সহকারী অধ্যাপক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সদাচরণ—সুন্দর জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সদাচরণ—সুন্দর জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
জ্ঞান যদি হয় দীপের আলো, চরিত্র তার শিখা,
সদাচরণে মানুষ চেনে—কেমন তার দীক্ষা।
ধন-দৌলত, রূপের জৌলুস, পদ নয় পরিচয়,
সুন্দর চরিত্রে মানুষের সত্য মর্যাদা হয়।
পোশাক দিয়ে বাহির সাজে, মন কি তাতে সাজে?
সুন্দর ব্যবহার ফুটে ওঠে মানুষেরই কাজে।
মিষ্টি কথা, সৎ আচরণ, কোমল মনের ভাষা—
এসব দিয়ে জীবনজুড়ে জাগে ভালোবাসা।
সদাচরণ মানে হলো সুন্দর কথা বলা,
সত্য পথে অবিচল থেকে মিথ্যাকে যে ঠেলা।
ভদ্রতা আর নম্রতা, ধৈর্য, ক্ষমা, দয়া,
ন্যায়-নীতির পথে থাকা—এসব মহৎ মায়া।
প্রতারণা নয়, খেয়ানত নয়, নয় কারও ক্ষতি,
অন্যের হক আদায় করাই চরিত্রেরই গতি।
দুর্বল যখন সাহায্য চায়, বাড়াও তোমার হাত,
মানবতার সেবায় কাটুক জীবনের প্রতিটি রাত।
কুরআনেরই বাণী শোনো, হৃদয় দিয়ে শোনো—
মানুষের সঙ্গে উত্তম কথা বলো, সত্য মানো।
وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا—আল্লাহর বাণী,
সুন্দর কথায় গড়ে ওঠে হৃদয়খানি জানি।
মানুষকে দাও সুন্দর ভাষা, কটু কথা নয়,
কথার আঘাত হৃদয় ভাঙে, শান্তি দূরে যায়।
সত্য হলেও বলার ধরন হোক সুন্দর, মধুর,
ভালো কথায় হৃদয় জাগে, দূর হয় মনের দূর।
আল্লাহ বলেন—শ্রেষ্ঠ কথা বলুক তাঁর বান্দা,
কথায় যেন না থাকে বিষ, বিদ্বেষ কিংবা ফাঁদা।
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ,
সুন্দর বাণী হোক জীবনের প্রতিদিনের পাথেয়।
গালি নয়, অপমান নয়, নয় বিদ্রূপের বাণ,
মুমিনের মুখে ফুটুক শুধু কল্যাণেরই গান।
যে কথাতে শান্তি আসে, বলো সে কথাই,
অকারণে কাউকে কষ্ট দিয়ে লাভ যে কিছু নাই।
মুহাম্মদ (সা.)—উত্তম চরিত্রের শ্রেষ্ঠ আদর্শ,
তাঁর জীবনে ফুটে উঠেছে সৌন্দর্যের পরশ।
আল্লাহ নিজেই বলেছেন তাঁর মহান চরিত্র—
وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ—কী পবিত্র!
কোমল ছিল তাঁর ভাষা, দয়ায় ভরা মন,
অসহায়ের পাশে থাকতেন, দিতেন সান্ত্বনাধন।
শিশুকে দিতেন স্নেহ, বড়কে করতেন মান,
মানুষের দুঃখে ব্যথিত হতো তাঁর মহান প্রাণ।
তিনি শিখিয়েছেন—সেরা সে-ই, চরিত্র যার ভালো,
উত্তম গুণে মুমিনেরই জীবন হয় আলো।
ঈমান যখন পূর্ণ হয়, চরিত্র হয় সুন্দর,
সদাচরণে ফুটে ওঠে ঈমানেরই মর্ম।
ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে আচরণ হোক শুদ্ধ,
সালাত-সিয়াম হৃদয় গড়ুক, জীবন হোক মুগ্ধ।
ইবাদতের প্রভাব যেন আচরণে দেখা যায়,
মানুষ যেন তোমার হাতে-জবানে নিরাপদ পায়।
সত্য কথা বলো সদা, সত্য হোক সাথি,
মিথ্যা দিয়ে গড়া জীবন শেষতক হয় ক্ষতি।
সত্য মানুষ আস্থা পায়, সম্মান পায় শেষে,
মিথ্যাবাদী হারায় সবই নিজের ভুলের দেশে।
আমানত যদি কারও থাকে, রক্ষা করো তা,
অন্যের হক আত্মসাৎ করে সুখ কি পাওয়া যায়?
