সহকারী অধ্যাপক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
উত্তম চরিত্র—ঈমানের সৌন্দর্য ও মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
উত্তম চরিত্র—ঈমানের সৌন্দর্য ও মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার
মোঃ মুজিবুর রহমান
চেহারাতে সৌন্দর্য থাকে, পোশাকে বাহার,
চরিত্র যদি মন্দ হয়—সবই যে অন্ধকার।
ধন-দৌলত, জ্ঞান-গরিমা, পদ-পদবি যত,
উত্তম চরিত্র ছাড়া বলো—মূল্যই বা কত?
মানুষ চেনা যায় না শুধু বাহ্যিক পরিচয়ে,
মহত্ত্ব ফুটে ওঠে তার আচরণে, হৃদয়ে।
মধুর বচন, সত্য কথা, সুন্দর ব্যবহার—
এসব দিয়ে মানুষ পায় সম্মান অপরিসীম ভার।
আখলাক মানে চরিত্র, স্বভাব, নৈতিকতা,
আচরণ আর ব্যবহার—মানবতার পবিত্রতা।
নিজেকে যে শোধরাতে চায় আল্লাহর ভয় ধরে,
তার চরিত্র ফুটে ওঠে সত্যকর্মের ঘরে।
সত্য বলি, মিথ্যা ছাড়ি—সত্য হোক ভাষা,
আমানত রাখি আমানত—এটাই হোক আশা।
দেওয়া কথা রাখব আমি, রাখব অঙ্গীকার,
বিশ্বাস ভেঙে করব না আর কারও সর্বনাশ।
বড়দের করি সম্মান, ছোটদের করি স্নেহ,
দুর্বলের পাশে দাঁড়াই—মুছে দিই তার ক্লেশ।
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করি, করি না তার ক্ষতি,
এভাবেই চরিত্র গড়ে—ইসলামেরই গতি।
মহান রবের প্রিয় নবী, মুহাম্মদ (সা.),
চরিত্রে ছিলেন শ্রেষ্ঠ—তাঁর তুলনা কোথা?
আল্লাহ নিজেই বলেছেন তাঁর পবিত্র গুণ,
“وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ”—
মহান চরিত্রে আপনি, হে নবী, অনুপম।
“নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী”—
কলম থেমে যায় যেন এ প্রশংসা স্মরি।
কুরআনের প্রতিটি শিক্ষা জীবনে করলেন ধারণ,
তাঁর চরিত্রে ফুটে উঠল ওহিরই বিধান।
আয়েশা (রা.) বলেছিলেন—চরিত্র ছিল কুরআন,
তাঁর জীবনেই ফুটে উঠল কুরআনেরই জ্ঞান।
তিলাওয়াত শুধু নয়—জীবনে চাই প্রয়োগ,
কুরআনের শিক্ষা হলে চরিত্রে তার যোগ।
রাসূল (সা.) বলেছেন—মহৎ চরিত্র পূর্ণ করতে,
এসেছি আমি মানবজীবন সুন্দর করে গড়তে।
তাই তো ইসলাম চায় শুধু বাহ্যিক ইবাদত নয়,
চরিত্রের সৌন্দর্যও যেন মুমিনজীবনে রয়।
ঈমান যদি সত্য হয়, আচরণ হবে সুন্দর,
জুলুম থেকে দূরে থাকবে, হৃদয় হবে নির্মল।
আখিরাতের বিশ্বাস যার অন্তরে জাগে,
সে অন্যের অধিকার নষ্ট করতে ভয় পায় মনে।
মুমিনের ঈমান পূর্ণ হয় উত্তম চরিত্রে,
সত্য ও ন্যায়ের আলো জ্বলে তার অন্তরে।
নামাজ, রোজা, ইবাদত—সবই মহৎ সাধন,
চরিত্রে তার প্রতিফলন হলেই পূর্ণ জীবন।
শ্রেষ্ঠ মানুষ সে-ই, যার চরিত্র শ্রেষ্ঠ,
সত্যের পথে অবিচল, অন্তর যার পবিত্র।
ধন নয়, ক্ষমতা নয়, বাহ্যিক সম্মান নয়—
তাকওয়া আর চরিত্রেই মানুষের মর্যাদা রয়।
ধনী যদি অহংকারী হয়—ধন কী তার গুণ?
