জলবায়ু কী?
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বাতাস, আর্দ্রতা ও অন্যান্য আবহাওয়াগত অবস্থার গড় ধরনকে জলবায়ু বলা হয়। বাংলাদেশ মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ুর দেশ। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বেশি।
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য
-
বাংলাদেশে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত—ছয়টি ঋতু দেখা যায়।
-
বর্ষাকালে অধিক বৃষ্টিপাত হয়।
-
দেশের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
-
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা বেশি।
-
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ছে।
বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বাংলাদেশে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ দেখা যায়। যেমন—
-
বন্যা
-
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
-
নদীভাঙন
-
খরা
-
কালবৈশাখী ও বজ্রপাত
-
ভূমিধস
-
অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ
বাংলাদেশ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। যেমন—
-
ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও ব্যবহার।
-
আগাম আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রচার।
-
উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) ও স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম।
-
নদী ও উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ।
-
বনায়ন ও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি।
-
দুর্যোগের সময় উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা।
-
কৃষিতে লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল ফসল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
-
জনগণের মধ্যে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
-
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক প্রকল্প গ্রহণ।
উপসংহার
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। তবে সঠিক পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
১৪
২১ মন্তব্য