সহকারী শিক্ষক
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:১১ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও শিক্ষা: আমাদের বিদ্যালয় কতটা জলবায়ু-সহনশীল?
জলবায়ু পরিবর্তন ও শিক্ষা: আমাদের বিদ্যালয় কতটা জলবায়ু-সহনশীল?
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ শিক্ষার্থীদের জীবন ও শিক্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে। UNICEF Bangladesh-এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত কারণে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছিল; কিছু শিশু আট সপ্তাহ পর্যন্ত শেখার সময় হারিয়েছে।এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বার্তা। জলবায়ু শিক্ষা শুধু বইয়ের অধ্যায় নয় আমরা যদি শিক্ষার্থীদের শুধু বলি— “জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা।” তাহলে তারা হয়তো তথ্যটি মনে রাখবে। কিন্তু যদি বলি—“তোমাদের বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত গরম হলে কীভাবে নিরাপদ থাকবে?” তখন বিষয়টি বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
বিদ্যালয়ে কী করা যায়?
শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা যেতে পারে—
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি;
- বিদ্যালয়ের সবুজায়ন;
- বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিয়ে প্রকল্প;
- প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর উদ্যোগ;
- দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা মহড়া;
- জলবায়ু বিষয়ক দেয়ালিকা;
- স্থানীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ;
- “Climate Action Day”।
শিক্ষার্থীরাই হতে পারে পরিবর্তনের দূত । একজন শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বলতে পারে—“আমাদের স্কুলে শিক্ষক বলেছেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে।”আরেকজন বলতে পারে—“গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের যত্নও নিতে হবে।”এভাবেই বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
উপসংহার
জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় নয়।এটি অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজ, ব্যবসা, জীবনযাপন—সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই জলবায়ু শিক্ষা হওয়া উচিত জ্ঞান + সচেতনতা + কর্মের সমন্বয়।শিক্ষার্থী শুধু জানবে না পৃথিবী বদলাচ্ছে; সে শিখবে—“আমি কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে মানিয়ে নিতে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারি?”বাংলাদেশের জন্য climate-resilient education নিয়ে UNICEF বিশেষভাবে কাজ করেছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে জলবায়ু ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
১৪
২১ মন্তব্য