সহকারী অধ্যাপক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা (সুখী পরিবার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অঙ্গীকার) - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা
(সুখী পরিবার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অঙ্গীকার)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মানুষ একা পূর্ণ নয়—সহযোগিতায় প্রাণ,
ভালোবাসায় গড়ে ওঠে জীবনেরই গান।
মমতার কোমল ছোঁয়ায় দূর হয় অভিমান,
বিশ্বাসের বন্ধনে মেলে শান্তির সন্ধান।
স্বামী-স্ত্রী দুটি মানুষ—একই পথের সাথি,
সুখের দিনে পাশাপাশি, দুঃখে থাকে হাতি—
না, তারা নয় প্রতিদ্বন্দ্বী, নয় পরস্পর শত্রু,
একজন অন্যজনের জীবনেরই মিত্র।
বিবাহ শুধু বন্ধন নয়, পবিত্র এক আমানত,
দায়িত্ব, দয়া, ভালোবাসা—এ তার মহৎ শপথ।
আল্লাহর দেওয়া পথে দুজন চলবে সাথে,
দুনিয়ার সুখ, আখিরাতের মুক্তি হবে তাতে।
“যাতে তোমরা শান্তি পাও”—আল্লাহর বাণী মহান,
ভালোবাসা, রহমত দিয়ে পূর্ণ হোক সংসার-প্রাণ।
রহমতেরই ছায়াতলে ফুটুক সুখের ফুল,
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়জুড়ে থাকুক নির্মল কূল।
ঘর তখনই ঘর হয়, যখন থাকে শান্তি,
কোমল কথায় ভরে ওঠে হৃদয়েরই কান্তি।
যেখানে স্বামী সম্মান দেয়, স্ত্রীও দেয় মান,
সেই ঘরেই ফুটে ওঠে ভালোবাসার গান।
কাজের শেষে স্বামী এলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে,
স্ত্রী যদি বলে—“এসো, বসো, একটু বিশ্রাম নিয়ে”,
একটি কথা, একটু হাসি, এক পেয়ালা জল,
ক্লান্ত হৃদয় ভরিয়ে দেয় প্রশান্তিরই ফল।
সন্তান-সংসার সামলাতে স্ত্রী যখন ক্লান্ত,
স্বামী যদি পাশে এসে হয় সহানুভূতিশীল অন্তর,
কাজটি যদি ভাগ করে নেয় ভালোবাসার টানে,
শান্তির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে সেই সংসারখানে।
সহযোগিতা শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করা নয়,
কষ্টের সময়ে পাশে থাকা—এও তার পরিচয়।
মন দিয়ে শোনা, ভুলে ক্ষমা, ভালো কাজে উৎসাহ,
এভাবেই সংসারে নামে রহমতেরই প্রভাত।
বিশ্বাস হলো দাম্পত্যের সবচেয়ে দৃঢ় সেতু,
বিশ্বাস ভাঙলে হৃদয়জুড়ে জমে অশ্রুর ঋতু।
অমূলক সেই সন্দেহ যখন মনের মাঝে বাসে,
ভালোবাসার ফুল শুকিয়ে যায় অজানা এক শ্বাসে।
আল্লাহ বলেছেন—সন্দেহ থেকে থাকো সাবধান,
কিছু ধারণা পাপ—এ বাণী রাখো মনে জ্ঞান।
প্রমাণ ছাড়া সন্দেহ করে করো না অবিচার,
অকারণে হৃদয় ভেঙে কোরো না হাহাকার।
গোপন কথা খুঁজে বেড়ানো, অপবাদ আর নিন্দা,
এসব দিয়ে নষ্ট হয় সম্পর্কেরই বন্ধন।
অন্যের কথায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিও না,
সন্দেহের আগুন জ্বেলে প্রিয়জনকে দিও না দাহ।
বিশ্বাস মানে অন্ধ হওয়া—এমন কথা নয়,
সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সম্পর্ক সুন্দর হয়।
সত্য বলো, স্বচ্ছ থাকো, রাখো সবার মান,
তবেই ঘরে স্থায়ী হবে ভালোবাসার প্রাণ।
দুটি মানুষ মানেই তো মতের কিছু ভিন্নতা,
একই পথে চললেও থাকে চিন্তার বিভিন্নতা।
মতভেদ যদি আসে, তাতে ভাঙবে না যে ঘর,
কথা বলে সমাধান করো—এটাই শ্রেষ্ঠ পথ।
সংসারে প্রশ্ন নয়—“জিতল কে আজ শেষে?”
প্রশ্ন হবে—“আমরা কেমন থাকব ভালোবেসে?”
স্বামী যদি হেরে যায়, পরিবার কি জেতে?
স্ত্রী যদি হেরে যায়, সুখ কি ঘরে ওঠে?
তাই তো দুজন পাশাপাশি, দুজন একই দল,
একজনের সুখে যেন অন্যজনেরই বল।
একজন যদি পড়ে যায়, অন্যজন ধরো হাত,
সহযোগিতার ছায়ায় কাটুক দুঃখের রাত।
আলোচনা হবে—কিন্তু থাকবে না অপমান,
সংশোধন হবে—তবু ভাঙবে না সম্মান।
নিজের অধিকার চাইবে, অন্যের অধিকার দেবে,
ন্যায় ও সদাচরণে সংসার সুন্দর হবে।
রাগ আসে মানুষের মনে—এটাই স্বাভাবিক,
কিন্তু রাগের বশে কথা হয় কত ভয়াবহ ক্ষতিকর।
একটি কঠিন বাক্য কখনো হৃদয়ে দেয় ক্ষত,
বছরের ভালোবাসাকেও করে দিতে পারে ক্ষতবিক্ষত।
রাসুল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন শক্তির সত্য মান,
কুস্তিতে যে জেতে শুধু সে নয় শক্তিমান।
রাগের সময় নিজেকে যে রাখতে পারে বশে,
প্রকৃত শক্তিমান সে—হাদিসের শিক্ষা স্পষ্ট ভাষে।
রাগ উঠলে থামো কিছু, নীরব হও ক্ষণ,
স্থান বদলাও, ওজু করো, স্মরণ করো রহমান।
পরিস্থিতি শান্ত হলে বসে বলো কথা,
কঠিন রাগে সিদ্ধান্ত নিলে বাড়ে শুধু ব্যথা।
গালাগাল নয়, চিৎকার নয়, ভয় দেখানো নয়,
কোমল ভাষায় সমস্যারই সমাধান করা হয়।
জিহ্বার আঘাত দেহের ক্ষতের চেয়েও গভীর,
তাই কথার আগে ভাবো—“এটি কি হবে সমীর?”
ভালোবাসা টিকে থাকে সম্মানেরই ছায়ায়,
সম্মানহীন ভালোবাসা শুকিয়ে যায় মায়ায়।
স্বামী স্ত্রীর মর্যাদা দেবে, স্ত্রীও দেবে মান,
পরস্পরের ব্যক্তিত্বে থাকবে সম্মানের স্থান।
সন্তানের সামনে কখনো কোরো না অপমান,
কারণ সন্তান দেখে শেখে বাবা-মায়ের আচরণ।
বাবা যদি মাকে সম্মান করে প্রতিদিন,
সন্তান শেখে—নারীর মর্যাদা রক্ষা করা ঋণ।
মা যদি বাবাকে সম্মান দেয় ভালোবাসার সাথে,
সন্তান শেখে শ্রদ্ধা কাকে বলে জীবনের পথে।
বাবা-মায়ের সুন্দর আচরণ নীরব পাঠশালা,
সন্তানের চরিত্র গড়ে সেখানেই প্রথম আলো জ্বালা।
তাই ঘরে হোক সম্মানের সুন্দর কথামালা,
মিষ্টি ভাষায় ভরে উঠুক সংসারেরই বেলা।
পরস্পরের ভুল দেখলে দাও সংশোধনের সুযোগ,
হেয় না করে ভালোবেসে দূর করো সব রোগ।
“তোমরা একে অপরের পোশাক”
আল্লাহর বাণী কত সুন্দর, হৃদয় করে জয়—
“তোমরা একে অন্যের পোশাক”—এতেই শিক্ষা রয়।
পোশাক যেমন আড়াল করে, দেয় নিরাপত্তা,
স্বামী-স্ত্রী তেমন হোক পরস্পরের আশ্রয়তা।
একজন যেন অন্যজনের দুর্বলতা না বলে,
ব্যক্তিগত গোপন কথা ছড়িয়ে না দেয় চলে।
অপমান নয়, উপহাস নয়, প্রকাশ নয় দোষ,
পরস্পরের সম্মান রক্ষা—দাম্পত্যেরই কোষ।
তুমি তারই আবরণ, সে তোমারই ঢাল,
দুজন মিলে রক্ষা করো সংসারেরই জাল।
বাইরের ঝড় যতই আসুক, হাত রেখো হাতে,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চলবে একই পথে।
মানুষ যখন পাশাপাশি, ভুল তো হবেই ভাই,
নিখুঁত মানুষ পৃথিবীতে একজনও তো নাই।
ছোট ভুলকে বড় করে তুলো না অকারণ,
ক্ষমার মাঝে লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার জীবন।
আল্লাহ বলেন—ক্ষমা করো, উপেক্ষা করো দোষ,
তোমরা কি চাও না আল্লাহ ক্ষমা করুন সর্বদোষ?
ক্ষমা মানে অন্যায়কে বৈধ বলা নয়,
সংশোধনের সুযোগ দেওয়া—এও মহৎ জয়।
একটি ভুলের বোঝা নিয়ে বসে থেকো না চিরকাল,
পুরোনো ক্ষত বারবার খুলে কোরো না জ্বাল।
যে ভুল ক্ষমা করেছ, আবার কেন অস্ত্র করো?
ভালোবাসার সেতু গড়ে নতুন পথে চলো।
সংসার টিকে অনেক সময় বড় কোনো কথায় নয়,
ছোট ছোট ক্ষমার মাঝে সুখের ঠিকানা হয়।
অভিমান যদি আসে, ভালোবেসে বলো—
“চলো, ভুলটি ভুলে গিয়ে নতুন করে চল।”
আল্লাহ বলেছেন—“তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বাস করো”,
এই নির্দেশ হৃদয়ে রেখে সংসারটিকে গড়ো।
ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয় কোনোদিন,
সদাচরণে প্রকাশ পায় ভালোবাসার ঋণ।
কোমল ভাষা, মিষ্টি হাসি, আন্তরিক ব্যবহার,
এসব দিয়েই সুন্দর হয় দাম্পত্যের সংসার।
অন্যের শ্রমের মূল্য দাও, কৃতজ্ঞ হও প্রাণে,
“আল্লাহ তোমায় উত্তম প্রতিদান দিন”—বলো সম্মানে।
রাসুল ﷺ বলেছেন—পরিবারের কাছে যে উত্তম,
সে-ই মানুষের মাঝে সত্যিকারের উত্তম।
তাই ঘরের মানুষকে যদি ভালোবাসতে না পারো,
বাইরের মানুষের কাছে কেমন মহৎ—ভেবে দেখো।
পরিবারের আচরণেই চরিত্রের বড় পরিচয়,
ঘরের মানুষ জানে মানুষ আসলে কেমন হয়।
বাইরে মিষ্টি, ঘরে যদি কঠিন হয় মন,
তবে চরিত্রের সৌন্দর্য কোথায়? ভাবো ক্ষণ।
“আমাদের ঝগড়া শুধু আমাদের”—এ কথা ঠিক নয়,
সন্তানের কোমল হৃদয় সবকিছু দেখে রয়।
চিৎকার, অপমান, ভয়, অশান্তির ঢেউ,
শিশুর মনে নিরাপত্তাহীনতার ছায়া বয়ে যায়।
প্রতিটি শিশুর প্রতিক্রিয়া একই রকম নয়,
তবু অশান্ত পরিবেশ তার ওপর প্রভাব ফেলে নিশ্চয়।
পড়াশোনায় মন কমে, আত্মবিশ্বাস হয় ক্ষীণ,
কখনো আচরণ বদলায়, কখনো হয় সে নীরব-গম্ভীর।
তাই সন্তানের সামনে সংযত হও, হে বাবা-মা,
তোমাদের আচরণেই তার ভবিষ্যতের ছায়া।
সমস্যা হলে কথা বলো, সমাধান খুঁজে নাও,
সন্তানের নিরাপদ শৈশব সুন্দর করে গড়াও।
সন্তানের প্রথম বিদ্যালয় তার নিজের ঘর,
প্রথম শিক্ষক বাবা-মা—তাদের প্রভাব অপরিসীম।
কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে দিতে মান,
কীভাবে দয়া করতে হয়—শেখে পরিবারের প্রাণ।
সত্যবাদিতা, আমানত, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা,
সালাত, দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য—হোক ঘরের শিক্ষা।
বাবা-মা যা করে দেখায়, সন্তান তাই শেখে,
শুধু মুখের উপদেশ দিলে সব শিক্ষা কি থাকে?
আল্লাহ বলেন—নিজেদের আর পরিবারকে আগুন থেকে বাঁচাও,
ঈমান ও নেক আমলের পথে পরিবারকে সাজাও।
শুধু খাদ্য-বস্ত্র দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
দীন ও চরিত্র শেখানোও পিতামাতার দায়।
সন্তানকে মানুষ করো—শুধু অর্থের জন্য নয়,
আল্লাহর বান্দা হবে সে—এই লক্ষ্য যেন হয়।
জ্ঞানী হবে, ন্যায়বান হবে, চরিত্র হবে সুন্দর,
মানুষের কল্যাণে হবে তার জীবন মহত্তর।
সংসারে অর্থ প্রয়োজন, অর্থ জীবনের অংশ,
কিন্তু অর্থের জন্য যেন না বাড়ে হৃদয়ের দংশন।
আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখো, করো পরামর্শ,
সামর্থ্য বুঝে জীবন গড়ো—এটাই বুদ্ধির হর্ষ।
অপচয় নয়, অহংকার নয়, ঋণে অযথা ডুব নয়,
প্রয়োজন আর বিলাসিতার পার্থক্য বুঝে লও।
আল্লাহ অপব্যয় করতে নিষেধ করেছেন স্পষ্ট,
অপচয়কারীর পথ যে সত্যিই অনিষ্ট।
তাই দুজন মিলে ঠিক করো সংসারের পরিকল্পনা,
স্বচ্ছতার ভিতের ওপর গড়ে তুলো অর্থব্যবস্থা।
অভাব এলে দোষারোপ নয়—হোক পরস্পর সহায়,
সবর, চেষ্টা, তাওয়াক্কুলে আল্লাহর রহমত চায়।
স্বামী শুধু উপার্জনকারী—এ ধারণা নয় ঠিক,
স্ত্রী শুধু ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ—এও নয় লিখিত।
দুজন দুজনার সাথি, দুজন প্রাণের বন্ধু,
জীবনপথের সুখ-দুঃখে দুজন থাকুক একসূত্র।
একসঙ্গে বসে কথা বলো, হাসো কিছুক্ষণ,
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে করো আলোচনা।
কে কী চায়, কে কী ভাবে—শুনে নাও মন দিয়ে,
বন্ধুত্বের ফুল ফুটুক দুজনার হৃদয় নিয়ে।
শুধু সমস্যা নিয়ে কথা বললে মন হয় ভার,
ভালো কথাও বলো মাঝে—ভালোবাসার উপহার।
“তুমি কষ্ট করেছ”—বলো, “ধন্যবাদ তোমায়”,
“চিন্তা কোরো না”—বলো, “আমি আছি তোমার সাথায়।”
“আল্লাহ আমাদের ঘরে বরকত দান করুন”—
এই দোয়ায় ভালোবাসার আলো প্রতিদিন জ্বালুন।
ছোট্ট কথায় বড় সুখের জন্ম হতে পারে,
মধুর ভাষা মরুভূমিতেও ফুল ফুটাতে পারে।
যেখানে প্রতিদিন শুধু সন্দেহ আর অভিযোগ,
চিৎকার, অপমান, বিরোধ—মনে জমে ক্ষোভ,
সেখানে শিশুর হাসিও ধীরে ধীরে যায় থেমে,
নিরাপত্তার আলো নিভে অন্ধকার নামে ঘরে।
যেখানে একজন বলে—“আমিই শুধু ঠিক”,
অন্যজনের মতামত সেখানে পায় না দিক,
সেখানে ভালোবাসা থাকে কেমন করে বলো?
অহংকারের দেয়াল ভেঙে সত্যের পথে চলো।
অসহযোগিতা হৃদয় ভাঙে, অবিশ্বাস দেয় ক্ষত,
অহেতুক বিরোধিতা আনে অশান্তির রথ।
একজন অন্যজনকে হারিয়ে জিতবে কে শেষ?
পরিবার যদি হেরে যায়, বিজয় কোথায় বেশ?
বিশ্বাস রাখব—অমূলক সন্দেহ করব না,
সম্মান দেব—প্রিয়জনকে ছোট করব না।
কথা বলব—মনের কথা জমিয়ে রাখব না,
শুনব আগে—শুধু নিজের কথা বলব না।
সহযোগিতা করব—দায়িত্ব ভাগ করে নেব,
ক্ষমা করব—ভুলকে যুদ্ধ বানাব না কভু।
পরামর্শ করব—একতরফা চলব না,
সন্তানের সামনে অশান্তির আগুন জ্বালব না।
আল্লাহকে ভয় করব—সম্পর্ক যে আমানত,
হৃদয়ে রাখব তাকওয়া, মুখে রাখব সত্যবচন।
সালাত কায়েম করব, কুরআনের আলো নেব,
দোয়ার মাধ্যমে ঘরকে রহমতে ভরিয়ে দেব।
“সে আগে বদলাক”—এই অপেক্ষা কেন?
নিজের ভুল দেখো আগে, নিজেকে প্রশ্ন দাও মনে।
আমি কি তার কথা শুনি মনোযোগ দিয়ে?
আমি কি তার কষ্ট বুঝি ভালোবেসে হৃদয় দিয়ে?
আমি কি তার শ্রমের মূল্য দিই যথাযথ?
আমি কি ক্ষমা করতে পারি, যখন আসে আঘাত?
আমি কি সম্মান করি তাকে প্রকাশ্যে ও গোপনে?
আমি কি পাশে দাঁড়াই তার দুঃখের দিনে?
আর স্ত্রী নিজে ভাবুক—“আমি কি দিই মান?
স্বামীর পরিশ্রম বুঝি কি, রাখি কি সম্মান?
অমূলক সন্দেহ থেকে রাখি কি নিজেকে দূর?
সংকটের সময় হই কি তার সত্যিকারের সুর?”
তারপর দুজন মিলে করুক একটি প্রশ্ন—
“আমাদের সন্তান কী শিখছে আমাদের আচরণ?”
“আমাদের ঘর কি তার নিরাপদ আশ্রয়?”
“আমাদের জীবন কি তাকে আল্লাহর পথে নেয়?”
ক্ষমা মানে জুলুমকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়,
সহযোগিতা মানে অন্যায় মেনে নেওয়া নয়।
ইসলাম ন্যায় শেখায়, জুলুমকে করে নিষেধ,
নির্যাতনের সামনে নীরব থাকা নয় কোনো বিধেয়।
যদি গুরুতর নির্যাতন আসে জীবনের পথে,
নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দাও সঠিকভাবে।
বিশ্বস্ত মানুষ, জ্ঞানীজন, প্রয়োজনীয় সহায়তা নাও,
বৈধ ও ন্যায়সংগত পথে সমস্যার সমাধান চাও।
সম্পর্ক রক্ষা মহৎ, কিন্তু জুলুম বৈধ নয়,
অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
ন্যায়, নিরাপত্তা, মর্যাদা—রাখো সর্বাগ্রে,
আল্লাহর বিধান মেনে চলো সৎ পথে।
বাড়ি যত বড় হোক, সম্পদ যতই থাক,
আল্লাহর স্মরণ না থাকলে শান্তি কোথায় থাক?
গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ দিতে পারে স্বাচ্ছন্দ্য,
কিন্তু অন্তরের প্রশান্তি আল্লাহরই অনুগ্রহ।
**“জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর শান্ত হয়”—
এই বাণী হৃদয়জুড়ে রাখো নির্ভয়।
কুরআনের তিলাওয়াতে ঘর হোক আলোকিত,
সালাতের সুশীতল ছায়ায় হৃদয় হোক পবিত্র।
হালাল উপার্জন, সত্য কথা, নেক আমলের পথ,
তাকওয়ার আলোয় ভরে উঠুক জীবন ও রথ।
সুখে বলো—আলহামদুলিল্লাহ, দুঃখে রাখো সবর,
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল—এটাই মুমিনের শক্তি-স্বর।
আজকের শিশুই হবে আগামী দিনের মানুষ,
কেউ হবে শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ হবে আলোকিত আলেম।
কেউ হবে প্রকৌশলী, কেউ হবে প্রশাসক,
কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শ্রমিক, কেউ হবে সমাজসেবক।
তাদের শৈশবজুড়ে যদি থাকে ভালোবাসার আলো,
ভবিষ্যতের পৃথিবী হবে আরও সুন্দর, আরও ভালো।
যদি শেখে—“সমস্যা হলে কথা বলে সমাধান”,
ভবিষ্যতে তারা গড়বে সংলাপেরই জ্ঞান।
যদি শেখে—“ভুল হলে ক্ষমা চাইতে হয়”,
তাদের হৃদয়ে জন্ম নেবে বিনয়ের পরিচয়।
যদি শেখে—“দুর্বলকে সাহায্য করা কর্তব্য”,
তবে মানবতার ফুলে ভরে উঠবে বিশ্বভূমি।
যদি দেখে বাবা-মা পরস্পরের সম্মান রক্ষা করে,
তারাও সম্পর্ক গড়বে ভালোবাসার ঘরে।
তাই আজকের ঘরই তো আগামী দিনের সমাজ,
আজকের পরিবারেই লেখা ভবিষ্যতের ইতিহাস।
আমি চাই এমন একটি ঘর—
যেখানে ঈমানের আলো,
যেখানে কুরআনের সুর,
যেখানে সালাতের ভালো।
যেখানে স্বামী বলবে—
“তোমার কষ্টে আমি আছি”,
যেখানে স্ত্রী বলবে—
“তোমার সংগ্রামে পাশে আছি।”
যেখানে রাগ এলে নীরবতা,
কথায় থাকবে না বিষ,
যেখানে ক্ষমা হবে সৌন্দর্য,
ভালোবাসাই হবে নিশ।
যেখানে সন্তানের চোখে
ভয় নয়—আশা জাগে,
বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়া
নিরাপদ জীবন গড়ে।
যেখানে সত্য হবে অলংকার,
আমানত হবে মান,
দয়া হবে হৃদয়ের ভাষা,