জ্ঞানী যদি অসৎ হয়—জ্ঞান কী তার ভূষণ?
ক্ষমতাবান অত্যাচারী—ক্ষমতা তার কী?
সৎ চরিত্রের সাধারণ মানুষ অনেক বড়ই তাই।
সত্যবাদিতা চরিত্রের প্রথম দীপ্ত আলো,
সত্য যার মুখের ভাষা—মানুষ তাকে ভালো।
কঠিন হলেও সত্য বলি, মিথ্যা করি ক্ষয়,
সত্যের পথে চললে শেষে সম্মান আসে নিশ্চয়।
মিথ্যার ওপর গড়ে ওঠে না কোনো স্থায়ী ঘর,
মিথ্যার পথে হারায় মানুষ বিশ্বাসেরই পর।
সত্য যদি হৃদয়ে থাকে, ভয় থাকে না মনে,
সত্যবাদী মানুষ থাকে মানুষেরই সনে।
আমানত মানে শুধু নয় কারও দেওয়া ধন,
দায়িত্বও আমানত—এ কথা রাখি স্মরণ।
গোপন কথা, অর্পিত কাজ, দায়িত্বের ভার—
সততার সাথে রক্ষা করা চরিত্রের অলংকার।
শিক্ষকের দায়িত্ব যেমন আমানতেরই অংশ,
পিতা-মাতার দায়িত্বও আল্লাহর দেওয়া বংশ।
সন্তানের হক, কর্মের দায়—সবই পরীক্ষা,
আমানত রক্ষা করলে মেলে রবেরই সন্তুষ্টি।
কথা দিলে কথা রাখি—এটাই হোক পণ,
প্রতিশ্রুতি ভাঙলে নষ্ট হয় বিশ্বাসের বন্ধন।
ভেবে-চিন্তে কথা বলি, দিই না মিথ্যা আশ্বাস,
দেওয়া কথা পালন করি—এটাই উত্তম আখলাক।
অহংকার অন্তর পোড়ায়, বিনয় আনে মান,
বিনয়ী মানুষ সবার কাছে পায় আপন স্থান।
জ্ঞান পেয়ে অহংকার নয়, বাড়ুক তার বিনয়,
ধন পেয়ে গর্ব নয়—হৃদয়ে থাকুক ভয়।
ক্ষমতা যদি হাতে আসে, দুর্বলকে দিও মান,
নিজেকে বড় ভাবার আগে স্মরণ করো পরওয়ারদিগার।
মর্যাদা যতই বাড়ুক, মাটির মানুষ রই,
বিনয়ী হৃদয়েই তবে সত্য সৌন্দর্য সই।
শিশুর মুখে হাসি ফোটাও, বৃদ্ধের পাশে দাঁড়াও,
ক্ষুধার্তের ক্ষুধা মেটাও, অসুস্থকে দেখতে যাও।
এতিম, দরিদ্র, অসহায়—সবাই আপনজন,
দয়ার ছায়ায় গড়ে ওঠে সুন্দর মানবমন।
অন্যের ব্যথা বুঝতে শেখো, অনুভব করো ক্ষত,
কারও চোখে অশ্রু এলে মুছে দাও সে জল।
মানুষেরই কল্যাণে যদি দিতে পারো হাত,
তবে তোমার চরিত্র হবে সত্যিই মহৎ।
রাগ এলে থামো আগে, নীরব হও ক্ষণ,
রাগের বশে বলা কথা ফিরিয়ে আনা কঠিন।
নিজেকে যে জয় করতে পারে, সে-ই আসল বীর,
রাগ দমন করে যে চলে, তার হৃদয় হয় স্থির।
কুরআন বলে মুত্তাকিদের গুণের মাঝে রয়—
রাগ সংবরণ করে যারা, ক্ষমা করে নিশ্চয়।
তাই ক্রোধের আগুন নিভাও ধৈর্যেরই জলে,
ক্ষমার ফুল ফুটুক যেন প্রতিটি হৃদয়তলে।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়,
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই যেখানে প্রয়োজনীয় হয়।
ব্যক্তিগত কষ্ট হলে ক্ষমা মহৎ গুণ,
উদারতার আলোয় তখন সুন্দর হয় মন।
চরিত্রের প্রথম পরীক্ষা নিজের ঘরের মাঝে,
বাইরে ভালো, ঘরে মন্দ—এ কেমন সাজে?