বিশ্বাস ভেঙে মানুষ কখনো মহৎ হতে পারে?
খেয়ানতের কালো দাগ কি সহজে মুছে ঝরে?
অন্যের ধন, অন্যের মান, অন্যের অধিকার—
রক্ষা করা মুমিনেরই নৈতিক অঙ্গীকার।
নিজের স্বার্থ বড় ভেবে অন্যের ক্ষতি নয়,
ন্যায়ের পথে চললে মানুষ সত্য মর্যাদা পায়।
জ্ঞান যদি হয় অনেক বেশি, অহংকার নয়,
সম্পদ যদি আসে হাতে, উদ্ধত হওয়া নয়।
পদমর্যাদা যতই বাড়ুক, মাথা নত রাখো,
নিজের বড়ত্ব দেখিয়ে কারও হৃদয় না ভাঙো।
নম্রতা যে মানুষেরই সৌন্দর্যের ভূষণ,
বিনয়ী মানুষ জয় করে মানুষের মন।
অহংকারে মানুষ হারায় আপনজনের মান,
নম্রতায় সে পায় সবার ভালোবাসার দান।
রাগ যখন হৃদয় জ্বালায়, থামো একটু আগে,
রাগের বশে বলা কথা ক্ষত হয়ে লাগে।
ক্রোধের আগুন বাড়িয়ে দিও না নিজের হাতে,
ধৈর্যের জল ঢেলে দাও উত্তপ্ত হৃদয়পাতে।
আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের—রাগ যারা রোধে,
মানুষকে ক্ষমা করে যারা মহৎতারই বোধে।
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ,
রাগ সংবরণ, ক্ষমাশীলতা—মুমিনেরই নিঃশ্বাস।
শক্তিশালী সে নয় শুধু অন্যকে যে হারায়,
শক্তিশালী সে-ই, যে ক্রোধ নিজের মাঝে হারায়।
জিহ্বাকে যে নিয়ন্ত্রণে রাখে রাগের ক্ষণে,
সত্যিকারের শক্তিমান সে আল্লাহরই স্মরণে।
মানুষ মাত্রই ভুল করে, ভুলের ঊর্ধ্বে কে?
আজ যে ভুলে অন্যায় করেছে, কাল সংশোধন হোক সে।
প্রতিশোধের আগুন জ্বেলে হৃদয় কোরো না কালো,
ক্ষমার মাঝে অনেক সময় ফুটে ওঠে আলো।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে বৈধ করা নয়,
ন্যায়বিচার অটুট রেখেও প্রতিহিংসা নয়।
অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে, সীমা থাকবে মানা,
নিজে অন্যায় না করাই মুমিনের ঠিকানা।
বন্ধু হলে পক্ষ নেব, শত্রু হলে অন্যায়?
ন্যায়ের পাল্লা সোজা থাকবে—এটাই সত্য ন্যায়।
আপন-পরের ভেদ ভুলে হকের কথা বলো,
স্বার্থের কাছে ন্যায় বিকিয়ে কখনো তুমি চলো না।
বন্ধুর জন্য সত্য ছেড়ে মিথ্যার পথে নয়,
শত্রুর জন্য জুলুম করাও মুমিনের কাজ নয়।
ন্যায় যেখানে প্রতিষ্ঠিত, শান্তি সেখানে রয়,
ন্যায়ভিত্তিক সুন্দর সমাজ আল্লাহরই পছন্দময়।
সদাচরণের প্রথম পাঠ পরিবারেই হয়,
শিশুর চোখে বড়দেরই আচরণ ফুটে রয়।
মা-বাবার প্রতি কোমল হও, সম্মান দাও প্রাণে,
তাঁদের সেবা করো ভালোবাসা দিয়ে মনে।
মায়ের কষ্ট মনে রেখো, বাবার শ্রমের দাম,
কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক সন্তানেরই নাম।
তাঁদের সঙ্গে কঠিন ভাষা ব্যবহার কোরো না,
সেবার সুযোগ এলে কখনো পিছিয়ে থেকো না।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহযোগী হয়ে চলো,
বিশ্বাস, সম্মান, ভালোবাসায় সংসারখানি গড়ো।
দোষের খোঁজে দিন না কাটুক, গুণের দিকে চাও,
ক্ষমা, ধৈর্য, মমতা দিয়ে সুখের নীড় বানাও।
ভাই-বোনে হিংসা নয়, ভালোবাসার বন্ধন,
সহযোগিতায় ভরে উঠুক পরিবারের জীবন।
ঘরের মানুষ ঘরে যদি শান্তি খুঁজে পায়,
সেই ঘরেরই আলো পরে সমাজজুড়ে যায়।
পাশের ঘরের মানুষটিও মানুষ—ভুলে যেও না,
তার দুঃখে দরজা বন্ধ করে বসে থেকো না।
বিপদ এলে পাশে দাঁড়াও, সুখে দাও অভিনন্দন,
প্রতিবেশীর সম্মান রক্ষা—মুমিনেরই বন্ধন।
তোমার হাত ও জবান থেকে নিরাপদ হোক সে,
তোমার কারণে যেন কোনো কষ্ট না পায় সে।
পথে যদি কোনো অসুবিধা তোমার কারণে হয়,
সরিয়ে দাও, উপকার করো—এতেই কল্যাণ রয়।
শিক্ষক হলেন জ্ঞানের পথে আলোর পথপ্রদর্শক,
তাঁর প্রতি সম্মান হোক শিক্ষার্থীর অলংকার।
শিক্ষকের কথা মন দিয়ে শোনো, কৃতজ্ঞ থেকো মনে,
শিক্ষার সঙ্গে শিষ্টাচার রাখো জীবনজুড়ে সনে।
শিক্ষকও যেন শিক্ষার্থীর প্রতি হন স্নেহশীল,
ন্যায়, ধৈর্য, প্রজ্ঞা দিয়ে গড়েন চরিত্র নির্মল।
শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়—আচরণও শেখান,
নিজের সুন্দর জীবন দিয়ে উত্তম দৃষ্টান্ত রাখেন।
ভালো ছাত্র শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়,
সততা ও শিষ্টাচারেও তার পরিচয় হয়।
ভালো শিক্ষক শুধু বইয়ের জ্ঞান দেন না,
নিজের আচরণ দিয়ে চরিত্র গড়তে শেখান।
বন্ধু বেছে নাও ভেবে, সঙ্গ বড়ই শক্তি,
ভালো সঙ্গের ছায়ায় বাড়ে নেক আমলের ভক্তি।
সৎ বন্ধু ভালো কাজে উৎসাহ দিয়ে যায়,
ভুল পথে গেলে হাত ধরে সঠিক পথে আনে।
বন্ধুর গোপন কথা গোপন রাখো মনে,
অনুপস্থিত বন্ধুর মান রক্ষা করো সনে।
বিপদে তাকে ছেড়ে যেও না, পাশে থেকো দাঁড়িয়ে,
সত্য পরামর্শ দিও তাকে ভালোবাসা দিয়ে।
বন্ধুর ভুলকে সমর্থন করা বন্ধুত্ব নয়,
ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনা প্রকৃত বন্ধুত্ব হয়।
যে বন্ধু সত্য কথা বলে, সে-ই সত্যিকারের বন্ধু,
তার সাহচর্যে জীবন হোক কল্যাণময় সুন্দর।
একটি সুন্দর সমাজ গড়ে সুন্দর মানুষের হাতে,
প্রত্যেকে যদি ভালো হয় নিজের কর্মপথে।
মিথ্যা, গুজব, প্রতারণা, অপমান—সব ছাড়ো,
শান্তি নষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে সরে দাঁড়াও।
জনসাধারণের সম্পদ সবার—রক্ষা করো তাই,
অন্যের ক্ষতি করে কখনো নিজের সুখ যে নাই।
দুর্বলকে দিও না কষ্ট, অসহায়কে নয় অবহেলা,
মানবতার সেবায় হোক জীবনের প্রতিটি বেলা।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, অসুস্থের নাও খবর,
বৃদ্ধ যদি পথে থাকে, এগিয়ে যাও নির্ভর।
দুঃখীর চোখের অশ্রু মোছো মমতারই হাতে,