ন্যায় হবে প্রাণ।
সংসারকে প্রতিযোগিতার ময়দান বানাব না আর,
সহযোগিতার বাগানে ফুটাব ভালোবাসার হার।
স্বামী হবে জীবনসঙ্গী, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়,
স্ত্রী হবে সহযাত্রী—বোঝা কখনো নয়।
অভিমান এলে কথা হবে, নীরব যুদ্ধ নয়,
ভুল হলে ক্ষমা হবে, প্রতিশোধের আগুন নয়।
সন্দেহ এলে সত্য খুঁজি, অপবাদ দেব না,
রাগ এলে নিজেকে রাখি—অন্যায় করব না।
সন্তানের সামনে রাখব সুন্দর আচরণের দৃষ্টান্ত,
তাদের হৃদয়ে জাগাব ঈমানেরই দীপ্তি অনন্ত।
শুধু ভালো ফল নয়, ভালো মানুষ হবে তারা,
জ্ঞান ও চরিত্রে হবে সমাজেরই তারা।
হে আল্লাহ, আমাদের ঘর করো শান্তির নীড়,
ভালোবাসার ফুলে ভরো প্রতিটি হৃদয়-তীর।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দাও বিশ্বাসের বন্ধন,
রহমত, মায়া, সম্মান দাও—দূর করো অভিমান।
অসহযোগিতা দূর করো, দূর করো অবিশ্বাস,
অহেতুক বিরোধিতা থেকে রাখো আমাদের পাশ।
রাগের আগুন নিভিয়ে দাও, দাও ক্ষমার আলো,
কোমল ভাষায় ভরে দাও আমাদের প্রতিটি ভালো।
হে রব, দাম্পত্যজীবন করো তোমার প্রিয়,
ন্যায় ও সদাচরণে রাখো হৃদয় নির্মল-নির্ভয়।
যে অধিকার দিয়েছ তুমি, পালনের তাওফিক দাও,
দায়িত্বের পথে অবিচল থেকে তোমার সন্তুষ্টি পাও।
সন্তানদের করো নেক, জ্ঞানী, চরিত্রবান,
তাদের হৃদয়ে দাও ঈমান, হিকমত, সত্যজ্ঞান।
তাদের শৈশব হোক নিরাপদ, সুন্দর, নির্মল,
তাদের ভবিষ্যৎ হোক দীপ্তিমান, সফল।
আজকের ঘর থেকে গড়ুক আগামী দিনের সমাজ,
মানবতা, ন্যায়, দয়া হোক তাদের জীবনের সাজ।
পরিবার থেকে ছড়িয়ে পড়ুক শান্তির শুভ আলো,
মানুষ হোক মানুষের জন্য—এ পৃথিবী হোক ভালো।
হে আল্লাহ, আমাদের ঘরে দাও ঈমানের আলো,
তাকওয়ার ছায়া, ভালোবাসা, চরিত্র অতি ভালো।
দুনিয়াতে দাও প্রশান্তি, আখিরাতে নাজাত,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের প্রভাত।
স্বামী-স্ত্রী হাতে হাত—চলুক একই পথ,
ভালোবাসা, বিশ্বাস, দয়া—হোক জীবনের শপথ।
সুখী ঘরেই গড়ে উঠুক নেক প্রজন্মের প্রাণ,
সেই প্রজন্ম গড়ুক এক সুন্দর মানবিক জাহান।
একটি ঘরের শান্তি হোক হাজার ঘরের আলো,
একটি পরিবারের আদর্শে পৃথিবী হোক ভালো।
ঈমান, ভালোবাসা, ন্যায়—হোক জীবনের সুর,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলুক জীবন ভরপুর।
স্বামী বলুক—“তোমার কষ্টে আমি তোমার পাশে,”
স্ত্রী বলুক—“তোমার সংগ্রাম আমারও ভালোবাসে।”
সন্তান দেখুক—“আমার বাবা-মা পরস্পরের সহায়,”
এভাবেই সুখের নীড় গড়ে উঠুক দুনিয়ার মায়ায়।
ভালোবাসায় ঘর হোক, বিশ্বাসে হোক প্রাণ,
সহযোগিতায় গড়ে উঠুক সুখী পরিবার-জ্ঞান।
চরিত্রবান প্রজন্ম হোক আমাদের অঙ্গীকার—
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে হোক জীবনের অধিকার।
আমিন।
১
১ মন্তব্য