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের হক রাখবে মনে,
ভালোবাসা, সম্মান থাকবে তাদের জীবনে।
সন্তান করবে পিতা-মাতার যথাযোগ্য সম্মান,
পিতা-মাতা স্নেহে গড়বে সন্তানের প্রাণ।
ভাই-বোনে ভালোবাসা, সহযোগিতার হাত,
এমন ঘরেই নেমে আসে শান্তিরই প্রভাত।
ঘরের মানুষ কাঁদবে আর বাইরে হাসব মুখে—
এমন চরিত্র নয় যে ইসলামেরই সুখে।
আপনজনের প্রতি সদয়, ধৈর্যশীল হও,
নিজের ঘর থেকেই আগে উত্তম মানুষ হও।
পাশের ঘরের মানুষটিও তোমারই প্রতিবেশী,
তার সুখ-দুঃখে হও তুমি মানবতার সাথী।
তার ক্ষতি করো না কখনো, দিও না কষ্ট,
প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াও—হোক সম্পর্ক সুদৃঢ়।
মতভেদ থাকলেও যেন নষ্ট না হয় অধিকার,
ন্যায় ও সদাচরণেই সুন্দর হোক ব্যবহার।
ভালো প্রতিবেশী হওয়া শুধু ক্ষতি না করায় নয়,
বিপদের দিনে পাশে থাকা উত্তম গুণের পরিচয়।
শিক্ষা শুধু মুখস্থ নয়, চরিত্র গড়ার নাম,
জ্ঞান যদি আচরণে না আসে—কোথায় তার দাম?
আদর্শ শিক্ষক জ্ঞান দেন, শেখান শিষ্টাচার,
সততা, দায়িত্ব, মানবতা—জ্বালান জ্ঞানের দ্বার।
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে আদর্শ শিক্ষার্থী,
মনোযোগে জ্ঞান অর্জন করে, হয় সে সত্যার্থী।
শিক্ষকের চরিত্র ছাত্রের মনে রাখে দাগ,
ছাত্রের আচরণও বলে শিক্ষার কত ভাগ।
জ্ঞান মানুষকে আলোকিত করে—দূর করে অন্ধকার,
চরিত্র সেই আলোকে দেয় জীবনে ব্যবহার।
জ্ঞান ও চরিত্র মিললে মানুষ হয় মহৎ,
তখন তার কর্মে জ্বলে সত্যেরই জ্যোতি।
সত্যবাদী মানুষ বাড়লে কমে প্রতারণা,
আমানতদার হলে বাড়ে বিশ্বাসের ঠিকানা।
ন্যায়পরায়ণ হলে জুলুম হারায় স্থান,
ক্ষমাশীল হৃদয় হলে কমে বিবাদ-অভিমান।
দয়ালু মানুষ থাকলে হাসে অসহায় মুখ,
দায়িত্বশীল মানুষ গড়ে সমাজের সুখ।
একজনের চরিত্র ছড়িয়ে পড়ে বহু প্রাণে,
ভালো মানুষ গড়ে সমাজ—সত্যেরই টানে।
তাই চরিত্র ব্যক্তিগত কোনো অলংকার নয়,
শান্ত সমাজ গড়ার জন্য এর প্রয়োজন হয়।
সুন্দর চরিত্রের মানুষ যত বাড়ে দেশে,
শান্তির আলো তত ছড়ায় মানুষেরই মাঝে।
বক্তৃতার চেয়েও কখনো আচরণ বলে বেশি,
সুন্দর ব্যবহারে মানুষ হয়ে ওঠে ভালোবাসী।
সত্যবাদী মুসলিম হলে, বিশ্বস্ত হলে প্রাণ,
তার চরিত্রেই ফুটে ওঠে ইসলামের সম্মান।
মুখে যদি ইসলাম বলি, কাজে যদি করি ছল,
মানুষ তখন ভুল বুঝবে দ্বীনেরই আসল ফল।
তাই নিজের জীবন আগে কুরআনের আলোয় গড়ি,
চরিত্র দিয়ে দ্বীনের সৌন্দর্য মানুষের মাঝে ছড়াই।
কুরআন পড়ি, অর্থ বুঝি, শিক্ষা করি ধারণ,
শুধু তিলাওয়াত নয়—জীবনে হোক প্রয়োগ সাধন।
নবীর জীবন অধ্যয়ন করি, অনুসরণ করি পথ,
দয়া, ধৈর্য, ক্ষমা, বিনয়ে গড়ি নিজের রথ।
নিজের ভুল স্বীকার করি, করি আত্মসমালোচনা,
আজকের ভুল কালকে যেন না হয় পুনরাবৃত্তি-বেদনা।
রাগের সময়ে চুপ থাকি, আল্লাহকে করি স্মরণ,
শান্ত হলে কথা বলি—এটাই হোক আচরণ।
সৎ মানুষের সঙ্গ নিই, অসৎ সঙ্গ ছাড়ি,
চরিত্রবান মানুষের কাছ থেকে ভালো শিক্ষা ধরি।
প্রতিদিন নিজের হিসাব নিই—কী করলাম আজ?
কোথায় ছিল ভুল আমার, কোথায় ছিল লাজ?
আল্লাহর কাছে হাত তুলি—“হে দয়াময় রব,
আমার অন্তর শুদ্ধ করো, দূর করো সব কলুষ।”
সৎকর্মের তাওফিক দাও, সুন্দর করো মন,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় সাজাও জীবন।
সালাত শুধু দাঁড়ানো নয়—শেখায় অন্যায় ছাড়তে,
রোজা শেখায় নফসকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
যাকাত শেখায় দয়া, হক ও দায়িত্বের জ্ঞান,
হজ শেখায় শৃঙ্খলা, বিনয়, ভ্রাতৃত্বের গান।
ইবাদতের সৌন্দর্য যখন আচরণে আসে,
তখন মুমিনের জীবন আলোকিত হয় আশায়।
আল্লাহর আনুগত্য যদি সত্যি থাকে মনে,
তার ছাপ দেখা উচিত মানুষের ব্যবহারে।
মিথ্যা, ছলনা, প্রতারণা—দূরে সরাও সব,
গীবত, অপবাদ, হিংসা যেন না থাকে অন্তরজুড়ে।
অহংকার, কৃপণতা, অশ্লীলতা ত্যাগ করি,
গালাগালি, জুলুম, বিশ্বাসঘাতকতা দূরে রাখি।
অন্যের হক নষ্ট করা কোনোভাবেই নয়,
মানুষের অধিকার রক্ষা মুমিনেরই পরিচয়।
নিজের দোষ আগে দেখি, অন্যের দোষ পরে,
আত্মশুদ্ধির পথে চলি আল্লাহরই ভরে।
কুরআন শেখায় সত্য কথা, ন্যায় ও ইনসাফ,
দয়া, ক্ষমা, পিতা-মাতার সম্মান—মহান স্বভাব।
বিদ্রূপ, গীবত, অপবাদ থেকে থাকতে বলে দূর,
অহংকারের পথ ছেড়ে হতে বলে বিনয়ী সুর।
কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয় যে গ্রন্থ,
জীবন গড়ার পথনির্দেশ—অমূল্য তার মন্ত্র।
যে কুরআন হৃদয়ে নেয়, কাজে করে প্রকাশ,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে সত্যের দীপ্ত আভাস।
রাসূল (সা.)-এর জীবন তাই আমাদের আদর্শ,
তাঁর চরিত্র অনুসরণে জীবন হবে পরিশুদ্ধ।
কুরআনের শিক্ষা বুকে, সুন্নাহর পথ ধরে,
চরিত্র গড়ি আমরা সবাই আল্লাহরই ভয়ে।
যৌবন যাবে, রূপ ঝরবে, ধন যাবে একদিন,
ক্ষমতারও শেষ রয়েছে—থাকবে না কোনো ঋণ।
পদ-পদবি, বাহ্যিক জৌলুস সবই ক্ষণস্থায়ী,
চরিত্রের সৌন্দর্য থাকে হৃদয়ের গভীর ঠাঁই।
সত্যবাদী মানুষকে মানুষ মনে রাখে,
দয়ালু মানুষের স্মৃতি হৃদয়ের মাঝে থাকে।
বিশ্বস্ত মানুষের কথা ভোলে না কোনো প্রাণ,
ক্ষমাশীল মানুষের থাকে অমলিন সম্মান।
পোশাক নয়, চরিত্রই মানুষের শ্রেষ্ঠ ভূষণ,
সুন্দর মনেই ফুটে ওঠে সত্যিকারের জীবন।
বাহির যতই সুন্দর হোক, অন্তর যদি কালো,
চরিত্র ছাড়া সৌন্দর্য যেন আলোহীন আলো।
মিথ্যার বদলে সত্য বলি—সত্য হোক ভাষা,
অন্যায়ের বদলে ন্যায়—এই হোক জীবনের আশা।
