Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

পে স্কেলের বাড়তি খরচ মেটাতে বাজেট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার চলতি বাজেটে ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে। এজন্য গতিহীন প্রকল্পে বরাদ্দ স্থগিত, প্রকল্প খরচ কাটছাঁট, সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন, কর আদায় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাড় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের কাছে রাতারাতি বাড়তি অর্থের সংস্থান করার জন্য জাদুর কোনো কাঠি নেই। ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করতেই যেখানে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত এক লাখ কোটি টাকা জোগাড় করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ফলে বিদ্যমান বাজেটের বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করেই এই প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব নাসিমুল গনি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকারের 'মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোতে' আগেই হিসাব করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি সরকারের জন্য কোনো আকস্মিক বা অপ্রত্যক্ষিত ব্যয় নয়। কারণ, সরকার শুধু একক অর্থবছরের কথা ভেবে বাজেট প্রণয়ন করে না, বরং বহুবছরী পরিকল্পনার আলোকেই তা নির্ধারণ করে।

আগামী কয়েক বছর কী পরিমাণ আয় হতে পারে, কত ব্যয় হবে এবং কোন খাতে কত টাকা লাগতে পারে—তারও একটি আগাম হিসাব তৈরি করে। এটিই মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা বা এমটিবিএফ। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় ছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রকল্প একই গুরুত্বের নয়। কোনো প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতির জন্য জরুরি, আবার কোনো প্রকল্প কয়েক মাস বা এক বছর পিছিয়ে গেলেও বড় ক্ষতি হবে না। ফলে কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনো ভবন নির্মাণ প্রকল্প আগামী বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়, তাহলে আপাতত সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে ধীরগতির প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের সময়ও পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন