Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:১০ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিস থাকলে কি আলু খাওয়া যাবে? জানালেন পুষ্টিবিদ

আলু আমাদের প্রতিদিনের রান্নায় বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। ভর্তা, ভাজি, তরকারি থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই—বিভিন্নভাবে আলু খেতে পছন্দ করেন ছোট-বড় প্রায় সবাই। তবে ডায়াবেটিসের সঙ্গে আলুর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস হলে খাদ্যতালিকা থেকে আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই?

পুষ্টিবিদ অমিতা গাদরের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেও পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতির দিকে খেয়াল রেখে আলু খাওয়া যেতে পারে। তাই আলুকে একেবারে নিষিদ্ধ খাবার হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।

ডায়াবেটিস থাকলেও আলু খাওয়া যায়

আলুতে জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকলেও এর প্রধান উপাদান স্টার্চ। শরীরে এই স্টার্চ তুলনামূলক দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হতে পারে। ফলে আলু বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে একসঙ্গে বেশি আলু খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো।

তবে এর মানে এই নয় যে, আলু খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বরং কতটা আলু খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং আলুর সঙ্গে অন্য কোন খাবার থাকছে—এসব বিষয়ও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে।

যেভাবে আলু খাওয়া তুলনামূলক ভালো

আলু রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, আলু সেদ্ধ, বেক বা রোস্ট করে খাওয়া তুলনামূলক ভালো। অন্যদিকে অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু, বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে আলুর সঙ্গে বাড়তি চর্বি ও ক্যালোরিও শরীরে যোগ হয়।

তবে সেদ্ধ বা বেক করা হলেই আলুর স্টার্চের কারণে রক্তে শর্করা বাড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না। স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি অতিরিক্ত তেল ও ক্যালোরি কমাতে পারে, কিন্তু আলুর কার্বোহাইড্রেটের প্রভাব থেকে যায়।

আলুর সঙ্গে কী খাবেন?

শুধু আলু না খেয়ে এর সঙ্গে প্রোটিন ও নন-স্টার্চি সবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। যেমন, পরিমাণমতো আলুর সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি বা ডাল এবং প্রচুর শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে। এতে পুরো খাবারে কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

কোন আলু তুলনামূলক ভালো?

বাজারে বিভিন্ন ধরনের আলু পাওয়া যায় এবং সব জাতের আলুতে স্টার্চ ও পুষ্টিগুণের পরিমাণ এক নয়। বিশেষজ্ঞের মতে, সাধারণ সাদা আলুর কিছু জাতের তুলনায় মিষ্টি আলু এবং কিছু ওয়াক্সি ধরনের আলু—যেমন কারিসমা ও নিকোলা—তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। এসব আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছু ক্ষেত্রে কম এবং স্টার্চের পরিমাণও তুলনামূলক কম হতে পারে।

তাই ডায়াবেটিস থাকলেই আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী আলুর পরিমাণ এবং গ্রহণের পদ্ধতি ঠিক করা উচিত। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। তিনি আপনার খাদ্যতালিকায় আলু কতটা এবং কীভাবে রাখা যেতে পারে, সে বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারবেন।

মন্তব্য করুন