Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:১৭ পূর্বাহ্ণ

LIGO বা Laser Interferometer Gravitational-Wave Observatory

স্থায়ী হয়েছিল মাত্র এক-দশমাংশ সেকেন্ড। এত অল্প সময়ের একটি সংকেত যে মহাবিশ্বের এত বড় কোনো ঘটনার খবর বহন করতে পারে, ব্যাপারটা ভাবলেই অবাক হতে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের গল্প এমনই। মানুষের সময়ের হিসাবে এক মুহূর্ত, আর মহাজাগতিক হিসাবে সেটাই হতে পারে বিশাল কোনো ঘটনার চিহ্ন।


সংকেতটি ধরা পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি LIGO ডিটেক্টরে। LIGO বা Laser Interferometer Gravitational-Wave Observatory এমন এক যন্ত্র, যা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের কারণে স্থান-কালের অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে।


প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে হয়েছিল, এই তরঙ্গ এসেছে দুটি দ্রুত ঘূর্ণায়মান কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ থেকে। আর এখানেই শুরু হয় আসল রহস্য।


ধারণা করা হচ্ছে, দুটি কৃষ্ণগহ্বরের প্রত্যেকটির ভর ছিল আমাদের সূর্যের ভরের ১০০ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ নাক্ষত্রিক কৃষ্ণগহ্বরের তুলনায় বেশ ভারী। শুধু তাই নয়, তারা খুব দ্রুত ঘুরছিল বলেও সংকেত থেকে ধারণা করা হয়েছে।


কিন্তু সমস্যা হলো, এত ভারী কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তার ওপর এত দ্রুত ঘূর্ণন কীভাবে এলো, সেটাও আরেকটি প্রশ্ন।


নতুন একটি গবেষণাপত্র এই রহস্যের জন্য আরও অদ্ভুত একটি সম্ভাবনা সামনে এনেছে। হয়তো আমরা যা দেখেছি, সেটাই পুরো সত্য নয়। অর্থাৎ, কৃষ্ণগহ্বর দুটির ভর বা ঘূর্ণনের যে হিসাব আমরা পেয়েছি, সেখানে কোনো ধরনের ভুল ব্যাখ্যা থাকতে পারে। সংকেতটি এমনভাবে তৈরি হতে পারে, যাতে দূর থেকে দেখলে মনে হয় দুটি অস্বাভাবিকভাবে ভারী ও দ্রুত ঘূর্ণায়মান কৃষ্ণগহ্বর একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে।


এটা অবশ্যই প্রমাণিত সত্য নয়। বরং এটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, যা আরও গবেষণা ও ভবিষ্যতের মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।


মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আমাদের মহাবিশ্বের এমন সব ঘটনা দেখতে সাহায্য করছে, যেগুলো শুধু আলো দিয়ে দেখা সম্ভব নয়। আমরা এখন কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষের "শব্দ" ধরতে পারছি, যদিও সেটি মানুষের কানে শোনা কোনো শব্দ নয়। স্থান-কালের কাঠামোর মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়া এক অতি ক্ষীণ কম্পন।


কখনো কখনো সেই কম্পন আমাদের এমন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়, যার উত্তর আমাদের বর্তমান পদার্থবিজ্ঞান এখনো দিতে পারে না।


আর বিজ্ঞান ঠিক এখানেই মজার। কোনো পর্যবেক্ষণ আমাদের ধারণার সঙ্গে না মিললে বিজ্ঞান সেটাকে লুকিয়ে রাখে না। বরং প্রশ্ন করে, "আমরা কি কিছু ভুল বুঝছি?"


হয়তো সত্যিই মহাবিশ্বে এমন বিশাল কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয়। হয়তো তাদের দ্রুত ঘূর্ণনের পেছনে এমন কোনো প্রক্রিয়া আছে, যা আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। আবার এমনও হতে পারে, আমাদের পর্যবেক্ষণ বা মডেলই কোনো সূক্ষ্ম জায়গায় বিভ্রান্ত করছে।


২৩ নভেম্বরের (২০২৬) সেই এক-দশমাংশ সেকেন্ডের সংকেত তাই শুধু দুটি কৃষ্ণগহ্বরের গল্প নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা যতই জানি, অজানার তালিকাটা ততই বড় হয়ে যায়। কারণ কখনো কখনো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে থাকে মাত্র এক মুহূর্তের একটি ক্ষীণ তরঙ্গের মধ্যে।


মন্তব্য করুন