুটুক প্রতিদিন নতুন আলো।

এসো তবে চরিত্র গড়ি কুরআনেরই আলোয়,
সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরি দৃঢ় ভালোবাসায়।
সত্য, দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য হোক জীবনের গান,
তাকওয়া, বিনয়, আমানত হোক মুমিনের পরিচয়-জ্ঞান।

পিতা-মাতার সেবা করি, প্রতিবেশীর হক মানি,
অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুছে দিই তার গ্লানি।
গীবত, মিথ্যা, হিংসা, অহংকার দূরে রাখি,
পরের দুঃখে ব্যথিত হই, মানুষের পাশে থাকি।

কাউকে ছোট না করি, কাউকে দিই না আঘাত,
সত্য-ন্যায়ের পথে থাকি সকাল-সন্ধ্যা রাত।
জিহ্বা হোক পবিত্র, হৃদয় হোক নির্মল,
সুন্দর চরিত্রে ভরে উঠুক জীবন অবিরল।

দুনিয়ার পথে চলব আমরা আল্লাহকে ভয় করে,
মানুষের হক আদায় করব ভালোবাসা ভরে।
মৃত্যুর পরে রবের কাছে দাঁড়াতে হবে একদিন,
সেদিন যেন চরিত্র বলে—“সে ছিল সত্যিকারের মুমিন।

হে আল্লাহ! দাও আমাদের উত্তম চরিত্রের গুণ,
সত্যের পথে রাখো মোদের, করো অন্তর পবিত্র পূর্ণ।
রাসুল -এর সুন্নাহ মোদের জীবনে হোক দীপ,
কুরআনের আলোয় গড়ে উঠুক প্রতিটি হৃদয় নীপ।

দাও আমাদের বিনয়, দয়া, ক্ষমা আর ধৈর্য,
সত্যের পথে অবিচল থাকার শক্তি সৌভাগ্য।
মানুষের কল্যাণে যেন কাটে আমাদের জীবন,
উত্তম চরিত্রে হোক সুন্দর ঈমানের প্রকাশন।

চরিত্র হোক পরিচয়, চরিত্র হোক মান,
চরিত্রে ফুটুক ঈমান, চরিত্রে মানবপ্রাণ।
চরিত্র হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার,
উত্তম চরিত্রেই মিলুক রবের সন্তুষ্টির দ্বার।

সত্যের পথে চলব সবাই, মিথ্যা দেব ছাড়,
সুন্দর চরিত্র গড়ব মোরাএই হোক অঙ্গীকার।
কুরআন-সুন্নাহ হৃদয়ে রেখে গড়ব জীবনধারা,
উত্তম চরিত্র হোক আমাদের দুনিয়া-আখিরাতের সেরা সারা।

হে রব! আমাদের অন্তর করো নূরে ভরা,
উত্তম চরিত্র দিয়ে দাও জীবন সুধায় গড়া।
ঈমানের সৌন্দর্যে যেন আলোকিত হয় প্রাণ
মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার হোক উত্তম চরিত্রের দান।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