মানুষ মানুষের পাশে থাকুক দিন ও রাতে।
মুখের কথা তীরের মতো—ছুটলে ফেরে না,
একটি কটু বাক্য হৃদয় থেকে সহজে মুছে না।
তাই কথা বলার আগে বিবেককে জিজ্ঞেস করো—
সত্য কি এটি? প্রয়োজনীয়? কল্যাণ আছে? ধরো।
সত্য হলেও অকারণে কাউকে দিও না আঘাত,
সুন্দর ভাষায় বলো কথা, থাকুক হৃদয়-সাথ।
যে কথা শান্তি বাড়ায়, সে কথাই বলো ভাই,
অকারণে হৃদয় ভাঙার অধিকার কারও নাই।
কীবোর্ডও সাক্ষ্য দেবে, মোবাইলও দেবে সাড়া,
অনলাইনে যা লিখছ তুমি—ভেবে লিখো তা-ই সারা।
সামনাসামনি বলতে না যা, অনলাইনে বলো না,
মিথ্যা, গুজব, অপমানের পথে কখনো চলো না।
যাচাই না করে কোনো সংবাদ ছড়িয়ে দিও না,
কারও ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করে দিও না।
ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, অশ্লীল ভাষা—সবই পরিহার,
ডিজিটাল জগতেও থাকুক ঈমানের পাহার।
মোবাইল হাতে মানুষ যেমন, চরিত্র তেমনই,
প্রযুক্তি বদলালেও নীতি বদলায় না কোনোদিনই।
কীবোর্ডের প্রতিটি অক্ষর হোক সত্যের বাণী,
অনলাইনেও ফুটুক মুমিন জীবনেরই শোভাখানি।
কেউ যদি তোমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করে,
তবু সীমা লঙ্ঘন কোরো না প্রতিশোধের ঘোরে।
আল্লাহ বলেন—
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ,
মন্দকে প্রতিহত করো উত্তম পন্থায়—শিক্ষা এই মহান।
অন্যায়কে সমর্থন নয়, ন্যায় থাকবে অটুট,
কিন্তু প্রতিশোধের নামে তুমি হয়ো না কলুষিত।
উত্তম আচরণে অনেক বিরোধ যায় যে মুছে,
ক্ষমার আলো অন্ধকারকে দেয় যে দূরে পিছু।
ভালো মানুষ দুর্বল—এ কথা সত্য কখনো নয়,
সদাচারী অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয়।
দয়া থাকবে হৃদয়জুড়ে, ন্যায়ে থাকবে দৃঢ়,
অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে, কিন্তু সীমা থাকবে স্থির।
কোমল হবে মানুষের প্রতি, ন্যায়ে হবে কঠোর,
আল্লাহর সীমা রক্ষা করে চলবে জীবন ভর।
দয়া ও ন্যায়ের মাঝে থাকবে ভারসাম্যের আলো,
এই পথেই মানুষ হয় সত্যিকার অর্থে ভালো।
বাহিরে যদি হাসি থাকে, অন্তর যদি কালো,
সেই হাসিতে কী লাভ বলো? কোথায় সত্য আলো?
হিংসা, লোভ, বিদ্বেষ, রাগ অন্তরে যদি রয়,
বাহ্যিক ভদ্রতা বেশিদিন টেকে না নিশ্চয়।
তাই আগে অন্তর শুদ্ধ করো আল্লাহর স্মরণে,
কুরআন পড়ো, সালাত কায়েম করো আন্তরিক মনে।
তাওবা করো, দোয়া করো, নিজের ভুলটি দেখো,
নেক মানুষের সঙ্গ নিয়ে জীবনটাকে শেখো।
দিনের শেষে নিজেকে তুমি প্রশ্ন করো ভাই—
আজকে কাকে কষ্ট দিলাম? কোথায় ভুল করেছি তাই?
কোথায় আমি রাগ করেছি? কাকে দিলাম দয়া?
কাকে আজ ক্ষমা করেছি? কাকে দিলাম ছায়া?
আগামীকাল আরও ভালো কীভাবে হব আমি?
