Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৫ অপরাহ্ণ

মুখস্থ নয়, শেখার আনন্দ: বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাই কেন ভবিষ্যতের শিক্ষা

মুখস্থ নয়, শেখার আনন্দ: বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাই কেন ভবিষ্যতের শিক্ষা

একজন শিক্ষার্থী একটি সংজ্ঞা মুখস্থ করেছে। পরীক্ষায় লিখেও ভালো নম্বর পেয়েছে।

কিন্তু পরীক্ষার কয়েকদিন পর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো—

“বাস্তব জীবনে এর ব্যবহার কোথায়?”

সে উত্তর দিতে পারল না।

তাহলে কি সে সত্যিই শিখেছে?

শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়। শিক্ষা এমন হওয়া উচিত, যা শিক্ষার্থীকে বাস্তব জীবন বুঝতে, সমস্যা সমাধান করতে এবং নতুন পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশের skill-based curriculum সম্পর্কিত শিক্ষক বাতায়নের প্রকাশিত আলোচনাতেও learning by doing, problem-based learning, critical thinking ও creativity-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষ হবে ছোট্ট বাস্তব জগত

ব্যবসায় শিক্ষা পড়ানোর সময় শুধু “ব্যবসায়ের সংজ্ঞা” না লিখিয়ে শিক্ষার্থীদের বলা যায়—

“তোমরা পাঁচজন মিলে একটি ছোট ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি করো।”

গণিতের শিক্ষার্থীরা বাস্তব বাজারের হিসাব করতে পারে।

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করতে পারে।

বাংলার শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কোনো সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে পারে।

শিক্ষক হবেন Facilitator

শিক্ষক সব উত্তর বলে দেবেন না।

বরং প্রশ্ন করবেন—

“তুমি কী মনে করো?”

“এর অন্য কোনো সমাধান আছে?”

“কেন এমন হলো?”

“বাস্তব জীবনে এটি কোথায় ব্যবহার করা যায়?”

এভাবে শিক্ষার্থীর চিন্তার দরজা খুলে দেওয়া সম্ভব।

উপসংহার

শিক্ষার সবচেয়ে বড় সাফল্য তখনই, যখন শিক্ষার্থী বইয়ের জ্ঞানকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

তাই আমাদের শ্রেণিকক্ষের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—

“শিক্ষার্থী কী মুখস্থ করল?”

এর পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন করতে হবে—

“শিক্ষার্থী কীভাবে এটি ব্যবহার করতে শিখল?”

মন্তব্য করুন