অহংকারের বদলে বিনয় হৃদয়ে করি ধারণ,
হিংসার বদলে ভালোবাসা হোক প্রাণের স্পন্দন।
প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা—যেখানে সম্ভব হয়,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াব—এটাই মানবিক পরিচয়।
পিতা-মাতার সম্মান করব, পরিবারের হক রাখব,
প্রতিবেশীর শান্তি-নিরাপত্তার যত্ন নেব, ভালোবাসব।
শিক্ষককে সম্মান দেব, শিক্ষাকে করব মান,
অর্জিত জ্ঞান কল্যাণে দেব—এ হোক অঙ্গীকার মহান।
সত্য, আমানত, দয়া, ধৈর্য—হৃদয়ে রাখব গুণ,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় গড়ব জীবনের ধন।
হে আল্লাহ, আমাদের দাও উত্তম চরিত্রের আলো,
অন্তর করো পবিত্র, জীবন করো ভালো।
ঈমান করো দৃঢ়, আমল করো কবুল,
ভুলত্রুটি ক্ষমা করে করো অন্তর নির্মল।
মিথ্যার আঁধার সরিয়ে দাও সত্যের দীপ্তি দিয়ে,
অহংকার দূর করে দাও বিনয়েরই নীড়ে।
রাগের আগুন নিভিয়ে দাও ধৈর্যের শীতল জলে,
ক্ষমার ফুল ফুটিয়ে দাও আমাদের অন্তরতলে।
মানুষের হক রক্ষা করার শক্তি দাও প্রাণে,
অসহায়ের পাশে থাকার তাওফিক দাও দানে।
পরিবারে শান্তি দাও, সমাজে দাও মৈত্রী,
সত্য-ন্যায়ের পথে রাখো—হে পরম করুণাময়ী।
কুরআনের শিক্ষা যেন চরিত্রে হয় প্রকাশ,
সুন্নাহর আদর্শে ভরে উঠুক হৃদয়-আকাশ।
রাসূল (সা.)-এর উত্তম গুণ অনুসরণ করে,
জীবন যেন কাটে আমাদের আল্লাহরই তরে।
উত্তম চরিত্র হোক ঈমানের সৌন্দর্য,
উত্তম চরিত্র হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য।
উত্তম চরিত্র হোক মানবতার পরিচয়,
উত্তম চরিত্রেই হোক দুনিয়া-আখিরাতের জয়।
সত্য যেখানে দীপ জ্বালে—সেখানে নেই ভয়,
ন্যায় যেখানে প্রতিষ্ঠিত—সেখানেই শান্তি রয়।
দয়া যেখানে হৃদয় ভরে—সেখানেই সুখধারা,
উত্তম চরিত্রে সুন্দর হোক পৃথিবী সারা।
এসো তবে চরিত্র গড়ি কুরআনেরই আলোয়,
সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরি ভালোবাসার ঢেউয়ে।
নিজে ভালো, অন্যের তরে কল্যাণের হাত বাড়াই,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে মানবতার গান গাই।
চরিত্র হোক ঈমানের ফুল, আচরণ হোক সুবাস,
সত্য-ন্যায়ের পথে হোক জীবনেরই প্রকাশ।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক আমাদের জীবনের ধন,
উত্তম চরিত্রে গড়ে উঠুক প্রতিটি মানবমন।
আমিন।
১৪
২১ মন্তব্য