এই আত্মসমালোচনাতেই চরিত্র হবে দামি।
নিজেকে যে সংশোধন করে, সে-ই সত্য বিজয়ী,
আত্মশুদ্ধির পথে চললে জীবন হবে জ্যোতির্ময়ী।
শিশুকে শুধু বলো না—“ভালো মানুষ হও”,
নিজের জীবন ভালো করে তার সামনে দাঁড়াও।
শিশু দেখে শেখে বেশি, কথায় শেখে কম,
বড়দেরই আচরণে তার ভবিষ্যতের রূপ গড়ে সম।
সত্য বলতে শেখাও তাকে, মিথ্যা থেকে দূরে,
বড়দের সম্মান করতে, ছোটদের ভালোবাসায় ভরে।
অন্যের জিনিস অনুমতি ছাড়া নেবে না সে যেন,
বন্ধুর সঙ্গে ভালো ব্যবহার—শেখাও তাকে তেমন।
প্রাণীর প্রতিও দয়া শেখাও, অসহায়কে সাহায্য,
ভুল করলে ক্ষমা চাইতে—এও মহৎ শিক্ষা।
শৈশবে যে চরিত্র গড়ে, ভবিষ্যতে তারই ফল,
আজকের শিশু আগামী দিনের সমাজেরই বল।
সালাম দিয়ে শুরু হোক আমাদের প্রতিটি দেখা,
“ধন্যবাদ”, “দয়া করে”—ভালোবাসার লেখা।
“মাফ করবেন”, “আমি দুঃখিত”—হোক বিনয়ের ভাষা,
“আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন”—হোক কল্যাণ-আশা।
কটু কথা সম্পর্ক ভাঙে, মিষ্টি কথা জোড়ে,
একটি ভালো বাক্য মানুষকে আশার পথে ধরে।
তাই ভাষাকে পবিত্র রাখো, সুন্দর করো মন,
ভদ্র ভাষায় গড়ে উঠুক ভালোবাসার বন্ধন।
ধনীর ঘরে সম্মান আছে—এ কথা সত্য নয়,
গরিব মানুষ সদাচারী হলে তারও মর্যাদা হয়।
ক্ষমতা দিয়ে ভয় দেখানো সম্মানের পরিচয় নয়,
ভালোবাসা অর্জন করাই মানুষের বড় জয়।
সম্পদ থাকে, সম্পদ যায়, পদও একদিন ক্ষয়,
চরিত্রের যে সুবাস থাকে, সহজে তার ক্ষয় নয়।
মানুষ তখন হৃদয়ে বাঁচে, যখন ভালো হয়,
সদাচরণের স্মৃতি রেখে মানুষ অমর হয়।
সদাচরণ মনের মাঝে প্রশান্তি এনে দেয়,
সম্পর্কগুলো দৃঢ় করে, ভালোবাসা বুনে দেয়।
শত্রুতা কমে, আস্থা বাড়ে, সমাজ হয় সুন্দর,
সৎ ব্যবহারে মানুষ পায় সম্মান বহুতর।
মনের ভারও হালকা হয়, হৃদয় পায় প্রশান্তি,
সুন্দর আচরণে বাড়ে পারস্পরিক শান্তি।
দুনিয়ার সম্মান যেমন আসে চরিত্রেরই গুণে,
আখিরাতের কল্যাণও আসে নেক আমলের পুণ্যে।
সদাচরণ নেক আমলের মহৎ একটি অংশ,
মুমিনের জীবন সাজায়—গড়ে সুন্দর স্পন্দন।
তবে জান্নাতের পথ কেবল মানুষের সেবায় নয়,
ঈমান, আনুগত্য, নেক আমল—সবই তার পরিচয়।
সঠিক আকিদা, ফরজ ইবাদত, আল্লাহর আনুগত্য,
নেক আমল আর তাঁর রহমত—জান্নাতেরই সত্য।
তাই চরিত্র সুন্দর করো, ঈমান রাখো শুদ্ধ,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন করো সমৃদ্ধ।
সত্য বলে, আমানত রাখে—এমন মানুষ চাই,
অন্যের হক আদায় করে, অন্যায় করে নাই।
মা-বাবাকে সম্মান করে, শিক্ষককে দেয় মান,
ছোটদের সে স্নেহ করে, বড়দের করে সম্মান।
প্রতিবেশীর খোঁজ রাখে, দুর্বলের পাশে দাঁড়ায়,
বন্ধুর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে, বিপদে তাকে জড়ায়।
শত্রুর প্রতিও সীমা মানে, রাগকে রাখে থাম,
ভুল হলে ক্ষমা চায় সে—ক্ষমা করে অন্যজন।
অহংকারকে দূরে রেখে বিনয়েরই পথে,
আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় জীবনেরই রথে।
এমন মানুষ পরিবারে শান্তির বাতি জ্বালে,
সমাজজুড়ে সৌহার্দ্য আনে ভালোবাসার ডালে।
কথায় হব সুন্দর আমরা, কাজে হব সৎ,
ব্যবহারে হব নম্র, চরিত্র হবে শুদ্ধ।
ন্যায়ের পথে থাকব দৃঢ়, ক্ষমায় হব উদার,
দুঃখীর পাশে দাঁড়াব আমরা—এটাই অঙ্গীকার।
অন্যের হক নষ্ট করব না, করব না প্রতারণা,
মিথ্যা, গুজব, কটু ভাষায় হবে না পথচলা।
রাগ এলে নিজেকে রাখব সংযমেরই বাঁধে,
অন্যায় এলে ন্যায় রক্ষা করব সাহস সাধে।
মা-বাবার সেবা করব, শিক্ষককে দেব মান,
প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখে রাখব নিজের প্রাণ।
বন্ধুর ভুল শুধরে দেব ভালোবাসার ভাষায়,
অসহায়ের পাশে থাকব মানবতার আশায়।
শিশুর হাতে তুলে দেব সত্য-শিষ্টতার আলো,
নিজের আচরণ দিয়ে শেখাব কী করে হতে ভালো।
অনলাইনে-অফলাইনে একই নীতি চাই,
মুমিনের চরিত্র যেন দুই রকমের হয় নাই।
সুন্দর পোশাক বাহির সাজায়, চরিত্র সাজায় প্রাণ,
সদাচরণে মানুষ পায় সত্য মর্যাদার মান।
জ্ঞান যদি হয় আলোর প্রদীপ, চরিত্র তার দীপশিখা,
সদাচরণেই জীবনেরই সত্য সৌন্দর্য দেখা।
কুরআন শেখায় উত্তম কথা, ন্যায় ও ক্ষমার পথ,
সুন্নাহ শেখায় দয়া, ধৈর্য, সুন্দর চরিত্ররথ।
রাসুলেরই আদর্শ হোক আমাদের চলার পথ,
তাঁর দেখানো উত্তম গুণে জীবন হোক মহৎ।
এসো তবে আজকে সবাই অন্তর করি শুদ্ধ,
আল্লাহভীতি হৃদয়ে রেখে চরিত্র করি সমৃদ্ধ।
নিজে ভালো, অন্যকে ভালো হওয়ার পথ দেখাই,
মানুষ যেন আমাদের হাতে-জবানে নিরাপদ পায়।
ঘরে ঘরে সদাচরণের ফুল ফুটুক প্রতিদিন,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক মানুষেরই দিন।
বিভেদ মুছে, দূরত্ব কমে, জাগুক মমতার টান,
মানুষ যেন মানুষেরই হয় আপনজন প্রাণ।
সত্য হোক আমাদের ভাষা, আমানত হোক ঢাল,
ন্যায় হোক পথচলার সাথি, দয়া হোক রুচিশীল চাল।
ক্ষমা হোক হৃদয়ের গুণ, ধৈর্য হোক বল,
তাকওয়ার আলোয় আলোকিত হোক জীবনের প্রতিটি দল।
সদাচরণ হোক পরিচয়, উত্তম চরিত্র অলংকার,
কুরআন-সুন্নাহ হোক জীবনের চিরন্তন পথের দ্বার।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক আমাদের জীবনের মহান লক্ষ্য,
দুনিয়ায় কল্যাণ, আখিরাতে নাজাত—হোক আমাদের প্রত্যাশা।
সদাচরণে গড়ি জীবন, সদাচরণে সমাজ,
সদাচরণে ফুটুক মানুষ—এই হোক সবার কাজ।
মুখে মধুর, কাজে সত্য, অন্তর হোক নির্মল,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন হোক সফল।
হে আল্লাহ! উত্তম চরিত্র দাও, অন্তর করো আলো,
কথা-কাজে সত্য দাও, মানুষ হওয়ার শক্তি দাও ভালো।
হিংসা-অহংকার দূর করে দাও, ক্ষমা দাও অন্তরে,
কুরআন-সুন্নাহর পথে রেখো—দুনিয়া ও আখিরাতে।
সদাচরণ হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ পরিচয়,
উত্তম চরিত্রে হোক আমাদের প্রকৃত বিজয়।
১৪
২১ মন্তব্য