Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বিবি হাজেরা ও শিশু ইস্মাইল (আঃ)-কে নির্বাসনে প্রেরণ
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি হাজেরা এবং শিশু পুত্র ইসমাইল (আঃ)-কে নির্জন মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন মূলত মহান আল্লাহর সরাসরি আদেশে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে বনবাস বা নির্বাসন মনে হলেও, ইসলামিক ইতিহাস ও বুখারী শরীফের হাদিস অনুযায়ী এটি ছিল আল্লাহর এক মহাপরিকল্পনা এবং পরীক্ষা। [1, 2, 3, 4]
এই ঘটনার পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
আল্লাহর নির্দেশ ও মহাপরিকল্পনা: ইব্রাহিম (আঃ) নিজের ইচ্ছায় তাঁদের ফেলে আসেননি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিবি হাজেরা ও শিশু ইসমাইলকে মক্কার ওই জনমানবহীন, অনুর্বর পাথুরে উপত্যকায় রেখে আসতে। বিবি হাজেরা যখন ইব্রাহিম (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আল্লাহ কি আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?" ইব্রাহিম (আঃ) বলেছিলেন, "হ্যাঁ।" তখন বিবি হাজেরা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন, "তাহলে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস করবেন না।" [1, 2, 3, 5]
পবিত্র মক্কা নগরী ও কাবা ঘরের আবাদ: তৎকালীন সময়ে মক্কা ছিল সম্পূর্ণ জনশূন্য এবং সেখানে কোনো পানি বা খাদ্যের উৎস ছিল না। আল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল এই ত্যাগ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে একটি পবিত্র জনবসতি গড়ে তোলা। পরবর্তীতে বিবি হাজেরার পানি খোঁজার কষ্টের ফলস্বরূপ অলৌকিকভাবে জমজম কূপের উৎপত্তি হয়। এই পানির টানেই বিভিন্ন কাফেলা সেখানে বসতি স্থাপন করে এবং মক্কা একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। [1, 2, 3, 4]
পারিবারিক পরিস্থিতি: ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রথম স্ত্রী বিবি সারা দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) বিবি হাজেরাকে বিয়ে করেন এবং তাঁর গর্ভে প্রথম সন্তান ইসমাইল (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম সন্তানের আগমনে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি বিবি সারার মনে কিছুটা মানবিক ঈর্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের তৈরি হয়েছিল। এই পারিবারিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরই আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আঃ)-কে হাজেরা ও ইসমাইলকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। [1, 2, 3, 4]
ভবিষ্যৎ নবুওয়তের ভিত্তি ও কাবার পুনর্নির্মাণ: আল্লাহ তাআলা হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর বংশধারা থেকেই শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে দুনিয়াতে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাইল (আঃ) দুজনে মিলে আল্লাহর আদেশে পবিত্র কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন। [1, 2]
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কোনো শাস্তিমূলক নির্বাসন ছিল না, বরং এটি ছিল আল্লাহর প্রতি ইব্রাহিম (আঃ) ও বিবি হাজেরার অবিচল আস্থা (তাওয়াক্কুল) ও আনুগত্যের এক অনন্য পরীক্ষা, যার মাধ্যমে আজকের পবিত্র মক্কা নগরী এবং হজের বিভিন্ন নিয়মের (যেমন: সাফা-মারওয়া পাহাড় সায় করা) ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। [1, 2]
মন্তব্য করুন